নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 2 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • আলমগীর কবির
  • মিঠুন বিশ্বাস

নতুন যাত্রী

  • চয়ন অর্কিড
  • ফজলে রাব্বী খান
  • হূমায়ুন কবির
  • রকিব খান
  • সজল আল সানভী
  • শহীদ আহমেদ
  • মো ইকরামুজ্জামান
  • মিজান
  • সঞ্জয় চক্রবর্তী
  • ডাঃ নেইল আকাশ

আপনি এখানে

একজন সংশয়বাদীর প্রশ্নঃ আমরা তো এমনি এমনি কিছু তৈরি হতে দেখিনা ?


এই প্রশ্নের ব্যাখ্যা হচ্ছে বিগ ব্যাং তত্ত্ব ও পৃথিবীর বিবর্তনবাদ তত্ত্ব মতে আমরা যা জানি তার কিছুই তো আমরা সচক্ষে দেখতে পারিনা। বা এসব কোন মানুষ তার চোখ দিয়ে দেখে বিশ্লেষন করেছেন এমন না। তাই এখানে আস্তিক ও সংশয়বাদীদের মধ্যে প্রশ্ন এসেছে “এসব তৈরি হলো কিভাবে ? আমরা তো এমনি এমনি কিছু তৈরি হতে দেখিনা ?” আসলেই কিন্তু তাই, বিজ্ঞানীরা আসলে বিগ ব্যাং বা বিবর্তনবাদ তাদের চোখে দেখে তারপর এমন তত্ত্ব আমাদের দিচ্ছেনা। এসবই মানুষের পর্যবেক্ষন ও পরীক্ষালব্ধ ফল থেকে প্রাপ্ত তথ্যের উপরে ভিত্তি করেই উপস্থাপন করা হচ্ছে। যে কারনে আমাদেরকে আগে একটু তত্ত্ব সম্পর্কে ধারনা নিতে হবে, কারণ যাদের মস্তিষ্ক বিশ্বাসের ভাইরাস দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় তাদের নিরাপেক্ষভাবে গ্রহন ও বর্জন করার ক্ষমতা লোপ পায়। এককথায় বিশ্বাসী মানুষের পক্ষে কোন প্রকারের যৌক্তিক বিশ্লেষন নিরপেক্ষাবে গ্রহন বা বর্জন করা সম্ভব হয়না। তারা যখনই দেখে যে একটি মতবাদ তাদের মস্তিষ্কে শিশুকাল থেকে লালিত মতবাদ এর বিপক্ষে যাচ্ছে তখন তারা এধরনের ছোট ছোট বিষয় নিয়ে পরিষ্কার চিন্তা করতে ব্যার্থ হয়।

তত্ত্ব বা থিওরি এই শব্দটির বৈজ্ঞানিক সংজ্ঞা কিন্তু সম্পুর্ণ আলাদা। আমরা যে প্রচলিত অর্থের তত্ত্ব বা থিওরি বলে থাকি তার অর্থ দাঁড়ায় বাস্তবতা ও প্রকৃতির ঘটে চলা ঘটনার একটি যৌক্তিক বর্ণনা বা বিশ্লেষন। আমাদের আশেপাশে প্রাকৃতিকভাবে যা ঘটে চলেছে তার যৌক্তিক বর্ণনা যদি কেউ করে থাকে তাকে আমরা তত্ত্ব বলে থাকি। বৈজ্ঞানিকভাবে তত্ত্ব হল প্রাকৃতিক কোনো একটি ঘটনা বা বাস্তবতার (phenomenon) প্রতিপাদিত ব্যাখ্যা। ধরুন এমন কোন বিষয়ের তত্ত্ব কোন বিজ্ঞানীরা প্রদান করবে না যা কখনই বা বাস্তবে কখনও ঘটেনি এরকম কিছু। বিজ্ঞানীরা সেটাই সকলের সামনে উপস্থাপন করবে যার তথ্য প্রমাণ তারা দেখাতে পারবে। একজন বিজ্ঞানী তার গবেষণা কখনই একবার প্রমাণিত হবার পরেই রিসার্চ পেপার বা জার্নাল লেখা শুরু করেনা। তারা বারবার এবং বহুবার বহুভাবে সেই একই বিষয় পর্যালোচনা করে দেখে ঠিক কি রেজাল্ট আসছে এরপর গিয়ে একটা সময় তা সকলের জন্য উন্মুক্ত করে। যখন বিজ্ঞানীরা দেখে একই বিষয় বারবার ঘটছে তখন তাকে তারা সত্য বলে ধরে নেই। এইযে সম্পুর্ণ প্রক্রিয়াটি করতে একজন বিজ্ঞানী যা যা করেছে সেটার বাস্তবতা যৌক্তিকভাবে ব্যাখ্যা করাই হচ্ছে তত্ব। তাই বিবর্তন তত্ত্ব আমরা চোখে না দেখেই মেনে নিতে পারি যে আসলে এরকম ঘটেছিলো। এর কারণ বিজ্ঞানের উপরে ও বৈজ্ঞানিক তত্ত্বের উপরে মানুষের আস্থা।

বিভিন্ন ধর্ম ও ঈশ্বরবিশ্বাসী বা সৃষ্টিবাদীদের ধারনা চোখে যেহেতু দেখা যায়না তাহলে এসব বিশ্বাস করার কোন অবকাশ নেই। এখানে দেখুন আগেই বিশ্বাস কথাটি আসছে। বিজ্ঞান আমাদের কখনই বিশ্বাস করতে বলেনা। বিজ্ঞানে বিশ্বাস বলে কোন শব্দ নাই আছে আস্থা। আর যার যৌক্তিক ব্যাখ্যা আছে তার উপরে আস্থা রাখা যায়। বিশ্বাস আপনাকে কিছুই দিতে পারেনা, পারে শুধু আপনার প্রশ্ন করার রাস্তা বন্ধ করতে। চোখে দেখার সাথেও বিশ্বাসের সম্পর্ক নাই, কারণ বিশ্বাসীরা ঈশ্বর নামক কোন বস্তু বাস্তবে চোখে দেখেনা তারপরও তারা সেটা মনে প্রাণে বিশ্বাস করে। বিজ্ঞানের কাছে ঈশ্বরের কোন যৌক্তিক ব্যাখ্যা নাই বিশ্লেষন নাই তাই বিজ্ঞানে ঈশ্বরের কোন অস্তিত্বও নাই। বিবর্তনবাদ তত্ত্ব মতে আমরা যে সময়কালের ধারনা পায় তা শত শত বছর থেকে শুরু করে হাজার হাজার, কোটি কোটি বছরের ঘটনা বলা হয়। মানুষের একটা স্বল্প আয়ুর জীবনে এতো কিছু স্বচক্ষে দেখা সম্ভব নয়। বিবর্তন আসলে একটি ক্রম-প্রক্রিয়া যা খুব ধীরে ধীরে চলছে। আমরা বর্তমানে নিজেদের সহ যেসমস্ত প্রানীগুলাকে বর্তমান রুপে দেখতে পায় তারা কেউ এরকম ছিলোনা। সেই শুরু থেকেই ধীরে ধীরে বিবর্তিত হতে হতে ক্রমান্বয়ে আজকের এই রুপে তারা এসেছে। প্রথমে এককোষী এরপরে চলমান এরপরে একেক ধরনের আকৃতি একটা সময় সরীসৃপ এবং শেখান থেকে স্তন্যপায়ী, পাখি ইত্যাদি ইত্যাদি যা মানুষের পক্ষে তার এক জীবনে দেখা সম্ভব নয়।

চোখে দেখিনাই তাই বিশ্বাস করিনা এটা যদি হয় বিবর্তনবাদ তত্ব না মানতে চাওয়ার যুক্তি তাহলে এটাকে বলতে হয় কুযুক্তি, অপযুক্তি, ভুলযুক্তি যাকে ইংরেজীতে বলে Logical fallacy। আবার লক্ষ করবেন যারা এমন যুক্তি দিচ্ছে তারাই কিন্তু আবার বর্তমানে বিশ্বাস করছে যে পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘুরছে। একটা সময় এরাই আবার মনে করতো সূর্যটাই ঘুরছে কারণ আমি দেখতে পারছি সূর্য এদিক থেকে উঠে ওদিকে গিয়ে মিলিয়ে যাচ্ছে। আবার এই ধর্ম বিশ্বাসীরাই কয়েক বছর আগেও প্রচার করে বেড়াতো সূর্য রাতে গিয়ে কোন সৃষ্টিকর্তার সেবা যত্ন করে আবার সকাল হলে সোনার নৌকায় করে তা ফেরেশতারা টেনে নিয়ে আসে তাই দিনের আলো ফোটে। বিবর্তনবাদে কিন্তু মাইক্রো বিবর্তন বলেও একটা কথা আছে। খুবই ছোট ছোট বিবর্তন এগুলা যা মানুষ তার সচক্ষে উপলব্ধি করতে পারে। মুক্তমনা লেখিকা বন্যা আহমেদ’এর বহুল জনপ্রিয় বাংলা বই “বিবর্তনের পথ ধরে” বই এর চতুর্থ অধ্যায় “চোখের সামনেই ঘটছে বিবর্তন” লেখাটিতে এরকম অনেক অনেক উদাহরন ও ব্যাখ্যা তিনি দিয়েছেন যা মানুষ তার সচক্ষে দেখে বুঝতে পারে বিবর্তন আসলে কিভাবে হয়। লেখিকা বন্যা আহমেদ এখানে বেশ কিছু উদ্ভিদের বিবর্তন নিয়ে কথা বলেছেন কিছু কীট-পতঙ্গ নিয়ে আমাদের ধারণা দিয়েছেন বেশ কিছু সরীসৃপ ও স্তন্যপায়ী প্রানীর বিবর্তনিয় ব্যাখ্যাও এখানে আছে যা আমানুষের পক্ষে চোখে দেখে পর্যবেক্ষন করা সম্ভব কিভাবে প্রানী জগৎ এর বিবর্তন ঘটে থাকে।

প্রজাপতির জীবন চক্র হচ্ছে একটি মাইক্রো বিবর্তন এরকম অনেক প্রানীর মাইক্রো বিবর্তন চোখে দেখা সম্ভব। বিভিন্ন জাতের উদ্ভিদ যেমন ধান, পাট, গম, ভুট্টা থেকে শুরু করে দেশি বিদেশি অনেক ফলের গাছই এখন ল্যাবরেটরিতে বিবর্তনের ধারাবাহিকতা অনুসরন করে হাইব্রিড করা হচ্ছে যা আমরা প্রায়ই খবরের কাগজে পড়ে থাকি এবং বাস্তবেও দেখি। জীব জগৎ ও এরকম ঘটনা খুব একটা যে কম তাও নয়। প্রকৃতিতেও আমরা দেখছি আবার ল্যাবরেটরিতে তৈরি হাইব্রিড গরু, ছাগল, ভেড়া থেকে শুরু করে মাছ, মুরগীর নতুন নতুন জাতের দেখা পাচ্ছি যার সবই বিবর্তনবাদ সমর্থন করে। বিজ্ঞানীরা এখন আরো বলছে যে, প্রানীর বিবর্তনের ধারাবাহিকতা বা পদ্ধতি সব সময়ই যে জটিল হবে তা কিন্তু নয়। কিছু কিছু সময় দেখা যায় একটি জেনারেশন বা একটি জ্বীনের পরিবর্তনের কারনেই বিবর্তন ঘটে যাচ্ছে। তাই চোখে দেখিনা তাই মানি না এরকম যুক্তি বর্তমানে জানা বোঝার অজ্ঞতা যাদের ভেতরে আছে তাদের মধ্যে দেখা যায়।

মৃত কালপুরুষ
২৪/০৫/২০১৮

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

মৃত কালপুরুষ
মৃত কালপুরুষ এর ছবি
Offline
Last seen: 3 weeks 5 দিন ago
Joined: শুক্রবার, আগস্ট 18, 2017 - 4:38অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর