নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 0 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

নতুন যাত্রী

  • সুশান্ত কুমার
  • আলমামুন শাওন
  • সমুদ্র শাঁচি
  • অরুপ কুমার দেবনাথ
  • তাপস ভৌমিক
  • ইউসুফ শেখ
  • আনোয়ার আলী
  • সৌগত চর্বাক
  • সৌগত চার্বাক
  • মোঃ আব্দুল বারিক

আপনি এখানে

শিক্ষাব্যবস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গ্রামসির ধারণা


শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড, এ নিয়ে কারো কোনো সন্দেহ থাকার কথা নয়। কিন্তু এ শিক্ষা কোন ধরণের শিক্ষা এ নিয়ে একটা প্রশ্ন সবসময় রয়ে যায়। কেন এমনটা বলছি তা নিচের উক্তিটির ব্যাখ্যাতেই পরিষ্কার করে দিচ্ছি।

“France was saved by her idlers!”

মানে যারা পাশ করতে পারে নি বা পাশ করতে চায়নি তারাই ফ্রান্সকে উদ্ধার করেছিল। এখন এই পাশ করতে না পারা ব্যক্তিদের কি আপনি অশিক্ষিত বলতে পারবেন? বললে কেন বলবেন ,সেটা একটা মুখ্য প্রশ্ন হয়ে দাঁড়াবে। যদি বলেন তাঁরা পাশ করতে পারেনি, তাই তাঁরা অশিক্ষিত তাহলে শিক্ষার প্যারামিটার বা নির্ণায়ক রাশিটি দাঁড়ায় “পাশ করা”। অতএব কিরূপ শিক্ষা আমরা প্রত্যাশা করি সে নিয়ে আমাদের পূর্ণ ধারণা থাকা প্রয়োজন। সেই প্রেক্ষিতেই আজকের এই রচনাটি লিখা হচ্ছে। প্রথমেই উল্লেখ করা উচিৎ কোন প্রেক্ষিতে আলোচনাটি আগাবে। এই রচনাটিতে আমি চেষ্টা করব আন্তোনীয় গ্রামসির শিক্ষা প্রসঙ্গে লিখা “On Education” প্রবন্ধটির কিছু চুম্বক অংশের আলোচনা তুলে ধরার। গ্রামসির এই প্রবন্ধটি বেশ জনপ্রিয়,তার কারন বোধ হয় এই যে, গ্রামসি অনেকটাই বস্তুনিষ্ঠভাবে তৎকালীন ইতালীর শিক্ষাব্যবস্থা তুলে ধরতে পেরেছিলেন। আর এই প্রবন্ধটি নির্বাচন করার পেছনে আমার ব্যক্তিগত যুক্তি হলো,এই প্রবন্ধটি একটি ডায়নামিক প্রবন্ধ অর্থাৎ এর উপযোগিতা এখনো শেষ হয়ে যায় নি। স্বাভাবিকভাবেই এই লিখাতে আদর্শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংক্রান্ত কিছু বিষয় উঠে আসবে। এবং এই লিখাতে শিক্ষানীতি সংক্রান্ত গ্রামসির ভাবনাগুলো আমি তুলে আনব না,কারণ সেটি আরো বিশাল পর্যবেক্ষণ এবং বিশ্লেষণের দাবী রাখে।অতএব এই রচনাটিতে কেবলমাত্র শিক্ষা এবং সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান প্রসঙ্গে গ্রামসির ভাবনাগুলো তুলে আনার চেষ্টা করব।

দৈনন্দিন জীবনে বিজ্ঞানের আন্তঃপ্রবাহ ও মিথষ্ক্রিয়া অত্যন্ত জটিল বলে মনে হয়। গ্রামসি আধুনিক ধরণের স্কুলের কথা বলেছেন এভাবে যে প্রতিটি বাস্তব কর্মকান্ড থেকে নতুন নতুন স্কুল তৈরী হচ্ছে যারা নির্বাহী পরিচালক ,বিশেষজ্ঞ এবং পরবর্তীতে বিশেষজ্ঞ বুদ্ধিজীবী তৈরী করছে। এবং স্বভাবতই এইসব বুদ্ধিজীবীরাই ঐসব স্কুলে শিক্ষাদান করেন,অর্থাৎ পুরো প্রক্রিয়াটি একটি চেইন প্রক্রিয়া বা বলা যায় চাক্রিক প্রক্রিয়া।আর এ চক্র ঘুরতে থাকে। একইসাথে গ্রামসি সনাতনী ধারার স্কুলের কথাও উল্লেখ করেছেন।গ্রামসি সনাতনী ধারার স্কুলকে “মানবিক” ধারার স্কুল বলে আখ্যায়িত করেছেন,তার কারণ হিসেবে তিনি বলেছেন এইসব স্কুল(সনাতনী) এর পরিকল্পনায় থাকে প্রতিটি ব্যক্তিকে সাধারণ সংস্কৃতিতে অবিচ্ছিন্ন করে তোলা যাতে সে স্বাধীনভাবে নিজের জীবন গড়তে ও স্বাধীন চিন্তা করতে পারে। এছাড়াও সে যেন নিজ ক্ষমতা এবং যোগ্যতা সম্পর্কে সঠিক ধারণা লাভ করতে পারে এবং সচেতন হয়ে উঠতে পারে। প্রথম ধরণের স্কুলের দিকে তাকালে আমরা দেখতে পারি যে ,এখানে পেশাদারিত্বটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ এ ধরণের স্কুলের উদ্দেশ্য থাকে দক্ষ পেশাদার তৈরি করা।অপরপক্ষে আমরা যদি মানবিক ধারার স্কুলের দিকে তাকায় তবে দেখতে পারি যে তা ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব প্রসার এবং সর্বাঙ্গীণ মানবিক মানুষ হয়ে উঠার দিকে জোর প্রদান করে। প্রাচীন চিরায়ত এই ধরণের স্কুল এবং আধুনিক স্কুল যাকে আমরা বৃত্তীয় বা ভোকেশনাল স্কুল বলছি তাদের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য স্বাভাবিক এবং যৌক্তিকভাবেই বিদ্যমান। এখানে ক্লাস ডিফারেন্স বা শ্রেণী পার্থক্য বিদ্যমান। গ্রামসির মতে বৃত্তীয় স্কুলগুলো মূলত প্রযুক্তির ব্যবহারিক এবং যান্ত্রিক শ্রেণীর জন্য। তার মানে এই না যে এখানে বিশেষজ্ঞ বা বিশেষজ্ঞ বুদ্ধিজীবী তৈরী হবে না।সে কথা আমি পূর্বেই উল্লেখ করেছি এসব স্কুলের বাস্তব কর্মকান্ড থেকে কিভাবে বিশেষজ্ঞ বুদ্ধিজীবী তৈরি হচ্ছে। আর চিরায়ত স্কুলগুলো নিয়ন্ত্রণকারী সমাজ ও বুদ্ধিজীবী শ্রেণীর জন্য এমনটাই গ্রামসি মনে করতেন।গ্রামসির এই দুইটি ধারণাকে যদি আমরা একসূত্রে বাধি তবে আমাদের চোখে স্পষ্টরূপেই শ্রেণী পার্থক্য ধরা পড়বে।

তৎকালীন শিক্ষাব্যবস্থার সমস্যাগুলোকে গ্রামসি খুঁজে বের করেছিলেন এবং এর সমাধান প্রদান করেছিলেন তাঁর প্রবন্ধে। আশ্চর্যজনকভাবে সেই সমস্যাগুলো আজকের শিক্ষাব্যবস্থাতেও সমস্যা আকারে রয়ে গেছে। গ্রামসি শিক্ষাক্ষেত্রে অরাজকতা এবং অব্যবস্থা বিরাজ করার কারণ হিসেবে বেশ কয়েকটি কারণকে দুষেছেন। তাঁর প্রথমটি সংক্ষেপিত এবং সুনির্দিষ্ট নীতির অভাব। এই বিষয়টি ব্যাখ্যা করা যায় অনেকটা এভাবে যে শিক্ষা কোন নির্দিষ্ট নীতির উপর ভর করে এগুবে তার কোনরূপ ধারণা নীতিনির্ধাকদের ছিল না। এর পরের কারণটি হলো ,শিক্ষা সম্পর্কে গভীর পাঠের অভাব। এই লেখনীর শুরুতেই একটি উক্তির মাধ্যমে আমি উল্লেখ করেছিলাম শিক্ষা বলতে আমরা কি বুঝছি তাঁর উপর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তদুপরি শিক্ষা নীতি নির্ভর করছে। অর্থাৎ বিষয়টা এমন যে শিক্ষা নিয়ে আমরা যত গভীর পাঠ করতে পারব ততোই আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার “লুপহোল” ধরা পড়বে।আর এই “লুপহোল” গুলোই কিন্তু পরবর্তী শিক্ষানীতি প্রণ্যনে সাফল্য আনবে এবং শিক্ষাকে উদারনৈতিক করবে। পরবর্তী কারণটি হলো, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রতিষ্ঠিত পরিকল্পনাগুলোর নেতিবাচক বাস্তবায়ন।এই বিষয়টি বিশ্লেষণের দাবী রাখে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠার পিছনে নির্দিষ্ট কোনো উদ্দেশ্য কাজ করে থাকে। এই উদ্দেশ্য নির্ধারণ করে প্রতিষ্ঠানটি কেমন হবে।একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক বা নৈতিক মনোভাব তার উদ্দেশ্যের উপরে অনেকাংশেই নির্ভর করে। অতএব এই উদ্দেশ্য যদি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই নেতিবাচক হয়,স্বাভাবিকভাবেই প্রতিষ্ঠানে অরাজকতা এবং অব্যবস্থা বিরাজ করবে। গ্রামস্যার উক্তি দিয়েই এই সমস্যা নিয়ে আলাপ শেষ করা যায়,

“ স্কুলগুলোর অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাক্রমের সমস্যা-সংকট ,আধুনিক বুদ্ধিজীবী ক্যাডার তৈরির সামুগ্রিক কার্যাদেশে ,অবকাঠামোর নীতিই বর্তমানের এই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাসংকটের মৌল কারণ।”

সমস্যার বিশ্লেষণ আমাদের বলে যে বর্তমান বা সাম্প্রতিক প্রবণতার দিকে যদি আমরা তাকাই তাহলে আমরা দেখতে পাবো যে এই সাম্প্রতিক প্রবণতা আসলে “অলাভজনক” বা “গঠনমূলক” স্কুল ধ্বংস করার চেষ্টা করছে।এর পরিবর্তে বিশেষায়িত বৃত্তিমূলক স্কুলগুলোর প্রসার ঘটছে খুব দ্রুত।অর্থাৎ দক্ষ পেশাদার তৈরি করার স্কুলগুলো বৃদ্ধি পাচ্ছে, এবং মানবিক স্কুলগুলো বহুলাংশেই কমে যাচ্ছে।বিশেষায়িত স্কুলগুলোর প্রসারণ নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে এই অর্থে যে এই বিশেষায়িত স্কুলগুলোতে ছাত্র-ছাত্রীদের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য এবং কার্যক্রম বা পেশা পেশা পূর্বেই নির্ধারিত থাকে।অতএব সে চাইলেও এর বাইরে বের হতে পারে না।যেমনটা ঘটে ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ারদের ক্ষেত্রে। তাঁরা যখন এই বিশেষায়িত স্কুলগুলোতে প্রবেশ করে তখন তাঁদের পেশা নির্ধারিত হয়ে যায় এবং পারতপক্ষে তা পরিবর্তনের কোনো সম্ভাবনা থাকে না। অন্যদিকে যদি মৌল শিক্ষার স্কুলগুলোর দিকে তাকাই সেখানে আমরা পেশা সংক্রান্ত স্বাধীনতাটি লক্ষ্য করে থাকব। আমরা শিক্ষাসংক্রান্ত সমস্যাগুলো তাহলে বুঝতে পারলাম। এখন এই সমস্যা থেকে উত্তরণ কি?
এই সমস্যা থেকে উত্তরণের উপায় ও গ্রামসি মশায় আমাদের দিয়ে গেছেন। তাঁর সমাধানটিকে উদ্ধৃত করা যায় এভাবে,

“ সর্বসাধারণ ভিত্তিক মৌল শিক্ষা,যা মানবিক ,সংস্কৃতি গঠনমূলক যা সঠিকভাবে হস্তচালিত কার্যক্রম(কারিগরি শিল্পকারখানায়) এবং বুদ্ধিবৃত্তিক সৃজনশীল কার্যক্রমের উন্নয়নের মধ্যে ভারসাম্য আনতে পারে। এই ধরণের সার্বজনীন স্কুলশিক্ষায় পুনঃপুনঃ পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে বৃত্তীয় পেশাদারী স্কুলের শিক্ষার্থীরা বিশেষায়িত স্কুলে উত্তীর্ণ হবে অথবা উৎপাদনমুখী কাজে যোগ্যতার সাথে যুক্ত হবে।”

সৃজনশীল কার্যক্রমের উন্নয়নের ক্ষেত্রে অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে উন্নয়ন প্রবণতায় বাস্তবক্ষেত্রে প্রতিটি কার্যক্রমে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নিজেদেরই সৃজনশীল স্কুল সৃষ্টি করতে হবে,এই দাবীটুকু গ্রামসি রেখেছেন। এই জিনিসটার বিশ্লেষণ দেয়া যাক।ধরুন,আপনি গান করেন বা সাহিত্য পছন্দ করেন,সেক্ষেত্রে গান বা সাহিত্যের জন্য আপনি কিন্তু নিজস্ব সৃজনশীল সংঘ তৈরি করে নিচ্ছেন।এখন গ্রামসি যা চাচ্ছেন তা হলো মৌল শিক্ষা অর্জন করার পর একজন ব্যক্তি যে সৃজনশীলতা নিজের মধ্যে ধারণ করবে সে সৃজনশীলতা দিয়ে সে যাতে নতুন স্কুল তৈরির পরিকল্পনা করে। পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যাবে যে সুচিন্তিত ব্যক্তিগণ সবস্ময়ই অত্যন্ত দক্ষতার দ্বারা বুদ্ধিমূলক কাজের প্রসার ঘটান দুটি আঙ্গিক ক্ষেত্রে।প্রথমটি হলো তাঁদের চিন্তা বা চিন্তার নির্যাস আর দ্বিতীয়টি হলো কারিগরি দক্ষতা।অর্থাত প্রথমেই তাঁরা তাঁদের চিন্তার নির্যাসখানা ঢালবেন ,আর সেই নির্যাসখানা গ্রহুণ করার পর বৈজ্ঞানিক বিচার বিশ্লেষণ তথা কারিগরি দক্ষতা প্রয়োগের মাধ্যমেই বুদ্ধিবৃত্তিক কাজটির প্রসার ঘটানো হবে। গভীর নিরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণ বলবে দ্বিতীয় আঙ্গিকটি আসলে একটা অবকাঠামোর অধ্যে আমলাতান্ত্রিকতা সৃষ্টি করবে।গ্রামসি এই অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টিই সবার সামনে আনতে সক্ষম হয়েছেন। অর্থাৎ একটি “আইডিয়া” থেকে একটি “অর্গানাইজেশন” সৃষ্টি হবে এই বিশেষ দুটি আঙ্গিক দ্বারা।যেখানে প্রতিষ্ঠান তৈরী করবে আমলাতন্ত্র,যেখানে তৈরি হবে একটি প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা।

অতএব সর্বসাকুল্যে আমরা যখন সাধারণ বা মানবিক গঠনমূলক স্কুলগুলোর কথা বলছি তখন আমাদেরকে কথা বলতে হবে তাঁকে কিভাবে স্বাধীনভাবে উদ্যোগী ও সজাগ করে তোলা যায় এবং তাঁদের মধ্যে সৃজনশীলতার এবং বুদ্ধিবৃত্তির সঞ্চার যায় তার উপায় সম্পর্কে। অতএব আমাদের গবেষণার জায়গাটি হওয়া উচিৎ শিক্ষাব্যবস্থাটিতে কিভাবে একজন শিক্ষার্থীকে মানবিক করে তোলা যায় তার প্রক্রিয়াগুলো নিয়ে। এখানে গ্রামসি আরেকটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের অবতারণা করেছেন।সেই প্রশ্নটি হলো বাধ্যগতভাবে একজন শিক্ষার্থী কেন স্কুলে উপস্থিত থাকবে? অথবা প্রশ্নটাকে ঘুরিয়ে করলে বলা যায়, কেন একজন শিক্ষার্থী বাধ্যগতভাবে স্কুলে উপস্থিত থাকতে পারছে না।এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটির উত্তর স্বয়ং গ্রামসি দিয়ে গেছেন এভাবে যে , স্কুলে উপুস্থিত থাকার বিষয়টি সম্পূর্ণরূপে নির্ভর করে আর্থিক সঙ্গতির উপর। অর্থাৎ আর্থিক সংগতি থাকলে তবে গিয়েই একজন শিক্ষার্থীর মনে তাড়না জন্মাবে বাধ্যগতভাবে স্কুলে উপস্থিত থাকার। এই বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্যেও কিন্তু কিছু কাজ করে যেতে হবে। গ্রামসি বলেছেন সাধারণ স্কুলের ব্য্যভার নির্বাহ করা উচিত সরকারের। অথচ বর্তমানে সেই ব্য্যয়ভার ও খরচের দায়ভার পড়েছে পরিবারের উপর। গ্রামসির ভাষায় যেটা অনেকটা এরকম,

“ জাতীয় বিভাগের উচু থেকে নিচু পর্যন্ত সমগ্র বাজেটের দায়ভার জনগণের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে,।নতুন প্রজন্মকে শিক্ষিত এবং গঠন করতে গিয়ে সমস্ত কার্যক্রম ব্যক্তি পর্যায়ে বন্ধ করে দিয়ে জনগণের পর্যায়ে করে ফেলা হয়েছে।”

গ্রামসির অন্যতম আরেকটি ভাবনা হলো,শিক্ষাকাঠামো অবশ্যই বৃদ্ধি করা উচিত,কারন শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত যত কম হবে স্কুলের দক্ষতা ততো বৃদ্ধি পাবে। খুব সম্ভবত এই বিষয়টি মাথায় রেখেই কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলোর প্রসার ঘটেছিল। গ্রামসি স্কুলকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক ভাগে ভাগ করেছিলেন যার সময়কাল বা ডিউরেশন সম্পর্কেও ধারণা তিনি দিয়ে গিয়েছিলেন। প্রাথমিক শিক্ষাকে তিনি কোনোভাবেই তিন হতে চার বছরেরর বেশি দীর্ঘস্থায়ী করতে রাজি নন। একজন শিক্ষার্থীকে তার ‘অধিকার এবং কর্তব্য’ সংক্রান্ত ধারণাগুলো এই প্রাথমিক শিক্ষাকালীন সময়েই প্রদান করতে হবে। এর পরবর্তী শিক্ষাক্রমকে তিনি ছয় বছরের মধ্যে শেষ করার পক্ষপাতী ছিলেন। অর্থাৎ ,পনেরো বা ষোলো বছর বয়সের মধ্যেই সাধারণ স্কুলের সকল সম্ভাব্য পর্যায় শেষ করা সম্ভব হবে। গ্রামসি এই প্রক্রিয়ার সম্ভাব্য সমালোচনা যা বলতে পারে “এই শিক্ষাব্যবস্থা সংক্ষিপ্ত এবং শ্বাসরুদ্ধকর” এর জবাব হিসেবে বলেছেন যদি লক্ষ্য হয় ফলাফলের প্রতিক্রিয়া তবে বর্তমান সময়ের চিরায়ত প্রাতিষ্ঠানিক স্কুলগুলোও তা করতে সক্ষম হয় নি,এমনকি নতুন প্রতিষ্ঠানগুলো তাঁদের শিক্ষা সময়কে ধীর বা শ্লথ করে ফেলেছে ,অন্তঃত শিক্ষার্থীদের দিক থেকে। সার্বজনীন যে শিক্ষার কথা তিনি বলে গিয়েছেন সেই স্কুলের শেষ ধাপগুলোর অবকাঠামো সম্পর্কেও তিনি ধারণা দিয়ে গিয়েছেন। এই অবকাঠামো এমনভাবে ধারণ করতে হবে যার লক্ষ্যে থাকবে “মানবিকতা ও মূল্যবোধ সৃষ্টি করা”। এখন এই অবকাঠামো তৈরী যদি সম্ভব হয় তবেই কেবল এই শিক্ষা প্রাসঙ্গিক এবং নৈতিক শিক্ষায় রূপান্তরিত হতে পারবে।এবং এই শিক্ষার ফলাফল হবে সুদূরপ্রসারী ,হোক তা নৈতিক দিক হোক সেটা পেশাদারিত্বের দিক থেকে।

আমরা যদি আজকের এই আলোচনার সারসংক্ষেপে যাই,তাহলে আমরা যে জিনিসগুলো পাই তাহলো চিরায়ত এবং বৃত্তীয় স্কুলগুলোর মধ্যে পার্থক্য কিংবা বলা যায় মৌলিক পার্থক্য।এরপর আমরা দেখতে পাচ্ছি সাম্প্রতিক প্রবণতাগুলো কি ধরণের।এরপর আমরা পাচ্ছি শিক্ষাব্যবস্থার অরাজকতা এবং অব্যবস্থার পেছনে দায়ী “কী-ফ্যাক্টর” গুলো ,এবং এই সমস্যাগুলোর গ্রামসীয় সমাধান।এছাড়া আজকের আলোচনায় মানবিক স্কুলগুলোর কাঠামো কেমন হওয়া উচিৎ ,তাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য কেমন হওয়া উচিৎ তা-ও আমরা পাই। এছাড়াও শিক্ষার ক্ষেত্রে সরকারের অর্থনৈতিক দায়ভার সম্পর্কেও আমরা জানতে পারি। সবশেষে শেষ করছি গ্রামসির উপরোল্লিখিত প্রবন্ধের শিক্ষাব্যবস্থা ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান সংক্রান্ত নিবন্ধটির সর্বশেষ প্যারা উদ্ধৃত করার মাধ্যমে,

“ সর্বজনীন স্কুলের অগ্রগতি মানেই হলো বুদ্ধিবৃত্তিক এবং শিল্প-কারিগরী কাজের সাথে নতুন সম্পর্কের সূচনা যা শুধুমাত্র স্কুল জীবনেই সীমাবুদ্ধ নয় এমনকি সমগ্র সসামাজিক জীবনব্যাপী। এই স্কুলের নীতি সংক্ষিপ্তাকারে সংস্কৃতির অঙ্গ-কাঠামোয় প্রতিফলিত হতে থাকবে ,তাঁদের রূপান্তর ঘটবে এবং সেইগুলোকে নতুন বিষয়বস্তু দান করবে”।

বিভাগ: 

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

সজীব সাখাওয়াত
সজীব সাখাওয়াত এর ছবি
Offline
Last seen: 1 month 1 week ago
Joined: মঙ্গলবার, জুন 20, 2017 - 9:06অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর