নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 6 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • আব্দুর রহিম রানা
  • নরসুন্দর মানুষ
  • কাঠমোল্লা
  • সাইয়িদ রফিকুল হক
  • দীব্বেন্দু দীপ
  • দ্বিতীয়নাম

নতুন যাত্রী

  • হুসাইন মাহমুদ
  • অচিন-পাখী
  • শুভ্র আহমেদ বিপ্লব
  • রোহিত
  • আকাশ লীনা
  • আশরাফ হোসেন
  • হিলম্যান
  • সরদার জিয়াউদ্দিন
  • অনুপম অমি
  • নভো নীল

আপনি এখানে

প্রিয় অাব্বা - ৩


প্রিয় অাব্বা - ৩

প্রিয় অাব্বা, অাপনি নেই অামার দৃষ্টির সীমানায়, তবুও কল্পনায় অাপনার সাথে প্রায়ই গল্প করি।

অাজও তেমনি এক গল্প শোনাবো :-

ওস্তাদের খেদমত করলে খোদাকে পাওয়া যায় - হুজুররা সবসময় বলতেন। অামিও এর বাইরে নই, অামি কওমি মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল থাকাকালে ছাত্রদেরকে ওস্তাদের খেদমত করার সবক দিতাম!

ছাত্র জমানায় সর্বদা তক্কেতক্কে থাকতাম - কখন কোন হুজুর অামাকে তাঁর কাপড় ধুতে বলেন, কিংবা হুজুরের জুতাটা পরিষ্কার করতে বলেন।
হুজুররা যদি ক্লাসে বলতেন - "অামার অমুক কাজটা কেউ করো", তাৎক্ষণিক সবাই শশব্যস্ত হয়ে পড়তাম, কে কার অাগে হুজুরের খেদমত করবে!
হুজুরদের শিখিয়ে দেয়া চিন্তার বাইরে কিছু চিন্তা করাও অনেক গুনাহের কাজ, যেমন নবীজির চিন্তার বাইরে কিছু চিন্তা করাও পাপ! নবীজির অাদেশ, নিষেধ, সুন্নত, মোস্তাহাব অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে হবে। মনেমনে ঘূণাক্ষরেও নবীর কোন কাজে সন্দেহ বা অপছন্দের উদ্রেক হলে তাৎক্ষণিক তওবা করতে হবে, ইস্তিগফার পড়তে হবে!
বিশ্বাস করতে হবে - এ সব শয়তানের ধোঁকা।
নবীর কাজে সামান্যতম সন্দেহ করলেই জাহান্নাম নিশ্চিত - ইসলাম এমনটাই বলে!

১৯৯৯ সালে তসলিমা নাসরিনের বিরুদ্ধে মিছিলে গিয়েছিলাম হুজুরদের নেতৃত্বে, তখন অামার বয়স ছিল ১৫ বছর!

মাদ্রাসার ছাত্ররা সবসময়ই সস্তা, চাইলেই তাদের পাওয়া যায়, হুজুর হুকুম করলেই এরা জীবন দিতে প্রস্তুত হয়ে যায়!
রাজনীতিবিদেরা তাই সস্তায় পাওয়া ছাত্র-শিক্ষকদেরকে ব্যবহার করতে ভুল করে না। ঝোঁপ বুঝে কোপ মারতে যে যত পারঙ্গম সে তত দক্ষ রাজনীতিবিদ।
২০০১ সালে তৎকালীন অাওয়ামীলীগ সরকার মৌলবাদ বিরোধী অভিযান শুরু করে, এ অভিযান ব্যর্থ হওয়ার কোন সুযোগ ছিলনা; কিন্তু ব্যর্থ হয়!
কেন ব্যর্থ হয় জানেন? কেন ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়ায় মৌলবাদী তান্ডবের কাছে সরকার হার মানে কেন জানেন?
তখন অামি কওমি মাদ্রাসার ছাত্র, তখন অন্যদের মত অামিও 'হিন্দু ভারতের তাঁবেদার' (?) অাওয়ামী সরকারের বিরুদ্ধে মিছিল এবং পুলিশের উপর হামলা করতাম!
সতেরো বছর বয়সী কিশোর হয়েও তখন যে জিহাদি ঝাঁজ ছিলো অামার, তা ভাবলে এখনো শিউরে উঠি!

২০০০ এবং ২০০১ সালে সারাদেশব্যাপী ইসলামি শক্তির উত্থান ঘটে সুবিধাবাদী ক্রিমিনাল রাজনীতিকদের কারণে। তখন অাওয়ামীলীগ নেতারা মাথায় টুপি পরে হিন্দুদের বাড়িঘরে ঢুকে মেয়েদেরকে ধর্ষণ করতো, হিন্দুদের বাড়িঘরে লুটপাট করে তাদের টাকাপয়সা ও স্বর্ণালংকার কেড়ে নিত, হিন্দুদেরকে ভয়ভীতি দেখিয়ে নামমাত্র মূল্যে বা বিনামূল্যে তাদের জমিজমা জবরদখল করতো, বাধ্য হয়ে হিন্দুরা ভারতে পাড়ি জমাতো!
মার্কামারা অাওয়ামীলীগার, যেমন নারায়ণগঞ্জের গডফাদার, ফেনীর হাজারী এবং লালবাগের হাজী সেলিম মার্কা রাজনীতিবিদেরা হিন্দুদেরকে ভয় দেখাত এই বলে - ভবিষ্যতে বিএনপি-জামাত জোট ক্ষমতায় এসে তোদের কচুকাটা করবে, সময় থাকতে জমিজমা সব দিয়ে জান এবং ইজ্জত নিয়ে ভারতে যা!

সংখ্যালঘুদের জন্য লাউ এবং কদু একই জিনিস, ক্ষমতায় যে-ই অাসুক না কেন, তাদের জমিজমা, নারী, টাকাপয়সা সংখ্যাগুরুদের জন্য ফ্রি!!

শায়খুল হাদিস, অাহমদ শফি, চরমোনাই পীর, মুফতি অামিনী, মুফতি শহিদুল, মুফতি হান্নান সহ সিনিয়র অালেমরা অারবভিত্তিক বিভিন্ন সংস্থার অনুদান পেয়েছিল। মিছিল এবং হরতালে প্রচুর টাকা খরচ হয়েছিল, এর কিছু অংশ বহন করেছে অাওয়ামীলীগের কতিপয় গডফাদার ও দুর্নীতিবাজ, অার অারবের টাকা তো রয়েছেই!

অাবার এসব কিছুর সাথে ছিল জামাত-বিএনপির নোংরা রাজনীতিও । খালেদা জিয়া অারবের কূটনীতিকদের ডেকে কান্নাকাটি করে জানিয়েছিলেন - 'ইসলাম রসাতলে গেল; অাওয়ামীলীগ ভারতের দালাল, অাপনারা সরকারের উপর চাপ প্রয়োগ করুন।'
ধর্মব্যবসায় তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ এবং ধর্মপক্ষ সবাই সমানে সমান !

২০০১ সালে টুইন টাওয়ারে হামলা হলো, অামি এবং সব হুজুররা খুশি হয়েছিলাম। ইহুদী-নাসারাদের গর্বের উপর অাল্লাহর সৈনিক ওসামা বিন লাদেনের হামলা সর্বোত্তম জিহাদ, অামাদের শেখানো হলো। অাফগানিস্তানের উপর অামেরিকার হুংকারে অামরা তখন প্রচন্ড ক্ষিপ্ত হলাম, অামাদের জিহাদি ট্রেইনাররা অামাদেরকে রাতে এসে জিহাদের স্বপ্ন দেখাতে লাগলো। অাফগানে হামলা হলেই মুসলিম বনাম কাফেরদের বিশ্বযুদ্ধ শুরু হবে, যুদ্ধ হলে অামেরিকা-ইউরোপের সাদা সুন্দরী মেয়েদেরকে 'গনিমতের মাল' হিসেবে পাওয়া যাবে! সবাই সাদা মেয়েদেরকে গনিমতের মাল হিসেবে পাবার স্বপ্নে বিভোর হলাম !
অামাদের জিহাদি প্রশিক্ষকেরা বলতো - "১৯৯৬সালে আমীরুল মুজাহিদীন শায়খ উসামা বিন লাদেন আমেরিকার বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, মুসলমানদের প্রথম কিবলা বায়তুল মুকাদ্দাস ফিরিয়ে দাও; আরব উপদ্বীপ থেকে ইয়াহুদী-খৃষ্টান মার্কিন সৈন্য হটিয়ে নাও।"
সুতরাং অামীরুল মুমিনীন ওসামা বিন লাদেনের ডাকে জিহাদে ঝাঁপিয়ে পড়া সবার জন্য ফরজ।
অামরা জান্নাতের বাহাত্তর হুর এবং দুনিয়ায় অামেরিকান গনিমতের অাশায় বুক বাঁধলাম!

চট্টগ্রামের হাটহাজারী, পটিয়া, লালখান বাজার, দারুল মা'অারিফ মাদ্রাসা হতে জিহাদি প্রশিক্ষকেরা অাসতো। তাদের অর্থের জোগান দেয়া হত বিভিন্ন অারব এনজিও থেকে। সৌদি, অাফগানিস্তান ও পাকিস্তান ছিল তাদের সারাক্ষণের অালোচ্য বস্তু। হরকাতুল জিহাদ তখন প্রকাশ্যে জঙ্গি রিক্রুট করতো, অামাদের হুজুররা সবই জানতেন।

হেদায়া কিতাব সমস্ত কওমি মাদ্রাসায় পড়ানো হয়। হেদায়ার কিতাবুস সাইর বা জিহাদ অধ্যায়ে জিহাদ করার হুকুমের বিস্তারিত লেখা অাছে।
ঢাকা, চট্টগ্রাম সহ সব শহরগুলোয় মাদ্রাসার ছাত্র, শিক্ষকরা মার্কিনবিরোধী মিছিল করতো। ঢাকার পল্টন ময়দানে প্রায় দিনই মিছিল করতাম অামেরিকা ও ইহুদী-নাসারার বিরুদ্ধে। প্রথমদিকে হুজুরদের কাছে শুনেছি - টুইন টাওয়ারে হামলা একটি মহান জিহাদ।
যদিও কয়েকবছর পর ১৮০ ডিগ্রী সরে গিয়ে হুজুররা বলতে লাগলেন - টুইন টাওয়ার হামলা ইহুদীদের ষড়যন্ত্র!

৭ অক্টোবর ২০০১ সালে অাফগানিস্তান অাক্রমণ করা হলো। সমস্ত কওমি মাদ্রাসায় অাফগানী মুজাহিদীনের (জিহাদি) জন্য দোয়া, অাহাজারি চলতে লাগলো। অামেরিকা ও কুফুরি শক্তির বিরুদ্ধে বদদোয়া বা কুনূতে নাজেলা পড়া শুরু হলো।

২০০২ সালে মালিবাগ চৌধুরীপাড়ায় একটি মসজিদ ভেঙ্গে ফেলার ঘোষণা শুনে অামরা মালিবাগ মাদ্রাসার ছাত্ররা বিক্ষুব্ধ হয়েছিলাম, হুজুররাও অামাদেরকে অাল্লাহর ঘর বাঁচাতে জিহাদি মন্ত্রে উজ্জীবিত করলেন। অামরা শপথ করলাম - গায়ে একফোঁটা রক্ত থাকতে অাল্লাহর ঘর ভাঙতে দেবোনা! ইনকিলাব এবং সংগ্রাম পত্রিকার লিখনিও তখন উস্কানি দিচ্ছিল অামাদেরকে।
তখন জেহাদি চেতনা নিয়ে মিছিল করেছিলাম অামরা, অানসার-পুলিশের গুলিতে মালিবাগ ও চৌধুরীপাড়া মাদ্রাসার চারজন ছাত্র প্রাণ হারিয়েছিল সেদিন। অাহত হয়েছে অনেকে, এ ঘটনায় প্রচন্ড বিক্ষুব্ধ হয়ে অামরা সবাই শহীদ হওয়ার প্রতিজ্ঞা করেছিলাম, পুলিশের সাথে জেহাদ করার শপথ করেছিলাম। সরকারের চাপে হুজুররা তখন অনেক কষ্টে অামাদেরকে নিয়ন্ত্রণ করেছিলেন। পায়ে গুলিবিদ্ধ অামাদের সহপাঠীদের দেখতে রাত দুইটার সময়ে পঙ্গু হাসপাতালে গিয়েছিলাম, অাশরাফ ইয়াছিনের হাঁটুর নিচে গুলি লেগেছিল। সারা ঢাকায় পুলিশ পাহারা ছিল।
পরদিন মালিবাগ মাদ্রাসায় তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের নেতারা এসেছিল, ছাত্র-শিক্ষকদের সাথে শোকপ্রকাশ করেছিল। মির্জা অাব্বাসের কথা মনে পড়ে, অাব্বাস সাহেব এ 'ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অপরাধীদেরকে অাইনের অাওতায় অানা হবে' ঘোষণা দিয়েছিলেন। অামরা চিৎকার করে বলেছিলাম - "ফাঁসি দিতে হবে!".....

অনেক পরে জানতে পেরেছি - কতিপয় ভূমিদস্যু সরকারি জায়গা দখল করার পাঁয়তারা করেছিল। সরকার সে জায়গা উদ্ধার করতে গেলে জায়গার প্রবেশপথে রাতারাতি তারা মসজিদ বানিয়ে ফেলে! সরকার জায়গা উদ্ধারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়ে রাতারাতি তৈরি মসজিদও ভাঙ্গার ঘোষণা দেয়। ভূমিদস্যুরা তখন ধর্মীয় অাবেগে ভরা লিফলেট ছাপিয়ে সব মসজিদ-মাদ্রাসায় বিলি করে।
এরপরই ঘটে ঘটনাসমূহ.... মারা যায় অামার কিছু সহপাঠী, না বুঝে ভূমিদস্যুদের লোভ এবং হুজুরদের ধর্মীয় গোঁড়ামির কারণে খালি হয়ে যায় চারটি মায়ের কোল!

অাবার চলতে লাগলো অামার পড়াশোনা.....।

(ধারাবাহিকভাবে চলবে)

Comments

গোলাপ মাহমুদ এর ছবি
 

ভাই মাসুদ, হুর-গেলমানের পথ ছেড়ে কেন যে নূরের আলো জ্বালানোর পথে যোগ দিলেন! এই পথ যে কতটা বন্ধুর ও বিপদ সংকুল তা বোধ করি হাড়ে হাড়ে বুঝতে পারছেন! 'শাসক-যাজক' চক্রের বহু হাজার বছরের ধর্ম নামের এই লাভজনক ব্যবসার অংশীদারিত্ব ছেড়ে মুক্ত-চিন্তার মানুষদের সাথে কাঁধ মেলানোর জন্য আপনাকে আমার 'স্যালুট'! আপনার ভিডিওগুলো আমি মনোযোগী হয়ে দেখি, লিখতে থাকুন।

গোলাপ মাহমুদ

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

মুফতি মাসুদ
মুফতি মাসুদ এর ছবি
Offline
Last seen: 4 দিন 22 ঘন্টা ago
Joined: সোমবার, আগস্ট 14, 2017 - 6:00অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর