নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 2 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • আলমগীর কবির
  • মিঠুন বিশ্বাস

নতুন যাত্রী

  • চয়ন অর্কিড
  • ফজলে রাব্বী খান
  • হূমায়ুন কবির
  • রকিব খান
  • সজল আল সানভী
  • শহীদ আহমেদ
  • মো ইকরামুজ্জামান
  • মিজান
  • সঞ্জয় চক্রবর্তী
  • ডাঃ নেইল আকাশ

আপনি এখানে

বিশ্বাসের ভাইরাস - পর্ব দুই! ইলিয়াসী তাবলীগ ও অনন্ত জলিলের ভন্ডামি।


বাংলাদেশের একজন আলোচিত ও সমালোচিত ব্যক্তির নাম অনন্ত জলিল। কয়েকটা বাংলা ডিজিটাল মুভি তৈরি করার কারনে বাংলাদেশে তিনি বেশ আলোচিত। আর কয়েকটা পদক্ষেপের কারণে তিনি মোটামুটিভাবে সমালোচিত।

বাংলাদেশ ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির কারণে অনন্ত জলিল আজকে বাংলাদেশের পরিচিত ও জনপ্রিয় একটা নাম। সেই জনপ্রিয়তা ও পরিচিতি হাতে নিয়ে, তিনি একেক সময় একেক ধরনের খেলা খেলে যাচ্ছেন, আর মাঝে মাঝে তাকে হতে হচ্ছে হাসির পাত্র।

অনন্ত জলিল বাংলাদেশের ডিজিটাল মুভির প্রবর্তক। শুধু বাংলাদেশ নয় পৃথিবীর অন্য কোথাও অনন্ত জলিলের মত একজন ডিজিটাল অভিনেতা পাওয়া যাবে না। যে কিনা নিজের প্রশংসা নিজেই করে বেড়ান। এমনকি তার সাথে দেখা করার জন্য তার যে ভক্তগুলো প্রতিনিয়ত আসেন। তাদেরকেও নাকি তিনি টাকা দিয়ে ভাড়া করে আনেন।

সাম্প্রতিক একটা টকশোতে তিনি বলেছেন। শুধু বাংলাদেশ নয় তিনি ইচ্ছে করলে হলিউড-বলিউডেও মুভি করতে পারেন। তার সেই যোগ্যতা ও ক্ষমতা দুটোই আছে।

এই পৃথিবীতে এমন অন্য কোন অভিনেতা অভিনেত্রী পরিচালক প্রযোজক পাওয়া যাবে না, যে কিনা সব দায়িত্ব একাই পালন করেন। তাঁর মুভিতে সে একাই সব কিছু। সেই কারণে অনন্ত জলিল খুবই ফেমাস। তার পরিচালকের দরকার হয়না। প্রযোজকের দরকার হয়না। অন্য কোন অভিনেতার দরকার হয়না। এমনকি নায়িকাও তাঁর নিজের ঘরে আছে।

পৃথিবীতে অনন্ত জলিল একমাত্র ব্যক্তি যে কিনা নিজেই নিজের হৃদয় খুলে তার ভালোবাসার মানুষটি দেখিয়ে দিয়েছেন। তিনিই একমাত্র ব্যক্তি যে নিজেই বলেছেন অসম্ভবকে সম্ভব করা অনন্ত জলিলের কাজ।

তার মুভি গুলোর বৈশিষ্ট্য একটু অস্বাভাবিক। সে কোন যুক্তি তর্কের ধার ধারেনা। একেক সময় সে একেক কাণ্ড ঘটান। সে একাই বড় বড় বিল্ডিং ভেঙ্গে চুরে চুরমার করে দিচ্ছেন। গাড়ি গীতার ঘরের আসবাবপত্র এগুলো তো খুবই মামুলী ব্যাপার। মানুষকে কিভাবে ডিজিটাল মাইর দিতে হয় সেটাও তিনি তাঁর মুভিতে তুলে ধরেছেন।

এইরকম অসংখ্য প্রতিভা অনন্ত জলিলের। একটি মাত্র দুর্বলতা, সেটা হলো তার বডি স্ট্রাকচার। তার শারীরিক গঠন তেমনটা উন্নত নয়। তিনি নিজে নিজেই বুক ফুলিয়ে চলেন। আর মনে হয় তিনি বিরাট বডিবিল্ডার। যে বিষয়টা দর্শককে সামান্য বিনোদন দিতে আগ্রহী করে তোলে।

তিনি যে শুধু অভিনেতা তা নয়। তিনি বড় ধরনের একজন ব্যবসায়ীর বটে আর ব্যবসায়িক টাকা থাকার কারণে এই ধরনের ছবি করতে তিনি সক্ষম হয়েছেন। তিনি নিজে নিজেই বলে বেড়ান আমি ব্যবসায়ী আমি সুপারস্টার, আমি অমুক, আমি তমুক, আমি দেশের সেরা নায়ক। আর মানুষকে দান খয়রাত করি, মানুষের পাশে থাকি, আমাকে দেখে সবাই স্মার্ট বলে, আমাকে দেখে সবাই প্রশংসা করে, মানুষ আমাকে হলিউডের বড় বড় সেলিব্রেটির সাথে তুলনা করে।

এবার মূল আলোচনায় আসা যাক।

অনন্ত জলিলের এতসব গুণাবলী থাকা সত্ত্বেও তিনি নতুন এক আধ্যাত্মিক কাজে হাত দিয়েছেন। যেটার নাম হচ্ছে তাবলীগ জামাত।

তিনি হঠাৎ করে মিডিয়ায় প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়ে তাবলীগ জামাতের সাথী ভাইদের সাথে একাত্মতা পোষণ করেছেন। যেটা খুবই ভালো উদ্যোগ মুসলিম উম্মার জন্য। তাবলীগের মুরুব্বিরা এখন তার প্রশংসায় মশগুল। অনন্ত জলিল নিজেই এখন তাবলীগ জামাতের একজন আইকনে পরিণত হয়েছেন। তাবলীগ জামাতের মত একটা সংগঠন এতদিন এটার অপেক্ষায় ছিলো। আর অনন্ত জলিল সেই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে, বিলাসবহুল গাড়িতে চড়ে প্রতিনিয়ত তাবলীগ জামাতে হাজির হচ্ছেন।

তাবলীগ জামাতের উৎপত্তি সম্বন্ধে কিছুটা ধারণা নেওয়া যাক।

বাংলাদেশে ইসলাম সম্প্রসারণ করার জন্য ভারতের ভূমিকা অপরিসীম। বাংলাদেশের অধিকাংশ আলেমরা এখনো ভারতের দেওবন্দ মাদ্রাসাকে অনুসরণ করে চলেন। আর পৃথিবীতে সর্বপ্রথম তাবলীগ জামাত যিনি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তার নাম হচ্ছে ইলিয়াস সাব রহমতুল্লাহ আলাইহি। তিনি দেওবন্দ মাদ্রাসার একজন শিক্ষক ছিলেন।

১৯৪৫ সালে তিনি নিজেই সর্বপ্রথম তার পাশের বাজারে গিয়ে সেখান থেকে দিনমজুর খেটে খাওয়া কয়েকজন কামলাকে নিয়ে এসেছিলেন। আর তাঁদেরকে বলেছিলেন আজকে আপনারা সবাই আমার কাজ করবেন। আর আপনাদের কাজ হচ্ছে মসজিদে গিয়ে আমার আলোচনা শোনা। এবং সারাদিন তার সাথে মসজিদে থাকা। তিনি তাঁদেরকে এক প্রকার টাকা দিয়ে তার কথা শোনার জন্য উদ্বুদ্ধ করতেন।

এই ব্যাপারটা খুব সহজভাবেই আশেপাশের মানুষকে উপকৃত করে। কেননা সারাদিন ধরে সূর্যের তাপের মধ্যে কাজ না করে মসজিদে কাটিয়ে দিয়ে দিনশেষে টাকা ইনকাম করা, এটা এক ধরনের আনন্দের বিষয়। তাই তখন আশেপাশের মানুষগুলো তার কাছে যাওয়ার জন্য খুবই আগ্রহী হয়ে উঠে। আর ইলিয়াস সাব এই সুযোগটিই কাজে লাগান। এই কাজটি করে তিনি খুব সহজেই মানুষকে উপকৃত করতে পারেন। আর মানুষ ধীরে ধীরে তার দিকে অগ্রসর হতে থাকে।

ইলিয়াস সাহেব দিনমজুর আর খেটে খাওয়া মানুষদের দিয়ে যে কাজটি করেছিলেন। সেই কাজটি অবশ্যই কোন শিক্ষিত বা বুদ্ধিমান মানুষকে দিয়ে তিনি করতে পারতেন না। এটা তিনি ভালই বুঝতে পেরেছিলেন।
তাই তার প্রথম টার্গেট ছিলো দিনমজুর আর গ্রামের অশিক্ষিত সহজ সরল মানুষগুলো। আর ধীরে ধীরে সেটার প্রচারণা বাড়তে থাকে। আশেপাশের এলাকার দরিদ্র অশিক্ষিত মানুষ কে এই বিষয়টা খুবই উপকৃত করে। তখন তারা একধরনের ব্রেইন ওয়াশের শিকার হয়।

আর এখন মানুষকে তাবলীগে একপ্রকার ভুলিয়ে ভালিয়ে জোর করেই নিয়ে যাওয়া হয়। আর ধীরে ধীরে তাঁদের মাথার ভিতর ধর্মের ভিত্তি সঞ্চয় করা হয়। ধীরে ধীরে মানুষ মানসিকভাবে অসুস্থ হতে থাকে। একটা সুস্থ স্বাভাবিক মানুষ যে সঠিকভাবে চিন্তা করতে পারে, সঠিকভাবে বুঝতে পারে, সেই মানুষটিকে তাবলিগ অল্প সময়ের মধ্যেই হাত করে ফেলতে সক্ষম হয়। আর সেই বুদ্ধিমান মানুষটি তখন মনে করে তার জন্যে দুনিয়া কিছুই না। দুনিয়ার মোহে পড়ে আখিরাতের মত একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে অবহেলা করা কোনোভাবেই উচিত নয়। এমনকি তার জন্য এটা খুবই ক্ষতিকর।

আমি নিজেও ব্যক্তিগতভাবে তাবলীগে গিয়েছিলাম। আমি জানি তাবলীগের আসল উদ্দেশ্য কি। আর তাঁদের আক্রমণগুলো কতটা মারাত্মক এবং ভয়াবহ। বাংলাদেশে এমনো মানুষ আপনি পাবেন যারা নিজের বউ-বাচ্চাকে ছেড়ে দিয়ে দিনের পর দিন তাবলীগে পড়ে থাকে।

যারা প্রথমে তাবলীগ জামাতে যায়। তাঁদের ভিতরে ধীরে ধীরে পরিবর্তন আসতে থাকে। তাঁদের কাছে তখন দুনিয়াটা অন্ধকার-অন্ধকার মনে হয়। তাঁদের চোখের সামনে সবসময় আজরাইল নামক একটা ভয়ংকর রুপ দাড়িয়ে থাকে। তাঁরা সবসময়ে বেহেশত ও দোযখ নিয়ে কল্পনা করতে থাকে। বেহেস্তের সুস্বাদু সব ফলমূল, দুধের নহর, এমনকি বায়াত্তরটা হুর, এইসব ব্যাপারগুলো তাঁকে আকৃষ্ট করে ফেলে। এমনকি রাস্তা দিয়ে একটা সুন্দরী মেয়ে হেঁটে গেলে তখন তারা চিন্তা করতে থাকে এই মেয়েটাতো কিছুই না বেহেস্তে আমাদের জন্য যে হুর গুলো রাখা হয়েছে তাঁদের কাছে এঁদের নখের সমান যোগ্যতাও নেই। এই বিষয়গুলো তখন তাঁর মনের ভিতর এক ধরনের সান্ত্বনা সৃষ্টি করে।

তাবলীগের একজন মানুষ ইচ্ছা করলেই খুব সহজে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারেনা। তার কাছে সমাজ, সভ্যতা, শিক্ষা, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, এমনকি এই পৃথিবীর সব বিষয়েই তখন তুচ্ছ মনে হয়। আর তাঁর আশেপাশে যেই সব সুস্থ স্বাভাবিক মানুষ হাঁটাহাঁটি করে। তাঁদেরকে দেখলে তারা নিজেরা খুবই হতাশাজনক হয়ে পড়ে। আর মনে মনে চিন্তা করতে থাকে মানুষ গুলো কত অবুঝ। তাঁদের কাছে তাঁদের সৃষ্টিকর্তা সন্মন্ধে কোনো ধারনাই নেই। তারা দুনিয়ার মোহে পড়ে আজও অন্ধ হয়ে রয়েছে। আর তাই তাঁদেরকে বুঝানো আমাদের কর্তব্য। এটা আমাদের ঈমানী দায়িত্ব। আর তাই তাঁরা তখন তাঁদের আশেপাশের মানুষকে এইসব ধর্মীয় অন্ধবিশ্বাসের বিষয়ে অবগত করার জন্য আগ্রহী হয়ে ওঠে।

আর এখন অনন্ত জলিল যেটা করতেছেন সেটার নাম হলো ডিজিটাল তাবলীগ। তিনি তাবলীগকে খুবই মডারেট করতেছেন। যেমন বাংলা চলচ্চিত্রকে করেছিলেন উন্নত এবং ডিজিটাল। হয়েছেন হাসির পাত্র। অসম্ভবকে সম্ভব করাই যে অনন্ত জলিলের আসল কাজ সেটা তিনি একেরপর এক প্রমাণ দিয়ে যাচ্ছেন। তবে অনন্ত জলিল সাহেবের বোঝা দরকার বাংলাদেশ নামক একটা দেশে তাবলীগের গুরুত্ব কতটুকু। এই তাবলীগ নামক মূর্খ অসভ্য ধর্মীয় চেতনা আরবের দেশগুলোতে নেই। সেখানে আমাদের মত দরিদ্র একটা রাষ্ট্রের কিবা প্রয়োজন থাকতে পারে।

পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে আপন গতিতে। এগিয়ে যাচ্ছে মানবসভ্যতা। আর আমাদের দেশের তাবলীগ আর মুসলিমরা বাংলাদেশকে পিছিয়ে নিয়ে যাচ্ছে দিনের পর দিন। কর্মঠ একজন মানুষ কে করে দিচ্ছেন পঙ্গু। যখন সারা পৃথিবীর মানুষ জ্ঞানে বিজ্ঞানে এগিয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। তাবলীগ সেখানে বাংলাদেশের মানুষকে আখেরাতের ভয় দেখিয়ে মসজিদের ভিতরে আটকে রাখার চেষ্টা করতেছে। তাবলীগের মানুষের সংখ্যা দিন দিন বাড়তেছে। যেটার মাশুল দিতে হচ্ছে আমাদের পুরো জাতিকে। বেকার হয়ে পড়েছে মুসলিম নামক একটা বাঙালি জাতি।

অনন্ত জলিল আর তাবলীগের সাধারন মানুষের মধ্যে বিস্তর পার্থক্য। অনন্ত জলিল যে পোশাক পড়ে ঘোরাফিরা করেন পৃথিবীর কোন মুসলমান এই রকম পোশাক পরিধান করেননা। এটা হয়তো অনন্ত জলিল নিজেই জানেন না। সাধারণ শিক্ষিত মানুষ তার এই পোশাক দেখলে হাসাহাসি করে। অনন্ত জলিল বর্তমানে যে সম্পদের মালিক সে তাবলীগ করুক বা সারা পৃথিবী ঘুরে বেড়াক তাঁর তেমন একটা ক্ষতি হবে বলে মনে হয় না। কিন্তু তাঁর এই তাবলীগ করা দেখে সাধারণ মানুষ উপকৃত হয়ে তাবলীগে যেভাবে ঝাঁপিয়ে পড়তেছে আশঙ্কাটা সেখানেই। সাধারণ মানুষকে পঙ্গু করে রাখার জন্য তার উৎসাহটাই যথেষ্ট।

আসুন আপনাদের একটা বাস্তব ঘটনা বলি। আমাদের গ্রামের একটা ছেলের নাম হচ্ছে মনির। ছেলেটা স্কুলের অষ্টম শ্রেণীতে পড়াশুনা করত। তার বাবা মারা যাওয়ার কারণে তাদের পরিবারকে খুবই বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতে হয়।

তাঁদের পরিবারের সদস্য সংখ্যা পাঁচজন। এক বোন শহরে গার্মেন্টসে চাকরি করে এবং আরেকটা ভাই হোটেলে। অন্যরা গ্রামে মায়ের সাথেই থাকে। খুব টানাটানির সংসার। তার মাকে অনেক সময় দেখা যায় মানুষের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে কাজ করতে। আমাদের একই গ্রামে আজাদ নামের এক তাবলীগের বিরাট ভক্ত ছিলো। সে ফুঁসলিয়ে ভুলিয়ে ভালিয়ে মনিরকে তাবলিকে নিয়ে গেলো। মনিরকে নিয়ে যাওয়া হলো রংপুরে। প্রথমদিকে ৪/৫ দিনের খরচ তাবলীগের সাথী ভাইরা চালিয়ে যায়। পরবর্তীতে তাকে যাবতীয় খরচের টাকা দিতে বলা হয়। সে টাকা কোথায় পাবে। তাই সে বাড়িতে ফোন করে তার আম্মুকে বলে। তাকে যেন দুই-তিন দিনের মধ্যে পাঁচ হাজার টাকা পাঠানো হয়। অভাবের সংসার তাঁর ভিতরে ছেলের জন্য পাঁচ হাজার টাকা। তার মায়ের পক্ষে এটা কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছিলো না। তার মা গ্রামের অন্য মানুষকে এই ব্যাপারটা বলতে লাগলো। এবং সবার কাছে টাকা চাইতে লাগলো। শেষ পর্যন্ত এর কাছ থেকে ওর কাছ থেকে ধার দেনা করে মনিরের জন্য ৫ হাজার টাকা পাঠায়।

এভাবেই ৪০ দিন শেষে ছেলেটি আবার গ্রামে ফিরে আসে। তখন ছেলেটার ভালোই উন্নতি লক্ষ্য করলাম। সারা দিন আল্লাহ বিল্লা ও মসজিদ নিয়ে থাকে। কারো সাথে তেমন কোনো কথা বলেনা। একদিন হঠাৎ করে সে আমার সামনে এসে পড়ল। আমাকে বললো কাকু আপনি কেমন আছেন? তিন দিনের জন্য চলেন তাবলীগে পাশের গ্রামে একটা সফর দিয়ে আসি। আমি তাকে বললাম আমার হাতে সময় নেই। আর টাকা-পয়সারও বড় সঙ্কট। আর তাবলীগে যাওয়ার জন্য যেরকম মানসিকতা দরকার সেই রকম ভালো মন মানসিকতা এখন আমার নেই।

সে আমাকে বলে আপনি আর আমি পৃথিবীতে দুইদিনের জন্য এসেছি! আমাদের আসল ঠিকানা হচ্ছে কবর আর আখিরাতের জীবন। আর তাবলীগে যাওয়ার জন্য যে টাকা পয়সা দরকার সেগুলো আল্লাই দেখবে আল্লাহ আপনাকে এত সুন্দর একটা দেহ দিয়েছেন। দুইটা হাত দিয়েছেন কাজ করার জন্য আর খাওয়ার জন্য। একটা নাক দিয়েছেন ঘ্রাণ নেওয়ার জন্য। দুইটা চোখ দিয়েছেন এই সুন্দর পৃথিবী দেখার জন্য। আর সেই দেহটা পরিচর্যা করার মালিকও তিনি। আল্লাহ চাইলে আপনাকে গরু-ছাগল করে দুনিয়াতে পাঠাতে পারতেন কিন্তু তিনি তা করেননি। তিনি আপনাকে মানুষ হিসেবে দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন।

আমি তাকে বললাম তুমি যে তাবলীগে গেছো তোমার টাকা কি আল্লাহ পাঠিয়েছেন। তোমার মা মানুষের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে তোমার জন্য টাকা নিয়ে এসেছিলেন। সেটা আমাদের গ্রামের সবাই জানে। তোমার বাবা মারা গিয়েছেন বেশিদিন হয়নি। তোমার বাবা কি ভাবে মারা গিয়েছেন সেটা জানো নাকি সেটাও ভুলে গেছ। তোমার বাবা টাকার অভাবে বিনা চিকিৎসায় ঘরের মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন তিন বছর। তখন তোমার আল্লাহ কোথায় ছিলো। তোমার মা মানুষের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে তোমাদের খাবারের জন্য টাকা নিয়ে আসেন, তখন তোমার আল্লাহ কোথায় থাকে। তোমাদের সংসারের অভাব দেখে তোমার বোন ঢাকা গিয়ে গার্মেন্টসে কাজ করে তখন তোমার আল্লাহ কোথায় থাকেন। তোমার বড় ভাই এত অল্প বয়সে লেখাপড়া ছেড়ে দিয়ে শহরে গিয়ে হোটেলে কাজ করে তখন তোমার আল্লাহ কোথায় থাকেন। এত অল্পবয়সে তোমার বড়বোনের বিয়ে হয়েছে তার দুটো বাচ্চাও আছে আর তোমার দুলাভাই তোমার বোনকে মারধর করে তোমাদের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছে। তখন তোমার আল্লাহ কোথায় ছিলেন। নাকি তোমার আল্লাহর এইসব চোখে পড়েনি।

আমি তাকে বললাম এইসব ফালতু এবং অন্ধ চিন্তাধারা বন্ধ কর। কিভাবে বড় হওয়া যায় সেই চিন্তাকর। কিভাবে তোমার মায়ের মুখে হাসি ফোটানো যায় সেদিকে লক্ষ্য কর। পারলে স্কুলে আবার যাও পড়ালেখা শুরু কর এবং মানুষের মত মানুষ হওয়া চেষ্টাকর। এইসব অন্ধ বিশ্বাস এবং ভুল ধারনা নিজের মন থেকে মুছে ফেল।

ধর্ম আমাদেরকে পিছিয়ে নিয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। এই ধর্মের কারণে আমাদের বাংলাদেশ এখনো উন্নত বিশ্বের থেকে কয়েকশ বছর পিছিয়ে আছে। অনন্ত জলিলের মত বুদ্ধিমান ও সফল ব্যবসায়ী যখন ধর্মের এই অন্ধ বিশ্বাসের দিকে ঝুঁকে পড়ে, তখন অশিক্ষিত গরীব ও সহজ-সরল মানুষের কি'বা করার থাকতে পারে।

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

সাহাবউদ্দিন মাহমুদ
সাহাবউদ্দিন মাহমুদ এর ছবি
Offline
Last seen: 2 months 3 weeks ago
Joined: মঙ্গলবার, আগস্ট 8, 2017 - 12:09পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর