নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 5 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • মুফতি মাসুদ
  • নরসুন্দর মানুষ
  • সৈকত সমুদ্র
  • রাজর্ষি ব্যনার্জী
  • সাইয়িদ রফিকুল হক

নতুন যাত্রী

  • আদি মানব
  • নগরবালক
  • মানিকুজ্জামান
  • একরামুল হক
  • আব্দুর রহমান ইমন
  • ইমরান হোসেন মনা
  • আবু উষা
  • জনৈক জুম্ম
  • ফরিদ আলম
  • নিহত নক্ষত্র

আপনি এখানে

মুহাম্মাদ ও আয়েশার বিয়ে এবং মুমিনদের যুক্তি/গোঁজামিল!


মুহাম্মাদের জীবনে অন্যতম কলঙ্কিত ঘটনা ৬ বছরের আয়েশাকে বিয়ে করা। যে লোক নিজেকে আল্লাহর নবী,বন্ধু হিসেবে দাবি করেছে, তার অনুসারীরা সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ ও নবী বলে দাবি করেছে, তার ৬ বছরের অবুঝ শিশুকে বিয়ে করাটা সাধারণ জ্ঞানে কখনওই সাধারণ মনে হতেই পারে না। তবে এর পক্ষে মুমিনদের যুক্তি/গোঁজামিল হচ্ছে- তৎকালীন আরব সমাজে মেয়েদের খুব অল্প বয়সে বিয়ে দেয়ার রীতি চালু ছিল আর তাদের সংসার শুরু হয় আয়েশার বয়ঃসন্ধিকাল শেষে।শুধু আরব সমাজে না আরও অনেক সমাজেই মেয়েদের অল্প বয়সে বিয়ে দেয়ার রীতি চালু ছিল এবং অনেক সমাজে এখন চালু আছে, কিন্তু সেই সমাজকে বলা হয় পশ্চাদপদ সমাজ! তারপর ও যদি আমরা ধরে নেই যে, যেহেতু ততকালিন সমাজে ৬/৭ বছরের মেয়েদের রিতি ছালু ছিল কাজেই মুহাম্মাদ (সাধারন মানুষ হিশেবে) আয়েশা কে বিয়ে করে ভুল করেনি কিন্তু তখন তার নবুওয়ত প্রাপ্তি নিয়ে প্রশ্ন থাকে। কারন নবী হচ্ছেন সেইজন যিনি একজন অনুপ্রানিত শিক্ষক বা ঈশ্বরের ইচ্ছার প্রচারক হিসাবে গণ্য এবং ভবিষ্যতে কি ঘটবে তার ভবিষ্যতবাণী করতে পারেন। কিন্তু মুহাম্মাদ আয়েশাকে বিয়ের করার সময় পরিষ্কারভাবেই ভবিষ্যতবাণী করতে ব্যর্থ হয়েছেন।

তারপর আসে আয়েশার বিয়েতে সম্মতি! ইসলামি বিভিন্ন মাধ্যম থেকে পাওয়া যায় যে আয়েশার বিয়েতে সম্মতি ছিল, কিন্তু কিভাবে? কারন আয়েশাকে বিয়ের ব্যপারে জিজ্ঞেস করা হলে সে মৌন ছিল এবং সর্বশ্রেষ্ঠ মানব ও নবী সেটাকে বিয়েতে সম্মতি হিসেবে ধরে নিয়েছিল! কতটা বর্বর, অসভ্য মানুষের পক্ষে এটা ধরে নেয়া সম্ভব? ৬ বসরের একটা বাচ্চা কতটা সমর্থ হতে পারে বিয়ের মত একটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যপারে সিধান্ত দেয়ার বা বোঝার?

আরও দাবি করা হয় আয়েশা তার বৈবাহিক সম্পর্কে সুখী ছিল এবং তার কোন অভিযোগ ছিল না। কিন্তু আসলেই কি আয়েশা মুহাম্মাদের সাথে তার হারেমে সুখি ছিল ? নিম্নক্ত বুখারি হাদিস গুলি কিন্তু সেরকম কিছু প্রকাশ করে না! সহিহ বুখারি ৭:৬২:১৪৫ এ উল্লেখ, ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু বর্ণনা করেন যে, উমর হাফসাতে প্রবেশ করেন এবং বলেন, "হে আমার কন্যা! তার জন্য আল্লাহর রাসূলের ভালোবাসার কারণে তার সৌন্দর্যের প্রতি গর্বিত ব্যক্তিদের আচরণে বিভ্রান্ত হবেন না।" 'তার' দ্বারা তিনি আয়েশাকে বোঝান। ওমর বললেন, "তারপর আমি আল্লাহর রাসূলকে বললাম এবং তিনি হেসেছেন (শুনেছেন)"। উমর যিনি ইসলামের ২য় খালিফা ছিলেন সহীহ হাদিসের "মুমিনদের নিখুঁত মাতা" সম্পর্কে খারাপ আচরন সম্পর্কে সাক্ষ্য দিয়েছেন এবং তার কন্যাকে তার দ্বারা বিভ্রান্ত না হতে সতর্ক করে দিয়েছেন। ইসলামী সূত্রগুলিও আমাদের আর বলে যে, মুহাম্মদের হেরেমের মধ্যে অনেক বিভক্তি ছিল। স্ত্রীরা দুই ভাগে বিভক্ত ছিল , যার মধ্যে এক পক্ষ ছিল আয়েশার নিয়ন্ত্রণাধীন।সহিহ বুখারি ৩:৪৭:৭৫৫ এ উল্লেখ " আয়েশা থেকে উরওয়া বর্ণনা করেছেনঃ আল্লাহর রাসূলের স্ত্রী দুটি গোষ্ঠীর মধ্যে বিভক্ত ছিলেন। এক দলে 'আয়েশা, হাফসা, সাফিয়ারিয়া ও সাউদ; এবং অন্য দলটি উম্মে সালামা ও আল্লাহর রসূলের অন্যান্য স্ত্রীরা অন্তর্ভুক্ত ছিল"। এছারাও মুহাম্মাদের একের পর এক বিয়ে করা নিয়েও আয়েশা অসুখি ছিলেন, মুহাম্মাদ যখন যায়নাব বিন্তে জাহশকে বিয়ে করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন তখন আয়েশা এত মারাত্তকভাবে বিস্ফোরিত হয়ে পরেন যে মুহাম্মাদের আল্লাহর নতুন আয়াত নাজিল করতে হয়।আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত (সহিহ বুখারি ৬:৬০:৩১১) তিনি বলেন, "আমি সেই মহিলাগুলির দিকে তাকাতাম, যারা তাদেরকে আল্লাহর নবির কাছে তাদের নিজেদেরকে হস্তান্তর করেছে এবং বলতাম একজন ভদ্রমহিলা কিভাবে তাকে একজন ছেলের হাতে নিজেকে তুলে দিতে পারে ? কিন্তু যখন আল্লাহ তা'আলা নাযিল করলেনঃ আপনি তাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা দূরে রাখতে পারেন এবং যাকে ইচ্ছা কাছে রাখতে পারেন। আপনি যাকে দূরে রেখেছেন, তাকে কামনা করলে তাতে আপনার কোন দোষ নেই (৩৩:৫১)।আমি (নবীকে) বললাম, "আমি অনুভব করছি যে আপনার প্রভু খুব দ্রুত আপনার সমস্ত ইচ্ছা এবং আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ করে দেন"। আসল সত্য এই যে আয়েশা কখনই মুহাম্মাদের সাথে সুখি ছিলেন না এবং তাদের বিবাহ স্বর্গে তৈরি একটি ম্যাচ(মানানসই) হতে অনেক দূরে ছিল আর এর প্রমান আমরা দেখি নিম্নে উল্লেখিত এই সহিহ হাদিস থেকে যেখানে আয়েশা স্মরণ করেন মুহাম্মদের মুখমুখি হতে তিনি কতখানি অপছন্দ করতেন।সহিহ বুখারি ১:৯:৪৯০, আয়েশা হতে বর্ণিত, " আমি দেখেছি নবিকে প্রার্থনা করতে যখন আমি তার এবং কিব্লার মাঝে শুয়ে থাকতাম আর যখনি আমার কিছু দরকার হত তার দিকে না তাকিয়েই আমি চলে যেতাম কারন তার মুখমুখি হতে আমি অপছন্দ করতাম"। আয়েশা মুহাম্মাদের সাথে এত অসুখি ছিলেন যে একবার তিনি মুহাম্মাদের বিরুদ্ধে চক্রান্তেও লিপ্ত হন এবং কিছু ব্যাপ্তিতে এই চক্রান্তকে ইসলামের বিরুদ্ধেও ধরা যায়। সহিহ বুখারি ৬:৬০:৪৩৬ ইবনে আব্বাস হতে বর্ণিত, " আমি উমরকে জিজ্ঞেশ করতে চাইলাম এবং বললাম, " কারা সেই মহিলাগন যারা একে অপরকে সাহায্য করছে নবি মুহাম্মাদের বিরুদ্ধে? আমার কথা শেষ করার আগেই সে বললেন, " তারা হচ্ছেন আয়েশা এবং হাফসা"। কাজেই দেখা যাচ্ছে আয়েশা মুহাম্মাদকে অপছন্দই করতেন না তার বিরুদ্ধে চক্রান্তেও তিনি লিপ্ত ছিলেন, আর মুহাম্মাদ নতুন নতুন আয়াত নামিয়ে সেই সকল সমস্যা সমাধান করতেন। এই আয়াত গুলি আমরা খুজে পাই কোরআনের আত-তাহরিম অধ্যায়।

মুহাম্মাদের অনুসারিরা যতই চেষ্টা করুক তাকে সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ ও নবী হিশেবে তুলে ধরতে তাতে তেমন কিছু সুবিধা হবে বলে আমি মনে করি না, যেহেতু ইতিহাস সবসময়ই সাক্ষী দিবে তাক একজন যুদ্ধবাজ, যৌন নিপীড়নকারী ও ভণ্ড নবী হিশেবে।

Comments

বেহুলার ভেলা এর ছবি
 

সকল ধর্মই কিছু কুসংস্কারের সমষ্টি।

 
পার্থিব এর ছবি
 

মা আয়েশা রা নিয়ে মিথ্যা আর অপপ্রচার চালাবার আগে তার জীবনী একবার ভাল করে পড়েই দেখুন না। নবী মুহাম্মদ সা এর মৃত্যুর পর ইসলাম প্রচারে সবচেয়ে অগ্রনী ভূমিকা রেখেছেন।

এখানে পড়ুন-
http://shodalap.org/rainbow032/23528/

 
মুনির ভূইয়া এর ছবি
 

নবী মুহাম্মদ (সাঃ) তিনি অপছন্দ করতেন! অথচ নবীর মৃত্যুর পর তিনিই উনার আদর্শ তথা ইসলাম প্রচারে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছিলেন। কুৎসা রটনাকারিদের যুক্তি অপূর্ব
....

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

এম এম আর সজীব
এম এম আর সজীব এর ছবি
Offline
Last seen: 1 week 4 দিন ago
Joined: সোমবার, ডিসেম্বর 19, 2016 - 8:34পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর