নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 0 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

নতুন যাত্রী

  • সুশান্ত কুমার
  • আলমামুন শাওন
  • সমুদ্র শাঁচি
  • অরুপ কুমার দেবনাথ
  • তাপস ভৌমিক
  • ইউসুফ শেখ
  • আনোয়ার আলী
  • সৌগত চর্বাক
  • সৌগত চার্বাক
  • মোঃ আব্দুল বারিক

আপনি এখানে

ধর্মীয় রাজনীতি নিষিদ্ধ করা অতি জরুরী



১৯৭১ সালে বর্বর পাকিস্তানী বাহিনী ও তাদের সহযোগী রাজাকার'রা ইসলাম ধর্মের নামে বাংলাদেশের মানুষ হত্যা করেছিল। ইসলাম ধর্মের নামে তারা বাঙালিদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধ করেছিল। পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর এদেশীয় দালালরা মুক্তিকামী মানুষের বিরুদ্ধে ধর্মের নামে অত্যাচার, নিপীড়ন, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, ধর্মান্তরসহ সকল প্রকার অপকর্ম চালিয়েছিল। কিন্তু অবশেষে সসস্র যুদ্ধে তারা পরাজিত হয়, বিশ্বের বুকে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। স্বাধীন বাংলাদেশে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়েছিলো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনামলে। কিন্তু বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত হওয়ার পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হয়। জিয়াউর রহমান শাসন ক্ষমতা দখল করেন এবং সামরিক শাসন জারী করেন। তিনি বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের নামে জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য ধর্মভিত্তিক দলগুলোকে পুনরায় রাজনীতি করার বৈধতা দেন।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য ধর্ম ভিত্তিক দলগুলো এদেশের মাটির অনেক গভীরে তাদের শিকড় বিস্তার করে। এখন তারা বাংলাদেশের অনেক বড় শক্তি। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচাল করা এবং এই বিচার বিতর্কিত করার জন্য তারা দেশে বিদেশে যে পরিমান টাকা খরচ করছে, বিএনপি শাসনামলে সারা দেশে ৫০০'র অধিক স্থানে বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে তারা তাদের শক্তি- সামর্থ্য ও অস্তিত্বের জানান দিয়েছে। তাদেরকে রাজনৈতিকভাবে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে, একটি দলের কাধে চড়ে এই ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলি তাদের রাজনীতি চালিয়ে যাচ্ছে। পাকিস্তানী সামরিক জান্তা এবং রাজনৈতিক দলগুলো এই ধর্মভিত্তিক দলগুলোকে রাজনীতিতে ব্যবহার করতে গিয়ে আজ তারা চরম খেসারত গুনছে। আজ ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলো পাকিস্তান সরকারের নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে গেছে। এমনকি সরকারের সরকার এবং সেনা বাহিনীর মধ্যেও তারা মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে, পাকিস্তানে সাম্প্রতিক ও অতীতের ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনা থেকে সে আলামত পাওয়া যায়। ওসামা বিন লাদেনকে পাকিস্তানের এবতাবাদের যে বাড়ীতে পাওয়া যায় সেটি ছিল পাকিস্তানের সেনা বাহিনীর সংরক্ষিত এলাকার মধ্যে। সেনা বাহিনীর কারো সহায়তা ছাড়া ওই বাড়ীতে লাদেনের বছরের পর বছর বসবাস করা ছিল অসম্ভব।

বাংলাদেশের ধর্মভিত্তিক বহুদল উপদল বর্তমানে বাংলাদেশের প্রতিটি সেক্টরে তাদের জাল বিস্তার করছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন ঘটনায় তার প্রমান পাওয়া যায়। অতীতে একজন বিচারক ধরা পরেছেন, যিনি সরাসরি নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হিজবুত তাহরির এর সাথে সম্পৃক্ত। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, বীমা, ব্যবসা, সরকারের নির্বাহী বিভাগ সহ প্রতিটি সেক্টরে এই ধর্মভিত্তিক গোষ্ঠীর অস্তিত্ব দেখা যায়। বাংলাদেশের সাধারন মানুষ বিষয়টি এখন বুঝতে পারছেন। তাদেরকে যদি এখনি থামানো না হয়, তবে পাকিস্তানের মত বাংলাদেশেরও অনেক মাসুল গুনতে হবে। হেলাফেলা নয়, উদাসিনতা নয়, ক্ষুদ্র রাজনৈতিক স্বার্থ নয়, সরকার আর বিরোধী দলের উপর দোষ দেওয়া আর কাদা ছোড়া ছুড়ি নয়, দেশের সকল মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এখনই বাংলাদেশের স্বাধীনতার ধর্ম নিরেপেক্ষ চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে এই ধর্মভিত্তিক দলগুলিকে প্রতিহত করতে হবে, তাদেরকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে হবে। নতুবা অদুর ভবিষ্যতে বাঙালি জাতিকেও চরম মূল্য দিতে হবে।

খোরশেদ আলম, লেখক ও গবেষক
@M.KhurshadAlam

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

খোরশেদ আলম
খোরশেদ আলম এর ছবি
Offline
Last seen: 2 months 2 weeks ago
Joined: বুধবার, এপ্রিল 27, 2016 - 3:00পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর