নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 5 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • নুর নবী দুলাল
  • রাজর্ষি ব্যনার্জী
  • আসিফ মহিউদ্দীন
  • কান্ডারী হুশিয়ার
  • সাইয়িদ রফিকুল হক

নতুন যাত্রী

  • মিঠুন সিকদার শুভম
  • এম এম এইচ ভূঁইয়া
  • খাঁচা বন্দি পাখি
  • প্রসেনজিৎ কোনার
  • পৃথিবীর নাগরিক
  • এস এম এইচ রহমান
  • শুভম সরকার
  • আব্রাহাম তামিম
  • মোঃ মনজুরুল ইসলাম
  • এলিজা আকবর

আপনি এখানে

কিছুদিন আগে যারা অচেনা রোহিঙ্গাদের জন্যে কেঁদেছে, তারাই এখন প্রতিবেশীদের ঘর পোড়াচ্ছে


এই কিছুদিন আগে , সারা বাংলাদেশের মুসলমানদের দেখা গেছে , রোহিঙ্গা মুসলমানদের জন্যে কান্নাকাটি করতে , যদিও তারা কেউ রোহিঙ্গাাদের চেনে না , জানে না। তারপরেও তাদের দুর্দশায় বাংলাদেশের মুসলমানদের হৃদয়ে আহাজারি শুরু হয়ে গেছিল। কারন রোহিঙ্গারা হলো মুসলমান। এখন সেই তারাই আজকে তাদেরই প্রতিবেশী , যাদের সাথে তারা বংশ পরম্পরায় মেলা মেশা করেছে , তাদেরই ঘর বাড়ী পুড়িয়ে দিয়েছে , তাদের অপরাধ , তারা হচ্ছে হিন্দু।

ঘটনাটা ঘটেছে রংপুরের গঙ্গাচড়ায়। ফেসবুকে কথিত ইসলাম অবমাননার অপরাধে এক হিন্দুর বাড়ী পোড়ানোর সাথে সাথে প্রতিবেশীদের ঘরবাড়ীও পুড়িয়ে দিয়েছে ইমানদার মুসলমানরা। অথচ এখন প্রায় শীতকাল এসে গেছে , সারা বাংলাদেশে ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন শুরুও হয়ে গেছে। আর প্রতিটা ওয়াজেই হুজুররা হিন্দু খৃষ্টান ইহুদি বৌদ্ধ ইত্যাদি ধর্ম নিয়ে রগরগে বর্ণনা সহ কত রকমভাবে যে সমালোচনার , নিন্দা করবে , তার শেষ নেই , কিন্তু এত সব করেও তারা মনেই করবে না , যে তারা অন্য মানুষের ধর্মের অনুভূতিতে কোনরকম আঘাত করেছে বা করছে। ভাবখানা , তারা যত খুশী অন্য ধর্মের সমালোচনা করবে , অন্য ধর্মের মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে যত খুশি আঘাত করবে , সেটা তাদের অধিকার , কিন্তু ইসলাম ধর্মের কেউ কোন সমালোচনা করলেই কল্লা পড়ে যাবে , ঘরবাড়ী , মন্দির , গীর্জা ইত্যাদি পুড়ে ছারখার হয়ে যাবে।

এখনই এসে কিছু কথিত মডারেট মুসলমান নানা রকম মিডিয়াতে আমন্ত্রিত হয়ে এসে বলতে থাকবে , এটার উদ্দেশ্য রাজনৈতিক , হয়ত কোন নেতা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধন করার জন্যে এটা করেছে, এটা আওয়ামী লিগের রাজনৈতিক চাল হতে পারে, এটা ভীষন অন্যায় , এর বিচার হওয়া উচিত ইত্যাদি। আবার কেউ কেউ এসে বলবে , কিছু লোক ধর্মান্ধ হয়ে এ ধরনের কাজ করেছে , এর সাথে ইসলামের কোন সম্পর্ক নেই। কোরান হাদিসে তো কোথাও বলে নাই , রংপুরের কোন গ্রামে হিন্দুদের ঘর পোড়াতে হবে। আরও বলতে পারে - কিছু লোক ইসলামের নাম ব্যবহার করে এই অন্যায় কাজ করেছে , তারা সহিহ মুসলমান না, কিছু লোক খারাপ হলে সেটার দায় সব মুসলমানদের ওপর বর্তায় না , ইত্যাদি আরও বহু কিছু এবং এসব কিন্তু বিভিন্ন মিডিয়াতে বলা শুরু হয়ে গেছেও স্বত:সিদ্ধভাবেই।

কিন্তু কেন মুসলমানরা এভাবে ভিন্ন ধর্মী মানুষের ওপর বার বার আক্রমন করে , করছে , সেই গত ১৪০০ বছর ধরে ? এর মূলটা কোথায় ? সেটা জানতে হলে প্রথমে পড়তে হবে , নিচের হাদিস ----

কিতাবুল জিহাদ ওয়াস-সিয়ার (সফর অভিযান) অধ্যায় ::সহিহ মুসলিম :: বই ১৯ :: হাদিস ৪৩৬৬
যুহায়র ইবন হারব ও মুহাম্মাদ ইবন রাফি (র)......জাবির ইবন আব্দুল্লাহ (রাঃ) বলেনঃ, আমার কাছে উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, তিনি রাসুলুল্লাহ (সা) -কে বলতে শুনেছেন যে, নিশ্চয়ই আমি ইয়াহুদী ও খ্রীষ্টান সম্প্রদায়কে আরব উপ-দ্বীপ থেকে বহিস্কার করবো । পরিশেষে মুসলমান ব্যতীত অন্য কাউকে এখানে থাকতে দেবো না ।

অনেকে বলবে এটা শুধুই আরব দেশের জন্যে প্রযোজ্য। না কথাটা সম্পূর্ন ভুল। মুহাম্মদ তার জীবনকালে আরব দেশেই ইসলাম প্রতিষ্ঠা করে একটা ইসলামী রাজ্য কায়েম করেছিল , আর সেই কারনেই হাদিসে বলা হয়েছে আরব দেশে কোন ভিন্ন ধর্মের লোক থাকতে পারবে না। সুতরাং এর অর্থ হলো অত:পর কোন দেশের সিংহভাগ মানুষ মুসলমান হলে , সেই দেশের মুসলমানদের দায়ীত্ব হবে , বাকীদেরকেও ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত করা , যদি সেটা সম্ভব না হয় , তাদেরকে সেই দেশ থেকে বহিস্কার বা উচ্ছেদ করা ঠিক নবী মুহাম্মদের দেখান পথেই । ঠিক সেটাই অনুসরন করছে বর্তমানে সিরিয়া ইরাকে আই এস। তারা যেখানে খিলাফত প্রতিষ্ঠা করেছে , সেখান থেকে তারা খৃষ্টান , ইয়াজিদি সহ তাদের ভাষায় কাফের মোনাফেক শিয়াদেরকে বহিস্কার করেছে মুহাম্মদের আদর্শ অনুসরন করেই। বাংলাদেশেও সেটা অনুসরন করা হয়েছে সেই পাকিস্তান আমল থেকেই। তবে বাংলাদেশ আমলে সেটা করা হচ্ছে কৌশলে।

সুতরাং মুসলমানদের প্রতিবেশী যদি অমুসলিম হয়ও , তাহলেও তাদের প্রতি কোন মায়া মমতা কখনই মুসলমানরা অনুভব করে না , করতে পারে না , করা সম্ভব না। সেটা বাংলাদেশ কেন , দুনিয়ার কোথাও করে না। তারা যে অমুসলিমদের প্রতি মায়া মহব্বত মায়া মমতা দেখাতে পারে না , সেটার জন্যে আসলে তারা দায়ী নয় ,দায়ী হলো শিক্ষা , ইসলামের শিক্ষা , নবীর আদর্শ ও আদেশ নির্দেশ। কথিত মডারেট মুসলমানরা এই শিক্ষা অনুসরন করে না ভদ্রতার লেবাস ধরে, কাপুরুষতার কারনেও হতে পারে , কিন্তু মনে মনে এই শিক্ষাকে ঠিকই বিশ্বাস করে , আর এই কারনেই দেখা যাবে , হাতে গোনা দুই একজন মডারেট হয়ত এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হবে , বাকীরা সবাই হয়ে যাবে একদম চুপ , ভাবখানা , কিছুই ঘটে নাই। কারনটাও বোধগম্য যে সামান্য কিছু লোক নবীর শিক্ষা অনুসরন করে হিন্দুদের ঘরবাড়ী জ্বালাচ্ছে , তাতে আখেরে এইসব কথিত মডারেটদেরই লাভ। কারন ভয় সন্ত্রস্ত হয়ে যখন হিন্দুরা এদেশ থেকে ভারতে পাড়ি জমাবে , তখন তাদের জমি জমা সম্পদ কম মূল্যে , ক্ষেত্র বিশেষে নামমাত্র মূল্যে কেনা যাবে। সুতরাং এই ধরনের ঘটনা যত বেশী হবে , তাতে তাদের লাভও বেশী হবে।

ইন্টারনেট আসার আগে , নানা অজুহাত তৈরী করে , হিন্দুদের বাড়ী ঘর মন্দির আক্রমন করে জ্বালাও পোড়াও করে , তাদের মনে ভীতির সঞ্চার করা হতো , যাতে করে ভীত সন্ত্রস্ত হিন্দুরা স্বেচ্ছায় বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে পাড়ি জমাতে পারে। এভাবেই গত ৪৭ বছরে ২২% হিন্দু থেকে বর্তমানে ৮-৯% দাড়িয়েছে মোট জনসংখ্যার অনুপাত। ইন্টারনেট আসার পর অজুহাত তৈরীটা অনেক সহজ হয়ে গেছে। ফেসবুক বা ব্লগে কারও নামে একটা অজুহাত খাড়া করতে হবে , সে ইসলামের অবমাননা করেছে , তারপর গিযে তাদের বাড়ী সহ আশপাশের সব বাড়ীঘর পুড়িযে দিতে হবে। ব্যাস , তাতেই যা হওয়ার সব হয়ে যাবে।হিন্দুদের মনে ভীতির সঞ্চার সৃষ্টি হবে। আর সেটারই নির্দেশ দেয়া আছে হাদিসে , যেমন ---

জিহাদ অধ্যায় ::সহিহ বুখারী :: খন্ড ৪ :: অধ্যায় ৫২ :: হাদিস ২২০
ইয়াহ্ইয়া ইব্ন বুকাইর (র)...............আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন, অল্প শব্দে ব্যাপক অর্থবোধক বাক্য বলার শক্তি সহ আমি প্রেরিত হয়েছি এবং শত্রুর মনে ভীতির সঞ্চারের মাধ্যমে আমাকে সাহায্য করা হয়েছে।

কিছুদিন পর দেখা যাবে গোটা বাংলাদেশ থেকে বহু হাজার হিন্দু পরিবার বাংলাদেশ থেকে স্রেফ হাওয়া হয়ে যাবে। এভাবেই কিন্তু প্রতিবছর এক বা একাধিক ঘটনা ঘটছে , আর হাজার হাজার হিন্দু পরিবার স্রেফ হাওয়া হয়ে যাচ্ছে। এভাবেই প্রকৃত সহিহ মুমিন , কথিত মডারেট মুসলমান উভয়েরই আসলে লক্ষ্য একটাই হয়ে যায়, জ্ঞানে অজ্ঞানে, এবং ভীতি সৃষ্টির মাধ্যমে ইসলামের জয় হয়ে চলেছে বাংলাদেশে। বাংলাদেশ ক্রমশ: এগিয়ে যাচ্ছে , দারুল ইসলাম বা ইসলামের বেহেস্ত হওয়ার পথে।

এখনই এসে কিছু মডারেট মুসলমান এসে বলবে , এই ধরনের ঘটনা অন্যায় কিন্তু তারা কখনই রোহিঙ্গাদের প্রতি যে প্রেম দেখিয়েছিল , সেরকম প্রেম কোনভাবেই দেখাবে না। বরং ভাবখানা হবে , তারা যেন কিছুই জানে না , কিছুই শোনে নি। তারা কোন প্রতিবাদ করবে না , করবে না কোন বিক্ষোভ , এমন কি কোন বিবৃতিও দেবে না।

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

কাঠমোল্লা
কাঠমোল্লা এর ছবি
Offline
Last seen: 20 ঘন্টা 37 min ago
Joined: শুক্রবার, এপ্রিল 8, 2016 - 4:48অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর