নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 4 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • সাইয়িদ রফিকুল হক
  • বিকাশ দাস বাপ্পী
  • রাজর্ষি ব্যনার্জী
  • মাইকেল অপু মন্ডল

নতুন যাত্রী

  • ফারজানা কাজী
  • আমি ফ্রিল্যান্স...
  • সোহেল বাপ্পি
  • হাসিন মাহতাব
  • কৃষ্ণ মহাম্মদ
  • মু.আরিফুল ইসলাম
  • রাজাবাবু
  • রক্স রাব্বি
  • আলমগীর আলম
  • সৌহার্দ্য দেওয়ান

আপনি এখানে

কুরআন অনলি: (১৪) মুহাম্মদের চ্যালেঞ্জ ও বিশ্বস্রষ্টা!


অবিশ্বাসীদের যৌক্তিক দাবী ও চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় 'স্রষ্টার' নামে মুহাম্মদ কীরূপে নিজেই নিজের সার্টিফিকেট প্রদান করেছিলেন, আত্মপ্রশংসা করেছিলেন ও যদি তিনি নিজে 'কুরআন' রচনা করতেন তবে স্রষ্টা তাকে যে ভয়ানক শাস্তি দিতো বলে দাবী করেছিলেন, মৃত্যুকালে তার ঠিক অনুরূপ শাস্তিই তিনি কীরূপে ভোগ করেছিলেন; ইত্যাদি বিষয়ের আলোচনা গত পর্বে করা হয়েছে।মুহাম্মদেরই নিজস্ব জবানবন্দি 'কুরআনের' আলোকে আমারা জানতে পারি, অবিশ্বাসীরা যেমন বিভিন্নভাবে মুহাম্মদ-কে তার নবুয়তের প্রমাণ হাজির করার 'চ্যালেঞ্জ' জানিয়েছিলে, ‘স্রষ্টার’ মুখোশে মুহাম্মদ ও তেমনই তাঁদের উদ্দেশ্যে পাল্টা অভিযোগ ও 'চ্যালেঞ্জ' ছুঁড়ে দিয়েছিলেন। স্রষ্টার নামে তার সেই অভিযোগ ও চ্যালেঞ্জগুলো ছিল বড়ই বিচিত্র ও উদ্ভট! যেমন:

১) "মৃত্যু কামনা করে প্রমাণ কর যে তুমি সত্যবাদী!”
২) "তোমাদের উপাস্যরা কখনও একটি মাছি সৃষ্টি করতে পারে না!"
৩) "দেখাও, তোমাদের দেব-দেবী পৃথিবীতে কি সৃষ্টি করেছে?"
৪) "তোমাদের দেব-দেবীকে ‘আমার’ সামনে হাজির কর!"
৫) "তোমাদের উপাস্যরা তোমাদের কষ্ট দুর করতে অক্ষম!"
৬) "তাদের উপাস্যরা তাদেরকে সাহায্য করল না কেন?" ও সর্বোপরি
৭) "সুরা প্রতিযোগিতা আহ্বান!"

মুহাম্মদের ভাষায়: [1] [2]

“তবে” মৃত্যু কামনা করে প্রমাণ কর যে তুমি সত্যবাদী:
২:৯৪ (সূরা আল বাক্বারাহ) - "বলে দিন, যদি আখেরাতের বাসস্থান আল্লাহর কাছে একমাত্র তোমাদের জন্যই বরাদ্দ হয়ে থাকে - অন্য লোকদের বাদ দিয়ে, তবে মৃত্যু কামনা কর, যদি সত্যবাদী হয়ে থাক।"

>> কী অদ্ভুত প্রস্তাবনা! মৃত মানুষ কথা বলতে পারে না। যুক্তির খাতিরে যদি ধরেও নিই যে, মরণোত্তর জীবন বলে আদৌ কিছু আছে, তথাপি কোনো মৃত ব্যক্তি মরণের ওপার থেকে জীবিতদের সাথে যোগাযোগ করে "রাজসাক্ষী" হতে পারেন না। তাই মৃত্যুকামনা বা মৃত্যুবরণের মাধ্যমে সত্যতার যাচাইয়ের কোনো প্রশ্নই আসে না! এই একই প্রস্তাবনা" যদি প্রবক্তা মুহাম্মদ এবং তার অনুসারীদের দেওয়া হয়, তাহলে কি তারা মৃত্যুকামনা/মৃত্যুবরণ করে অবিশ্বাসীদের প্রমাণ দেবেন যে, তারা সত্যবাদী? এমনতর দাবি একেবারেই ননসেন্স (অর্থহীন আগড়ম বাগড়ম)!

"তারা" কখনও একটি মাছি সৃষ্টি করতে পারে না:
২২:৭৩ (সূরা হাজ্জ্ব) - "হে লোক সকল! একটি উপমা বর্ণনা করা হলো, অতএব তোমরা তা মনোযোগ দিয়ে শোন; তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের পূজা কর, তারা কখনও একটি মাছি সৃষ্টি করতে পারবে না, যদিও তারা সকলে একত্রিত হয়। আর মাছি যদি তাদের কাছ থেকে কোন কিছু ছিনিয়ে নেয়, তবে তারা তার কাছ থেকে তা উদ্ধার করতে পারবে না, প্রার্থনাকারী ও যার কাছে প্রার্থনা করা হয়, উভয়েই শক্তিহীন।"

>> মুহাম্মদের দাবীকৃত "স্রষ্টা (আল্লাহ)" যদি অবিশ্বাসীদের সামনে এসে একটি মাছি সৃষ্টি করে তার অস্তিত্বের প্রমাণ হাজির করতো, আর সেই মাছিটি যদি কিছু ছিনিয়ে নেয়, তবে তার "আল্লাহ" যদি তা নিজেই উদ্ধার করে তা অবিশ্বাসীদের দেখাতো, তাহলেই শুধু মুহাম্মদের এ বাণীর "সেন্স" থাকতো! যা আমরা নিশ্চিতরূপে জানি তা হলো মুহাম্মদের আল্লাহ অবিশ্বাসীদের সামনে এসে অনুরূপ কর্মকাণ্ড কখনোই প্রদর্শন করে নাই। সুতরাং, মুহাম্মদের এমনতর দাবি ননসেন্স!

“দেখাও” তোমাদের দেব-দেবী পৃথিবীতে কি সৃষ্টি করেছে?
৪৬:৪ (সূরা আল আহক্বাফ) - "বলুন, তোমরা আল্লাহ ব্যতীত যাদের পূজা কর, তাদের বিষয়ে ভেবে দেখেছ কি? দেখাও আমাকে তারা পৃথিবীতে কি সৃষ্টি করেছে? অথবা নভোমন্ডল সৃজনে তাদের কি কোন অংশ আছে? এর পূর্ববর্তী কোন কিতাব অথবা পরস্পরাগত কোন জ্ঞান আমার কাছে উপস্থিত কর, যদি তোমরা সত্যবাদী হও।"

>> ২২:৭৩ বানীর মতই! একেবারেই ননসেন্স!

তোমাদের দেব-দেবীকে "আমার" সামনে হাজির কর!
৩৪:২৭ (সূরা সাবা) – "বলুন, তোমরা যাদেরকে আল্লাহর সাথে অংশীদাররূপে সংযুক্ত করেছ, তাদেরকে এনে আমাকে দেখাও। বরং তিনিই আল্লাহ, পরাক্রমশীল, প্রজ্ঞাময়।"

৬৪:৪১ (সূরা আত-তাগাবুন) - "না তাদের কোন শরীক উপাস্য আছে? থাকলে তাদের শরীক উপাস্যদেরকে উপস্থিত করুক যদি তারা সত্যবাদী হয়।"

>> মুহাম্মদ কখনোই তার আল্লাহ-কে অবিশ্বাসীদের সামনে হাজির করে তার দাবির যথার্থতা প্রমাণ করেননি! তাই অবিশ্বাসীদের প্রতি তার এই চ্যালেঞ্জ একেবারেই ননসেন্স!

"তারা" তোমাদের কষ্ট দুর করতে অক্ষম:
১৭:৫৬ (সূরা বনী ইসরাঈল) - "বলুনঃ আল্লাহ ব্যতীত যাদেরকে তোমরা উপাস্য মনে কর, তাদেরকে আহবান কর। অথচ ওরা তো তোমাদের কষ্ট দুর করার ক্ষমতা রাখে না এবং তা পরিবর্তনও করতে পারে না।"

>> “মুহাম্মদের আল্লাহ" যে ইসলাম বিশ্বাসীদের কষ্ট দুর করার ক্ষমতা রাখে, তার কি কোনো প্রমাণ আছে? যা আমরা নিশ্চিতরূপে জানি তা হলো, জ্ঞান-বিজ্ঞান-শিক্ষা-অর্থনীতিসহ জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইসলাম বিশ্বাসীদেরই অবস্থান আজ পৃথিবীর সর্বনিম্ন! এতে কি প্রমাণ হয়?

"তারা" তাদেরকে সাহায্য করল না কেন?
৪৬:২৮ – “অতঃপর আল্লাহর পরিবর্তে তারা যাদেরকে সান্নিধ্য লাভের জন্যে উপাস্যরূপে গ্রহণ করেছিল, তারা তাদেরকে সাহায্য করল না কেন? বরং তারা তাদের কাছ থেকে উধাও হয়ে গেল। এটা ছিল তাদের মিথ্যা ও মনগড়া বিষয়।"

>> 'স্রষ্টার' মুখোশে মুহাম্মদের এ সমস্ত দাবী ও অভিযোগ একেবারেই কুযুক্তি! কারণ, নবুয়তের দাবীদার মুহাম্মদ। সুতরাং, নিশ্চিতরূপেই সেই দাবী প্রমাণের দায়িত্ব একান্ত তারই। প্রমাণের পরিবর্তে অবিশ্বাসীদের বিরুদ্ধে তার এই সমস্ত অভিযোগ, বাদ-প্রতিবাদ ও পাল্টা চ্যালেঞ্জ নিশ্চিতরূপেই তার নবুয়তের সপক্ষে কোন ইতিবাচক ভূমিকা রাখে না। অবিশ্বাসীরা বিভিন্নভাবে মুহাম্মদের কাছে তার নবুয়তের সত্যতার প্রমাণ দাবি করেছিলেন। হাজির করতে বলেছিলেন মুহাম্মদেরই দাবীকৃত পূর্ববর্তী নবীদের অনুরূপ "যে কোন একটি" প্রমাণ। প্রত্যুত্তরে মুহাম্মদ তাদের কী জবাব দিয়েছিলেন, তা 'কুরআনে' সুস্পষ্ট, যার বিস্তারিত আলোচনা ইতিমধ্যেই করা হয়েছে (পর্ব: ১০-১১)।

সর্বোপরি, মুহাম্মদের সেই বিখ্যাত ‘সুরা প্রতিযোগিতার’ চ্যালেঞ্জ:
১০:৩৮ (সূরা ইউনুস) - "মানুষ কি বলে যে, এটি বানিয়ে এনছে? বলে দাও, তোমরা নিয়ে এসো একটি সূরা, আর ডোকে নাও, যাদরেকে নিতে সক্ষম হও আল্লাহ ব্যতীত, যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাক।"

১১:১৩ (সূরা হুদ)- "তারা কি বলে? কোরআন তুমি তৈরী করেছ? তুমি বল, তবে তোমরাও অনুরূপ দশটি সূরা তৈরী করে নিয়ে আস এবং আল্লাহ ছাড়া যাকে পার ডেকে নাও, যদি তোমাদের কথা সত্য হয়ে থাকে।"

১৭:৮৮ (সূরা বনী ইসরাঈল) - "বলুনঃ যদি মানব ও জ্বিন এই কোরআনের অনুরূপ রচনা করে আনয়নের জন্যে জড়ো হয়, এবং তারা পরস্পরের সাহায্যকারী হয়; তবুও তারা কখনও এর অনুরূপ রচনা করে আনতে পারবে না।"

৫২: ৩৩-৩৪ (সূরা আত্ব তূর) - "না তারা বলেঃ এই কোরআন সে নিজে রচনা করেছে? বরং তারা অবিশ্বাসী। যদি তারা সত্যবাদী হয়ে থাকে, তবে এর অনুরূপ কোন রচনা উপস্থিত করুক।"

২:২৩-২৪ (সূরা আল বাক্বারাহ): -
"এতদসম্পর্কে যদি তোমাদের কোন সন্দেহ থাকে যা আমি আমার বান্দার প্রতি অবতীর্ণ করেছি, তাহলে এর মত একটি সূরা রচনা করে নিয়ে এস| তোমাদের সেসব সাহায্যকারীদেরকে সঙ্গে নাও-এক আল্লাহ্কে ছাড়া, যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাকো।"

অতঃপর যথারীতি হুমকি ও শাসানী:
"আর যদি তা না পার-অবশ্য তা তোমরা কখনও পারবে না, তাহলে সে দোযখের আগুন থেকে রক্ষা পাওয়ার চেষ্টা কর, যার জ্বালানী হবে মানুষ ও পাথর। যা প্রস্তুত করা হয়েছে কাফেরদের জন্য।"

>> মুহাম্মদের স্ব-রচিত জবানবন্দি ‘কুরআনে’ যে অসংখ্য অযৌক্তিক ও উদ্ভট বানীগুলো আছে, তার একটি হলো স্রষ্টার মুখোশে অবিশ্বাসীদের উদ্দেশ্যে মুহাম্মদের ওপরে বর্ণিত এই 'সুরা প্রতিযোগিতার' বিষয়টি! মুহাম্মদ দাবী করেছেন যে শ্রেষ্ঠত্ব জাহিরের বাসনায় “তার স্রষ্টা" তার অস্তিত্বে অস্বীকারকারী মানুষদের সাথে সূরা প্রতিযোগিতার চ্যালেঞ্জ ঘোষণা করেছেন কম পক্ষে ৫ বার! এ কোন 'স্রষ্টা' যে তার অস্তিত্বে অস্বীকারকারীদের সাথে সুরা প্রতিযোগিতার আহ্বান জানাচ্ছেন? মুহাম্মদ কী কল্পনাও করতে পেরেছিলেন, স্রষ্টার মুখোশে যে মানুষের সাথে তিনি সুরা প্রতিযোগিতার আহ্বান জানাচ্ছেন, তাদের উদ্ভব হয়েছে এই মহাবিশ্ব সৃষ্টির ১৩৫০ কোটি বছর পরে, মাত্র দুই-তিন লক্ষ বছর আগে? আর তারা কবিতা লেখা শুরু করেছে সামান্য কয়েক হাজার বছর আগে? এই তথ্যগুলোর যে কোনো একটির সঠিক জবাব জানা থাকলে মানুষের সাথে "সুরা প্রতিযোগিতা" আহ্বানের আগে মুহাম্মদ বোধ করি নিজেই নিজেকে ধিক্কার দিতেন!

কারণ?
প্রায় সমকক্ষ না হলে কেউ কারো কাছেই প্রতিদ্বন্দ্বিতার আহ্বান জানায় না। একজন শক্তিমান মানুষ কখনোই তার শক্তিমত্তায় অস্বীকারকারী পিপীলিকা কিংবা মশা-কে (Mosquito) তার সাথে শক্তিমত্তা প্রতিযোগিতার আহবান জানাবেন না! জগৎশ্রেষ্ঠ কোনো বিজ্ঞানী তাকে অস্বীকারকারী অশিক্ষিত কৃষকের কাছে বিজ্ঞান প্রতিযোগিতার আহ্বান জানবেন না! বিখ্যাত কোনো কবি কখনোই তার অস্বীকারকারী অর্বাচীন শিশুর কাছে কবিতা প্রতিযোগিতার আহ্বান জানবেন না! সমকক্ষ জ্ঞান না করলে এমন আচরণ কি কেউ করতে পারেন? যদি করেন, তবে তা যে তার মস্তিষ্ক বিকৃতিরই উপসর্গ এ ব্যাপারে আদৌ কি কোনো সন্দেহের অবকাশ আছে? সুতরাং, প্রবক্তা মুহাম্মদ যদি মস্তিষ্ক বিকৃত না হোন তবে আমাদের মানতেই হবে যে তার বর্ণিত স্রষ্টা মানুষেরই সমকক্ষ। কে সেই "আল্লাহ"? সে "আল্লাহ” তিনি নিজেই! মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল মুত্তালিব! কারণ, মুহাম্মদই সেই পুরুষ যে বার বার তাকে অস্বীকারকারীর সাথে বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে সুরা প্রতিযোগিতার আহবান জানিয়েছেন? কারণ, মুহাম্মদই সেই পুরুষ যে তার পরিপার্শ্বের মানুষের স্বীকৃতি লাভের চেষ্টায় ছিলেন মরিয়া! এতটায় মরিয়া যে যে-কোনো মূল্যে তার তা চাইই চাই! প্রতারণা-চাতুরী, হুমকি-ধমকি, প্রলোভন-শাস্তি ইত্যাদি এমন কোনো পন্থা নেই যা তিনি তার পরিপার্শ্বের মানুষের ওপর প্রয়োগ করেননি! অবিশ্বাসীদের উদ্দেশ্যে তার 'সুরা প্রতিযোগিতার' আহ্বান ছিল তার সেই প্রচেষ্টারই একটি।

মুহাম্মদের 'সুরা প্রতিযোগিতা' চ্যালেঞ্জের অসাড়তা:
মুহাম্মদের দাবী করেছেন যে "তার আল্লাহ" চ্যালেঞ্জ ছুঁড়েছেন যে, কোন মানুষের পক্ষেই তার মত সুরা রচনা করা কখনোই সম্ভব নয়! কিন্তু 'আল্লাহ' সেখানে অনুপস্থিত। এমত পরিস্থিতিতে কোন অবিশ্বাসী যদি কোন সুরা রচনা করে আল্লাহর সেই চ্যালেঞ্জের মোকাবেলা করতে চান, তবে সেই সুরাটি তিনি কার কাছে তা পরীক্ষার জন্য জমা দেবেন? কে সেই সুরাটি পড়বেন ও অতঃপর তা যাচাই করে সিদ্ধান্ত দেবেন যে কোন সুরাটি উত্তম? না আছে সেখানে 'মুহাম্মদের আল্লাহ', না আছে অন্য কোন তৃতীয় পক্ষ! সুতরাং, আল্লাহর মুখোশে মুহাম্মদের এই দাবী-টি একেবারেই "ননসেন্স!" মুহাম্মদ এখানে ইনিয়ে বিনিয়ে যা বলতে চাচ্ছেন তা হলো,

"তোমরা আমার মত কোন সুরা 'অবশ্যই' রচনা করিতে পারবে না! যদি বিশ্বাস না হয় তবে অনুরূপ একটি সুরা রচনা করে তোমরা আমার কাছে নিয়ে এসো। আমি তা যাচাই করে সিদ্ধান্ত দেবো যে আমার সুরাটি উত্তম না কী তোমাদের সুরাটি উত্তম!" অর্থাৎ মুহাম্মদই দাবীদার, মুহাম্মদই পরীক্ষক ও মুহাম্মদই বিচারক! স্রষ্টার মুখোশে মুহাম্মদের প্রতারণা ও ভাঁওতা-বাজীর উৎকৃষ্ট উদাহরণ হলো মুহাম্মদের এই 'সুরা প্রতিযোগিতার' চ্যালেঞ্জে!

ইসলাম বিশ্বাসী পণ্ডিত ও অপণ্ডিতদের এক সাধারণ দাবী এই যে অবিশ্বাসীরা মুহাম্মদের এই 'সুরা প্রতিযোগিতার' চ্যালেঞ্জে-টি গ্রহণ করেন নাই। 'কুরআন' তাদের এই দাবীর সম্পূর্ণ বিপরীত সাক্ষ্য-বাহী। মুহাম্মদের ভাষায়,

৮:৩১ (সূরা আল-আনফাল):
“আর কেউ যখন তাদের নিকট আমার আয়াতসমূহ পাঠ করে তবে বলে, আমরা শুনেছি, ইচ্ছা করলে আমরাও এমন বলতে পারি; এ তো পূর্ববর্তী ইতিকথা ছাড়া আর কিছুই নয়।"

এই আয়াতের তাফসীরে আমরা জানতে পারি, আল নাদর বিন আল-হারিথ নামের এক জ্ঞানী মক্কাবাসী কুরাইশ মুহাম্মদের এই চ্যালেঞ্জটি গ্রহণ করেছিলেন। তিনি মুহাম্মদের মত "পূর্ববর্তীদের কিচ্ছা-কাহিনী ও উপকথাগুলো' রচনা করে জনগণের সামনে তা উদ্ধৃত করে জিজ্ঞাসা করতেন, [3]

"Who, by Allah, has better tales to narrate, I or Muhammad.''

পরিণতিতে মুহাম্মদ তাঁকে নিরস্ত্র-বন্দি অবস্থায় কীরূপে হত্যা করেছিলেন, তার বিশদ বিবরণ আদি উৎসের মুসলিম ঐতিহাসিকরা তাঁদের সিরাত ও হাদিস গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন। আমি আমার "ইসলামের অজানা অধ্যায় (দ্বিতীয় খণ্ড) বইটির 'বন্দীহত্যা ও নিষ্ঠুরতা (পর্ব-৩৫)” পর্বে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। [4]

https://drive.google.com/file/d/0BwbIXqxRzoBOX01sZ0Q1cGJsSzg/view

>>> একবিংশ শতাব্দীর বিজ্ঞানের আলোকে আজ আমরা নিশ্চিতরূপে জানি, পৃথিবী নামের আমাদের এই নিবাস গ্রহটি অত্যন্ত ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র একটি স্থান। এ স্থানটি সূর্যের তুলনায় ১৩ লক্ষ গুন ক্ষুদ্রতর। আমাদের এই ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র নিবাসটি জীবন ও আলো দানকারী সূর্য থেকে ৯ কোটি ৩০ লক্ষ মাইল দূরবর্তী। আলোর গতি ধ্রুব (Constant)। প্রতি সেকেন্ডে ১৮৬,০০০ মাইল (এক আলোক-সেকেন্ড)! অর্থাৎ, প্রতি সেকেন্ডে আলো সাড়ে সাত বার পৃথিবী প্রদক্ষিণ, প্রতি দিনে ১৮০০ কোটি মাইল (এক আলোক-দিন) ও প্রতি বছরে ৬০০ হাজার কোটি (৬ ট্রিলিয়ন) মাইল গতি সম্পন্ন (এক আলোকবর্ষ)! এই গতিবেগে সূর্য থেকে পৃথিবীতে আসতে আলোর সময় লাগে মাত্র ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড।

অন্যদিকে, আমাদের নিবাস এই 'মিল্কি-ওয়ে গ্যালাক্সি-টি' এক লক্ষ আলোকবর্ষ পরিবৃত একটি স্থান। যা এই মহাবিশ্বে অবস্থিত প্রায় ৮,০০০ কোটি (৮০ বিলিয়ন) অনুরূপ গ্যালাক্সির একটি। আমাদের সবচেয়ে কাছের প্রতিবেশী গ্যালাক্সিটির নাম ‘এ্যন্ড্রোমেডা’, যার অবস্থান পৃথিবী থেকে ২৫ লক্ষ আলোকবর্ষ দূরে! অর্থাৎ, এ্যন্ড্রোমেডার যে অলোক-রশ্মি আজকে পৃথিবীতে এসে পড়েছে, তা সেখান থেকে ২৫ লক্ষ বছর আগে যাত্রা শুরু করেছিল! তুলনায়, পৃথিবীতে আধুনিক মানুষের (Homo sapiens) উদ্ভব হয়েছে মাত্র দুই-তিন লক্ষ বছর আগে!

আমাদের নিবাস এই মহাবিশ্বটি প্রায় ৯,৩০০ কোটি (৯৩ বিলিয়ন) আলোকবর্ষ পরিবৃত একটি স্থান। যে স্থানে পৃথিবীর তুলনায় ১৩ লক্ষ গুন বিশাল সূর্যের অবস্থান এই পৃথিবীর একটি ধূলিকণার চেয়েও ক্ষুদ্রতর। বিজ্ঞানের আলোকে আমরা আরও জানি, আমাদের এই মহাবিশ্বটি হতে পারে অনন্ত-মহাবিশ্বের (Multiverse) কোটি কোটি অনুরূপ মহাবিশ্বের একটি! এ ছাড়াও আছে অদৃশ্যমান জগত: অণু, পরমাণু, কোয়ার্ক, কোষ-DNA/RNA, ডার্ক ম্যাটার - ইত্যাদি, ইত্যাদি, ইত্যাদি।

আমাদের এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের উদ্ভব হয়েছে প্রায় ১৩৫০ কোটি বছর আগে। তার প্রায় ৯০০ কোটি বছর পরে সৃষ্টি হয়েছে আমাদের এই পৃথিবী। প্রায় ৪৫০ কোটি বছর আগে। পৃথিবী সৃষ্টি হওয়ার আরও ১০০ কোটি বছর পরে পৃথিবীতে “প্রাণের” উদ্ভব হয়েছে। প্রায় ৩৫০ কোটি বছর আগে। সেই আদি থেকে এখন পর্যন্ত পৃথিবীতে যত প্রজাতির উদ্ভব হয়েছে তার ৯৯ শতাংশেরও বেশী নিশ্চিহ্ন/বিলুপ্ত (Extinct) হয়ে গিয়েছে। মাত্র এক শতাংশের ও কম অবলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। যার বর্তমান পরিমাণ আনুমানিক ১৭ লক্ষ (এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত)। অর্থাৎ, পৃথিবী নামের এই ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র স্থানটিতে মানুষ নামের এই প্রজাতিটি বর্তমানে জীবিত দৃশ্যমান আনুমানিক ১৭ লক্ষ প্রজাতির একটি! এ ছাড়াও আছে ভাইরাস-ব্যাকটেরিয়া-প্রোটোজোয়া ইত্যাদি প্রাণের অদৃশ্য জগত!

দৃশ্যমান জগতের এ সমস্ত "সংখ্যা" যে কোনো সুস্থ-চিন্তাশীল মানুষের কল্পনা শক্তিকে অবশ করে দেয়। মানুষকে নতজানু হতে শেখায়। ভাবতে শেখায়। পুরাতন সবকিছুকে ভুলে নতুন জ্ঞানের আলোকে যাবতীয় অন্ধবিশ্বাসকে ঝেড়ে ফেলে সত্যিকার চিন্তাশীল মানুষ হতে স্পৃহা যোগায়!

এই সুবিশাল চমকপ্রদ (magnificent) বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের আদৌ কোনো স্রষ্টা আছে, এমন কোনো প্রমাণ নাই। আধুনিক বিজ্ঞান নিশ্চিত করছে যে প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মেই (Fundamental laws of Nature) তথাকথিত কোনো স্রষ্টার হস্তক্ষেপ ছাড়াই একদম "শূন্য থেকে” এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের উদ্ভব হতে পারে। এর পরেও যদি কোনো ব্যক্তি সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বে বিশ্বাসী হয়ে অপরের জীবনযাত্রা প্রণালীর ওপর কোনোরূপ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কটাক্ষ-তাচ্ছিল্য-অসম্মান-অসুবিধা-হুমকি বা হস্তক্ষেপ না করে একান্ত ব্যক্তিগত স্বস্তি ও সুখ পেতে চান, তবে তাঁকে তাঁর ব্যক্তিগত ব্যাপার বলে আখ্যা দেয়া যেতে পারে। কিন্তু যদি তিনি দাবী করেন যে এই অনন্ত মহাবিশ্বের স্রষ্টা তার শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের উগ্র বাসনায় অবিশ্বাসীদের সাথে "জাতীয় বা আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট" সাদৃশ্য প্রতিযোগিতায় (যেমন, বাংলাদেশে চ্যানেল আইয়ের সঙ্গীত প্রতিযোগিতা অথবা World cup football/cricket/heavy weight champion) অংশ নিয়ে তার শ্রেষ্ঠত্ব অস্বীকারকারীদের সমুচিত জবাব দিতে চান! অথবা তিনি যদি ঘোষণা দেন যে বিশ্বস্রষ্টা আকাশ থেকে তার বিরুদ্ধবাদীদের শায়েস্তা করার জন্য তৃতীয় বিশ্বের কুচক্রী শাসক/রাজনীতিবিদদের মত পাঠান লাঠি-সোঠা-চাকু-ছুরি-পিস্তল-মেশিন গান সজ্জিত খুনি ক্যাডার বাহিনী, তাহলে আমরা নির্দ্বিধায় যে সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারি তা হলো, এরূপ ব্যক্তি হয় এই মহাবিশ্বের বিশালতা বিশয়ে সম্পূর্ণ অজ্ঞ, এবং/অথবা মানসিক ভারসাম্যহীন! না, মুহাম্মদ (আল্লাহ) কোন "সংগীত প্রতিযোগিতার" আহ্বান জানাননি; জানিয়েছেন "সুরা প্রতিযোগিতার" আহ্বান! তিনি কোনো "পিস্তল-মেশিন গান" সজ্জিত ক্যাডার বাহিনী পাঠান নাই; পাঠিয়েছেন "ঢাল-তলোয়ার" সজ্জিত ফেরেশতাকুল (সুরা আনফাল: ৮:৯, ৮:১২-১৭)!

মুহাম্মদ ছিলেন ৭ম শতাব্দীর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত এক আরব বেদুইন। উদ্দেশ্য মূলক বা মতি-বিভ্রমের (Delusion) বশবর্তী হয়ে তিনি বলতেই পারেন, “আল্লাহ (সৃষ্টিকর্তা) ও তাঁর ফেরেশতাগণ তার প্রতি রহমত প্রেরণ করেন, আল্লাহ ‘কসম কাটেন, মানুষের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেন, অবিশ্বাসীদের সাথে সুরা প্রতিযোগিতার চ্যালেঞ্জ ছুঁড়েন, আরশ থেকে ফেরেশতা পাঠায়ে তার ‘অস্বীকার কারীকে’ খুন করেন।” তার প্রত্যক্ষ অনুসারীরা, যারা ছিলেন সে যুগেরই' বাসিন্দা, তা মনে-প্রাণে বিশ্বাস ও করতে পারেন। এতে আশ্চর্য হবার তেমন কোন কারণ নাই। একই ভাবে অশিক্ষিত বা অল্পশিক্ষিত কোন সাধারণ মানুষ, যারা এই ‘বিশ্ব-ব্রহ্মাণ্ডের’ বিশালতার বিষয়ে কোন জ্ঞানই রাখেন না, জন্মসূত্রে প্রাপ্ত এরূপ বিশ্বাসে বিশ্বাসী হলে অবাক হওয়ার কোন কারণ থাকে না। কিন্তু যখন কোন ইসলাম বিশ্বাসী পণ্ডিত, তফসির-কার, উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত মানুষরা ইন্টারনেট সহ আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যাবতীয় সুযোগ সুবিধা ভোগ করে এ সকল “অবৈজ্ঞানিক উদ্ভট বিশ্বাস” এর সপক্ষে কু-যুক্তি ও মিথ্যাচার করে 'কুরআন' কে বিজ্ঞানের খনি, সকল জ্ঞানের আধার, সর্বকালের শ্রেষ্ঠ কিতাব, ইত্যাদি বিশেষণে আখ্যায়িত করে সাধারণ সরলপ্রাণ মুসলমানদের বিভ্রান্ত করেন, তখন অবাক না হয়ে উপায় থাকে না!

প্রমাণ হয়, বিশ্বাস মানুষের স্বাভাবিক বিচার-বুদ্ধি-বিশ্লেষণের ক্ষমতা অবশ করে দেয়।

(চলবে)

তথ্যসূত্র ও পাদটীকা:
[1] কুরআনেরই উদ্ধৃতি ফাহাদ বিন আবদুল আজিজ কর্তৃক বিতরণকৃত তরজমা থেকে নেয়া। অনুবাদে ত্রুটি-বিচ্যুতির দায় অনুবাদকারীর।
http://www.quraanshareef.org/
[2] কুরানের ছয়জন বিশিষ্ট ইংরেজি অনুবাদকারীর ও চৌত্রিশ-টি ভাষায় পাশাপাশি অনুবাদ: https://quran.com/
[3] The Quraysh claimed They can produce Something similar to the Qur'an:
http://www.qtafsir.com/index.php?option=com_content&task=view&id=1549&It...

[4] ‘ইসলামের অজানা অধ্যায় (দ্বিতীয় খণ্ড)’ - ডাউনলোড লিঙ্ক:
https://drive.google.com/file/d/0BwbIXqxRzoBOX01sZ0Q1cGJsSzg/view

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

গোলাপ মাহমুদ
গোলাপ মাহমুদ এর ছবি
Offline
Last seen: 1 week 4 দিন ago
Joined: রবিবার, সেপ্টেম্বর 17, 2017 - 5:04পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর