নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 5 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • গোলাপ মাহমুদ
  • শ্মশান বাসী
  • সলিম সাহা
  • মৃত কালপুরুষ
  • মাহের ইসলাম

নতুন যাত্রী

  • নীল মুহাম্মদ জা...
  • ইতাম পরদেশী
  • মুহম্মদ ইকরামুল হক
  • রাজন আলী
  • প্রশান্ত ভৌমিক
  • শঙ্খচূড় ইমাম
  • ডার্ক টু লাইট
  • সৌম্যজিৎ দত্ত
  • হিমু মিয়া
  • এস এম শাওন

আপনি এখানে

কুরআন অনলি রেফারেন্স: (১৬) তাঁরাও ছিলেন 'আল্লাহ' বিশ্বাসী!


অধিকাংশ ইসলাম বিশ্বাসী ও অবিশ্বাসী মানুষের এক সাধারণ ধারনা এই যে, ইহুদী-খৃষ্টান ও মুসলমানরা একই ঈশ্বরে বিশ্বাসী।বিষয়টি সত্য নয়। ইহুদীদের ঈশ্বরের নাম ‘জিহোভা বা ইয়েওয়েহ্‌ (YHWH)’, খৃষ্টানদের ঈশ্বরের নাম ‘ট্রিনিটি (পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মা)' আর মুসলমানের ঈশ্বরের নাম ‘আল্লাহ’।ইসলাম ধর্মের বহু আনুষ্ঠানিকতা (Rituals) যেমন মুহাম্মদ পূর্ববর্তী অন্যান্য ধর্ম থেকে অনুকরণ করা, তেমনি এই 'আল্লাহ' নামটিও স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর কোন মৌলিক আবিষ্কার নয়। মুহাম্মদ তার সৃষ্ট ঈশ্বরের নামটি রেখেছেন তার পরিপার্শ্বিক তৎকালীন আরবদের প্রধান দেবতা বা ঈশ্বরের নামের অনুকরণে।মুহাম্মদের বংশ কুরাইশ ও তৎকালীন আরবের অন্যান্য গোত্রের লোকেরা বংশ পরম্পরায় ‘আল্লাহ-কে’ তাঁদের প্রধান দেবতা বা ঈশ্বর জ্ঞানে বিশ্বাস করতেন। ইসলামের জন্মের বহু আগে থেকেই আবদ মানাফ, আবদ উজ্জাহ, আবদ আল্লাহ (দেবতা মানাফ, উজ্জাহ ও আল্লাহর দাস) ইত্যাদি নামগুলো আরবে বেশ জনপ্রিয়। মুহাম্মদের পিতার নাম ছিল আবদ আল্লাহ (আবদুল্লাহ), অর্থাৎ আল্লাহর দাস। মুহাম্মদের পরিপার্শ্বিক লোকেরা যে 'আল্লাহ-কে' তাঁদের ঈশ্বর জ্ঞানে বিশ্বাস করতেন তার সর্বোৎকৃষ্ট প্রমাণ হলো মুহাম্মদের জবানবন্দি ‘কুরআন।'

মুহাম্মদের ভাষায়: [1] [2]

২৩:৮৪-৮৫ (সূরা আল মু’মিনূন) - "বলুন পৃথিবী এবং পৃথিবীতে যারা আছে, তারা কার? যদি তোমরা জান, তবে বল। এখন তারা বলবে: সবই আল্লাহর।"

২৩:৮৬-৮৭ - "বলুন: সপ্তাকাশ ও মহা-আরশের মালিক কে? এখন তারা বলবে: আল্লাহ। বলুন, তবুও কি তোমরা ভয় করবে না?"

২৩: ৮৮-৮৯ - "বলুন: তোমাদের জানা থাকলে বল, কার হাতে সব বস্তুর কর্তৃত্ব যিনি রক্ষা করেন এবং যার কবল থেকে কেউ রক্ষা করতে পারে না? এখন তারা বলবে: আল্লাহর।"

৩১:২৫ (সূরা লোকমান) - "আপনি যদি তাদেরকে জিজ্ঞেস করেন, নভোমন্ডল ও ভূ-মন্ডল কে সৃষ্টি করেছে? তারা অবশ্যই বলবে, আল্লাহ। -----"

৩৯:৩৮ (সূরা আল-যুমার) - "যদি আপনি তাদেরকে জিজ্ঞেস করেন, আসমান ও যমীন কে সৃষ্টি করেছে? তারা অবশ্যই বলবে আল্লাহ। ----"

৪৩:৯ (সূরা যুখরুফ) - "আপনি যদি তাদেরকে জিজ্ঞাসা করেন কে নভোমন্ডল ও ভূ-মন্ডল সৃষ্টি করেছে? তারা অবশ্যই বলবে, এগুলো সৃষ্টি করেছেন পরাক্রমশালী সর্বজ্ঞ আল্লাহ।"

৪৩:৮৭ - "যদি আপনি তাদেরকে জিজ্ঞাসা করেন, কে তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন, তবে অবশ্যই তারা বলবে, আল্লাহ। অতঃপর তারা কোথায় ফিরে যাচ্ছে?"

>> ‘কুরআনের’ ওপরে বর্ণিত বর্ণনায় যা সুস্পষ্ট তা হলো, মুহাম্মদের পরিপার্শ্বের যে মানুষগুলো মুহাম্মদ-কে নবী হিসাবে অবিশ্বাস করেছিলেন, তাঁরাও বিশ্বাস করতেন 'আল্লাহ-কে', তাঁদের ঈশ্বর রূপে। তাঁদের বিশ্বাস ছিল:

"পৃথিবী ও পৃথিবী অভ্যন্তরে যা কিছু আছে তা ‘আল্লাহর’। যে আল্লাহ সপ্তাকাশ ও মহা-আরশের মালিক। যার হাতে আছে সব বস্তুর কর্তৃত্ব। যিনি রক্ষা করেন ও যার কবল থেকে কেউ রক্ষা করতে পারে না। যিনি সৃষ্টি করেছেন এই ভূ-মন্ডল, আসমান, যমীন, নভোমন্ডল ও তাঁদের-কে। তিনি হলেন সেই সত্তা, যিনি মহা পরাক্রমশালী সর্বজ্ঞ।"

তথাকথিত মোডারেট (ইসলামে কোন কোমল, মোডারেট বা উগ্রপন্থী শ্রেণীবিভাগ নেই; নেই কোন পলিটিকাল ও নন-পলিটিকাল জাতীয় শ্রেণী বিভাগ; ইসলাম একটিই আর তা হলো মুহাম্মদের ইসলাম) ইসলাম বিশ্বাসী পণ্ডিত ও অপণ্ডিতরা, বিশেষ করে যারা উন্নত বিশ্বে অভিবাসী হয়েছেন ও এখনো সংখ্যালঘু অবস্থায় আছেন, খ্রিষ্টান কিংবা ইহুদিদের সাথে আলাপ, বক্তৃতা ও বিতর্কের সময়, অথবা তাদের উদ্দেশে প্রবন্ধ লেখার সময়, ‘ইসলাম যে খ্রিষ্টান এবং ইহুদি ধর্মের প্রতি সহনশীল ও ইসলাম তাদের নবী যীশু ও মুসাকে স্বীকার করে নিয়েছে’ তা প্রমাণ করতে কুরআনের যে বাণীটি সর্বাধিক উদ্ধৃত করেন, তা হলো:

৫:৪৮ (সূরা আল মায়েদাহ):
"আমি আপনার প্রতি অবতীর্ণ করেছি সত্যগ্রন্থ, যা পূর্ববতী গ্রন্থ সমূহের সত্যায়নকারী এবং সেগুলোর বিষয় বস্তুর রক্ষণাবেক্ষণকারী। অতএব, আপনি তাদের পারস্পারিক ব্যাপারাদিতে আল্লাহ্ যা অবতীর্ণ করেছেন, তদনুযায়ী ফয়সালা করুন এবং আপনার কাছে যে সৎপথ এসেছে, তা ছেড়ে তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করবেন না।"

"আমি তোমাদের প্রত্যেককে একটি আইন ও পথ দিয়েছি। যদি আল্লাহ্ চাইতেন, তবে তোমাদের সবাইকে এক উম্মত করে দিতেন, কিন্তু এরূপ করেননি-যাতে তোমাদেরকে যে ধর্ম দিয়েছেন, তাতে তোমাদের পরীক্ষা নেন। অতএব, দৌড়ে কল্যাণকর বিষয়াদি অর্জন কর। তোমাদের সবাইকে আল্লাহর কাছে প্রত্যাবর্তন করতে হবে। অত:পর তিনি অবহিত করবেন সে বিষয়, যাতে তোমরা মতবিরোধ করতে।"

>> কিন্তু এ প্রসঙ্গের আলোচনায় তারা কুরআনের যে দুটি আয়াত প্রকাশ না করে কুরআন অজ্ঞ সাধারণ সরলপ্রাণ ইসলাম বিশ্বাসী ও অবিশ্বাসীদের বিভ্রান্ত করেন তা হলো:

৫:১৭ (সূরা আল মায়েদাহ):
"নিশ্চয় তারা কাফের, যারা বলে, মসীহ ইবনে মরিয়মই আল্লাহ্‌। আপনি জিজ্ঞেস করুন, যদি তাই হয়, তবে বল যদি আল্লাহ মসীহ ইবনে মরিয়ম, তাঁর জননী এবং ভূমন্ডলে যারা আছে, তাদের সবাইকে ধ্বংস করতে চান, তবে এমন কারও সাধ্য আছে কি যে আল্লাহর কাছ থেকে তাদেরকে বিন্দুমাত্রও বাঁচাতে পারে? ---"

৯:৩০ (সূরা আত তাওবাহ):
"ইহুদীরা বলে ওযাইর আল্লাহর পুত্র এবং নাসারারা বলে ‘মসীহ আল্লাহর পুত্র’। এ হচ্ছে তাদের মুখের কথা। এরা পূর্ববর্তী কাফেরদের মত কথা বলে। আল্লাহ এদের ধ্বংস করুন, এরা কোন উল্টা পথে চলে যাচ্ছে।"

>> খৃষ্টানদের মূল বিশ্বাস ‘ট্রিনিটি (পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মা)', ইহুদিদের বিশ্বাস ‘ওযাইর আল্লাহর পুত্র’; কুরআন সাক্ষ্য দিচ্ছে, মুহাম্মদ তাঁদের ধর্মকে শুধু যে স্বীকারই করেন না, তাইই নয়, তিনি তাদেরকে অভিশাপ দিচ্ছেন "আল্লাহ এদের ধ্বংস করুন!"

মুহাম্মদ তার ৫:৪৮ বাণীটির প্রথম অংশে ঘোষণা দিয়েছেন, “কুরআন সত্য গ্রন্থ, যা পূর্ববর্তী গ্রন্থ সমূহের সত্যায়নকারী এবং সেগুলোর বিষয় বস্তুর রক্ষণাবেক্ষণকারী।” কুরআন সাক্ষ্য দেয় যে, অবিশ্বাসীরা মুহাম্মদের প্রচারণার শুরু থেকেই তার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করেছেন যে, মুহাম্মদের প্রচারণায় ব্যবহৃত গল্পগুলো পূর্ববর্তীদের উপকথা বৈ আর কিছুই নয়। মুহাম্মদের সময় মক্কায় 'ওকাজ মেলায়' বিভিন্ন ধর্মের লোকেরা এসে কবিতা প্রতিযোগিতার আসর জমাতেন ও তাদের ধর্মের গুণগান জনগণকে অভিহিত করাতেন। মুহাম্মদ বেশ কয়েকবার তার চাচা আবু তালেব ইবনে আবদুল মুত্তালিবের সাথে ব্যবসার উদ্দেশ্যে সিরিয়া ও অন্যত্র ভ্রমণ করেছিলেন, যেখানকার অধিবাসীদের অধিকাংশই ছিলেন খ্রিষ্টান, ইহুদি ও অন্যান্য ধর্মাম্বলী। সেখান থেকে মুহাম্মদ তাদের ধর্মের গল্প-গাঁথা শোনেননি, এমনটি ভাবার কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ নেই।

মুহাম্মদ ৪০ বছর বয়সে তার ধর্মপ্রচার শুরু করেন। তিনি প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা-বঞ্চিত ছিলেন, কিন্তু অন্ধ-বধির কিংবা মানসিক প্রতিবন্ধী ছিলেন না। তিনি তার শিশু, শৈশব, কৈশোর ও যৌবনসহ সুদীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময়ে বিভিন্ন উৎস থেকে ধর্মজ্ঞান আহরণের সুযোগ পেয়েছিলেন। সম্ভ্রান্ত বিদুষী ধনাঢ্য খাদিজাকে বিয়ে করার (৬৯৫ সাল) পর থেকে নবুয়তের ঘোষণা দেয়ার শুরু পর্যন্ত (৭১০ সাল) তিনি তার নিজ স্ত্রী খাদিজা, খাদিজার চাচাতো ভাই ওয়রাকা বিন নওফল (যিনি ছিলেন বাইবেলে বিশেষজ্ঞ ধর্মান্তরিত খ্রিষ্টান) ও পরিপার্শ্বের অন্যান্য লোকজনদের কাছ থেকে বিবিধ ধর্মবিষয়ে জ্ঞানার্জনের সময় পেয়েছেন নিরবচ্ছিন্ন ১৫-টি বছর। তাই মুহাম্মদের প্রচারণায় সেই সব ধর্মের গল্প-গাঁথার বর্ণনা থাকবে, সেটাই তো স্বাভাবিক।

কিন্তু সমস্যা হলো, মুহাম্মদ যখন এই সত্যটিকে অস্বীকার করে প্রচার করতে শুরু করলেন যে, তার বাণীর উৎস ঐশ্বরিক। বাণী ঐশ্বরিক হলে কেন তিনি পূর্ববর্তী ধর্ম-গ্রন্থগুলোরই বাণী এবং পুরাকালের উপকথাগুলোই ইনিয়ে-বিনিয়ে "ঐশী প্রাপ্ত" আখ্যা দিয়ে নিজের নামে প্রচার করছেন? এমনতর অভিযোগের জবাবেই আত্মপক্ষ সমর্থনে মুহাম্মদকে বলতে হয়েছিল, "যা পূর্ববর্তী গ্রন্থ সমূহের সত্যায়নকারী।" এর পরেও সমস্যার শেষ হয়নি। মুহাম্মদের প্রচার ও আদি গ্রন্থের গল্প ও শিক্ষার মধ্যে যখনই কোনো 'ব্যতিক্রম বা গরমিল’ হয়েছে, তখনই অবিশ্বাসীরা আবার প্রতিবাদ করেছেন, "পূর্ববর্তী গ্রন্থসমূহের সত্যায়নকারী হলে তোমার প্রচার ও আমাদের গ্রন্থের বর্ণনা ও শিক্ষার মধ্যে পার্থক্য কেন?" এমনতর গুরুতর অভিযোগের জবাবে মুহাম্মদ (আল্লাহ) আত্মপক্ষ সমর্থনে জবাব দিয়েছিলেন যে, "তারা তাদের কিতাব বিকৃত করেছে।" বিচার মানি, তবে তাল গাছ আমার প্রবাদটির উৎকৃষ্ট উদাহরণ হলো প্রবক্তা মুহাম্মদের এই ৫:৪৮ ঘোষণাটি। মুহাম্মদ দাবি করেছেন যে তিনি শুধু সঠিকই নন, তিনি তাদের সেই বিকৃত বিষয়বস্তুর রক্ষণাবেক্ষণকারীও!

পূর্ববর্তী গ্রন্থসমূহের সাথে মুহাম্মদের বাণীর পার্থক্য হওয়াটা ছিল খুবই স্বাভাবিক। কারণ প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা-বঞ্চিত মুহাম্মদ বিভিন্ন উৎস থেকে যে-ধর্মজ্ঞান আহরণ করেছিলেন, তা ছিল মুখে-মুখে ও শুনে শুনে। লিখতে-পড়তে না জানার কারণে পূর্ববর্তী ধর্মগ্রন্থের বিভিন্ন ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণের অধিকাংশই ছিল তার অজানা। তাছাড়া স্মৃতি যত প্রখরই হোক না কেন, তা কখনোই শতভাগ শুদ্ধ নয়। বিচার তাকে মানতেই হবে। কারণ তার প্রচারের বিষয়বস্তু পূর্ববর্তী গ্রন্থগুলোরই অনুকরণ। আর তাল গাছ তাকে পেতেই হবে। কারণ তা না হলে “এতো আয়োজন" কিসের জন্য! তাই মুহাম্মদের এই বাণীটি দিয়ে যারা প্রমাণ করতে চান যে, ইসলাম ইহুদী, খ্রিষ্টান বা অন্য কোনো ধর্ম বা ধর্মপ্রচারককে বৈধতা দিয়েছেন, তাঁরা নিঃসন্দেহে ভ্রান্ত।

আর ৫:৪৮ বাণীটির দ্বিতীয় অংশে বলা হচ্ছে, "...কিন্তু এরূপ করেননি - যাতে তোমাদেরকে যে ধর্ম দিয়েছেন, তাতে তোমাদের পরীক্ষা নেন।----।" পাঠক, আপনি পৃথিবীর যেখানেই থাকুন না কেন, আপনার পরিপার্শ্বে তাকিয়ে দেখুন তো, ক'জন লোক স্বাভাবিক পরিবেশে তাদের পিতৃপুরুষের ধর্ম পরিত্যাগ করে ধর্মান্তরিত হয়েছেন? আপনি যে বয়সেরই হন না কেন, মনে করে দেখুন তো, এমন 'ধর্মান্তরিত' ক'জন লোককে আপনি চাক্ষুষ দেখেছেন? আর যারা 'ধর্মান্তরিত' হয়েছেন, তাদের পিতা-মাতা, ভাই-বোন, দাদা-দাদী-নানা-নানী ও অন্যান্য আত্মীয়-স্বজনরা কোন ধর্ম পালন করেন? আপনার জবাবের সাথেই মুহাম্মদের 'এই উক্তির' অসারতা জড়িত। এটাই যদি বাস্তবতা হয়, তবে মুসলমানদেরকে মনোনীত ধর্ম পরিবারে জন্মগ্রহণ করিয়ে অত্যন্ত সহজ পরীক্ষা এবং অবিশ্বাসীদের অমনোনীত ধর্ম পরিবারে জন্মগ্রহণ করিয়ে অত্যন্ত কঠোর পরীক্ষার গল্প একেবারেই অবাস্তব ও অযৌক্তিক। মুহাম্মদের এই বানীটি-কে অমুসলিমদের বিশ্বাস ও ঈশ্বরের (যদি থাকে) বিচার-বুদ্ধি-বিচক্ষণতা নিয়ে তামাসা ছাড়া আর কোন ভাবে ব্যাখ্যা করার সুযোগ নেই।

যে বিষয়টি আমরা নিশ্চিতরূপে জানি তা হলো, মানব ইতিহাসে এখন পর্যন্ত কোন 'ঈশ্বর' প্রকাশ্যে জনগণের সম্মুখে এসে তার অস্তিত্বের প্রমাণ হাজির করেন নাই, কিংবা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে (Scientific method) পরীক্ষালব্ধ জ্ঞানের মাধ্যমে ঈশ্বরের অস্তিত্ব কখনোই প্রমাণিত হয় নাই। আধুনিক বিজ্ঞানের আলোকে আজ আমরা প্রায় নিশ্চিতরূপে জানি, পৃথিবীর সাড়ে চার শত কোটি বছরের ইতিহাসে আধুনিক মানুষের (Home sapiens) উদ্ভব, বিবর্তন ও বিকাশের ইতিহাস মাত্র দুই লক্ষ বছরের। প্রকৃতির কাছে অসহায় এবং সীমাবদ্ধ জ্ঞানের অধিকারী আমাদের পূর্বপুরুষরা আনুমানিক ৪০-৫০ হাজার বছর পূর্বে কোন অতি-প্রাকৃত শক্তিতে বিশ্বাস করতেন বলে ধারণা পাওয়া যায়। অর্থাৎ, এই সময়টির পূর্বে আধুনিক মানুষের বিবর্তন ও বিকাশের দেড় লক্ষ বছরেরও বেশী সময়ের ইতিহাসে 'ঈশ্বর কল্পনা' ছিল বলে জানা যায় না। আমাদের পূর্বপুরুষদের এই অতি-প্রাকৃত সত্তায় বিশ্বাস ও কল্পনার মূলে ছিল অজ্ঞানতা, অসহায়ত্ব ও বেঁচে থাকার আকুতি। তাঁরা তাঁদের সেই কল্পিত সত্তার ওপর ভরসা করেছেন অনিশ্চিত দৈনন্দিন জীবনের দুরবস্থা থেকে বাঁচার সহায়ক শক্তি জ্ঞানে।

তুলনায়, বর্তমানে বিদ্যমান ধর্মের ধর্মগ্রন্থে বর্ণিত ঈশ্বরের জন্মকাল বোধ করি, সাত হাজার বছরের বেশি নয়। ধর্ম বিশ্বাসীরা যে 'ঈশ্বরে' বিশ্বাস করেন, তার জন্ম-পরিচয় ও বৈশিষ্ট্য হলো তাঁদের ধর্মগ্রন্থে বর্ণিত ঈশ্বরের। ধর্মগ্রন্থে বর্ণিত ঈশ্বরের বর্ণনায় আমরা জানতে পারি, পুরাকালের কিছু মানুষ দাবী করতেন যে ঈশ্বর স্বয়ং কিংবা তার দেব-দূতরা বিভিন্ন উপায়ে তাদের সাথে যোগাযোগ করে তার আদেশ-নিষেধ প্রকাশ করতেন। বর্তমান পৃথিবীর চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতির এই স্বর্ণযুগে যদি কোন ব্যক্তি এমনতর দাবী নিয়ে চিকিৎসকদের কাছে হাজির হোন, তবে সেই ব্যক্তি-কে চিকিৎসকরা মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করেন; তালাবন্ধ কক্ষে যখন তাঁদের এই উপসর্গটি হয় নরঘাতী (Homicidal) কিংবা আত্মঘাতী (Suicidal)। পুরাকালের যে ব্যক্তিগুলো তাদের এই অত্যাশ্চর্য দাবী-টি প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছিলেন, তাদেরকেই নবী-রসুল বা মহাপুরুষ রূপে বিশ্বাস করে আজকের পৃথিবীর যে সমস্ত মানুষরা তাদের সেই দাবীর প্রতি একাত্মতা পোষণ করেন, তাঁরাই হলেন বর্তমান পৃথিবীর 'সাধারণ আস্তিক' সমাজ। তবে পৃথিবীর সকল ধর্ম ও ধর্মগ্রন্থে অবিশ্বাস রেখেও একজন মানুষ ঈশ্বর বিশ্বাসী হতে পারেন, তার সেই 'ঈশ্বর' বিশ্বাসের সঙ্গে ধর্মে গ্রন্থে বর্ণিত ঈশ্বরের কোনই সম্পর্ক নেই। তাঁরা হলেন 'অসাধারণ আস্তিক’। তাঁদের সংখ্যা সাধারণ আস্তিকদের সংখ্যার তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য।

ইতিহাসের পর্যালোচনায় জানা যায়, মানব ইতিহাসে শাসকের উত্থান ও 'সংঘবদ্ধ-ধর্মের (Organized Religion)’ উত্থান, প্রতিষ্ঠা, প্রচার ও প্রসার হয়েছে সমান্তরালে। সাধারণ মানুষদের স্বাধীনতা-কে অষ্টেপৃষ্ঠে নিয়ন্ত্রণ করে নিজ ক্ষমতা ও প্রতিপত্তি প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা করার প্রয়োজনের বাহন হিসাবে শাসক-যাজক চক্র পরস্পরের সহায়ক শক্তি হিসাবে 'ধর্ম ও ধর্মেশ্বরের' লালন পালন করেছেন। লাভবান হয়েছেন দু'পক্ষই। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, বিদ্যমান প্রায় প্রতিটি মুখ্য ধর্মের প্রতিষ্ঠার পিছনের যে ইতিহাস, তা লক্ষ লক্ষ মানুষের রক্তে রঞ্জিত অমানুষিক নৃশংসতার মহাকাব্য। ঈশ্বর-বিশ্বাসী এক ধর্মের লোকেরা "ঈশ্বরের নামে" যুগে যুগে শুধু যে অন্য ধর্মের ঈশ্বর-বিশ্বাসী লোকদের ওপর অত্যাচার, নিপীড়ন ও হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছেন তাইই নয়, নিজ ধর্মের লোকেরাও তাদের সেই নৃশংসতার হাত থেকে রক্ষা পান নাই। ইসলামও তার ব্যতিক্রম নয়!

ইসলাম ধর্মের সঙ্গে অন্যান্য 'সংঘবদ্ধ-ধর্মের' বিশেষ পার্থক্য এই যে, এই ধর্মে যিনি ছিলেন প্রবর্তক, তিনিই যাজক, তিনিই শাসক! মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল মুত্তালিব। যে কারণে 'ঈশ্বরের নামে' যখন যেমন দরকার তখন তেমন প্রয়োজনীয় 'ঐশী বানী' আমদানি করতে মুহাম্মদকে অন্য কোন যাজকের দ্বারস্থ হতে হয় নাই। 'আল্লাহ' নামের ঈশ্বর বিশ্বাসী কুরাইশ ও অন্যান্য ঈশ্বর বিশ্বাসীরা (ইহুদী, খ্রিস্টান ও অন্যান্য) মুহাম্মদের আবিষ্কৃত 'আল্লাহ' নামের ঈশ্বর অনুসারীদের আক্রোশে হয়েছিলেন আক্রান্ত। ঈশ্বরের নামে ক্ষমতা ও প্রতিপত্তি বিস্তারের এই লড়াইয়ে মুহাম্মদ ও তার অনুসারীরা অমানুষিক নৃশংসতায় পরিপার্শ্বিক অন্যান্য ঈশ্বর বিশ্বাসীদের পরাস্ত করে তাদের “নব্য ঈশ্বর ‘আল্লাহ’ ও তার বিধান” কে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছিলেন। অবিশ্বাসীদের উদ্দেশ্যে মুহাম্মদের অসংখ্য 'বিশেষ ঘোষণার' একটি হলো:

৪:১৫০-১৫২ (সূরা আন নিসা):
“যারা আল্লাহ্‌ ও তার রসূলের প্রতি অস্বীকৃতি জ্ঞাপনকারী তদুপরি আল্লাহ্‌ ও রসূলের প্রতি বিশ্বাসে তারতম্য করতে চায় আর বলে যে, আমরা কতককে বিশ্বাস করি কিন্তু কতককে প্রত্যাখ্যান করি এবং এরই মধ্যবর্তী কোন পথ অবলম্বন করতে চায়| প্রকৃতপক্ষে এরাই সত্য প্রত্যাখ্যাকারী। আর যারা সত্য প্রত্যাখ্যানকারী তাদের জন্য তৈরী করে রেখেছি অপমানজনক আযাব। আর যারা ঈমান এনেছে আল্লাহর উপর, তাঁর রসূলের উপর এবং তাঁদের কারও প্রতি ঈমান আনতে গিয়ে কাউকে বাদ দেয়নি, শীঘ্রই তাদেরকে প্রাপ্য সওয়াব দান করা হবে। বস্তুতঃ আল্লাহ ক্ষমাশীল দয়ালু।"

>> অর্থাৎ, ‘মুহাম্মদের আল্লাহ ও মুহাম্মদ’ - এদের যে কোন একজনকে শুধু অবিশ্বাসই নয়, তাদের মধ্যে সামান্য তারতম্য করলেই অনন্ত আযাব ও কঠিন শাস্তির হুমকি-শাসানী ও ভীতি-প্রদর্শন! যার বিস্তৃতি দুনিয়া (কুরআন: ৯:৫২) ও আখিরাতের সর্বত্রই!

সংক্ষেপে,

“মুহাম্মদ ও তার অনুসারীদের প্রতিষ্ঠিত 'আল্লাহ' নামের ঈশ্বরের রাজ্যে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় বৈষম্য হতে মুশরিকদের (polytheist) বাঁচার একমাত্র পথ হলো মুহাম্মদ-কে নবী হিসাবে মেনে নিয়ে মুসলমানিত্ব বরণ (কুরআন: ৯:৫)! আর ইহুদি ও খ্রিস্টানদের জন্য বিশেষ ছাড় এই যে, মুসলমানিত্ব বরণ না করেও যদি তাঁরা মুসলমানদের বশ্যতা স্বীকার করে অপমানিত অবস্থায় অবনত মস্তকে 'করজোড়ে জিযিয়া প্রদান (Willing submission and feel themselves subdued)' করতে রাজী হয় (কুরআন: ৯:২৯), তবেই তারা মুহাম্মদের আবিষ্কৃত ঈশ্বর বিশ্বাসীদের কবল থেকে বাঁচতে পারবেন! এই মতবাদের একমাত্র সত্য হলো 'মুহাম্মদ ও তার কুরআন!' বাঁকি সমস্তই ইসলামী রাজনীতি!"

>>> ধর্মের উৎপত্তি ও বিকাশ যে পন্থায়ই ঘটুক না কেন, বর্তমান পৃথিবীর প্রায় সমস্ত মানুষই তাঁদের ধর্মবিশ্বাস-টি পেয়েছেন ‘পরিবার সূত্রে’। জোর জবরদস্তি-হীন স্বার্থ-বহির্ভূত স্বাভাবিক পরিবেশে ধর্মান্তরিতের সংখ্যা অত্যন্ত নগণ্য। কোন বিশেষ ধর্মের ধর্ম-বিশ্বাসের সঙ্গে তার 'ধর্মগ্রন্থের' কোন সম্পর্ক নেই। অধিকাংশ মানুষই তাঁর পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত ধর্মগ্রন্থটি সম্পূর্ণ বুঝে জীবনে একবারও পড়েন নাই। আর ধর্মগ্রন্থগুলো জেনে-বুঝে পড়ে যত লোক তাঁর পৈতৃক-ধর্ম পরিবর্তন করে ধর্মান্তরিত হয়ে অন্য ধর্মে দীক্ষিত হয়, তার চেয়ে বেশী সংখ্যক লোক ধর্ম ছাড়ে। মানুষের ধর্ম-বিশ্বাস কে সহি ভাবে বোঝার জন্য, বিশ্বাসীদের উদ্দেশ্যে "শুধু একটি প্রশ্নই" যথেষ্ট! আর তা হলো,

"আপনি ও আপনার পরিবার যে ধর্ম-টি সত্য বলে বিশ্বাস করেন, তা আপনারা কী ভাবে পেয়েছেন?"

ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, কুরাইশরা মুহাম্মদের বিরুদ্ধে তখনই প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন, যখন মুহাম্মদ তাঁদের পূজনীয় পিতৃপুরুষ ও উপাস্য দেবতাদের অসম্মান-তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা শুরু করেছিলেন! মুহাম্মদের প্রচারণার শুরু থেকেই তাঁরা বারংবার অভিযোগ করেছেন যে, মুহাম্মদ তাদের দেবতা ‘আল্লাহর’ নামে মিথ্যা অপবাদ ছড়াচ্ছে ও তাঁদের আল্লাহ-কে কলঙ্কিত করছে। রাজসাক্ষী মুহাম্মদের ভাষায়,

৩৪:৭-৮ (সূরা সাবা) - "কাফেররা বলে, আমরা কি তোমাদেরকে এমন ব্যক্তির সন্ধান দেব, যে তোমাদেরকে খবর দেয় যে; তোমরা সম্পুর্ণ ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলেও তোমরা নতুন সৃজিত হবে। সে আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যা বলে, না হয় সে উম্মাদ এবং যারা পরকালে অবিশ্বাসী, তারা আযাবে ও ঘোর পথভ্রষ্টতায় পতিত আছে।"

>> মুহাম্মদের এই জবানবন্দিতে যা সুস্পষ্ট তা হলো, নামে এক হলেও অবিশ্বাসীদের 'আল্লাহ' ও মুহাম্মদের 'আল্লাহর' চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ছিল ভিন্ন প্রকৃতির। এতটায় ভিন্ন প্রকৃতির যে অবিশ্বাসীরা মনে প্রাণে বিশ্বাস করতেন, মুহাম্মদ ‘তাঁদের আল্লাহ' নাম-টি নিজ স্বার্থে ব্যবহার করে তার চরিত্রের ওপর এমন এমন বৈশিষ্ট্য আরোপ করেছেন, যা কোনভাবেই কোন ঈশ্বরের বৈশিষ্ট্য হতে পারে না। তাই তাঁরা মুহাম্মদের আরোপিত এই বৈশিষ্ট্যগুলোকে 'মিথ্যাচার, কিংবা উন্মাদের প্রলাপ' রূপে অভিহিত করেছিলেন! প্রশ্ন হলো:

(১) "মুহাম্মদ তার সৃষ্ট আল্লাহর চরিত্রে কী এমন বৈশিষ্ট্য আরোপ করেছিলেন যা ‘তাঁদের আল্লাহর’ বৈশিষ্ট্য ছিল না?"

(২) "কেন তাঁরা মুহাম্মদের আল্লাহর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যগুলোকে মিথ্যাচার অথবা উন্মাদের প্রলাপ রূপে অভিহিত করেছিলেন?"

(৩) "মুহাম্মদের বর্ণিত আল্লাহর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যগুলো কী ও কেন তা ঈশ্বরের (যদি থাকে) প্রতি কলঙ্ক আরোপ রূপে বিবেচিত?"

এ বিষয়ের বিস্তারিত আলোচনা পরবর্তী অধ্যায়: "মুহাম্মদের আল্লাহ" পর্বগুলোতে করা হবে।

(প্রথম অধ্যায়: 'কুরান' এর সমাপ্তি।)

(চলবে)

তথ্যসূত্র ও পাদটীকা:
[1] কুরআনেরই উদ্ধৃতি ফাহাদ বিন আবদুল আজিজ কর্তৃক বিতরণকৃত তরজমা থেকে নেয়া। অনুবাদে ত্রুটি-বিচ্যুতির দায় অনুবাদকারীর।
http://www.quraanshareef.org/
[2] কুরানের ছয়জন বিশিষ্ট ইংরেজি অনুবাদকারীর ও চৌত্রিশ-টি ভাষায় পাশাপাশি অনুবাদ: https://quran.com/

Comments

ড. লজিক্যাল বাঙালি এর ছবি
 

পড়লাম কিন্তু ৫৭ ধারার কারণে মন্তব্য করলাম না!

===============================================================
জানার ইচ্ছে নিজেকে, সমাজ, দেশ, পৃথিবি, মহাবিশ্ব, ধর্ম আর মানুষকে! এর জন্য অনন্তর চেষ্টা!!

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

গোলাপ মাহমুদ
গোলাপ মাহমুদ এর ছবি
Online
Last seen: 11 min 36 sec ago
Joined: রবিবার, সেপ্টেম্বর 17, 2017 - 5:04পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর