নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 5 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • মিশু মিলন
  • মোঃ রাব্বি সাহি...
  • পৃথু স্যন্যাল
  • মোমিনুর রহমান মিন্টু
  • দীপ্ত সুন্দ অসুর

নতুন যাত্রী

  • আরিফ হাসান
  • সত্যন্মোচক
  • আহসান হাবীব তছলিম
  • মাহমুদুল হাসান সৌরভ
  • অনিরুদ্ধ আলম
  • মন্জুরুল
  • ইমরানkhan
  • মোঃ মনিরুজ্জামান
  • আশরাফ আল মিনার
  • সাইয়েদ৯৫১

আপনি এখানে

গান শোনা জীবন : "আমার আল্লা নবীজির নাম দেলে করো ঠাই"


আমার গাঁয়ের 'সকিনা'কে ঢাকার ফুটপাতে ভিক্ষা করতে দেখি আমি প্রায়ই। আগে দেখতাম ফার্মগেট ওভারব্রিজের ওপরে, তারপর গুলশান আজাদ মসজিদের কাছে। একদিন সংসদ ভবনের সামনে দেখি এক পঙ্গু পুরুষকে কোলে করে ভিক্ষা করছে ফৃুটপাতে। গাড়ি থামিয়ে ঠাট্টার ছলে বলি, "কি খবর সকিনা! এ আবার কে"? লজ্জিত হয়ে সকিনা বলে, "আপনের নতুন দুলাভাই"! জানতে চাই নতুন দুলাভাইর পরিচয়। মুখ টিপে সকিনা বলে, "ওনার বাড়ি কিশোরগইনজো। আমাগো বস্তিতে থাহে একেলা, বউ মইরা গেছে তার। আমারে পছন্দ করেছে উনি, তাই কাজি ডাইকা বিয়া বইছি উনার কাছে। এহন এক ঘরে থাহি আর একসাথে ভিক্ষা করি। উনি সুরা দিয়া ভালা গান গাইতে পারে, তাই ইনকাম ভাল হয়তাছে ভাইজান"। সকিনার কথায় আপ্লুত হই আমি। আমাকে একদিন বিএনপি বস্তিতে সকিনা আর কেফাতুল্লার সংসার দেখতে আমন্ত্রণ জানায় আমার এককালের গাঁয়ের প্রতিবেশি সকিনা্। যাবো একদিন বলে বিদায় নেই আমি সকিনা থেকে।
:
সকিনা আমার প্রায় সমবয়সি। আমার গাঁয়ে তাদের দরিদ্র জেলে পরিবারের বাড়ি ছিল। নদী ভাঙনের কারণে পরিবারটি দরিদ্রতর হয়। ওর জেলে বাবা ঢাকা আসে রিক্সা চালাতে পুরো পরিবার নিয়ে। কিশোরি সকিনাকে বিয়ে দেয় ঢাকার এক রাজমিস্ত্রির সাথে। তারপর অনেক স্বামী বদল করে নি:সন্তান সকিনা। এক সময় জানতে পারি বাসাবাড়িতে কাজ ছেড়ে নানাস্থানে ভিক্ষা করে সে। এটা নাকি তুলনামূলক সহজ, আর ভাল ইনকাম ভিক্ষাবৃত্তিতে। দুয়েকবার ঈদের লম্বা বন্ধে পুরণো গাঁয়ে বেড়াতে গিয়েছিল সকিনা। জাকাতের কাপড় আনতে গিয়ে একবার আ্হত হয়েছিল নিজ গ্রামেই এই সকিনা। মানুষহীন আমাদের গাঁয়ের বাড়িতে তাকে থাকতে বলেছিলাম কবার কিন্তু সে বলেছিল এসব ভাল লাগেনা তার, ভিক্ষাটাই ভাল কাজ তার কাছে। তাই বার বার ফিরে এসেছিল ঢাকার ফুটপাতে।
:
একদিন ছুটির দিনে ঢাকা শিশু হাসপাতালে গিয়েছিলাম এক পরিচিত রোগি দেথতে। ফেরার পথে গাড়িতে বসতেই চোখে পড়লো বিএনপি বস্তি। হঠাৎ সকিনার কথা মনে পড়লো আমার। তাই গাড়ি ঘুরিয়ে দিলাম বস্তির দিকে। খোঁজ চাইতে বস্তির চা দোকানি হেসে আঙুল দিয়ে দেখায় কাংখিত সকিনার মুলি বাঁশের ঘর। প্রায় ঘরের সামনেই গাড়ি রেখে বস্তিতে ঢুকি সকিনা-কেফাতুল্লার সংসারে। দেখি মারাত্মক আহত হয়ে শুয়ে আছে তার ঘরের মাটিতে হোগলা পাতার চাটাইয়ে। আমাকে দেখে হাউমাউ করে কেঁদে ওঠে সকিনা। বলে, "ভাইজান, আমার সব শ্যাষ হইয়া গেল"। কি শেষ হলো জানতে চাওয়ায় সকিনা ক্রুদ্ধকণ্ঠে বলে, "কেফাতুল্লার আগের মাগি তারে তালাক দিয়া অন্য ভাতারের লগে গেছিল। আর আমি বিয়া করলাম কেয়াতুল্লারে কাজী ডাইকা পয়সা খরচ কইরা। কিন্তু আমার আয় রোজগার ভালা দেইখা, আগের মাগি আমারে মাইরা কেফাতুল্লারে ছিনাইয়া নিলো এইমাত্র। আফনে ১০-মিনিট আগে আইলে নিতে পারতো না ভাইজান, কসম কইরা কইতে পারি"।
:
আমি মনে মনে বলি, "হায় হায় ১০-মিনিট আগে এলে আমিও এ অপহরণ পাল্টা অপহরণে জড়িয়ে পড়তাম"! সান্ত্বনা দিয়ে সকিনাকে বলি, "বাদ দাও সকিনা, অমন কত কেফাতুল্লা পাবে তুমি"। কিন্তু সকিনা শোনেনা আমার কথা। আমাকে তার ঘরে পেয়ে দ্বিগুণ শক্তি বাড়ে সকিনার গতরে। সে নারিকেল সলার বড় ঝাড়ু নিয়ে হুঙ্কার দিয়ে ছুটে যায় তার ঘরের ৪-ঘর পরের ঘরটিতে। কোন কিছু না বলেই সপাসপ আঘাত করতে থাকে প্রিয় কেফাতুল্লাকে অপহরণকারী তার কথিত 'মাগি'কে। সাথে ঝাড়ুর বারির সাথে যুক্তিযুক্ত প্রয়োগযোগ্য যুঁতসই অশ্লীল ভাষা, তাতে নারীর প্রজনন অঙ্গের প্রয়োগও বাদ যায়না সকিনার মুখে। কিছু বোঝার আগেই বিজয়ী বেশে কাখে তুলে নিজ ঘরে নিয়ে আসে হারানো মানিক কেফাতুল্লাকে। সকিনার কোলে বসে মিটি মিটি হাসে টুপি মাথায় দাঁড়িওয়ালা কেফাতুল্লা। আধুনিক মডেলের দামি গাড়ি সকিনার ঘরের সামনে দেখে পিছিয়ে যায় কেফাতুল্লার অপহরণকারী পুরণো বউ। কেবল নির্দোষকণ্ঠে আমাকে বিচার দিয়ে বলে, "ভাইজান কাজটা কি সখিনা ভালা করছে আফনে কন? আফনার খ্যামতা দেখাইয়া আমার সোয়ামি কেফাতকে কাইরা নিলো সকিনা আপনের সামনে। মাবুদ আল্লা বিচার করবো ওর"।
:
কি বলবো আমি বুঝতে পারিনা এ সকিনা-কেফাত-পুরণো বউর ত্রিমুখী লড়াইয়ে। নীরবে চলে আসতে চাইলে গাঁয়ের ভাইজান সূত্রে আবদার করে সকিনা, "ভাইজান একটা উপকার করবেন"? বলি, কি? "মাইর খাইয়া আমার শরীলডা খুব ব্যথা করতাছে, তাই কেফাতুল্লাকেে কোলে কইরা যাইতে পারুম না সংসদ ভবনের সামনে। আমনের গাড়িতে এটকু নামাইয়া দিবেন ভাইজান"? সকিনার এ আকুতি ফেলতে পারিনা আমি। বলি ঠিক আছে।
:
ড্রাইভার হিসেবে গাড়ি ড্রাইভ করছি আমি পুরাতন এয়ারপোর্ট বায়ে রেখে। আর পেছনের সিটে যাত্রী হিসেবে সকিনা আর তার স্বামী কেফাতুল্লা। সকিনা আবদার করে ড্রাইভার ভাইজানকে কেফাতের গান শোনাতে। তাই কেফাতুল্লা গলা টানটান করে গান ধরে পেছনে হেলান দিয়ে সিটে তার খোড়া পা দুটো তুলে, "আমার আল্লা নবীজির নাম দেলে করো ঠাই, আমার আল্লা নবীজির নাম"।
:
সূর্য ঢলা দুপুরবেলার হারিয়ে যাওয়া গল্পের মত নচিকেতা, অঞ্জন, কবির, শচীনদেব, শ্রেয়া ঘোষাল আর মৌসুমি ভৌমিকের "ফিদা" এই আমি গভীর একনিষ্ঠতায় শুনতে থাকি কেফাতুল্লার গাওয়া- "আমার আল্লা নবীজির নাম দেলে করো ঠাই, আমার আল্লা নবীজির নাম"। পেছনে বসা দু'যাত্রী নিয়ে নিষ্পাপ বিশুদ্ধ জীবনের পুষ্পিত ঘ্রাণময়তায় এগিয়ে যেতে থাকি আমি জীবনের দিকে। যে জীবনে বেঁচে থাকি আমি, সকিনা আর কেফাতুল্লারা! এবং এ বেঁচে থাকার আত্মবোধের স্বাপ্নিক দ্বীপে সাঁতরে যাই আমরা চমকপ্রদ সুখ ঘ্রাণতার খোঁজে অনেকদূর!

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

ড. লজিক্যাল বাঙালি
ড. লজিক্যাল বাঙালি এর ছবি
Offline
Last seen: 4 ঘন্টা 48 min ago
Joined: সোমবার, ডিসেম্বর 30, 2013 - 1:53অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর