নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 5 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • মুফতি মাসুদ
  • নরসুন্দর মানুষ
  • সৈকত সমুদ্র
  • রাজর্ষি ব্যনার্জী
  • সাইয়িদ রফিকুল হক

নতুন যাত্রী

  • আদি মানব
  • নগরবালক
  • মানিকুজ্জামান
  • একরামুল হক
  • আব্দুর রহমান ইমন
  • ইমরান হোসেন মনা
  • আবু উষা
  • জনৈক জুম্ম
  • ফরিদ আলম
  • নিহত নক্ষত্র

আপনি এখানে

রুপকথার এক বুড়ির গল্প!


ভোলাহাটের নাম শুনার বা শুনেও মনে রাখার কোন কারণ নেই, অন্তত এই রাজনীতিক দ্বিধাবিভক্ত বাংলাদেশে তো কোনভাবেই নেই। জাতির মুক্তির সংগ্রামের ইতিহাস পর্যন্ত যে দেশে রাজনীতিক পক্ষপাত মুক্ত নয়, সে দেশে সত্য ইতিহাস মহাকালের আবর্তে বিলীন হবে এ তো জানা কথা। এদেশে পাকিস্তানের দোসর রাজাকার, হিংস্র হায়েনারা মুক্তিযুদ্ধের সনদ বানিয়ে মুক্তিযোদ্ধ হয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকলেও, মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস এবং বহু ঘটনাবলী সমৃদ্ধ জায়গার নাম ইতিহাসে আসার সুযোগ তৈরী হয়নি। ইতিহাস মনে রাখেনি জীবনবাজি রেখে মুক্তিবাহিনীদের সাহায্য করা অনেক সত্যিকারের দেশপ্রেমিক মানুষের নাম। কালের ধুলিতে চাপা পরে গেছে কত বীরত্মগাঁথা, কত ত্যাগ, সাহস আর সংগ্রামের গল্প। কিন্তু তবুও কিছু গল্পের আবেদন এতো তীব্র যে, সমস্ত অযত্ন আর অবহেলার ধুলিস্তর চাপিয়ে উঠে আসে গহন বাস্তবতায়!

বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের চারটি ইউনিয়ন নিয়েই গঠিত উপজেলা 'ভোলাহাট' চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার অন্তর্গত হলেও ভৌগলিক দিক দিয়ে ভারতের মালদহ জেলার খুবই নিকটে এই উপজেলাটি। আর এই সীমান্তবর্তী স্থানটি ছিল একাত্তরে সেক্টর-৭ এর অন্তর্গত। এই ভোলাহাটের আছে এক অনন্য বিশেষত্ব, যেখানে বাস করতেন এক মহীয়সি বৃদ্ধা।

৭১ এর অক্টোবরের দিকে সেক্টর-৭ এর ভোলাহাট এলাকায় যুদ্ধ তৎপরতা ঝিমিয়ে পড়ায় কমান্ডার লে. কর্নেল কাজী নূর-উজ্জামান একদিন পরিদর্শনে আসেন ভোলাহাটস্থ মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্প। সারা রাত গাড়ী চালিয়ে প্রত্যুষে ভোলাহাট উপস্থিত হবার পর এক অভাবনীয় দৃশ্যের সন্মুখিন হন তিনি। ভোলাহাট ক্যাম্পে পৌঁছার পর তিনি দেখতে পান- এক বৃদ্ধা মাথায় ঝুড়ি নিয়ে এগিয়ে আসছে মুক্তিবাহিনী ক্যাম্পের দিকে। জীর্ণ দেহ, শতছিন্ন শাড়ী, রুক্ষ চেহারা, চোখে মুখে পথ চলার ক্লান্তি। কাছে আসবার পরই কমাণ্ডার যোদ্ধাদের নির্দেশ দেন বৃদ্ধাটির ঝুড়ির ভেতর কী আছে তা খোঁজে দেখতে। নিজেও এগিয়ে যান বৃদ্ধার কাছে। ঝুড়ির ভেতরে উঁকি দিয়েই লাফিয়ে দূরে সরে পড়েন কমাণ্ডার এবং সহযোদ্ধারা। সাথে সাথেই কমান্ডার নির্দেশ দেন- এই ঝুঁড়ি যেন বহুদুরে সরিয়ে রাখা হয়। কারণ সেই ঝুঁড়ি ভর্তি ছিল শক্তিশালী এন্টি-পার্সোনাল মাইন। যার বিষ্ফোরণে মৃত্যু নেমে আসতে পারতো উপস্থিত সবার।

বৃদ্ধার কাছ থেকে জানা যায়, মুক্তিযোদ্ধারা যে পথ দিয়ে দলদলিয়া নামক একটি ছোট্ট গ্রামের পাশ দিয়ে বোয়ালিয়া যাবার চেষ্টা করতো, সেই পথে রাতে পাক মিলিটারি বাহিনী কিছু যেন পুঁতে রাখছে। গ্রাম্য অশিক্ষিত এই বৃদ্ধা তার স্বল্প বুদ্ধিতে ভেবেছিল এই জিনিসগুলো পেরেক, কাঁটা বা সাধারন বিষ্পোরক জাতীয় কিছু হবে। যা মুক্তিযোদ্ধাদের পায়ে ফুটলে তারা ব্যাথা পেতে পারে। এই কারণেই এই নির্বংশা বৃদ্ধ নিজের টুকড়ি নিয়ে একে একে সব মাইন তুলে মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে নিয়ে আসে সেটা জমা দেয়ার জন্য।

সমরবিদ্যায় বলা হয়ে থাকে, "Bombs & Explosives can't differentiate friends and foes." অর্থাৎ যুদ্ধক্ষেত্রে বোমা এবং বারুদ শত্রু-মিত্র চিনেনা। তাই মাইন উত্তোলনকে বিবেচনা করা হয় যুদ্ধক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ কাজ হিসেবে। কিন্তু নিজের ঝুঁপড়িতে বসেই এই বৃদ্ধা চিনেছিলেন দেশের শত্রুদের এবং নিজের অজান্তেই বড় একটি ঝুঁকি নিয়ে বাঁচিয়ে দিয়েছিলেন দেশের সূর্যসন্তান অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধার প্রাণ।

স্বাধীন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান জানাতে গিয়ে বহু রাজাকারের গলায়ও মুক্তিযোদ্ধার মেডেল ঝুলিয়েছে। যুদ্ধ চালাকালীন নিরাপদে বর্ডার পাড়ি দেয়া কিংবা স্বগৃহে নিরাপদে জীবন কাটানো অনেক নির্লজ্জ মানুষও রাজনীতিক বিবেচনায় মুক্তিযোদ্ধা স্বকৃতি পেয়েছে। সরকারের কল্যানে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ভালো চাকরি বাকরিও পেয়েছে ছেলে-পুলে এমনকি নাতি-নাতনিরাও। জমি, ভাতাসহ আরো নানাবিধ সুযোগ-সুবিধাও পাচ্ছে। কিন্তু দেশ সেই বৃদ্ধাকে কি কিছু দিয়েছে? জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের জীবন বাঁচানোর প্রতিদান কি দিয়ে পূর্ণ হতো বা আদো হতো কিনা আমার জানা নেই, কিন্তু প্রতিদান তো দূরে থাক, অনাহারে, রোগে-শোকে মৃত্যুবরণ করা সেই বৃদ্ধার খবরটি পর্যন্ত নেয়ার প্রয়োজন মনে করেনি রাষ্ট্র। স্বিকৃতী তো সুদূরপরাহত! মুক্তিযুদ্ধ এবং ৭৫ পরবর্তী ঘাত-প্রতিঘাত আর ছড়াই-উতরাই পেরিয়ে দেশটা কিছু মানুষের কাছে লুটের মাল হিসেবে বিবেচিত হয়েছিলো। লুটের মালের ভাগ-বাটোয়ারাই কামড়া-কামড়িতে চাপা পরে গেছে মুক্তিযুদ্ধের বহু ইতিহাস। কালের ধুলিতে চারা পরা সেই ইতিহাসের অনেক রোমাঞ্চকর ঘটনা এদেশের তরুন প্রজন্ম হয়তো কখনোই জানতে পারবে না।

বৃটেনে যেকোনো বেসামরিক ব্যক্তি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তায় অবদান রাখলে তাকে জর্জ ক্রস দেয়া হয়। আমাদের দেশে দেশমাতৃকার স্বাধীনতায় অসামান্য অবদান রাখা মুক্তিযোদ্ধা এবং আত্মদানকারী শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদেরও সম্মান জানাতে যেখানে আমরা নিয়তই ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছি, সেখানে ভোলাহাটের এক রোগক্লিষ্ট হতদরিদ্র নি:স্বন্তান বৃদ্ধার অবদানের কথা মনে রাখার মতো বিলাসিতা দেখায় কি করে! আমরা একাত্তরে আমাদের সাত কোটি জনগোষ্ঠীর স্বাধীনতায় একনিষ্ঠভাবে সহানুভূতি প্রকাশকে সম্মান জানাতে পারিনি কোন ভাবেই। এখনো ফুরিয়ে যায়নি সময়। কিন্তু বর্তমান প্রজন্মের ইতিহাসবিমুখতা এবং অতীত থেকে শিক্ষা না নেওয়া যে এই দীর্ঘশ্বাসকে প্রলম্বিত করবে সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

বিভাগ: 

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

রহমান বর্ণিল
রহমান বর্ণিল এর ছবি
Offline
Last seen: 1 দিন 8 ঘন্টা ago
Joined: রবিবার, অক্টোবর 22, 2017 - 9:43অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর