নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 7 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • কফিল উদ্দিন মোহাম্মদ
  • পাগলা নদীর মাঝি
  • নুর নবী দুলাল
  • রাজর্ষি ব্যনার্জী
  • আসিফ মহিউদ্দীন
  • কান্ডারী হুশিয়ার
  • সাইয়িদ রফিকুল হক

নতুন যাত্রী

  • মিঠুন সিকদার শুভম
  • এম এম এইচ ভূঁইয়া
  • খাঁচা বন্দি পাখি
  • প্রসেনজিৎ কোনার
  • পৃথিবীর নাগরিক
  • এস এম এইচ রহমান
  • শুভম সরকার
  • আব্রাহাম তামিম
  • মোঃ মনজুরুল ইসলাম
  • এলিজা আকবর

আপনি এখানে

প্রাগৈতিহাসিক সাম্প্রদায়িক মনোভাব, ধর্মঘেষা শিক্ষাব্যবস্থা এবং মধ্যপন্থি মেজরিটি সংখ্যালঘু নির্যাতনের প্রধান কারণ।


যে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় সাম্প্রদায়িক উস্কানিমুলক প্রশ্ন করা হয়, সেই দেশে একটা হিন্দুপল্লিতে মুসলমান কর্তৃক আগুন দেয়াকে বড় কোন অঘটন হিসেবে না ভাবলেও চলবে! অন্তত আমি ভাবি না। রংপুরের সংখ্যালঘু নির্যাতনের মানসিকতা এ দেশের মুসলমানদর মধ্যে একদিনে তৈরী হয়নি। বহুকাল আগেই এই ধর্মীয় সন্ত্রাসের বীজ রোপিত হয়েছিলো এ দেশে।

ঔপনিবেশিক এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাসের কারণে এই ধর্ম সন্ত্রাসের বীজ অনেক আগেই বাংলার মাটিতে বপন করা ছিল। সেটা এখন মহীরুহে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশের রক্তক্ষয়ী স্বাধীনতা যুদ্ধ প্রমাণ করেছে দ্বিজাতিতত্ত্বের কারণে দেশ ভাগ হওয়াটা ছিল একটি ভুল সিদ্ধান্ত। ভাষা, সংস্কৃতি এবং ইতিহাসই জাতিসত্তার মূল ভিত্তি। বাঙালির প্রথম পরিচয় সে একজন বাঙালি। স্বধর্মীয় পাকিস্তানিদেরকে আপন ভাবা আর অন্য ধর্মাবলম্বী বাঙ্গালীকে পরজাতি শত্রু মনে করাটা এক ধরণের বিভ্রান্তিকর ধারণা এবং সাম্প্রদায়িক মানসিকতার চর্চা ছাড়া আর কিছুই নয়। শুধু মাত্র ধর্মীয় সংস্কৃতির মিল থাকার কারনে পাকিস্তানের সাথে বাঙালি রাষ্ট্র গঠন করেই বুঝেছিলো, ধর্মই একটা জাতির সব থেকে বড় পরিচয় নয়। এমন উদ্ভট ভাবনার খেসারত পাকিস্তানি মুসলমানদের দ্বারা ১৯৪৭ থেকে ৭১ পর্যন্ত বাঙালি দিয়েছিলো লক্ষ প্রাণের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে।

এ তো গেলো সাম্প্রদায়িক বিষ বাষ্পের গোড়ার কথা। এখন স্বাধীনতার প্রায় অর্ধ শতাব্দি পরেও কেন আমরা এই ধর্মীয় সন্ত্রাসের বৃত্ত থেকে বের হতে পারছি না? এই প্রশ্ন খুব স্বাভাবিক ভাবেই উত্থিত হয়। আমি মনে করি এর জন্য অনেকাংশেই দায়ি আমাদের গতানুগতিক শিক্ষা ব্যাবস্থা।

পৃথিবীর ক্লাসিকাল এবং পোস্ট-কলোনিয়াল চিন্তাবিদদের দর্শন এবং তাঁদের চিন্তার সাথে পরিচয় থাকাটা সুশিক্ষিত নাগরিক তৈরির জন্য অত্যন্ত জরুরী। অথচ আমাদের দেশে এখনকার শিক্ষা ব্যবস্থা লালসালু, লালনের দর্শন, বেগম রোকেয়া, নূরজাহান বেগম, ইলা মিত্র, প্রীতিলতা, সক্রেটিস, বার্ট্রান্ড রাসেল, মার্ক্স, চে গুয়াভারা, ফিদেল কাস্ত্রো, এঙ্গেলস, ম্যাক্স ওয়েবার, মিশেল ফুকো, শরৎচন্দ্র, জীবনানন্দ, রবীন্দ্রনাথের মানব ও প্রকৃতি প্রেমের সাথে পরিচয় ঘটাচ্ছে না। বরং গতানুগতিক শিক্ষা ব্যাবস্থা আমাদের শিখাচ্ছে- "তোমার ধর্মই সর্বোৎকৃষ্ট। বাকি সব ধর্মের মানুষ নাসেরা, বেদ্বীন। তাদের কতল না করলে স্বর্গের পথ প্রসস্ত হবে না। মত্যুর আগে যদি ধর্মের পথে জেহাদ না করলে, যদি অমুসলিম হত্যা করার মানসিকতা তৈরী না হলো, তবে তুমি মোনাফেক হয়ে দুনিয়া ছাড়লে"। আমরা মোনাফেকের খাতায় নাম লিখাতে চাই না, কারন ধর্মে মোনাফিকির পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ! অন্য দিকে জেহাদির জন্য আছে ৭২ খানা অনন্ত যৌবনবতী হুর বা যৌন সঙ্গী। তাই আমরা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়িতে আগুন দিই তাদের পুড়িয়ে হত্যা করার মানসে! কারন যেভাবেই হোক আমাদের ৭২টি হুর না হলে চলবে না!

আমাদের দেশে তরুন সমাজের চোখে ধর্ম ভুল চেহারায় আবিভর্ব হওয়ার আরেকটা বড় কারণ ক্রস-কালচারাল পরিবেশে মেশার অভিজ্ঞতার অভাব। শুধুমাত্র ইন্টারনেট-এ ডিজিটাল মাল্টি কালচারাল ইসলামিক জীবন দেখে তরুণরা গোলক ধাঁধায় পড়ে গেছে। মৌলবাদী ধার্মিক, মডারেট ধার্মিক, সাম্যবাদী ধার্মিকদের মত ও আদর্শের ভাষা আমাদের সাধারণ জনতা বোঝে না। মানুষ যদি অন্তরাত্মাকে না চেনে, অন্য ধর্মকে সম্মান করতে না শিখে নিজেকে 'সর্বশ্রেষ্ঠ' প্রমাণের জন্য ব্যস্ত থাকে, তাহলে সমাজে ধর্মীয় সহিষ্ণুতা গড়ে উঠবে না। এ তো খুব স্বাভাবিক কথা!

সাম্প্রদায়িকতা, সংখ্যালঘু নির্যাতন কিংবা ধর্ম সন্ত্রাস যাই বলি না কেন, এর বড় একটা দায় আমাদের মধ্যপন্থি জনগনের। "সংখ্যলঘু নির্যাতনে আমার সমর্থন নেই" বলে এই মেজরিটি একদিকে যেমন নিজের দায় এড়াচ্ছে, অন্যদিকে নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ না করে নিজের ইমানি জজবা অটুট রাখছে! নিঃশ্চুপ থেকে এরা নির্যাতনকারীদের হাতকে আরো বেশি শক্তিশালী করছে। এদেরকে জাগিয়ে তুলতে হবে। মেজরিটি জনগণের নীরবতা তাদের অজান্তেই পরোক্ষভাবে এই সহিংস ধর্মীয় সন্ত্রাস টিকিয়ে রাখার পক্ষে ইন্ধন যোগায়।

Comments

অনিন্দ্য এর ছবি
 

আপনার লিখা সব সময় মনযোগ দিয়ে পড়ি। স্টিশনের লেখা এখানে থাকাই ভালো। আপনার ফেসবুকের পাঠকরা এখনো ব্লগ পড়ার ম্যাচুরিটি অর্জন করেনি। নিজের কথা ব্লগে লিখুন। এখানে যারা বিতর্ক যারা করবে তারাও একটা কোয়ালিটি রাখে, কিন্তু আপনার ফেসবুকে আপনার আশেপাশে ছাগলের বাম্পার ফলন। সেখানে লতাপাতা ছাড়া আর কিছুই খাবে না।
তাই ব্লগেই লিখে যান। আমরা পড়ে জ্ঞান লাভ করি।

অনিন্দ্য

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

রহমান বর্ণিল
রহমান বর্ণিল এর ছবি
Offline
Last seen: 6 ঘন্টা 35 min ago
Joined: রবিবার, অক্টোবর 22, 2017 - 9:43অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর