নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 3 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • আলমগীর কবির
  • মিঠুন বিশ্বাস
  • দ্বিতীয়নাম

নতুন যাত্রী

  • চয়ন অর্কিড
  • ফজলে রাব্বী খান
  • হূমায়ুন কবির
  • রকিব খান
  • সজল আল সানভী
  • শহীদ আহমেদ
  • মো ইকরামুজ্জামান
  • মিজান
  • সঞ্জয় চক্রবর্তী
  • ডাঃ নেইল আকাশ

আপনি এখানে

দেশে মাথা থাকবে ভোটের জন্য, কিন্তু মগজ থাকবে না..!


কথাগুলো অনেক আগে থেকেই বলছি, বরং কোপাকোপির এই ঘটনায় যারা আকাশ থেকে পড়ছেন.., তাদের কান্ড দেখে বড়ই করুণা হচ্ছে..! চাপাতি’র কাজ শুরু হয়েছে অনেক আগেই, সামান্য বিরতিতে আবার তারই ধারাবাহিকতা এটা..! তবে এটা কিছুই না.., দেশে কয়েক কোটি কষাই তৈরী হয়েছে এই কাজ করার জন্য..! যা হচ্ছে, এগুলোকে চাপাতির জং বা মরিচা ছাড়ানোর মহড়া বলতে পারেন!

যারা জনাবার অধীনে বিনীতে নিবেদন করছেন, তাদের প্রতি এই অধমের নিবেদন, সরকার লোক দেখানোর জন্য যেটুকু দরকার, সেটুকু করবে..! গাছ কাটা আর পানি ঢালার কাজ চলবে যুগপৎ ও সমান্তরাল গতিতে! ২০১৭তে পাল্টা শর্তে কওমী সনদের স্বীকৃতির পর এমাসে কওমীর ১ হাজার ১০ জন কাঠমোল্লাকে সরকারী চাকুরীতে নিয়োগ দেয়া হয়েছে..! বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পর্যায়ক্রমে মাদ্রাসার ছাত্র ঢুকিয়ে তাকে উন্নততর মাদ্রাসায় পরিণত করা হচ্ছে! শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, কওমী মাদ্রাসার ছাত্ররাই তো আগামী দিনের কর্ণধার..! শিক্ষামন্ত্রী দূরদর্শি বটে..? হাজার হলেও বাম রাজনীতি করা, লেখাপড়া করা, এবং দিনের হাওয়া বোঝা লোক.! তাঁর কথা অন্যরা ফেললেও’ আমি ফেলি কি করে..? আমিও তো সেই লাইনেরই লোক!

ভূত তাড়ানো সহজ হয় না, যদি শর্ষের মধ্যেই ভূত থাকে! ভাইবোনেরা যদি সত্যিই মনে করেন এবং এতকিছুর পরও মনে করেন যে, এই ওঝাতেই কাজ হবে..! তাহলে বলবো আপনাদের মগজ ভুল ব্যকারণে হাটছে..! রাজনীতির পাঠ এত সহজ নয়..! আমরা অনেকেই আপনাদের জন্য কষ্ট করে ফেসবুকে-ব্লগে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর তথ্য তুলে ধরি! যেগুলো বাংলাদেশের কোন পত্রিকায় পাবেন না, তাদেরও হাত-পা বাধা! তাঁরাও চাপ আর চাপাতির ভয়ে চিড়া চ্যাপটা..!

বোনেরা যারা লিপস্টিক দিচ্ছেন, লালটিপ পরছেন, ভায়েরা ফেডিং করছেন, রং চটা জিন্স পরে ঘুরছেন, অফিস করছেন, চকচকে ব্লেডে দাড়ি কামাচ্ছেন, নিজেদের নিরাপদ মনে করছেন.. তো? করেন! বিজ্ঞান বলে কোন স্থান বায়ু শুণ্য থাকে না, সৌদির শুণ্যস্থান বাংলাদেশ পুরণ করতে যাচ্ছে। এ্যাইসা দিন নেহি রেহেঙ্গা ভাইজান, বোনডি! যদি না চান, তাহলে এখনই প্রতিবাদ করুণ.. গর্জে ওঠুন..!

অনেকেই দেখছি খুব দুশ্চিন্তায় আছেন! আমি দুশ্চিন্তার দিন অনেক আগেই পার করছি! এখন পরিণতির কথা ভাবছি! ক্ষতির কথা ভাবছি! মূল্যের কথা ভাবছি! আমি ভাবছি আত্মরক্ষা বা প্রতিরোধের কথা! আকাল মানদ যদি হন, ঘন হয়ে আসুন সকলে, গোল হয়ে আসুন সকলে, হাক্ দিয়ে উঠুন সকলে..!

আর সেটা না হলে এই ইতরের দেশে কেবল ভোটার থাকবে কিন্তু কোন মানুষ থাকবে না! মাথা থাকবে কিন্তু কোন মগজ থাকবে না! থাকবে না মগজের উৎপাতও! জল্লাদের উল্লাস থাকবে, কষাইদের অট্টহাসি থাকবে, থাকবে প্রতারক ও মিথ্যাবাদীর উন্নতির বয়ান..! ডাকাতদের লুটপাট আর পদলেহীদের আত্মসন্তষ্টির ঢেঁকুর! আর রাতদিন গিলতে হবে উচ্ছিষ্টভোগী কবি, কেরাণী, বুদ্ধিজীবীর অমৃত জ্ঞান!

অনেকেই খুব বিজ্ঞের মত উদ্বেগের সাথে বলছেন, মোল্লারা সব দেশের ভিতরে ঘাপটি মেরে আছে? সরকারের ভিতরেও ঘাপটি মেরে আছে! মোল্লারা রাস্তায় মাইক-ব্যানার লাগিয়ে কল্লা কাটার, তালেবানী রাষ্ট্রের ঘোষণা দিচ্ছে আর এরা বলে কি'না ঘাপটি মেরে আছে! এদের কথা শুনে উট পাখির কথা মনে হয়। মাটিতে মাথা গুজে যে কি’না নিজের না দেখাকে, অন্যেরও না দেখা মনে করে! গোপাল ভাড় যেমন রাজদরবারে দাড়িয়ে বলেছিলেন, রাজামশাই আপনার দেশে কানা ও বোবা লোকের সংখ্যাই বেশী! এ যেন গোপালভাড়েরই ভবিতব্য দেখছি- এই বাংলায়! আমরাও হয়েছি সব স্বার্থকানা, দলকানা, জ্ঞানকানা, রাত-দিন দুইই কানা..!

স্যারের উপর হামলায় আমি অবাক হয়নি..! বোধ করি অবাক স্যারও হয়নি! ২০০৮ সালে জাপান থাকাকালীন স্যারের সাথে আমার শেষ কথা হয়, সাথে ম্যাডামও ছিলেন। ২০০৪ সালে হুমায়ুন আজাদের উপর হামলার পর তাঁকে নিয়ে আমার-আমাদের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার কথা প্রসঙ্গে, স্যারই নিজেই বলেছিলেন, আমি তো এখন বেঁচে আছি.. বাড়তি..! অতিরিক্ত জীবনের ফলভোগ করছি.. মানে বোনাস লাইফ! তবে এ পথ খুব কঠিন, শ্বাপদ সংকুল..! নিজের জীবনের এমন অনিশ্চিত অবস্থা সম্পর্কে কথা বলার সময়েও তাঁর চোখে-মুখে এতটুকু উৎকণ্ঠা ছিল না! আবেগও ছিল না! ছবিতে খেয়াল করুণ কোপ খাওয়ার পরও স্যারের সেই শান্ত ও স্বাভাবিক মুখোভঙ্গি!

ভাইরে, মেধা-মনন মেশিনে তৈরী হয় না, প্রকল্পে তৈরী হয় না! শতবছরে, হাজার বছরে, অনেক সাধনা, অনেক পরিশ্রমে দুই-চারজন অনন্য প্রতিভাকে আমরা পাই। সেই দুই-চার মানুষ অন্ধকার সমাজে আলো জ্বেলে মানুষকে আলোকিত করে। সমাজ হয় সভ্য, আধুনিক, উন্নত, মানবিক! আর তাদেরকে হত্যা করতেই কোরবানীর মাংসো কাটার জং ধরা চাপাতি তুলে দেয় হয় অপুষ্ঠিতে ভোগা, রোগা, এতিম, অসহায় কিছু নাদানের হাতে.! মাদ্রাসায়, ওয়াজে, জুমায়, জনসভায় প্রকাশ্যে জ্ঞান-বিজ্ঞান-মুক্তচিন্তা-মু্ক্তমনাদের বিরুদ্ধে হুমকি-ধামকি-ফতোয়া দেয়ার পরও, বিষ ছড়ানোর পরও কোন ব্যবস্থা নেই! বরং তাদের সাথে দেখছি সরকারের গলাগলি-মাখামাখি! তাহলে তারা কেন হুকুমের আসামী নয়? পৃষ্টোপোষকরা কেন তার সহযোগী নয়? ক্ষমতা মূর্খদের বড়ই নিষ্ঠুর, হৃদয়হীন, স্বার্থপর ও অন্ধ করে! ১৬ কোটি মানুষের যে দেশ দুই-চারজন এমন মানুষের ভার সহ্য করতে পারে না! সে দেশে কেবল মাথা থাকবে ভোটের জন্য, কিন্ত মগজ থাকবে না..! আর শাসকদের ভোটের জন্য মাথাই দরকার, মগজ নয়!
----------------------------------------------------
ডঃ মঞ্জুরে খোদা । প্রাবন্ধিক-গবেষক । ৪ মার্চ ২০১৮ ।

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

মঞ্জুরে খোদা টরিক
মঞ্জুরে খোদা টরিক এর ছবি
Offline
Last seen: 2 months 1 week ago
Joined: বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারী 4, 2016 - 11:59পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর