নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 6 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • বিকাশ দাস বাপ্পী
  • মুফতি মাসুদ
  • নরসুন্দর মানুষ
  • সৈকত সমুদ্র
  • রাজর্ষি ব্যনার্জী
  • সাইয়িদ রফিকুল হক

নতুন যাত্রী

  • আদি মানব
  • নগরবালক
  • মানিকুজ্জামান
  • একরামুল হক
  • আব্দুর রহমান ইমন
  • ইমরান হোসেন মনা
  • আবু উষা
  • জনৈক জুম্ম
  • ফরিদ আলম
  • নিহত নক্ষত্র

আপনি এখানে

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীর ২৫ বছরঃ যৌন বিকৃতি বন্ধ করতে হবে



১৯৯২ প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যুদ্ধপরবর্তী রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা নিয়ন্ত্রণে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছে। এই নীল হেলমেট বাহিনীতে এই মুহুর্তে সবচেয়ে বেশি সদস্য আছে বাংলাদেশের; এরপর পাকিস্তান, ভারত, শ্রীলংকাসহ বিভিন্ন দেশ। সাধারণত সামরিক বাহিনী ও পুলিশের পুরুষ সদস্যরা নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য এই বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হয়। নারী সদস্যদের সংখ্যা নগন্য। বাজারে মিশনে যাওয়াকে লাভজনক সুযোগ হিসেবে দেখা হয়। তবে ঝুঁকিও আছে। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেক শান্তিরক্ষী সদস্য জীবন হারায় বা অঙ্গহানি ঘটে। সেক্ষেত্রে বড় অংকের ক্ষতিপূরণ দেয়া হয়।

যাই হোক। আজকের আলোচনার বিষয় শান্তিরক্ষীদের দ্বারা সংঘটিত ধর্ষণ ও অন্যান্য যৌন অপরাধ। গত ২৫ বছরে সফলতার পাল্লা ভারী হলেও কিছু যৌন হয়রানি ও নির্যাতনের ঘটনা পুরো বাহিনীর মুখে চুনকালি দিয়েছে, বিশেষ করে যখন দেখা গেলো ভুক্তভোগীদের বেশিরভাগই শিশু।

এসব ঘটনার বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দোষীদের বিচার হয়নি এবং নানা সময় জাতিসংঘের নমনীয়তা বা অক্ষমতা প্রতিষ্ঠানটির কার্যকারিতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। কিছু ঘটনায় জাতিসংঘ নিজেরাই তদন্ত করে শাস্তি দেয়, আবার কোন কোন ক্ষেত্রে দোষী সদস্যের দেশের কর্তৃপক্ষকে তদন্ত করতে বলা হয়।

পরিস্থিতি কি ভয়াবহ?
এ বছরের এপ্রিলে বার্তা সংস্থা এপি’র প্রতিবেদনে বলা হয় যে, ২০০৪ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শান্তিরক্ষী বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে কমপক্ষে ২,০০০ যৌন নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে নীচের লিংকে ক্লিক করুন:
https://www.npr.org/2017/04/13/523804480/ap-report-documents-child-sexua...

এসবের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঘটনা ঘটেছে হাইতিতে, যেখানে ২০০৪-০৭ সালে শ্রীলংকার কিছু শান্তিরক্ষী সদস্য নয়জন শিশুকে দিয়ে একটি পতিতাপল্লী চালাতো। এছাড়া বাংলাদেশ, ব্রাজিল, জর্ডান, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান ও উরুগুয়ের শান্তিরক্ষী সদস্যদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ এসেছে।

এসব অভিযোগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিল যৌনকর্মের বিনিময়ে খাদ্য ও অর্থ সাহায্য দেয়া। ধর্ষণের অনেক ঘটনাই ঘটেছিল শান্তিরক্ষী বাহিনীর নিজস্ব যানবাহনে। সর্বশেষ অভিযোগ এসেছে অক্টোবরে। জাতিসংঘ জানিয়েছে মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে একজন শান্তিরক্ষীর বিরুদ্ধে শিশুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এখানে দেখুন: http://www.un.org/apps/news/story.asp?NewsID=57865#.Wh4kQEqWbIU

পরিস্থিতি এতোই ভয়াবহ পর্যায়ে গেছে যে, গতমাসে ভ্যানকুভারে শান্তিরক্ষীদের এক সম্মেলনে হলিউড অভিনেত্রী এঞ্জেলিনা জোলি যৌন নির্যাতনের পরিসমাপ্তি ঘটাতে জোরালো পদক্ষেপ নেয়ার তাগিদ দিয়েছেন। তার মতে রাজনৈতিক স্বদিচ্ছা থাকলে এসব ঘটনা বন্ধ করা সম্ভব।

এ বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত কমপক্ষে ৫৫ জন শান্তিরক্ষীর বিরুদ্ধে বেসামরিক নারী ও শিশুদের উপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ২০১৬ সালে মোট ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের ঘটনা ছিল ১৪৫টি। তার আগের বছর ছিল ৯৯টি।

শান্তিরক্ষীদের বিরুদ্ধে প্রথম যৌন নির্যাতনের অভিযোগ পান মোজাম্বিকের সাবেক ফার্স্ট লেডি গ্রাসা মেকেল। বাহিনীটি প্রতিষ্ঠার দুই বছর পরে ১৯৯৪ সালে শিশুদের উপর সশস্ত্র সংঘাতের প্রভাব পর্যালোচনা করতে জাতিসংঘ মেকেলকে নিযুক্ত করে। ১৯৯৬ সালের আগস্টে মেকেল তার প্রতিবেদনে শান্তিরক্ষীদের দ্বারা সংঘটিত যৌন নির্যাতনের ঘটনাগুলো উল্লেখ করেন এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ করে দোষীদের শাস্তির দাবী জানান।

এরপর ২০০১ সালে জানা যায় শান্তিরক্ষীরা গায়না, লাইবেরিয়া ও সিয়েরা লিয়নের উদ্বাস্তুদের উপর যৌন নির্যাতন চালিয়েছিল। ২০০৪ সালে আবারো মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে কর্মরত শান্তিরক্ষীদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির অভিযোগ আসে। এসব ক্ষেত্রে শান্তিরক্ষীরা দুইটা ডিম বা পাঁচ ডলারের বিনিময়ে যৌন সম্পর্ক করতে বাধ্য করতো। ভিকটিমের বেশিরভাগই ছিল এতিম ও নিরক্ষর মেয়েশিশু।

দুই বছর ধরে চলা তদন্তের পর ১৪৪ জন সেনা এবং ১৭ জন পুলিশ সদস্যকে দেশে ফেরত পাঠানো হয় এবং ১৮ জন বেসামরিক জাতিসংঘ কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়।

বাংলাদেশের নাম যতবার এসেছে
আজকাল যৌন নির্যাতনের অভিযোগ আসলে তদন্ত হয় এবং অনেকের বিরুদ্ধেই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়। যেমন ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে জানা যায়, কয়েকজন বাংলাদেশী সেনা সদস্য মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে শিশুদের উপর যৌন নির্যাতন করেছিল এবং সেজন্যে তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হয়। পরে সেনাবাহিনী এসব ঘটনায় তদন্ত শুরু করে।

২০১৫ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে যৌন নির্যাতনের ৮৩টি ঘটনায় ১৭৭ জন শান্তিরক্ষীর বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা হয়। এসবের মধ্যে মাত্র পাঁচটি ঘটনায় বিচার হয়েছে। এর আগে ২০০৭ সালে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে জাতিসংঘ দক্ষিণ সুদান থেকে চার বাংলাদেশী সেনা সদস্যকে ফেরত পাঠায়। তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে বিচার নিশ্চিত করার কথা ছিল বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের। তবে আদৌ কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল কিনা তা জানা যায়নি। তৎকালীন মহাসচিব বান কি মুন বলেছিলেন যৌন নির্যাতন বন্ধে তারা জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করবেন।

যাই হোক, সেরকম কিছু যে তিনি বা তার পরের মহাসচিবরা করতে পারেননি তা তো দেখাই যাচ্ছে।

শেখ হাসিনার জিরো টলারেন্স
গত সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের আগে শান্তিরক্ষীদের এক সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এসব ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, শান্তিরক্ষীদের দ্বারা সংঘটিত যৌন নির্যাতনের ঘটনায় তার সরকার জিরো টলারেন্স নীতিতে বিশ্বাস করে। তিনি মনে করেন যৌন নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুদের ন্যায়বিচার ও পুনর্বাসনের সুযোগ পাওয়ার অধিকার আছে। এরপর তিনি মহাসচিবের উদ্যোগে নেয়া যৌন নির্যাতন বিরোধী তহবিলে এক লক্ষ ডলার দেয়ার ঘোষণা দেন।

শেখ হাসিনা বলেন, অতীতে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের বিরুদ্ধে যে দুটি অভিযোগ এসেছিল সেগুলো কঠোরভাবে সমাধান করা হয়েছে। একজন দোষীকে চাকরিচ্যুত করা হয় এবং কারাদন্ড দেয়া হয়।

কুমিল্লা সেনানিবাসের বেসামরিক কর্মচারীর কন্যা কলেজছাত্রী তনুকে গণধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে গত বছরের ২০শে মার্চ। এখনো এর তদন্ত শেষ করতে পারেনি সিআইডি। বারবার তনুর পরিবারকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই তারা ক্ষান্ত হয়েছেন। কেননা দোষী সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা সিআইডি’র নেই।

পুলিশের বিশেষ তদন্ত দল পিবিআই অবশ্য অনেক আগেই তদন্ত শেষ করেছে। তবে অনুমোদন না পাওয়ায় ফলাফল প্রকাশ করতে পারেনি। এই মামলা নিয়ে আশংকা প্রকাশ করেছিলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা। তিনি বলেছিলেন দেশের বর্তমান আইনে এই মামলার বিচার সম্ভব নয়। “এই যে কুমিল্লায় যে ঘটনা ঘটেছে, এটা অত্যন্ত সায়েন্টিফিক, মডার্ন ওয়েতে তদন্ত করতে হবে। কিন্তু ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দের আইনে এর ইনভেস্টিগেশন কীভাবে করা হবে। নতুন পন্থায় ইনভেস্টিগেশনের চিন্তা-ভাবনা করতে হবে।”
প্রধানমন্ত্রী খুব ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন তার বক্তব্যে। পরদিন তিনি বলেছিলেন, বিদ্যমান আইনেই সম্ভব! “উনি কীভাবে এ মন্তব্য করলেন তা জানি না। তবে আমাদের প্রচলিত আইনেই এ হত্যাকাণ্ডের ন্যায় বিচার করা সম্ভব এবং আমরা সেটাই করবো।”

জনগণ অপেক্ষায় আছে তনু হত্যায় ন্যায়বিচার দেখার আশায়; অপেক্ষায় আছে ক্যাডেট কলেজ ছাত্রী পলিন ও তুবা হত্যা আর আদিবাসী নারী নেত্রী কল্পনা চাকমা অপহরণের ঘটনা সুরাহা হবে। “অপারেশন ক্লিন হার্ট” চলাকালীন সময়ে মানুষ খুন করা সেনা সদস্যরা কেন পার পেয়ে যাবে?

এ বছরের এপ্রিলে রাঙ্গামাটির নানিয়ারচরে আদিবাসী ছাত্রনেতা রমেল চাকমাকে আটক করে সেনা ক্যাম্পে নিয়ে অকথ্য নির্যাতনের কয়েকদিন পর তার মৃত্যু ঘটে। বিচার চাইতে গেলে কর্মীদের গায়ে বুটের লাথি পড়ে, গ্রেপ্তার হয় অনেকেই। দুই মাস পর, ২রা জুন সকালে লংগদুর আদিবাসীদের গ্রামে বাঙালি সেটেলাররা আগুন জ্বালাতে গেলে সেনাবাহিনির সদস্যরা তাদের সহযোগিতা করে।

এরকম তারা সারা বছরই করে। সেটেলারদের উস্কে দিয়ে, আদিবাসী নেতাদের ধরে পকেটে পিস্তল গুঁজে দিয়ে বা ঢাকার বড় পত্রিকার সাংবাদিকদের টাকা দিয়ে মিথ্যা সংবাদ দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে অলিখিত সেনাশাসন বজায় রাখতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

এগুলো নিয়ে কেউ কথা বলবেনা। আবার ঠিকই মায়ানমারের রোহিঙ্গাদের উপর সেদেশের সেনাবাহিনীর নির্যাতনে প্রতিবাদী হবে।

বিচারহীনতার একটা সীমা থাকা দরকার। স্বাধীন বাংলাদেশের জন্মলগ্ন থেকে এ যাবত সেনা সদস্যদের দ্বারা সংঘটিত সব খুনের ঘটনার সমাধান হতে হবে; অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারীদের শাস্তি দিতে হবে। তবেই এদের বেপরোয়া স্বভাব নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

নীল হেলমেট
নীল হেলমেট এর ছবি
Offline
Last seen: কখনোই নয় ago
Joined: রবিবার, ডিসেম্বর 3, 2017 - 6:34অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর