নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 5 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • মুফতি মাসুদ
  • নরসুন্দর মানুষ
  • সৈকত সমুদ্র
  • রাজর্ষি ব্যনার্জী
  • সাইয়িদ রফিকুল হক

নতুন যাত্রী

  • আদি মানব
  • নগরবালক
  • মানিকুজ্জামান
  • একরামুল হক
  • আব্দুর রহমান ইমন
  • ইমরান হোসেন মনা
  • আবু উষা
  • জনৈক জুম্ম
  • ফরিদ আলম
  • নিহত নক্ষত্র

আপনি এখানে

মুহাম্মদকে কি ডাকাত দলের সর্দার বলা যাবে?।


মুহাম্মদ সম্পর্কে কেউ কোন সমালোচনামূলক বক্তব্য দেয়া মাত্রই মুমিনরা সেটাকে ইসলামের অবমাননা বলে অভিহিত করে থাকে। কিন্তু একটা ডাকাত বা চোর বা লুইচ্চাকে যদি ডাকাত বা চোর বা লুইচ্চা বললে সেটা কিভাবে সেই লোককে অপমান করা হলো? সাধারনত: সমাজে হয়ত আমরা সেটা করি না, কিন্তু কেউ যদি নিজে ডাকাত সর্দার হয়ে পরে দাবী করে, সে হলো সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ট আদর্শ মানুষ, তখন কি তাকে ডাকাত সর্দার বলা যাবে না? এবার দেখা যাক, মুহাম্মদ ডাকাত সর্দার ছিলেন কি না।

কোরানের বানীর মাধ্যমেই মুহাম্মদ নিজেকে দুনিয়ার সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ট আদর্শ মানুষ হিসাবে দাবী করেছিলেন, যেমন --

সূরা আহযাব- ৩৩: ২১: যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসের আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে, তাদের জন্যে রসূলুল্লাহর মধ্যে উত্তম নমুনা রয়েছে।

তার মানে যারা মুসলমান বা মুমিন, তাদের জন্যে মুহাম্মদই হলেন সর্বোত্তম আদর্শ মানুষ। এখন দেখা যাক, এই কথিত সর্বোত্তম আদর্শ মানুষ কি কাজ কারবার করছেন। সবাই জানেন, মক্কা থেকে মুহাম্মদ মদিনায় চলে যান। তার সাথে প্রায় ৮০/৯০ জন সাহাবীও গমন করে। মদিনার লোকজন ছিল গরিব ও মূলত: কৃষিজীবি, এত লোককে বসিয়ে বসিয়ে খাওয়ান তাদের পক্ষে সম্ভব ছিল না। অন্যদিকে মক্কার কঠিন আবহাওয়ার মানুষগুলো ছিল ব্যাবসা বানিজ্য লুটতরাজ এসবের সাথে জড়িত। অন্তত: মক্কার লোকদের কৃষিকাজের কোন ঐতিহ্য ছিল না। কিন্তু এতগুলো লোকের ভরনপোষন হবে কি করে ? উপায় একটা বের করা হলো, আর সেটা হলো মদিনার পাশ দিয়ে চলে যাওয়া বানিজ্য কাফেলার ওপর অতর্কিতে আক্রমন করে তাদের মালামাল লুটপাট করা, যাকে সোজা ভাষায় বলে ডাকাতি। মুহাম্মদ এভাবে পর পর ছয়টা প্রচেষ্টা করেন বানিজ্য কাফেলা ডাকাতি করার, কিন্তু সফল হন না। এরপর মক্কার লোকজন মদিনার পাশ দিয়ে বানিজ্য করা বন্দ করে দিয়ে দক্ষিনে ইয়েমেনের সাথে বানিজ্য করতে থাকে। সেই সময় মক্কার লোকজন মূলত: বানিজ্য করত, সিরিয়ার সাথে। মক্কা থেকে সিরিয়া যাওয়ার মাঝে পড়ত মদিনা। ফলে মদিনা থেকে সহজেই বানিজ্য পথের পাশে ওৎ পেতে অতর্কিতে বানিজ্য কাফেলার ওপর ঝাপিয়ে পড়ে ডাকাতি করা যেত। যখন মক্কাবাসীরা মদিনার পাশ দিয়ে বানিজ্য কাফেলা পাঠান বন্ধ করে দিল, তখন যে ঘটনা মুহাম্মদ ঘটালেন তা অবিশ্বাস্য। সেটার জন্যে প্রথমেই নিচের আয়াত পড়া যেতে পারে ---

সুরা বাকারা -২: ২১৭: সম্মানিত মাস সম্পর্কে তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে যে, তাতে যুদ্ধ করা কেমন? বলে দাও এতে যুদ্ধ করা ভীষণ বড় পাপ। আর আল্লাহর পথে প্রতিবন্দ্বকতা সৃষ্টি করা এবং কুফরী করা, মসজিদে-হারামের পথে বাধা দেয়া এবং সেখানকার অধিবাসীদেরকে বহিস্কার করা, আল্লাহর নিকট তার চেয়েও বড় পাপ। আর ধর্মের ব্যাপারে ফেতনা সৃষ্টি করা নরহত্যা অপেক্ষাও মহা পাপ। বস্তুতঃ তারা তো সর্বদাই তোমাদের সাথে যুদ্ধ করতে থাকবে, যাতে করে তোমাদিগকে দ্বীন থেকে ফিরিয়ে দিতে পারে যদি সম্ভব হয়। তোমাদের মধ্যে যারা নিজের দ্বীন থেকে ফিরে দাঁড়াবে এবং কাফের অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে, দুনিয়া ও আখেরাতে তাদের যাবতীয় আমল বিনষ্ট হয়ে যাবে। আর তারাই হলো দোযখবাসী। তাতে তারা চিরকাল বাস করবে।

উক্ত আয়াত থেকে জানা যাচ্ছে, যে কোন একটা যুদ্ধ হয়েছিল, কিন্তু সেটা ঘটেছিল সম্মানিত মাসে আর সেটা ছিল অন্যায় বা পাপ। কিন্তু পরে নানা অজুহাত দাড় করিয়ে সেই যুদ্ধটাকে বৈধ বলে ঘোষণা দেয়া হচ্ছে। কিন্তু আসলেই কি সেটা যুদ্ধ ছিল, নাকি অন্য কিছু? কোরানের আয়াতের প্রকৃত অর্থ বুঝতে আমাদেরকে যেতে হয় প্রেক্ষাপটে। তো দেখা যাক, উক্ত সুরা বাকারা ২: ২১৭ নং আয়াতের প্রেক্ষাপটটা কি। ইবনে কাসিরের তাফসির থেকে সেই প্রেক্ষাপটটা সংক্ষেপে নিম্নরূপ :

মুহাম্মদ আটজন সাহাবিকে পাঠান মক্কা ও তায়েফের মাঝে নাখলা নামক স্থানে। আর তাদেরকে বলা হলো, সে স্থানে যেসব বানিজ্য কাফেলা যাতায়াত করবে, তাদের ওপর নজর রাখতে। যথারীতি তারা সেখানে পৌছাল আর বানিজ্য কাফেলার জন্যে ওৎ পেতে থাকল। এক সময় একটা বানিজ্য কাফেলা আসল, আসা মাত্রই সেই আটজন সাহাবী তাদের ওপর আক্রমন করল। দুইজন ব্যবসায়ীকে সেখানে হত্যা করল, আর দুইজনকে বন্দি করল, তারপর লুন্ঠনকৃত মালামাল সহ বন্দিদেরকে নিয়ে মুহাম্মদের কাছে হাজির হলো এবং তারা মুহাম্মদকে তার ভাগ হিসাবে পাঁচ ভাগের এক ভাগ উপহার দিল। কিন্তু ঘটনাচক্রে সেই আক্রমনটা ঘটেছিল সম্মানিত চার মাসের একটি রজবের প্রথম দিকে। সেই সময় আরবে , মুহাররম, রজব, যিলকদ ও যিল হজ্জ- এই চারমাসে কেউ কারও বিরুদ্ধে যুদ্ধ করত না। তারা দিনের হেরফেরে সেটা বুঝতে পারে নি যে রজবের চাঁদ উদিত হয়ে গেছিল। সাহাবীদের এই কান্ডে মক্কার লোকজন এর তীব্র সমালোচনা করে বলতে লাগল, মুহাম্মদ এমন কি পবিত্র মাসের বিধানও মানে না। তাই মুহাম্মদ সেই উপহার গ্রহন করতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করলেন। কিন্তু বেশীক্ষন যায় নি, এর মধ্যেই মুহাম্মদ উপরের সুরা বাকারা -২: ২১৭ নং আয়াত নাজিল করে উক্ত আক্রমনকে বৈধ ঘোষনা করেন, উপহার সামগ্রী গ্রহন করেন, এবং বন্দি দুইজনের বিনিময়ে অর্থ গ্রহন করে তাদেরকে মুক্তি দেন।

(সুত্র: পৃষ্ঠা নং - ৫৫৫-৫৬০,১ম খন্ড, তাফসির ইবনে কাসির, প্রকাশক: তাফসির পাবলিকেশন কমিটি, সাইট: https://ia801203.us.archive.org/27/items/kasir/Tafseer-Ibn-Kathir-01.pdf)

এখন পাঠকের কাছে প্রশ্ন, কোরানের আয়াতে যে "যুদ্ধ" শব্দটি ব্যবহৃত হলো, সেটা কি আসলে যুদ্ধ, নাকি ডাকাতি হবে? আর মুহাম্মদ যেহেতু সেই সাহাবী দলটাকে বানিজ্য কাফেলা ডাকাতি করতে পাঠিয়েছিলেন, তাহলে মুহাম্মদকে ডাকাত সর্দার বলাটা কি অযৌক্তিক হবে? বিশেষ করে মুহাম্মদ নিজে যখন দাবী করছেন, তার চাইতে শ্রেষ্ট আদর্শ পুরুষ দুনিয়াতে আর নেই, তখন কি তাকে ডাকাত সর্দার বলাটা ইসলামকে অবমাননা করার সামিল হবে?

ঘটনাটি অবিশ্বাস্য এই কারনে যে , মক্কা থেকে মদিনা যে দিকে, মক্কার উত্তরে মদিনা, আর নাখলা নামক স্থানটা তার ঠিক উল্টো দিকে দক্ষিনে। তার অর্থ বার বার ডাকাতি করতে পাঠিয়েও যখন মুহাম্মদ ব্যর্থ হচ্ছিলেন, তখন অনেকটা বেপরোয়াভাবে সেই দলটাকে মদিনা থেকে মক্কা পার হয়ে, নাখলাতে পাঠান, যা ছিল অনেকটাই আত্মঘাতী মিশনের সামিল। তাফসিরে বলা হয়েছে, সেই দলটা যখন মক্কা পার হচ্ছিল তখন তারা তাদের মাথা মুন্ডন করে নেয় , মক্কাবাসীকে এটা বোঝাতে যে তারা মক্কায় হজ্জ করতে গেছে। সুতরাং এ থেকে সেই দু:সাহসী ডাকাতির বেপরোয়াভাবটা বোঝা যায়। গুগল সার্চ করে, যে কেউ সৌদি আরবের ম্যাপটা বের করলেই বিষয়টার প্রকৃত চিত্রটা বুঝতে পারবেন। সেটা পাওয়া যাবে এখানে -https://www.lonelyplanet.com/maps/middle-east/saudi-arabia/

Comments

রূপালীনা এর ছবি
 

ধন্যবাদ কিড ম্যাক্স, পড়ার জন্য

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

রূপালীনা
রূপালীনা এর ছবি
Offline
Last seen: 1 দিন 10 ঘন্টা ago
Joined: বৃহস্পতিবার, আগস্ট 3, 2017 - 3:01পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর