নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 2 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • আলমগীর কবির
  • মিঠুন বিশ্বাস

নতুন যাত্রী

  • চয়ন অর্কিড
  • ফজলে রাব্বী খান
  • হূমায়ুন কবির
  • রকিব খান
  • সজল আল সানভী
  • শহীদ আহমেদ
  • মো ইকরামুজ্জামান
  • মিজান
  • সঞ্জয় চক্রবর্তী
  • ডাঃ নেইল আকাশ

আপনি এখানে

যতো মসজিদ ততো শয়তানী


শেখ হাসিনা একসাথে সবই খেতে চায়। নিরামিষভোজী থেকে তিনি আমিষে নাম লিখিয়েছেন। নিরামিষ থেকে ঠিক মতো বেরও হতে পারছেন না, আবার আমিষেও পোষাচ্ছে না! এমন অবস্থা যে তিনি গরুও খায় আবার গরুর খাদ্য ঘাসও খেতে চায়। একদিকে তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে বুলি আউরান, অন্যদিকে জঙ্গিবাদকে মদদ দিয়ে যেতে থাকেন। তিনি আসলে কোন মতাদর্শে বিশ্বাসী তা তিনি নিজেও জানেন না। তিনি যেহেতু দোদুল্যমান, তাই একবার বাঙালি সংস্কৃতির পক্ষে বলে আবার অন্যদিকে ইসলামি সংস্কৃতির চর্চার উপর জোর দিয়ে থাকেন। একদিকে ইসলামের সাথে জঙ্গিবাদের কোন সম্পর্ক নেই বলে চিৎকার করেন, আবার অন্যদিকে সৌদি আরবের ইয়েমেনের মুসলিমদের উপর হত্যাযজ্ঞকে সমর্থন দিয়ে যান।

বর্তমানে তিনি ৫৭০টি মসজিদ নির্মাণের প্রকল্প শুরু করেছেন। এতো মসজিদ দিয়ে কী হবে? যতো মসজিদ বাড়বে ততো শয়তানী বাড়বে। এতো ক্ষুদ্র একটা দেশ অথচ সারাদেশে মসজিদের সংখ্যা ২ লাখ ৫০ হাজার ৩৯৯টি (১৯, ফেব্রুয়ারী ২০১৮, সংসদে ধর্মমন্ত্রী)। মসজিদ কোন দরকারি স্থাপনা নয়। এতো মসজিদের কোন প্রয়োজনও নেই। বর্তমানে যা আছে তাই যথেষ্ট।

ঢাকাকে এমনিতেই মসজিদের নগরী বলা হয়। ঢাকা জেলার আয়তন মাত্র ৫৬৫ বর্গমাইল। অথচ ২০০৮ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ঢাকাতে মসজিদের সংখ্যা ৫,৭৭৬ ছিল। প্রতি বছরই সংবাদপত্রের মাধ্যমে জানা যায় যে দেশে যতো চোর, ডাকাত, বাটপার, দুর্নীতিবাজ, ধর্ষক, খুনি ছিল ও আছে তারা সকলেই কয়েকটা করে মসজিদ নির্মাণ করেছে। এতে কিন্তু মসজিদের পবিত্রতা নষ্ট হয় না। গত ১০ বছরে মসজিদের সংখ্যা বেড়েছে প্রচুর। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৫ হাজার ৩৫৬টির অনুকূলে ১১ কোটি ২১ লাখ ৬০ হাজার, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৫ হাজার ৩৯৯ মসজিদের জন্য ১১ কোটি ৪৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা অনুদান দেয়া হয়। জনগণের টাকা মেরে আল্লাহ্‌ নামে মসজিদের নির্মাণের কথা বলে মূলত জঙ্গিবাদের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। মসজিদ নির্মাণ করা অর্থের অপচয় ছাড়া আর কিছু নয়। জনগণের হাজার হাজার কোটি কোটি টাকা ব্যাংক থেকে কীভাবে উধাও হয়ে যায় এবং কার আছে যায় আর কে এইসব কূটবুদ্ধি ব্যয় করে থাকে তা বুঝতে আল্লাহ্‌র ঘরে প্রার্থনা করতে যেতে হয় না।

মসজিদের চেয়ে জরুরী প্রতিটি এলাকায় নারীদের জন্য টয়লেট নির্মাণ করা। নারীরা তো পুরুষের মতো অসভ্য নয় তাই তারা যেখানে সেখানে মুতে দিতে পারে না। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, অফিস, আদালতসহ বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানেও নারীদের জন্য যথেষ্ট টয়লেট বরাদ্দ নয়। সুযোগ সুবিধা ও অধিকারের দিক থেকে নারীরা লোকাল বাসের সিটের সংখ্যার চেয়েও সংখ্যালঘু। যা শুধু দুঃখজনকই নয়, বরং লজ্জাজনক বটে। শরীরের যাবতীয় ক্রিয়াকলাপে পানির ভূমিকা অনস্বীকার্য অথচ পর্যাপ্ত পরিমাণে টয়লেট না থাকার কারণে পরিমিত পরিমাণে পানিও নারীরা রাস্তাঘাটে এমনকি কর্মক্ষেত্রেও পান করতে পারে না। যা শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। পুরুষের থেকে দ্বিগুণ পরিশ্রম করেও নারীদের জন্য ন্যূনতম টয়লেটের ব্যবস্থার বা নিশ্রামকক্ষের সুবিধাটুকুও থাকে না।

আমাদের দেশে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত লক্ষ লক্ষ নারীরা তাদের সন্তানের জন্য বিদ্যালয়ের বাইরে তৃষ্ণার্ত কাকের মতো চেয়ে থাকে। কিন্তু তাদের বিশ্রামের জন্য কোন স্থাপনা নির্মাণ করা হয় না। পানিশূন্যতায় তাদের শরীরে নানা ধরণের জটিলতা দেখা দেয়। মসজিদে কি এইসকল নারীদের বিশ্রামের জন্য জায়গা দিবে? না, দিবে না। যে মসজিদ দরিদ্র গরীব মানুষের আশ্রয়স্থল হতে পারে না সে মসজিদ আবার কীসের প্রয়োজন! গরীবের পদধূলিতে বা শরীরে গন্ধে যদি মসজিদের পবিত্রতা নষ্ট হয় তাহলে এই মসজিদ শুধু টাকাওয়ালা শয়তানদের। এমন যদি হতো মসজিদে নারী, পুরুষ, তৃতীয় লিঙ্গ সকলের জন্য প্রসাব ও পায়খানা করার ব্যবস্থা রাখা হতো তাহলেও অন্তত আল্লাহ্‌ঘর যে মানুষের কাজে আসে তা বোঝা যেতো। কিন্তু না, ঢাকা শহরেই এমন অনেক মসজিদ ও মাদ্রাসা আছে যেখানে স্পষ্ট করে লেখা আছে সেই রাস্তার সামনে দিয়েও যেন নারীরা হাঁটাচলা না করে থাকে! মসজিদের বাইরে নারীর হন্টনেই যদি মসজিদের ভিতরের পবিত্রতা নষ্ট হয়, তাহলে সেই আল্লাহ্‌ঘর নারীদের জন্য কতোটা নিরাপদ ও সম্মানজনক তা বুঝতেও বিজ্ঞানী হওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। পুরুষেরা নারীদের এমন দৃষ্টিতে দেখে যেন নারীরা হল বসন্ত রোগের মতো ছোঁয়াচে।

মসজিদ নির্মাণের চেয়েও জরুরী নারীদের জন্য স্বল্পমূল্যে মাসিকের স্যানিটারি প্যাড বিক্রি করা। শুধু ঢাকা শহরেই নয়, প্রতিটি জেলা-উপজেলায় নারীদের জন্য স্বল্পমূল্যে মাসিকের স্যানিটারি প্যাডের পৌঁছে দেওয়া। নারীদের মাসিকের সময় শরীরের এস্ট্রোজেন এবং প্রোজেস্টরন হরমোনের প্রভাবে পানির অভাব দেখা দেয়। তাই এই সময় মেয়েদের স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বেশি পরিমাণ পানি পান করা উচিত। কিন্তু নারীরা না পায় টয়লেট ব্যবহারের সুবিধা, না পায় কম খরচে প্যাড সংগ্রহের সুবিধা। বর্তমানে যে সংখ্যক মসজিদ কমিটি আছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের উচিত নারীদের জন্য মসজিদ থেকে বিনামূল্যে স্যানিটারি প্যাড বিতরণ করা। মুসলমানেরা যেহেতু সারাদিন চিৎকার করে প্রমাণ করার চেষ্টা করে যে ‘ইসলাম নারীকে দিয়েছে সর্বোচ্চ সম্মান ও সুমহান মর্যাদা’ তাই তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য যে নারীর মাসিকের সময়ে তাদের ফান্ড থেকে প্যাড বিতরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা। যদিও ইসলাম ধর্ম মাসিকের সময় নারীদের অপবিত্র ঘোষণা দিয়েছে। অথচ এই অপবিত্র মাসিকের কারণেই পুরুষদের এই পৃথিবীতে আগমন! তাহলে কি বলা যায়, মাসিক যদি অপবিত্র হয় তাহলে পুরুষ কীভাবে পবিত্র হল? যে যোনিতে পুরুষের জিহবা যায়, আঙুল যায়, লিঙ্গ যায়; সেই যোনি থেকেই তো পুরুষেরা বের হয়।

যে দেশের জন্মই হয়েছিলো ধর্মনিরপেক্ষতার ভিত্তিতে, সেই দেশের রাজনীতি কোনভাবেই ধর্মকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হতে পারে না। কিন্তু অবিশ্বাস্য হলেও বাস্তব যে বাঙলাদেশের রাজনীতি ধর্মের উপর ভর করে চলে আসছে! দেশে যে যতো বড় হারামজাদা, সে ততো বেশি ধার্মিক প্রমাণে ব্যস্ত। এবং মানুষ খায়ও বটে। কারণ যেমন মানসিকতা, তেমনই ধার্মিকতা!

বিভাগ: 

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

অনন্য আজাদ
অনন্য আজাদ এর ছবি
Offline
Last seen: 1 দিন 15 ঘন্টা ago
Joined: শুক্রবার, সেপ্টেম্বর 4, 2015 - 10:56অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর