নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 3 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • আলমগীর কবির
  • মিঠুন বিশ্বাস
  • দ্বিতীয়নাম

নতুন যাত্রী

  • চয়ন অর্কিড
  • ফজলে রাব্বী খান
  • হূমায়ুন কবির
  • রকিব খান
  • সজল আল সানভী
  • শহীদ আহমেদ
  • মো ইকরামুজ্জামান
  • মিজান
  • সঞ্জয় চক্রবর্তী
  • ডাঃ নেইল আকাশ

আপনি এখানে

কোরান নিজেই প্রমান করে যে সে একটা বিভ্রান্তকারী গ্রন্থ যা মানুষকে বর্বর বানায়


মুসলমানরা তাদের ধর্ম নিয়ে শত শত দল উপদলে বিভক্ত। প্রতিটা দলই নিজেদেরকে একমাত্র খাটি দল মনে করে অন্য দলকে কাফির মুনাফিক হিসাবে গণ্য করে আক্রমন করে , মারামারি খুনাখুনিতে লিপ্ত হয়।এটা নিয়ে যখন আলোচনা করা হয় , তখন সব দোষ সেই লোকগুলোর ওপর দেয়া হয় , আর কোরানকে রাখা হয় নির্দোষ। কিন্তু বিষয়টা কি তাই ? আসলে দোষটা কার ? মানুষের , নাকি কোরানের? সেটা দেখা যাক এবার ----
----------------------------------------------------------------
সুরা নাহল-১৬:৮৯: সেদিন প্রত্যেক উম্মতের মধ্যে আমি একজন বর্ণনাকারী দাঁড় করাব তাদের বিপক্ষে তাদের মধ্য থেকেই এবং তাদের বিষয়ে আপনাকে সাক্ষী স্বরূপ উপস্থাপন করব। আমি আপনার প্রতি গ্রন্থ নাযিল করেছি যেটি এমন যে তা প্রত্যেক বস্তুর সুস্পষ্ট বর্ণনা, হেদায়েত, রহমত এবং মুসলমানদের জন্যে সুসংবাদ।

সুরা আল আনাম-৬:১১৪:তবে কি আমি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোন বিচারক অনুসন্ধান করব, অথচ তিনিই তোমাদের প্রতি গ্রন্থ অবতীর্ন করেছেন, যাতে সব কিছু বিস্তারিতভাবে বর্ণিত? আমি যাদেরকে গ্রন্থ প্রদান করেছি, তারা নিশ্চিত জানে যে, এটি আপনার প্রতি পালকের পক্ষ থেকে সত্যসহ অবর্তীর্ন হয়েছে। অতএব, আপনি সংশয়কারীদের অন্তর্ভুক্ত হবেন না।
-----------------------------------------------------------------
উপরের আয়াতসমূহ বলছে কোরানে প্রতিটা বস্তুর বর্ননা সুস্পষ্ট বা পরিস্কার। তার অর্থ লেখাপড়া জানা যে কোন লোক কোরান পড়লে , কোরানের বক্তব্য বুঝতে পারবে। একই সাথে বোঝা যাচ্ছে , কোরানের আয়াতের অর্থ বুঝতে , অন্য কোন কিতাবের দরকার নেই।যে কোন আয়াত পড়লেই তার অর্থ বোঝা সহজ খুব পরিস্কারভাবেই, কারন সেটাই আল্লাহ কোরানে বার বার বলছে। কিন্তু সেই একই আল্লাহ কোরানে আবার বলছে --
-------------------------------------------------------------------
সুরা আল এমরান-৩:৭:তিনিই আপনার প্রতি কিতাব নাযিল করেছেন। তাতে কিছু আয়াত রয়েছে সুস্পষ্ট, সেগুলোই কিতাবের আসল অংশ। আর অন্যগুলো রূপক। সুতরাং যাদের অন্তরে কুটিলতা রয়েছে, তারা অনুসরণ করে ফিৎনা বিস্তার এবং অপব্যাখ্যার উদ্দেশে তন্মধ্যেকার রূপকগুলোর। আর সেগুলোর ব্যাখ্যা আল্লাহ ব্যতীত কেউ জানে না। আর যারা জ্ঞানে সুগভীর, তারা বলেনঃ আমরা এর প্রতি ঈমান এনেছি। এই সবই আমাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ হয়েছে। আর বোধশক্তি সম্পন্নেরা ছাড়া অপর কেউ শিক্ষা গ্রহণ করে না।
--------------------------------------------------------------------

এই আয়াতে আল্লাহ বলছে , কিছু আয়াত পরিস্কার আর কিছু আয়াত অপরিস্কার বা রূপক আর যার অর্থ আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না।

তাহলে এটা একটা স্ববিরোধী বা বিভ্রান্তকর বক্তব্য হয়ে গেল না ? কারন কোরান একবার বলছে , তাতে সব কিছুই বিস্তারিত ও পরিস্কারভাবে বর্ননা করা হয়েছে , পরে এসে বলছে , কিছু বিষয় পরিস্কার আর কিছু বিষয় অপরিস্কার যা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না।

কিন্তু এতেও সমস্যার শেষ না। ধরা যাক , কিছু আয়াতের অর্থ আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না , কিন্তু বাকী আয়াতের অর্থ তো কোরানের বক্তব্য অনুযায়ী মানুষের সহজেই বোঝার কথা। দেখা যাচ্ছে , কোন আয়াত বা পর পর কয়েকটা আয়াতের অর্থ সোজাভাবে যা বোঝায় , তা সাধারন মুসলমানরা গ্রহন করতে রাজী নয়। যেমন --
------------------------------------------------------------------
সুরা তাওবা-৯:৫:অতঃপর নিষিদ্ধ মাস অতিবাহিত হলে মুশরিকদের হত্যা কর যেখানে তাদের পাও, তাদের বন্দী কর এবং অবরোধ কর। আর প্রত্যেক ঘাঁটিতে তাদের সন্ধানে ওঁৎ পেতে বসে থাক। কিন্তু যদি তারা তওবা করে, নামায কায়েম করে, যাকাত আদায় করে, তবে তাদের পথ ছেড়ে দাও। নিশ্চয় আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

সুরা তাওবা-৯:১৪:যুদ্ধ কর ওদের সাথে, আল্লাহ তোমাদের হস্তে তাদের শাস্তি দেবেন। তাদের লাঞ্ছিত করবেন, তাদের বিরুদ্ধে তোমাদের জয়ী করবেন এবং মুসলমানদের অন্তরসমূহ শান্ত করবেন।

সুরা তাওবা-৯:২৯:তোমরা যুদ্ধ কর আহলে-কিতাবের ঐ লোকদের সাথে, যারা আল্লাহ ও রোজ হাশরে ঈমান রাখে না, আল্লাহ ও তাঁর রসূল যা হারাম করে দিয়েছেন তা হারাম করে না এবং গ্রহণ করে না সত্য ধর্ম, যতক্ষণ না করজোড়ে তারা জিযিয়া প্রদান করে।
------------------------------------------------------------------
এই আয়াতসমূহে পরিস্কারভাবেই বলছে যে, যেখানেই কাফের মুশরিক ইহুদি নাসারা ইত্যাদিদেরকে পাওয়া যাবে , তাদের ওপর আক্রমন করতে হবে , তারপর তারা ইসলাম গ্রহন করলে ছেড়ে দিতে হবে ,গ্রহন না করলে হয় হত্যা করতে হবে , না হয় জিজিয়া কর প্রদানের প্রতিজ্ঞায় ও অপমানকর সামাজিক পরিস্থিতি মেনে নিয়ে বাস করার অনুমতি দিতে হবে। কিন্তু সিংহভাগ মুসলমানই উক্ত আয়াতসমূহের উক্ত পরিস্কার অর্থ গ্রহন করতে রাজী না। তারা তখন শুরু করবে , উক্ত আয়াতের প্রেক্ষাপট দেখতে হবে , মূল আরবীতে পড়তে হবে হেন তেন ধানাই পানাই। কারন তারা উপলব্ধি করতে পারে যে , কোরানের উক্ত আয়াত পরিস্কারভাবেই ইসলামকে একটা অসভ্য বর্বর জঙ্গি ধর্ম হিসাবেই প্রতিষ্ঠিত করছে। এইসব মুসলমানরা নিজেদেরকে একটা বর্বর ধর্মের অনুসারী হিসাবে মানতে রাজী না , আবার ইসলাম ছাড়তেও রাজী না, তাই তারা এইসব অজুহাত দাড় করায়। এখন প্রশ্ন হলো - কোরানের মধ্যে তো কোন আয়াতের প্রেক্ষাপট বর্ননা করা নেই , এমতাবস্থায় কোরানের আয়াতের প্রকৃত অর্থ বোঝার উপায় কি ?

সুতরাং এইমত অবস্থায় কোরান উভয়মূখি সংকটে পড়ছে। কোরান একবার দাবী করছে , তার ভিতরকার প্রতিটা বিষয়ই সুস্পস্টভাবে ও বিস্তারিতভাবে বর্ণিত, তারপরেই আবার বলছে , কিছু সুস্পষ্ট কিছু সুস্পষ্ট না। কিন্তু এরপরেও যে সব আয়াতকে সুস্পষ্ট বলা হচ্ছে , দেখা যাচ্ছে , সেসবের অর্থ সহজ ভাবে করলে ইসলাম হয়ে যায় একটা অসভ্য ও বর্বর ধর্ম। এখন প্রেক্ষাপট আমদানী করে উক্ত আয়াতসমূহের অর্থকে মানবিক ও নৈতিক করতে গেলে , পুরা কোরানই যে আসলে অস্পষ্ট ও দুর্বোধ্য সেটাই প্রমানিত হবে , কারন তাহলে বোঝা যাচ্ছে , বাইরের কিতাব যেমন - হাদিস বা সিরাত ছাড়া কোরানের আয়াতের প্রকৃত অর্থ বোঝা সম্ভব না। তার মানে গোটা কোরানটাই একটা বিভ্রান্তিকর গ্রন্থ , যা পাঠ করে যে কেউ যে কোন রকম অর্থ করতে পারে। অর্থাৎ যে যেমন খুশি অর্থ করতে পারে। আর এভাবেই যে যেমন খুশি অর্থ তৈরী করেই এক একটা দল উপদল গঠিত হয়েছে , যারা আবার এক পর্যায়ে নিজেদেরকে প্রকৃত খাটি দল হিসাবে গণ্য করে বাকী দল উপদলকে কাফির মুনাফিক আখ্যা দিয়ে তাদের সাথে দ্বন্দ্ব সংঘাত যুদ্ধ মারামারি হানাহানিতে লিপ্ত হচ্ছে।

উপসংহার :কোরানই আসলে মুসলমানদের মধ্যে যাবতীয় মারামারি হানাহানির জন্যে দায়ী।

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

কাঠমোল্লা
কাঠমোল্লা এর ছবি
Offline
Last seen: 2 দিন 17 ঘন্টা ago
Joined: শুক্রবার, এপ্রিল 8, 2016 - 4:48অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর