নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 6 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • পাগলা নদীর মাঝি
  • নুর নবী দুলাল
  • রাজর্ষি ব্যনার্জী
  • আসিফ মহিউদ্দীন
  • কান্ডারী হুশিয়ার
  • সাইয়িদ রফিকুল হক

নতুন যাত্রী

  • মিঠুন সিকদার শুভম
  • এম এম এইচ ভূঁইয়া
  • খাঁচা বন্দি পাখি
  • প্রসেনজিৎ কোনার
  • পৃথিবীর নাগরিক
  • এস এম এইচ রহমান
  • শুভম সরকার
  • আব্রাহাম তামিম
  • মোঃ মনজুরুল ইসলাম
  • এলিজা আকবর

আপনি এখানে

বিশ্বাসের ভাইরাস - পর্ব তিন! নারী বলেই কি মেয়েরা অবহেলিত?


ফুটন্ত গোলাপের মত একটি শিশুর আগমন ঘটে এই পৃথিবীতে। আস্তে আস্তে বাড়তে থাকে শিশুটির শারীরিক গঠন। পৃথিবীর সব ধরনের জীব জন্তু পশুপাখি একই নিয়মে বেড়ে ওঠে। মানুষও এটার বিপরীত নয়। বিবর্তনের কারণে আজকে মানুষের এই জায়গায় উপস্থিতি। মানুষের বিবর্তন হয়েছে দীর্ঘ সময় ধরে, আর এখনও হচ্ছে।

পৃথিবীর সকল জীবের উৎপত্তি পানি থেকে। কিন্তু ধর্মগ্রন্থ গুলোতে এই বিষয়ে মিথ্যে কথা লেখা হয়েছে। আর মুসলমানরা মনে করেন মানুষের উৎপত্তি হয়েছে মাটি থেকে। আদম আর হাওয়া দুইজন মানুষকে সৃষ্টিকর্তা প্রথমে তৈরি করেছেন! এরপর তাদেরকে রাখা হয়েছে স্বর্গ নামের এক জায়গায়। আর এই বিষয়টি মুসলমানরা তাদের হৃদয়ে লালন করে যাচ্ছে যুগের পর যুগ ধরে। মুসলমানদের জন্য এই বিষয়ে বিতর্ক করার সুযোগ নেই। শুধু মুসলমান নয় সকল প্রকার ধর্ম একই পন্থা অবলম্বন করে চলেছে।

তবে বিজ্ঞান বলে ভিন্ন কথা। মানুষ স্বর্গ নামের কোন জায়গা থেকে আসেনি। আর বিজ্ঞানের এই তথ্যটি কে ধর্ম-গুরু আর মোল্লারা হাস্যকর বলে উড়িয়ে দেয়। তাদের কাছে সৃষ্টিকর্তার পাঠানো এক ভন্ডের কথাই সত্য বলে মনে হয়। আসল সত্য হলো সৃষ্টিকর্তা বলে কেউ নেই। আর যারা সৃষ্টিকর্তার নাম বিক্রি করে চলেছেন তাঁরা মিথ্যাবাদী প্রতারক। আজকের বিজ্ঞান এই বিষয়ে হাজার প্রমাণ উপস্থাপন করেছে। এই বিষয়গুলো ধার্মিকদের কখনোই চোখে পড়ে না।

ছোট্ট একটি শিশুর এই পৃথিবীতে আগমনের পিছনে তার বাবা মায়ের হাত থাকে। এখানে সৃষ্টিকর্তা বা অন্য কোনো শক্তির হাত নেই। এটা দিনের আলোর মত ধ্রুবসত্য।

সন্তান কি ছেলে হবে নাকি মেয়ে হবে সেই বিষয়ে আগে থেকে তেমন কোন ধারণা দেওয়া যায় না। কিন্তু আজকের বিজ্ঞান সেখানেও সফল। প্রযুক্তির বদৌলতে আমরা আগে থেকেই জানতে পারি গর্ভের সন্তান ছেলে হবে - নাকি মেয়ে হবে- নাকি অন্য কোন লিঙ্গের হবে।

তবে আমাদের দেশের মানুষ মেয়েদেরকে ছোট করে দেখে। মেয়ে সন্তান জন্ম দেওয়াকে অনেক মানুষই অভিশাপের মত মনে করে। কিন্তু মূল কথা হলো মানব সভ্যতার জন্যে ছেলে এবং মেয়ে উভয়েই সমান উপযোগী। যারা মনে করেন ছেলে সন্তান অধিক গুরুত্বপূর্ণ তারা কি কখনো এটা ভেবে দেখেছেন? যদি মেয়ে সন্তানের জন্মের হার কমে যায়, অথবা বন্ধ হয়ে যায়, আহলে আগামী ১০০ বছর মধ্যে পৃথিবীতে মানুষ নামের কোন প্রজাতির অস্তিত্ব থাকবে না। তাই ছেলে এবং মেয়ে দুটোই আমাদের জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ।

আর আমাদের সমস্যাটা সেখানেই। আমাদের সমাজের মেয়েদের তেমন গুরুত্ব দেওয়া হয় না। ছেলেদের যেমন সম্মান আর মর্যাদা দেওয়া হয়। মেয়েদের বেলায় সেটা একেবারেই ভিন্ন। জন্মের পর থেকেই শুরু হয়ে যায় মেয়েদের উপর অন্যায় আর অমানুষিক নির্যাতন। অনেক সময় দেখা যায় মেয়ে সন্তান জন্ম দেওয়ার কারনে স্বামীর হাতে স্ত্রীকে নির্যাতিত হতে হয় প্রতিনিয়ত।

আপনাদের কে একটা সত্য ঘটনা বলি। আমাদের বাড়ির পাশে আয়েশা নামের একটা মেয়ে থাকতো। মেয়েটা আমাদের রক্তের সম্পর্কে কেওনা। তবে তাদের পরিবারের সাথে আমাদের পরিবারের ভালো একটা সম্পর্ক ছিলো। সেই সুবাদে মোটামুটি সবসময় তাদের বাড়িতে আসা যাওয়া করতাম। আর একটা বিষয় খুব আগ্রহের সহিত লক্ষ্য করতাম। বিভিন্ন জায়গা থেকে আয়েশার বাবা আয়েশার জন্য পাত্র নিয়ে আসতেন।

এমনকি ডজনখানেক ছেলে আয়েশাকে দেখে ফেলেছে তবে কোনোভাবেই আয়েশার বিয়ে হচ্ছে না। সব সময় খেয়াল করতাম মেয়েটা হতাশ হয়ে পুকুর পাড়ে বসে থাকতো। আয়েশা দেখতে একটু কালো। আর পরিবারের দারিদ্রতার কারণে ভালোভাবে পড়া লেখা করতে পারেনি। তাই হয়তো একের পর এক বিয়েগুলা ভেঙ্গে যাচ্ছে।

একদিন আমার মা আমাকে ডেকে বললো আয়েশাকে দেখতে আজকে একটা ছেলে এসেছে। আজকে হয়তোবা আয়েশার বিয়ে হয়ে যাবে। এই বিষয়টা শুনে আমার কাছে খুবই ভালো লাগলো। আর তাই কৌতূহলবশত পাত্রটাকে দেখতে চলে গেলাম আয়েশাদের বাড়িতে। পুরো বাড়ি মেহমানে ভর্তি, আয়শাকে দেখতে ছেলের সাথে ১০-১২ জন লোক এসেছে।

আমি বাড়ির উঠানে দাঁড়িয়ে ছিলাম অনেকক্ষণ। এমন সময় আয়েশার খালা এসে আমাকে বললো ঘরের ভিতরে গিয়ে বসতে। আমি খালাকে জিজ্ঞেস করলাম আয়েশাকে কি তাদের পছন্দ হয়েছে? খালা বললো না তারা আয়েশাকে এখনো দেখেনি।

তারপর আমি ঘরের মধ্যে গিয়ে বসলাম। পাত্র নিজেও ঘরের মধ্যে বসে আছে। তখন আমি একটা বিষয় খুব আগ্রহের সঙ্গে খেয়াল করলাম। ছেলের সাথে যারা এসেছে তারা সবাই ছেলের প্রশংসায় মশগুল। ছেলে শিক্ষিত - ছেলে কর্মঠ - ছেলে দেখতে স্মার্ট - ছেলের কোন বাজে অভ্যেস নেই - ছেলে কোন বাজে বন্ধুদের সাথে ঘুরাফিরা করেনা - ব্লা' ব্লা' ব্লা। তাদের এইসব প্রশংসা শুনে আমার যেটা মনে হয়েছে তা হলো ছেলেটা হয়তো মানসিকভাবে অসুস্থ - হয়তোবা সঠিক ভাবে কথাও বলতে পারেনা। যেটাকে আমরা সাধারণত অ্যাব-নরমাল বলে থাকি।

তবে ছেলেটার দিকে লক্ষ্য করে আমি যেটা বুঝতে পারলাম। ছেলেটা দুইবেলা ভাতের বদলে মনে হয় মদ আর গাঞ্জা খায়। দেখতেও তেমন সুন্দর না। চেহারার মধ্যে কেমনযেন একধরনের চিটিং চিটিং বাব।

অনেকক্ষণ অপেক্ষা করার পর আয়েশার খালা আয়েশাকে সুন্দরভাবে সাজিয়ে গুজিয়ে মেহমানদের সামনে হাজির করলেন। আর সঙ্গে সঙ্গে মেহমানরা সবাই আয়েশার দিকে ড্যাবড্যাব করে তাঁকিয়ে থাকতে লাগলো যেন আয়েশাকে তারা চিবিয়ে খেয়ে ফেলবে। একের পর এক সবাই বিভিন্ন প্রশ্ন করতে থাকলো আয়েশাকে। আর আয়েশাও গম্ভীর গলায় সেসব প্রশ্নের উত্তর দিতে লাগলো।

আগ্রহের সঙ্গে তাদের আলোচনা লক্ষ্য করলাম। তাদের আলোচনা শুনে এটা বুঝতে আমার কষ্ট হয়নি যে তারা কেউই প্রকৃত মানুষ হতে পারেনি। তাদের কথাবার্তা চিন্তাধারা খুবই নিম্নমানের। মহিলাদের ব্যাপারে তারা নোংরা নোংরা কথাবার্তা বলতেছে। একজনকে বলতে শুনলাম তারা পাত্রী হিসেবে এমন একটা মেয়েকে খুজতেছে যার চারিত্রিক গুণাবলী মা ফাতেমার মতো হবে। আর মেয়েটা যেন আমাদের প্রিয় নবীর বউদের মতো হতে পারে। আরেকজন বললো হ্যাঁ ঠিক বলেছেন কাকু সবই আল্লাহর ইচ্ছা। মেয়েটাকে সবসময় পর্দা করতে হবে। স্বামীর হুকুম ছাড়া ঘরের বাইরে বের হতে পারবে না। শ্বশুর শাশুড়ির কথায় উঠতে বসতে হবে। এমন একটা আদর্শবান মেয়ে আমাদের দরকার।

কথাবার্তার মধ্যেই হঠাৎ করে ছেলে পক্ষের একজন মেয়ের দিকে তাকিয়ে বলতে লাগলো। মেয়েটাকে আমাদের পছন্দ হয়নি, মেয়েটা দেখতে কালো, আর তেমন লম্বাও না, পড়ালেখা করেছে বলেও মনে হয় না। মেয়ের বাবাকে বললো ভাই আমাদের ক্ষমা করবেন আপনার মেয়েকে আমাদের পছন্দ হয়নি।

তাদের কথাবার্তা শুনে আমি অবাক হয়ে গেলাম। যে লোকটা একটু আগে মোহাম্মদের বউদের চরিত্র নিয়ে কথা বলতেছে সেই একই মানুষটি এখন না জেনে না বুঝে একটা মেয়েকে নিয়ে খারাপ মন্তব্য করা শুরু করলো। কতটা অসুস্থ চিন্তাধারার মানুষ হলে এই কাজটা করতে পারে।

আমি অবাক দৃষ্টীতে আয়েশার দিকে তাকিয়ে থাকলাম, দেখলাম আয়েশার চোখ দিয়ে পানি পড়তেছে। লোকটির কথাবার্তায় আয়েশা খুবই কষ্ট পেয়েছে। আয়েশা হয়তো এটা কখনো আশা করিনি।

আমি নির্বাক তাকিয়ে ছিলাম আয়েশার দিকে। কোনভাবেই আমি চোখ ফিরাতে পারতেছিলাম না। আয়েশার জন্য খুবই মায়া লাগতেছে। একটা মানুষ একটা মেয়ের সামনে কিভাবে সেই মেয়েকে নিয়ে খারাপ মন্তব্য করতে পারে। লোকটি কি ভাবে পারলো ঘরভর্তি মানুষের সামনে মেয়েটাকে নিয়ে কটুক্তি করতে। তাদের আসল উদ্দেশ্যটা কি আমি সেটা কোনোভাবেই মিলাতে পারতেছিলাম না। তারাতো ঘরের বাইরে গিয়েও কথাগুলো বলতে পারতো।

দেখাদেখির পর্বের সমাপ্তি ঘটলো আয়েশাকে অন্য আরেকটি রুমের মধ্যে নিয়ে যাওয়া হলো। আমিও ঘরের থেকে বাইরে চলে গেলাম। আর তখনই আমি নোংরা লোকটির আসল উদ্দেশ্য বুঝতে পারলাম। লোকটি আয়েশার বাবার সাথে যৌতুক বিষয়ে আলোচনা করতেছে। মেয়ের বাবাকে বলতেছে আপনার মেয়ে কালো লেখাপড়া জানে না আশেপাশের মানুষের কাছ থেকে আমরা জানতে পেরেছি আপনার মেয়ের চরিত্রও ভালো না।

তিনি এটাও বললেন ভাইজান থাক চিন্তার কিছু নেই। তারপরেও আমরা যখন এসেগেছি বিয়ের ব্যাপারে আলোচনা করতে পারি? তবে ছেলের একটা ভবিষ্যৎ আছে আর তাই আমাদেরকে ছেলের ভবিষ্যতের দিকেও তাকাতে হবে। আর বিয়ের পরে ছেলেতো আপনাদের নিজের ছেলে হয়ে যাবে।

আয়েশার বাবা লোকটিকে বললো ভাই একটু বুঝিয়ে বলুন আমি বুঝতে পারতেছিনা? আসলে কথা হচ্ছে ছেলের পরিবারের কিছু দাবি-দাওয়া আছে। ছেলেকে আপনারা নগদ দুই লক্ষ টাকা দিতে হবে। আর ছেলের নতুন সংসারের জন্য যাবতীয় ফার্নিচার এবং টিভি ফ্রিজ সবকিছুই দিতে হবে? আর তাহলেই আমরা বিয়েতে রাজি আছি।

লোকটির কথা শুনে আয়েশার বাবা নিশ্চুপ হয়ে গেলেন। গরিব মানুষ এত টাকা কোথায় পাবে তারপরেও তিনি লোকটিকে বললেন ভাই আমি লাখ খানেক টাকা ব্যবস্থা করে দিব। আপনারা এই বিয়েতে রাজি হয়ে যান? আমার আসলে এর থেকে বেশি কিছু দেবার সাধ্য নেই। এ কথা শোনার পর লোকটি বললো না ভাই আমরা পারবোনা, আমরা এখন আসি। আর যদি আমাদের দাবিগুলো মেনে নিতে পারেন তাহলে আমাদেরকে জানাবেন। এই কথা বলেই মেহমানরা সবাই চলে গেল।

আয়েশার সেই বিয়েটাও আর হলোনা। মেহমানরা চলে যাওয়ার সময় আমি আয়েশার দিকে লক্ষ করলাম। আয়েশা ঘরের জানালা দিয়ে মেহমানদের দিকে তাকিয়ে আছে। আর এই দৃশ্যটা দেখে আমার মনে হলো, তখন এই পৃথিবীতে আয়েশার থেকে অসহায় মানুষ আর কেহ নেই।

আমাদের দেশে আয়েশাদের সংখ্যা নিতান্তই কম নয়। লক্ষ লক্ষ আয়েশা এরকম প্রতিনিয়ত লাঞ্ছনা আর বঞ্চনার শিকার হচ্ছে। ধর্মীয় অন্ধ বিশ্বাস আমাদের দেশের নারীদের অপমান আর অবহেলা ছাড়া কিছুই দিতে পারেনি। ধর্মের কারণ আমরা যুগ যুগ ধরে পিছিয়ে আছি। আর সবথেকে বেশি পিছিয়ে আছে আমাদের দেশের নারীরা।

ধর্মীয় মৌলবাদী মূর্খ মানুষগুলো আমাদের দেশের নারীদেরকে বন্দী করে রেখেছে কালো কাপড়ের মধ্যে। আর যারাই নারীদের মুক্তির জন্য কথা বলেছে তাদেরকে করছে দেশথেকে বিতাড়িত।

আসুন আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করার চেষ্টা করি।বিয়ের ক্ষেত্রে শুধু দেনমোহর আর যৌতুক প্রথা নয়। কনে দেখার নামে ছেলে এবং ছেলের পুরো পরিবার মিলে পাত্রীকে যেভাবে অপমান করে সেটাও বন্ধ করা হোক। নারী আর পুরুষ বলতে কোন শব্দ নেই দুটোই মানুষ।

আমার মতে বিয়ের আগে যেভাবে পাত্রীকে দেখা হয় ঠিক একই কায়দায় পাত্রকেউ দেখা হোক। দরকার প্রয়োজনে শরীরের প্রতিটি অঙ্গ পতঙ্গ চেক করা হোক। দেখার অধিকার শুধু পুরুষের নেই নারীদেরও আছে সেটা তাদেরকে বুঝিয়ে দেওয়া হোক।

আর আমাদের এই সকল সমস্যার মূলে হচ্ছে ধর্ম। ধার্মিক মূর্খরা প্রতিনিয়ত এই অসুস্থ চিন্তাধারাকে অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে। ধর্মের মধ্যে নারীর জন্য কোন প্রকার সুযোগ-সুবিধা দেয়া হয়নি। বরঞ্চ ধর্মের কারণে আমরা নারীদেরকে ছোট করেই চলতেছি প্রতিনিয়ত।

নারীদেরকে বোরকা পরিধান করিয়ে ঘরের বাইরে বের করা। নারী বলে তাঁদেরকে ঘরের মধ্যে বন্দি করে রাখা। নারী বলে উচ্চশিক্ষা থেকে তাদেরকে বঞ্চিত করা। আর বিয়ের পরে বিভিন্ন অজুহাতে নারীর উপর অমানুষিক নির্যাতন। এই সবগুলো অন্যায় আমাদের বন্ধ করতে হবে। এটার জন্য প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

আর সমান অধিকারের কথা বলে বলেই আমরা নারীদের ছোট করতেছি সবসময়। সমান অধিকার বলতে কোন শব্দ নেই। নারী তার নিজের অধিকার নিয়ে বাঁচবে। যেভাবে ইচ্ছে হয় সেভাবে চলবে। তার ইচ্ছে হলে সংসার করবে ইচ্ছে না হলে করবেনা। ইচ্ছে হলে বাইরে বের হবে ইচ্ছে না হলে ঘরে বসে থাকবে। ইচ্ছে হলে সন্তান নিবে ইচ্ছে না হলে নিবেনা।

মায়ের পেটে মেয়ে সন্তান জন্মগ্রহণ করে সে কখনো অপরাধ করেনি। অপরাধ তারাই করেছে যারা কন্যা সন্তানের জন্ম হয়েছে বলে হাসিমাখা মুখটি কুৎসিত করে ফেলছে। অপরাধ তারাই করছে যারা ছেলে সন্তানের আশায় একের পর এক কন্যাসন্তানের জন্ম দিয়েছে। অপরাধ তারাই করছে যারা নারী বলে ছোট্ট একটা শিশুকে ধর্ষণ করেছে। অপরাধ তারাই করেছে যারা নিজেকে পুরুষ মনে করে দিনের পর দিন ডজন ডজন মেয়ের সাথে রাত কাটিয়েছে

সব ধর্মেই নারীকে অসম্মান করেছে। সবচেয়ে বেশি অসম্মান করেছে ইসলাম ধর্মের মানুষেরা। ইসলামের নবী মোহাম্মদ ছয় বছরের আয়েশাকে বিয়ে করে, নয় বছর বয়সে তার সাথে যৌনসঙ্গম করেছে। এমনকি রেকর্ড পরিমাণ মেয়ের সাথে তিনি যৌনসঙ্গম করেছেন। যুদ্ধবন্দি মেয়েরাও তার হাত থেকে রেহাই পায়নি।

যেখানে ইসলাম ধর্মের প্রবর্তকের নারীর প্রতি এমন দৃষ্টিভঙ্গি। সেখানে সাধারণ মুসলমানের দৃষ্টিভঙ্গি কি হতে পারে সেটা আপনারাই বিবেচনা করেন।

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

সাহাবউদ্দিন মাহমুদ
সাহাবউদ্দিন মাহমুদ এর ছবি
Offline
Last seen: 23 ঘন্টা 53 min ago
Joined: মঙ্গলবার, আগস্ট 8, 2017 - 12:09পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর