নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 5 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • নুর নবী দুলাল
  • রাজর্ষি ব্যনার্জী
  • আসিফ মহিউদ্দীন
  • কান্ডারী হুশিয়ার
  • সাইয়িদ রফিকুল হক

নতুন যাত্রী

  • মিঠুন সিকদার শুভম
  • এম এম এইচ ভূঁইয়া
  • খাঁচা বন্দি পাখি
  • প্রসেনজিৎ কোনার
  • পৃথিবীর নাগরিক
  • এস এম এইচ রহমান
  • শুভম সরকার
  • আব্রাহাম তামিম
  • মোঃ মনজুরুল ইসলাম
  • এলিজা আকবর

আপনি এখানে

পিনাকী ভট্টাচার্য্য একজন ঘৃনাজীবী।


পিনাকী ভট্টাচার্য্য একজন ঘৃনাজীবী। তিনি খুব সুকৌশলে বাংলাদেশের ধর্মীয় সংখ্যাগুরু ধর্ম ভীরু মানুষের অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে তাদেরকে উস্কানো, বিদ্বেষ ছড়ানো এবং সহিংসতা সৃষ্টির কাজ করে চলেছেন বলেই আমার বিশ্বাস।

আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস কে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছেন , দেশের প্রগতিশীল মুক্তমনা তরুণদের বিরুদ্ধে মৌলবাদীদের প্রতিনিয়ত উস্কাচ্ছেন, উগ্র মৌলবাদী সংগঠনগুলোর এজেন্ডার পক্ষে লেখালেখি করছেন। সর্বোপরি দেশে একটা অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি করার জন্যই বোধ করি তার প্রানান্ত চেষ্টা।

যাই হোক, তাকে আমি কেন ‘ঘৃনাজীবী বলেছি সে ব্যাপারে ব্যাখ্যা চেয়েছেন তিনি ও তার অনুসারীরা। তাই সব বিষয়ে কথা না বলে, আমি শুধু ঠাকুরপাড়ার ঘটনাটি নিয়ে তার যে অবস্থান সেটি নিয়েই কথা বলবো।

১)

প্রথমেই বলতে চাই, রংপুরের ঠাকুরপাড়ায় হামলা করতে গিয়ে পুলিশের পাল্টা গুলিতে যে মানুষটি মারা গেছেন তার প্রতি আমার সহানুভূতি আছে। কারো এমন মৃত্যু একটা সভ্য সমাজে কোনোমতেই কাম্য না।

কিন্তু, যখন শত শত মানুষ প্রচন্ড আগ্রাসী হয়ে নিরীহ মানুষজনের উপর হামলা করতে যায় তখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার দায়িত্ব থাকে পুলিশ এর।পুলিশ ঠান্ডা মাথায় কারো খুন করেনি।তারা হামলাকারীদের থামাতে গুলি করেছে। সেই গুলিতে মানুষ মারা গেছে।

ভেবে দেখুন, হামলার করতে না গেলে কি কেউ মারা পড়তেন?

আসল দোষটা কার বলুন তো ? যারা উস্কানি দিয়ে শত শত মানুষকে ঐ এলাকায় হামলা করতে নিয়ে গেছে তাদের ? নাকি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য পুলিশ যা করেছে ,তার ?

যেকোনো সুস্থ চিন্তার মানুষ এটা বোঝে যে পুলিশ অ্যাকশন না নিলে ঠাকুর পাড়ার ঘটনা নাসির নগর এর মতো আরো ভয়াবহ হতো। অথচ ,পিনাকী ভট্টাচার্য -হামলা'র বিরুদ্ধে একটা শব্দ ও উচ্চারণ না করে উল্টো হামলাকারীদের একজনের মৃত্যুর ঘটনাকে ইস্যু বানিয়ে মানুষকে ক্ষেপিয়ে তুলতে চাইছেন। কারণ পিনাকীরা জানেন কোন কথা বললে মানুষের ধর্মানুভূতি কাজে লাগিয়ে ফায়দা হাসিল করা যাবে, তাদের স্বার্থলিপ্সু চোখ একারণেই হয়তো শুধু সহিংসতা খুঁজে বেড়ায়।

২)

ধরেন আপনার পাশের বাড়িতে দুই ভাইয়ের মধ্যে ঝগড়া লেগেছে। একজন সুস্থ বিবেকবান মানুষ হিসেবে কি করা উচিত তখন আপনার ? দুই ভাইয়ের মধ্যে বিবাদ মেটানোর চেষ্টা করা? নাকি এক ভাইকে অন্য ভাইয়ের বিরুদ্ধে উস্কে দিয়ে মারামারি এমন পর্যায়ে নিয়ে যাবার চেষ্টা করবেন যাতে একজন আরেকজনকে খুন করে ফেলে?

পিনাকী ভট্টাচার্য্য হামলার দিনেই ফেইসবুকে লিখেছেন ,টিটু রায় এর স্ট্যাটাস নাকি তিনি দেখেছেন। সেটা নাকি খুব ভয়াবহ রকম ধর্মীয় অবমাননামূলক ছিল। তার বক্তব্যে সরাসরি তিনি হামলাকে জায়েজ করতে চাইলেন।

এতো বছর ধরে ফেসবুকিং করেন । তার মতো ফেসবুকার তো দেখেই বুঝবার কথা যে ,যে পোস্ট টা নিয়ে এতো কথা সেটা একটা শেয়ার করা পোস্ট ছিল । এবং সেই সাথে ,প্রোফাইল টাও দেখা মাত্রই বোঝা যায় এটা একটা 'ভূয়া' প্রোফাইল।

একজন অভিজ্ঞ ফেসবুকার হিসেবে ,তিনি পারতেন যেকোন বিবেকবান মানুষের মত কাজ করতে। পারতেন ফেসবুকে ধর্ম অবমাননার হুজুগ তুলে বাস্তবে সংগঠিত হামলা-মামলার বিপক্ষে সচেতনতা তৈরির চেষ্টা করতে। কিন্তু তা না করে, হামলাকারীদের থামতে বলার কথা না বলে উল্টো তিন তাদের কে ইন্ধন জুগিয়ে গেছেন ।

৩)

ঠাকুরপাড়ার হামলার প্রতিবাদে একটা প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছিল। সেই সমাবেশের উদ্যোক্তাদের একজনের পোস্ট শেয়ার করে পিনাকী ভট্টাচার্য্য লিখেছেন:

'দেখেন, রংপুরে গুলি খেয়ে যেন দুইজন মানুষ মরে নাই খালি হিন্দু পাড়ায় আগুন দেয়াই হইছে যেন। আর ষাট জন মানুষও আহত হয় নাই। কয়েকটা ভস্মীভূত ঘর দুইটা তাজা প্রাণের চাইতে স্যেকুলারদের কাছে বেশী দামী।'

-বোঝেন অবস্থা। হামলাকারীদের জন্য তার দরদ এতোটাই উথলে উঠছে যে তিনি এখন হামলাকারীদের আহত হবার বিরুদ্ধেও মানুষকে উস্কানি দিচ্ছেন।

এই যে উনি 'হিন্দুপাড়া' 'সেক্যুলার' এই শব্দগুলোর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে একটা বিরূপ পরিস্থিতি ও জনমত তৈরির মিশনে নেমেছেন , এটা কি ঘৃণা ছড়ানো নয়?

৪)

সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি আমার কাছে মনে হয়েছে তা হলো, জনাব পিনাকী বলতে চাইছেন সেক্যুলার রা নাকি সকল মুসলমান দের প্রতি ঘৃণা ছড়াচ্ছে। তিনি তার বক্তব্যে লিখেছে -

"আসলে যে কারণে যে কারণে তারা ক্ষেপেছেন কিন্তু বলতে পারছেন না মুখ ফুটে, তা হচ্ছে, আমি কেন রংপুরের ঘটনায় ইসলাম বিদ্বেষি জায়গায় দাড়ায়ে মুসলমান ব্লেমিং করলাম না।"

-ভাবতে পারেন? কথায় কথায় 'মুসলমান' দের কে প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করিয়ে দেয়ার কি নির্লজ্জ্ব চেষ্টা তার। 'হিন্দু বনাম মুসলমানেদের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে , সেক্যুলারদের সাথে ধার্মিকদের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে কি লাভ হাসিল করতে চান পিনাকী ভট্টাচার্য্য? তার লেখায় এতো বিভাজন কেন?

কোন উদ্দেশ্যে তিনি এতো ঘৃণার উদ্গীরণ করছেন সোশ্যাল মিডিয়াতে?

সামান্য কোন ফেসবুকের পোস্ট কে উসিলা করে হামলা ,মামলা ,সমাবেশ ’কি কোনো শিক্ষিত জ্ঞানসম্পন্ন মানুষের পক্ষে সমর্থন দেয়া সম্ভব যদি না তার অন্য কোনো উদ্দেশ্য থাকে ?

দয়া করে ভাবুন আপনারা।

মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশে ধর্ম দিয়ে যাতে আমাদেরকে কেউ আর বিভাজিত করতে না পারে সেই খেয়াল রাখুন।

এই ঘৃনাজীবীর তৈরী করা ঘৃণার ফ্যাক্টরি থেকে দূরে থাকুন।

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

অজন্তা দেব রায়
অজন্তা দেব রায় এর ছবি
Offline
Last seen: 1 week 2 দিন ago
Joined: মঙ্গলবার, জানুয়ারী 17, 2017 - 9:35অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর