নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 0 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

নতুন যাত্রী

  • সুশান্ত কুমার
  • আলমামুন শাওন
  • সমুদ্র শাঁচি
  • অরুপ কুমার দেবনাথ
  • তাপস ভৌমিক
  • ইউসুফ শেখ
  • আনোয়ার আলী
  • সৌগত চর্বাক
  • সৌগত চার্বাক
  • মোঃ আব্দুল বারিক

আপনি এখানে

আমাদের একটু চিন্তা ভাবনাই বদলে দিতে পারে ঘুনেধরা, পঁচে যাওয়া এ সমাজকে



প্রতিদিন ধর্ষণ হত্যা এসব বর্বরতার খবর পাচ্ছি আমরা। আমাদের কি মনে হচ্ছে না যে,ধর্ষণ এবং হত্যার পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে? আমাদের এখনো কী সময় আসেনি এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর? রুখে দাঁড়ানো মানেই কী মেইনরোডে গিয়ে দাঁড়ানো? ব্যাজ পড়া,মোমবাতি জ্বালানো?

না ব্যাপারটা এতো কঠিন না, তুলনামূলক সহজ। শুধু আপনার আমার একটু চিন্তা ভাবনাই বদলে দিতে পারে ঘুনেধরা,পঁচে যাওয়া এ সমাজকে।
আসুন ধর্ষণ বেড়ে যাওয়ার কতগুলো কারণ বের করার চেষ্টা করি এবং তার প্রতিরোধ করার চেষ্টা করি। আর হে, প্রিয় পাঠক পড়া শেষে আপনার মতাদর্শে ধর্ষণের কারন এবং প্রতিরোধ মূলক কার্যকরী পদক্ষেপ গুলো কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না।

আমার অভিমত -

★প্রথমত : মিডিয়া ;মিডিয়ায় প্রচানরার মাধ্যমে আমরা যেমন ভিকটিম সম্পর্কে জানতে পারি,অন্য দিকে পশুত্ব ধারণ করা কিছু পুরুষ ধর্ষণের গল্প পড়ে পাশবিক আনন্দ পায়। আমাদের অনেকদের মধ্যেই রোল প্লে করে সেক্সচুয়াল লাইফ এনজয় করার প্রবণতা থাকে।তারমধ্যে জবরদস্তি,বর্বরতা,অত্যাচারও রোল প্লে। যারা নিয়মিত পর্ন দেখে থাকবেন তারা ব্যাপারটা ভালো বুঝবেন। তাই মেয়েদের কাপড়ের দোষ দেয়ার যুগ শেষ হয়ে গেছে। মিডিয়ার কাছে একটা অনুরোধ ধর্ষণের খবর গুলো একটু কম কম প্রকাশ করুন। এতে মেয়েরা ভয় পায় আর কিছু জানোয়ারের দাঁড়িয়ে যায়।

★দ্বিতীয়ত : যে এলাকায় ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে সে এলাকার সুশীল সমাজ, প্রভাবশালী, ব্যাক্তিবর্গ, শিক্ষকগণ, মসজিদের ইমাম কিংবা আমার আপনার মতো সাধারণ মানুষগুলো যদি এক হয়ে শাস্তির ব্যাপারে অটল থাকতে পারি, তাহলে আশা করা যায় ধর্ষণের ঘটনা কিছুটা হলেও কমে আসবে। অনেক সময় দেখা যায় পরিবারে কাজের লোক দ্বারা উঠতি বয়সী কোনো মেয়ে শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হয়।সেক্ষেত্রে আমরা কী করি? অবশ্যই লোকজন জানিয়ে ডাক ঢোল পিটিয়ে জানান দেইনা? আমরা কিছুটা চুপিসারেই তার শাস্তির ব্যবস্থা করি। জাতি হিসেবে বাংলাদেশিরা কিন্তু একটু স্বার্থপর।কিন্তু আশার বাণী হলো আমরা স্বার্থপর হলেও আমাদের স্বার্থের পরিধি আমাদের পরিবার, গোষ্ঠী ও বংশ নিয়ে হয়। যেখানে অনেক উদার রাষ্ট্রের পরিবারটাই ভঙ্গুর, সেখানে আমরা ভাঙ্গা পরিবারকেও গনায় ধরে স্বার্থপর হই।আজ দেখলাম একজনের আপন বোনের সাথে ভয়ঙ্কর এ ঘটনা ঘটেছে! সে নিজেই লিখে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন। এখনো যদি আমরা সচেতন না হই,তাহলে সেদিন আর বেশিদূরে নেই যেদিন আপনি কিংবা আমি ,আমাদের খুব আপনজনের সাথে ঘটে যাওয়া বীভৎসতার কাহিনী লিখে পোস্ট করবো। আমাদের সবচেয়ে স্বার্থের জায়গাটায় আঘাত আসতে পারে। তাই এখন সময় হলো পারিবারের মতো করে ধর্ষনের শিকার হওয়া ‘বাংলাদেশের’ পাশে দাঁড়ানো যা আপনার আমার স্বার্থেই করা উচিৎ।

★তৃতীয়ত : শিশুদের কথা শুনুন,বিশ্বাস করুন,ভরসা করুন।অনেক সময় ছেলে শিশুরাও বর্বরতার শিকার হয়।আমাদের কাছে সরাসরি না বলে বিভিন্ন অজুহাত দেখায়।যেমন,কোনো শিশু তার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার ক্ষেত্রে অনীহা দেখাতে থাকে।আমরা ভাবি ফাঁকি দেয়ার জন্য এমনটা করছে আমরা শুনতেই চাইনা,আর শিশুগুলো বলতেও পারেনা।আমাদের এ জালিম দুনিয়ায় এখন সব বর্বরতার শিকার হচ্ছে শিশুরা।পৃথিবীতে সকলের বাঁচার অধিকার আছে,কারো উপর এমন ভয়ানক বর্বরতা না হোক যা এক মাস বয়সী শিশুর ক্ষেত্রে হয়েছে!

★চতুর্থত : শিক্ষক এবং শিক্ষা ব্যবস্থা।শিক্ষাকে যে অবস্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে তাতে বলা যাবে না যে শিক্ষিত লোক দ্বারা কোনো বর্বরতা হবেনা আর যাদের এই তথাকথিত শিক্ষার প্রমাণপত্র নেই তাদের কথা তো বলার অপেক্ষা রাখেনা।কেননা তাদের আছে হতাশা,অবহেলা আর বঞ্চনা ।তাই তাদের দ্বারা যেকোনো কিছু ঘটতেই পারে !যাই হোক এখন যুগটা হলো স্মার্ট চিন্তা করার যুগ। "work smarter than harder"
কেউ একাডেমিক পড়াশুনায় ভালো না, তাই বলে জোড় করে একাডেমী শিক্ষা নয়। তাকে তার সে পথেই এগিয়ে যেতে সাহায্য করুন, যাতে সে সবথেকে ভালো করার সামর্থ রাখে। তার ভেতরে হতাশা,ব্যর্থতা আর হীনমন্যতার বীজ ঢুকিয়ে কী লাভ বলুন? দেখতেইতো পারছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট কত এগিয়ে গিয়েছে হয়তো আপনার দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন হলে ফুটবলেও বাংলাদেশ এগিয়ে যেতে পারে। সর্বস্তরের মানুষের জন্য একটা আশীর্বাদ হয়ে আসতে পারে কারিগরী শিক্ষা!ভালো ঘরের যে ছেলেমেয়েরা যদি কারিগরি শিক্ষায় আসে তাহলে সে শিক্ষার পরিবেশ যেমন ভালো হতো, তেমনি আমরা চাকুরীজীবির চেয়ে উদ্যোক্তা বেশি পেতাম। হয়তো বেকার সমস্যার একটা দীর্ঘস্থায়ী সমাধান মিলতো। আসলে মানুষকে যতবেশি সৃজনশীল কাজে ব্যস্ত রাখা যায় ততই সে মননশীল মানুষে পরিণত হয়। সমাজের রাহাজানি কিছুটা কমতে পারে।আবার কাউকে ঘরে বসিয়ে ঝিমিয়ে রেখে পিতামাতার ভালোবাসা প্রদর্শনে কোনো মাহাত্ম নেই। তাকে কাজে পাঠান,কাজ করান তাতে সেও সুখী হতে পারে সমাজেও একটা অসুস্থ মানসিকতার মানুষের সংখ্যা কমতে পারে।
ঐ যে কথায় আছেনা- "অলস মস্তিষ্ক শয়তানের ঘাটি"।

কাজের ভালো সুযোগ তৈরী হলে মাদক গ্রহনের পরিমাণও কমবে। মাদক চালান বন্ধ করতে বললেই তা সম্ভব নয়। বরং এমন একটা কিছু করতে হবে যাতে মানুষ মাদক গ্রহণের কোন কারণ না পায়। আপনি আপনাকে তৈরী করুন একজন স্মার্ট নাগরিক হিসেবে অন্যকেউ আহবান করুন। আপনার পাশে থাকা হতাশাগ্রস্থ মানুষটাকে টাকা দিয়ে সাহায্য করা লাগবেনা কয়েকটা আশার কথা শোনান, ভালোবাসার কথা শোনান, কথা বলুন কথা শুনুন আর ভালোবাসুন।আপনার স্বার্থেই এসব করুন। সবকিছু সরকার একা হাতে করতে পারেনা। আপনাকেও সাহায্য করতে হবে আপনার পরিবারের জন্য।

ধর্ষণের খবরগুলো আর প্রকাশ করবেন না দয়াকরে। পরীক্ষা করেই দেখুননা এতে এই বর্বরতার পরিমান কমে কিনা। হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার মতো সময়সাপেক্ষ হতে পারে কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী সমাধান পাওয়াও যেতে পারে।

$$$$$
অদৃশ্য

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

লালসালু
লালসালু এর ছবি
Offline
Last seen: 4 ঘন্টা 10 min ago
Joined: বৃহস্পতিবার, মার্চ 15, 2018 - 5:54অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর