নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 5 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • মিশু মিলন
  • মোঃ রাব্বি সাহি...
  • পৃথু স্যন্যাল
  • মোমিনুর রহমান মিন্টু
  • দীপ্ত সুন্দ অসুর

নতুন যাত্রী

  • আরিফ হাসান
  • সত্যন্মোচক
  • আহসান হাবীব তছলিম
  • মাহমুদুল হাসান সৌরভ
  • অনিরুদ্ধ আলম
  • মন্জুরুল
  • ইমরানkhan
  • মোঃ মনিরুজ্জামান
  • আশরাফ আল মিনার
  • সাইয়েদ৯৫১

আপনি এখানে

মাদ্রাসায় হুজুর দ্বারা সংগঠিত ঘটনা গুলো সমকামীতা নাকি শিশুকামীতা?


সমকামীতা, নাউজুবিল্লাহ। সক্কাল সক্কাল “ইস্টিশন দল” নামক একটা নাস্তিকদের গ্রুপে দেখলাম একভদ্দর লোক একটা লেখা শেয়ার করছেন “ইসলামিক রিসার্স ফাউন্ডেশন” পেইজ লিঙ্ক নামক একটা পেইজ থেকে। একটা শিশুর মস্তছিন্ন দেহ আর আর আলাদা মস্তকের দুটা ছবিও পোষ্টের সাথে শেয়ার করা আছে। ঘটনা আলহামদুলিল্লাহ্ একজন হুজুর ঘটিয়েছেন। তো সেই পোষ্টে বলা হয়েছে হুজুরের অপকর্ম দেখে ফেলেছিলো বলে ছেলেটিকে হত্যা করা হয়েছে। কি অপকর্ম করেছিলো হুজুর? একজনের সাথে যৌনতায় লিপ্ত হয়েছিলো সমলিঙ্গের, যাই হোক সেই পেইজে এটাকে সমকামীতা বলে আখ্যা দেয়া হলেও আমার ঘোর আপত্তি আছে একটা রিসার্স পেইজ পেডোফিলিয়ার বা শিশুকামীতার মতো ইস্যুকে সমকামীতা বলে আখ্যা দেয় কিভাবে!

০১.
উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে ২০১৭ সালে শুধু মাত্র মাদ্রাসায় ধর্ষনের ঘটনা ঘটেছে ১৮টি উইকিপিডিয়া লিঙ্ক । এবং সব গুলোই ঘটেছে হুজুরদের দ্বারা। এবং এই ১৮টি ঘটনার মাঝে ২/৩ টি ছাড়া বাকি সব গুলোই হলো শিশুকামীতা। শিশুকামীতা কি? এটাকে যদি আমি ইসলামের চোখ থেকে সংজ্ঞায়ন করতে চাই তবে বলতে পারি, বালেগ বা বয়ঃপ্রাপ্ত হবার আগ পর্যন্ত সবাই শিশু। আর বিভিন্ন আইনের সংজ্ঞায়নের বিভিন্ন বয়স সীমা নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে শিশু চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে। তবে ৭/৮ বছরের সীমার মাঝে থাকলে মোটামুটি সব আইন ও ধর্ম একজন মানুষকে শিশু হিসেবে স্বীকৃতি দিবে। এখন এইযে ধর্ষনের ঘটনা গুলো ঘটছে তা তো ধর্ষণ নিঃসন্দেহে। কিন্তু কথা হলো এই যৌনকর্মটি কি ধরনের যৌণ কর্ম বলে স্বীকৃতি দিবেন? সমকামীতা? হুজুররা সমকামীতায় লিপ্ত হয়েছে?

থামেন, এটাকে সমকামীতা বলে না। বাংলাদেশের অধিকাংশ মিডিয়া, গনমাধ্যম বসে বসে এটাকে সমকামীতা বলে আখ্যা দেয়, এটা মোটেই সমকামীতা নয় এটাকে পেডোফিলিয়া বা শিশুকমীতা বলে। আরেকটু সহজ করে বলি যখন কেউ তার সমলিঙ্গের প্রতি আকৃষ্ট হয় তখন তাকে সমকামী বলে আর যখন কেউ শিশুর প্রতি আকৃষ্ট হয় তখন তাকে শিশুকামী বলে। এখন কথা হলো মাদ্রাসা ভিত্তিক এই শিশুকামীতা নামক চুলকানির এতো উপদ্রব কেন? আসুন প্রথমে উল্লেখিত সেই পেইজের পোষ্টের কনটেন্ট বিশ্লেষনে যাওয়া যাক।

০২.
ওই পোষ্টের শুরুতে পোষ্ট দাতা বেশ ভালোভাবে শুরু করেছেন অনেকটা এমন “রংপুর ক্যন্ট সংলগ্ন ভগি বালাপাড়ায় অবস্থিত নামকরা এক কওমি মাদ্রাসায় ঘটে গেল এক হৃদয় বিদারক ঘটনা। ১৩ বছর বয়সি তালহা নামক ফুটফুটে এক নব হাফেজের মস্তক বিহীন লাশ পাওয়া গেল, মাদ্রাসার ২য় তলার এক কক্ষে। প্রথমে ঘটনাটিকে একটি চক্রান্ত বলে সবাই মন্তব্য করছিল। পরে পুলিশ ও র‍্যাব মাদ্রাসার বড় হুজুর কে জেরা শুরু করলে বেরিয়ে আসে প্রকৃত ঘটনা। এই হত্যার পিছনে দায়ি হলো পৈশাচিক যৌনতা

বাহ্ ভাইটি চমৎকার লিখেছেন। এবার আসুন পোষ্টের সেকেন্ড হ্যাশ ট্যাগে যাই, সেখানে লিখা “কওমিতে সমকামিতার মূল কারণ হলো এর আবাসন নীতি” এই জাগায় এসে পোষ্ট দাতা লিখলেন এখানে এমন চাপাচাপি করে রাতে থাকতে হয় যে বাধ্য হয়ে তারা সমকামী হয়ে যায়! ব্যাপারটা ঠিক কি হলো? পড়ে আমি কিছুক্ষন হ্যাং হয়ে ছিলাম। মানেটা কি! চাপাচাপি করে শুলে কি নারীপুরুষের পার্থক্য ভুলে যায়? নাকি হিতাহিত জ্ঞনশূন্য হয়ে যায়। অনেক ধমার্ন্ধ মানুষ আর হুজুররা তো বলেন এদেশে নাকি সমকামিতাকে ইহুদিরা পুশ করছে, এটা নাকি পশ্চিমা সংস্কৃতি, তো এই পশ্চিমা সংস্কৃতি কি চাপাচাপি করে ঘুমালে বাই ডিফল্ড মাদ্রাসায় জন্মনেয় নাকি?

সারাদিন এতো হাদিস, এতো কোরান, এতো নামাজ এতো নীতিবাক্য পড়ে যে মানুষটা দিন অতিবাহিত করে, যে মানুষটা পাক-পবিত্র হয়ে শয়তান খেদানোর নানান দোয়াপড়ে ঘুমায়, সেই মানুষ চাপাচাপি করে শোয়ার পরেও ক্যামনে সমকামীতার মতো নাপক কাজে লিপ্ত হয়? নামাজে কাতারে ফাঁক না রাখার একটা থিওরি আছে জানেন তো? বলা হয় কাতার ফাঁক থাকলে মাঝে শয়তান ঢুকে ও মানুষের মনে শয়তানি ঢুকায়। তাহলে দেখুন এই দিক থেকে বিচার করলে তো চাপাচাপি করে ঘুমালে শয়তান আরো ঢুকার কথা না। তাহলে সমকামীতাটা জাগে কোথা থেকে? এখানে তো তৃতীয় পক্ষের কোনো উপস্থিতি আমি খুঁজে পাচ্ছি না! নিশ্চই তাইলে সমকামীতা বাই ন্যাচার ওই মানুষটির মনের মাঝেই থাকে।

ওই পোষ্টের তৃতীয় হ্যাশ ট্যাগে লিখলো “মহানবী দুজন বালেগ পুরুষকে একই বিছানায় শয়ন করতে নিষেধ করেছেন”। এহেম এহেম, ব্যাপারটা ঠিক কি হলো? যদিও পোষ্ট দাতা কোনো রেফারেন্স ইউজ করেন নি, তাও আমি যদি উনার কথাই সত্য মেনে নেই। তাহলে মহানবী যা নিষিদ্ধ করেছেন তা তো নিষিদ্ধই কোনো ভাবেই করা যাবে না। এখন দুজন বালেগ পুরুষের মধ্যকার সম্পর্কে বিষয়েও কিছু বলেননি। তাহলে আমি আমার বড় ভাই বা বাবার সাথে অথবা ভাগিনা, ভাতিজা বা কাজিন কারো সাথেই ঘুমাতে পারবো না! এবং তাহলে সমকামীতাও কোনো তৃতীয় পক্ষসৃষ্টি সমস্যা নয় তবে? এটা তাহলে দুজন বালেগ পুরুষ একসাতে শয়ন করলে এমনি এমনিই আসে? মহানবী সত্যটা তাহলে জানতেন যে, এটা কোনো অবাস্তব কিছু নয়, মানুষ মানুষের প্রতি নানান ভাবে যৌনাকর্ষণ অনুভব করতে পারে এবং এটাই স্বাভাবিক।

০৩.
এবারে আসি আমাদের মাদ্রাসা গুলো এই শিশুকামীতার বিষয়ে। প্রথমেই বলছিলাম সমকামীতা আর শিশুকামীতা এক নয়। অনেকেই হুমায়ন আহমেদের “ঘেটুপুত্র” কমলা মুভিটি দেখে ওটাকে সমকামী সম্পর্ক বলে চিহ্নিত করেছিলেন, কিন্তু ওটা কোনো ভাবেই সমকামীতা নয়, ওটা শিশুকামীতা। কেন আমরা শিশুকামীতা আর সমকামীতাকে আলাদা করতে পারি না! মাদ্রাসায় কোনো সময় হুজুর কর্তৃক ছাত্র ধর্ষণের ঘটনা ঘটলেই দেখবে এই খবর গুলো সাধারণত খুউব একটা প্রকাশ করা হয় না গণমাধ্যমে। যাও প্রকাশ করা হয়, তাও কেটে ছেটে সুন্দর করে লেখে “ছাত্র বলাৎকার” একটা মেয়ে ধর্ষিত হলে তা ধর্ষণ আর একটা ছেলে ধষিত হলে তা বলাৎকার আমি ঠিক এই বৈষ্যমের মানে বুঝি না।

এতো এতো হাদিস, এতো অনুভূতি এতো চেতনা থাকার পরেও কেন দেশের ১৮টা ধর্ষণের ঘটনা ঘটে হুজুরদের দ্বারা মাদ্রাসায় কেউ কি আমাকে বলতে পারেন? এরপর আমার আরো কিছু প্রশ্ন আছে সমকামী অধিকার নিয়ে যখন কেউ কথা বলে, তখন তাকে কুপিয়ে মারা ইসলামী দল গুলো তাদের ঈমানী দায়িত্ব বলে মনে করে থাকলেও সমকামীতার অভিযোগে অভিযুক্ত কোনো হুজুরকে আজ পর্যন্ত অন্য আরেক হুজুর দ্বারা আক্রান্ত হতে শুনেছেন? আর আমাদের দেশের মানুষ যে পরিমান ধর্মান্ধ নিজের শিশুটি যতক্ষণ না ধর্ষণ হচ্ছে, লাঞ্ছিত হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত তারা তো বিশ্বাস করতেই প্রস্তুত না যে মাদ্রাসায় হুজুরের এই ঘৃণ্য শিশুকামীতার কাজটি করে থাকে।

০৪.
বাংলাদেশের আইন নারী ধর্ষণ কে সংজ্ঞায়ণ করেছে, কিন্তু কি জানেন পুরুষ ধর্ষণকে এদেশের আইন সংজ্ঞায়ণ করে নি, বলেনি একজন পুরুষ ধর্ষণের স্বীকার হলে কি শাস্তি পাবে? সমকামীতার সংজ্ঞায়ণ ও তার শাস্তির কথা এদেশের আইন বলেছে, কিন্তু শিশুকামীতার মতো অপরাধ কে এই দেশের আইন অপরাধ হিসেবে যুক্তই করেনি শাস্তিতো দূরের কথা। একবার শুধু ভাবুন তো একজন নিন্ম বিত্ত মানুষ বিত্তের অভাবে, স্রষ্ঠার প্রতি আস্তা স্থাপন করে, তার সন্তানকে দিচ্ছে কওমী মাদ্রাসায় আলেম হিসেবে গড়ে তোলার জন্য। কিন্তু সেখানে গিয়ে সন্তান ধর্ষণের স্বীকার হচ্ছে। এই নিন্মবিত্ত অসহায় মানুষ গুলো কার কাছে প্রতিকার চাইবে? এতো বড় লজ্জার কথা যে আমার ছেলে মাদ্রাসার হুজুর দ্বারা ধর্ষিত হয়েছে এটাই বা এই সামাজ ব্যবস্থায় প্রকাশ করবে কি করে? আইনও তো শিশুকামীতাকে কোনো অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দিচ্ছে না। তাহলে যদি তার সন্তনটি বড়সড় কোনো ক্ষতির সম্মুখীন হয় বা মৃত্যুবরণ করে, কেবল তবেই পরিবার সেই ঘটনা প্রকাশ করবে এবং আইন ও তখনই সুরক্ষা দিবে।

আমি আমার লেখার শুরুতে উইকিপিডিয়ার একটা সূত্র উল্লেখ করেছিলাম বলেছিলাম মাত্র ১৮টি ঘটনা ২০১৭ সালে। ভাবুন তো আসলে কি মাত্র ১৮টি ঘটনা ? এই ১৮টি ঘটনা বড়সড় পর্যায়ের ছিলো কিন্তু নিত্যদিন তো এমন অনেক ঘটনাই ঘটছে যা জনসম্মুখে প্রকাশ পায় না। হাজারো কওমী মাদ্রাসা এই দেশে আছে, হাজারো ছাত্র সেখানে চাপাচাপি করে শোয়, সিনিয়ার কর্তৃক জুনিয়ার, হুজুর দ্বারা ছাত্র এমন শিশুকামীতা অহরহ চলছেই, নেই কোনো প্রতিবাদ, নেই কোনো প্রতিরোধ, নেই কোনো জনসচেতনতার উদ্যোগ। যে ঘটনার স্বীকার হচ্ছে সেই কেবলে এটাকে বয়ে বেড়াচ্ছে, দায় নিচ্ছেনা কেউ। এইসব ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া অপরাধীরাও ধর্মের লেবাসে মুখ ঢেকে জামিন নিয়ে আবার বেয় আসছে, নিজেদের পুত-পবিত্র বলে দাবি করছে তাহলে এই শিশুকামীতার নামক ব্যাধির সমাধান কি?

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

নগরবালক
নগরবালক এর ছবি
Offline
Last seen: 10 ঘন্টা 25 min ago
Joined: সোমবার, ডিসেম্বর 11, 2017 - 11:50পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর