নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 6 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • আব্দুর রহিম রানা
  • নরসুন্দর মানুষ
  • কাঠমোল্লা
  • সাইয়িদ রফিকুল হক
  • দীব্বেন্দু দীপ
  • দ্বিতীয়নাম

নতুন যাত্রী

  • হুসাইন মাহমুদ
  • অচিন-পাখী
  • শুভ্র আহমেদ বিপ্লব
  • রোহিত
  • আকাশ লীনা
  • আশরাফ হোসেন
  • হিলম্যান
  • সরদার জিয়াউদ্দিন
  • অনুপম অমি
  • নভো নীল

আপনি এখানে

রোহিঙ্গা এবং চাকমা জনগোষ্ঠী : মিল অমিল


ছবি চাকমা জাতির মুখ

১৯৭৮ থেকে বার্মিজ মগদের তাড়া খেয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে থাকে রোহিঙ্গারা। যে সংখ্যা এখন ন্যুনতম ১১-লাখ ছাড়িয়েছে বলে মনে করা হয়। বিতাড়িত রোহিঙ্গারা অধিকাংশ খালি হাতে এসেছে বিধায় খুবই খারাপ অবস্থা তাদের। ১৬/১৭-কোটি মানুষের ভারে ভারাক্রান্ত দরিদ্র বাংলাদেশ এতো সমৃদ্ধশালী নয় যে, ১১-লাখ অতিরিক্ত মানুষকে তারা সুন্দর বাসস্থান, ভাল খাবার আর স্বাস্থ্যসেবা দিতে পারবে। ১১-লাখ মানুষকে রান্নার চুলা দিলেও ১১-লাখ নতুন চুলা দরকার। ১১-লাখ হাড়ি-পাতিল, দা-কুড়োল কত কিছুইনা দরকার এসব মানুষের জন্যে।
:
তাই অনেক রোহিঙ্গা অভুক্ত কিংবা গাছতলাতে, বৃষ্টিতে ভিজে জীবন কাটাচ্ছে। একখন্ড পথিলিন মাথায় দিয়ে কেউ অপেক্ষা করছে গাছতলাতে। তারপরো তাদের চোখে মুখে কৃতজ্ঞতা শেখ হাসিনা, বাংলাদেশ সরকার, বাঙালি জাতি আর বাংলাদেশ সেনাবাহিনির প্রতি। রোহিঙ্গারা অসন্তুষ্ট নয় বাঙালি আর বাংলাদেশের প্রতি। মনে করা হয়, অনেক রোহিঙ্গার সন্ত্রাসী জঙ্গীবাদের সাথে সম্পর্ক থাকতে পারে, তারপরো বর্তমান আলীগ সরকার সম্পূর্ণ মানবিক কারণে "রিস্ক" থাকার পরও এদের পাশে দাঁড়িয়েছে বিপন্ন মানুষ হিসেবে।
:
১৯৪৭ সনে ভারতের বিহার থেকে আগত তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে অবস্থানকারী এবং ১৯৭১ এ আমাদের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে বিরোধীতাকারী প্রায় ১০-লাখ বিহারীকেও গ্রহণ করেনি বিশ্বের কোন দেশ, না পাকিস্তান না ভারত। তারাও বাংলাাদেশের বেশ কটি ক্যাম্পে ১৯৭২ থেকেই অবস্থান করছে এরা। বাংলাদেশ তাদের নাগরিকত্ব না দিলেও, তাদের বার্মার মত তাড়িয়েও দেয়নি। তারা মূল ধারার বাঙালির মত সুবিধাপ্রাপ্ত শ্রেণি নয় বাংলাদেশে। তারপরো তারা বাংলাদেশ সরকার, বাঙালি জাতির বিরুদ্ধে কখনো কোন কটুক্তি করছে না। তারা অনুতপ্ত তাদের একাত্তরের বাংলাদেশ বিরোধী ভূমিকার জন্যে। এবং কৃতজ্ঞ বাঙালি জাতি তাদের হত্যা না করে এ দেশে থাকতে দিয়েছে এ কারণে, যদিও তারা বাংলাদেশি বা বাঙালি নন।
:
সাঁওতাল, কোচ, মনিপুরী, রাখাইন, মুরং, খাসিয়া, গারো, হাজং, মারমা, মগ, পাংখো, রাজবংশী, খুমি, ত্রিপুরা, কুকি, চক, হাদুই, লুসাই, হদি, বাওয়ালী, ওঁরাও, তনচংগা, বনযোগী, মৌয়ালী, খিয়াং, মাহাতো, ডালু, রাজবংশী, তুরি, কন্দ, পাত্র, গণ্ড, মুন্ডা প্রভৃতি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মত চাকমারাও বাংলাদেশের একটা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী তথা উপজাতি। বাংলাদেশ সংবিধানের ২৩(ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বাংলাদেশে কোন আদিবাসী নেই, কারণ আদিবাসি ধরা হলে, এদেশে কে আদিবাসি হবে তা নিয়ে নানাবিধ জটিলতার সৃষ্টি হবে। কারণ বাঙালি নৃগোষ্ঠী এ রাঢ় ভূভাগে হাজার বছর থেকে বসবাসরত। তা ছাড়া নিউজিল্যান্ডের "মাউরি" দেশ যেমন বহিরাগত বৃটিশ দখল করেছিল, আমেরিকার "রেড ইন্ডিয়ান"দের দেশ যেমন বহিরাগত ইউরোপিয়ানরা দখল করেছিল, মেক্সিকোর "মায়ান"দের দেশ যেমন বহিরাগত স্পানিশরা দখল করেছিল, সেখানে বাঙালিরা কোন "চাকমাদেশ" কখনো দখল করেনি। বরং চাকমা ও অনেক মঙ্গোলীয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী নানাবিধ কারণে এ ভূভাগে বসতি গড়তে ২০০-৩০০ বছরের মধ্যে এখানে এসেছিল। যেমন বার্মা থেকে রাখাইনরা জীবন বাঁচাতে পটুয়ালাখিতে বসতি গড়তে এসেছিল দেড়শ বছর বা কাছাকাছি সময়ে। এখন রাখাইনরা যদি তাদের "আদিবাসি" দাবী করলে তা কি হাস্যকর হবেনা?
:
চাকমাদের বর্তমান মিয়ানমারের আরাকানে বসবাসকারী ডাইংনেট জাতিগোষ্ঠীর একটি শাখা হিসেবে গণ্য করা হয়। বর্তমানে বার্মার রাখাইন রাজ্যে প্রায় ৮০,০০০ চাকমা বসবাস করছেন। বার্মায় চাকমারা মূলত ডাইংনেট জনগোষ্ঠী নামে পরিচিত। সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য তাত্ত্বিক অভিমত অনুযায়ী, চাকমারা মূলত ছিল মধ্য মায়ানমার ও আরাকান এলাকার অধিবাসী (সূত্র : বাংলাপিডিয়া)। অন্য এক অভিমতে বলা হয়, চাকমারা উত্তর ভারতের চম্পকনগর থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে অভিবাসী হিসেবে আসে। আঠারো শতকের শেষের দিকে কেবল পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলই নয় বরং আজকের চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার পাহাড়ি এলাকাগুলিতে চাকমাদের বিক্ষিপ্ত অবস্থান লক্ষ্য করা যায়। কারো মতে, চাকমারা চন্দ্র বংশের খত্রীয়দের উত্তরসূরী কিন্তু তাদের চেহারার বা মুখমন্ডলের বৈশিষ্ট্য আর্যদের চেয়ে মঙ্গোলীয়দের সঙ্গে অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ।
:
১৮৮১ সালের দিকে বৃটিশ সরকার পার্বত্য চট্টগ্রামকে তিনটি সার্কেলে ভাগ করার সিদ্ধান্ত নেন। এবং এই সার্কেলের নামমাত্র শাসকদের "সার্কেল চীফ" হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এই সার্কেল গুলো হল - চাকমা সার্কেল, বোমাং সার্কেল এবং মং সার্কেল। চাকমা সার্কেল চাকমাদের নিয়ে, আরাকানী বংশোদ্ভূত বোমাং প্রধানের দায়িত্বে বোমাং সার্কেল এবং আরাকানী ভাষাভাষী জনগোষ্ঠী ও ত্রিপুরা অঞ্চলের অভিবাসীদের নিয়ে গঠিত হয় মং সার্কেল। ১৭৭৬ সালেও চাকমারা রাজা দেওয়ান রানু খানের নেতৃত্বে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে, তারা ‘আঘাত কর এবং পালিয়ে যাও’ ছিল তাদের যুদ্ধের কৌশল। ১৬৫০ সালের তৃতীয় চাকমা রাজা চমন খান থেকে শুরু করে পরবর্তী ১৮৫৫ সাল পর্যন্ত ১৮তম চাকমা রাজা কালিন্দী রানী পর্যন্ত অধিকাংশ চাকমা রাজাই মুসলমান ছিল। অর্থাৎ চাকমারা মূলত মুঘল বংশ থেকে উদ্ভূত, সে কারণেই হয়তো মুসলিম জাতির মতই চাকমারা উগ্র প্রকৃতির। সাধারণ বাঙালির মত শান্তিপ্রিয় নয়। ।
:
চাকমাদের বেশভুষা, ভাষা ও আলাপ পদ্ধতি ও বাচনভঙ্গি তিব্বতী- বার্মিজ গ্রুপের ভাষার একটা মিশ্রণরূপ। এর ওপর ভিত্তি করে অন্য ধরনের একটা মতবাদও চালু রয়েছে যে, চাকমারা বার্মার আরাকান এবং থান থেকে আগত অভিবাসী। তাদের মতে, ১৮শ শতাব্দিতে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে বিতারিত হয়ে পাবর্ত্য চট্টগ্রামে আশ্রয় নেয় চাকমারা।
:
চাকমা লিপি আগরতারা নামেও পরিচিত। পূর্ব ইন্দো-আরিয়ান ভাষা বংশের এটা একটি ভাষা, যার সাথে বার্মিজ ভাষার বেশ সাদৃশ্য বিদ্যমান। চাকমারা পূর্বে হরি ধর্মের অনুসারী হলেও, পরবর্তীতে বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহণ করে। তবে বর্তমানে অনেকে খ্রিস্টান ধর্মে দীক্ষাও নিচ্ছে। ইসলাম ধর্ম গ্রহণের আগে রোহিঙ্গারও হরি ধর্মের অনুসারি ছিল বলে জানা যায়। সে হিসেবে রোহিঙ্গা ও চাকমাদের মূল একই হতে পারে।
:
কৃষি চাকমাদের প্রধান পেশা হলেও, উইকির মতে অনেক চাকমা "চাঁদাবাজী করে জীবিকা নির্বাহ করে"। মূলত চাকমারা বাংলাদেশে নানাবিধ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এমন কথা বলে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি গঠন করে ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাথে সশস্ত্র যুদ্ধে লিপ্ত হয়। সরকারের সাথে ঐ সমিতির চুক্তি হলেও, চাকমাদের অন্তত ৩-টা গ্রুপ ঐ চুক্তির বিরুদ্ধে দাঁড়ায় ও চুক্তি বাস্তবায়নে নানাবিধ জটিলতার সৃষ্টি করে। যে কারণে সরকারের মনোভাব অনেক ইতিবাচক হলেও, উগ্রবাদি চাকমাদের কারণে চুক্তি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। যদিও বাংলাদেশে চাকমাদের সংখ্যা মাত্র ২ লাখ ৩৯ হাজার ৪১৭ জন। ১৬/১৭ কোটি মানুষের দেশে তা কত শতাংশ তা ভাল ক্যালকুলেটর দিয়ে বের করতে হবে।
:
১৬ কোটি মানুষের ঠাসাঠাসি অবস্থানের কারণে নদীভাঙা ভূমিহীন নি:স্ব দরিদ্র সমতলের বাঙালিদেরকে সরকারী ব্যবস্থায় অভিবাসের পরিকল্পনা শুরু করে সরকার পার্বত্য জেলাতে। কিন্তু চাকমারা (এবং তাদের সাথে আরো কেউ কেউ) পার্বত্য জেলাতে বাঙালিদের পুর্নবাসনের বিরোধিতা শুরু করে তাদের পাহাড়ি জীবন ধ্বংসের আশংকায়। যদিও তারা কোটার মাধ্যামে আধুনিক বাঙালি শহুরে জীবন বেছে নিতে অস্বীকার করেনা। পার্রত্য জেলাগুলোতে বসতি গড়া দরিদ্র বাঙালিরা যেন নিজ দেশে পরবাসী ঐসব উগ্র সন্ত্রাসি চাঁদাবাজ চাকমাদের কারণে। আবারো বলি, কিছু চাকমা মানবিক, যারা একত্রে মিলে মিশে থাকতে চায় পাহাড়ি বাঙালি এক হয়ে, যদিও তাদের সংখ্যা ১-২% এর বেশি নয়। উগ্র চাকমাদের চাপে তারা কোনঠাসা!
:
সুতরাং রোহিঙ্গা, বিহারীরা বাংলাদেশে বসবাস করেও, এদেশের তেমন কোন সুবিধা না পেয়েও, তারা কৃতজ্ঞ বাঙালিদের প্রতি। বিহারীরা অনুতপ্ত তাদের ১৯৭১ এর কৃতকর্মের জন্যে। কিন্তু ১৯৭১ এ চাকমা রাজাসহ ৯৯% চাকমা বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধী থাকলেও, তারা কখনো অনুতপ্ত হয়নি তাদের একাত্তরের ভূমিকার জন্যে। যেমন অনুতপ্ত নয় বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামি। এবার নিজ বিবেকের কাছে প্রশ্ন করুন, মাত্র আড়াই লাখ ক্ষুত্র নৃগোষ্ঠীর একটা গোত্রের উগ্র দেশ ও রাষ্ট্রবিরোধিী কথাবর্তা কি আপনি মেনে নেবেন, নাকি জাগ্রত করবেন নিজের বিবেক, বোধ আর প্রজ্ঞাকে?

রোহিঙ্গা জাতির মুখ

Comments

ড. লজিক্যাল বাঙালি এর ছবি
 

!

===============================================================
জানার ইচ্ছে নিজেকে, সমাজ, দেশ, পৃথিবি, মহাবিশ্ব, ধর্ম আর মানুষকে! এর জন্য অনন্তর চেষ্টা!!

 
সুবর্ণ জলের মাছ এর ছবি
 

খুব সুন্দর গল্প। চমৎকার

 
সুবর্ণ জলের মাছ এর ছবি
 

বাহ খুব সুন্দর !

 
সুবর্ণ জলের মাছ এর ছবি
 

যৌক্তিক লেখা

 
হেজিং এর ছবি
 

বাহ! নিজে বাঙালি বলে বাঙ্গালির সাফাই গাইছেন?আমার জানা নেই কোন দিক দিয়ে বাঙালি শান্তিপ্রিয় জাতি! তবা হ্যা চারপাশে তাকালে দেকা যায়!!! কথাই কথাই যে শব্দগুলো বলেন আপনারা উপজাতি,ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্টী এগুলর অর্থ জানেন তো???
আপনাকে তথাকথিত রোগীদের মত ম্নে হ্ল...।।তাই নিচের লেখাটি আপনার জন্য...
যেহেতু আপনি বলে থাকেন জানার ইচ্ছা...আশা করি লেখাটি শেষ পর্যন্ত পড়বেন......
রোগীর কয়েকটি প্রাইভেট প্রশ্ন (উত্তরসহ)
প্রশ্নঃ আপনারা তো উপজাতি। নিজেদেরকে এভাবে আদিবাসী বলছেন কেন?
উত্তরঃ প্রথমেই বলি, ‘উপজাতি’ শব্দটা যে বা যারাই প্রচলন করে থাকুক তাদের মাথায় হয়তো ছিলনা যে, যাদের উপর শব্দটি প্রযোজ্য হচ্ছে তারা সেই শব্দটাকে একমসয় কিভাবে নিবে, বিশেষত শিক্ষার বিস্তারের সাথে সাথে। এমনও হতে পারে শাসকশ্রেণী সচেতন ভাবেই কাজটি করেছে, উপজাতি বলতে ছোট, অধঃস্তন, নিম্নশ্রেণীর জাতিকে বোঝানো হয় এটা মাথায় রেখেই করেছে।
অন্যথায় ইংরেজি ট্রাইব শব্দের বাংলা কোন বিচারেই ‘উপজাতি’ হয় না। ‘উপ’ বলতেই চোখের সামনে ভাসে যারা এখনও জাতি হয়ে উঠেনি। জাতির ‘উপ’ কিভাবে হয়; আমার থেকে ভিন্ন একটি জাতিকে সংখ্যায় ছোট বলে আমি উপজাতি বলতে পারিনা। বিষয়টা যাদেরকে বলা হচ্ছে তাদের জন্য খুবই অপমানজনক এবং অসম্মানজনক, সেকারণেই যথাযথ নয়।
কথা হচ্ছে কেউ যদি না চায় আপনি তো তাকে সেই নামে ডাকতে পারেন না৷ ‘আদিবাসী’ সে তুলনায় কিছুটা সম্মানজনক। বাংলা সাহিত্যের লেখকরা শব্দটা বহু আগে থেকেই ব্যবহার করে আসছেন৷ শব্দটার দ্বারা কাদের বুঝানো হয় তাও খুব স্পষ্ট।
প্রশ্নঃ কিন্তু আদিবাসী মানে তো আদি বাসিন্দা। আপনারা তো অঞ্চলের আদি বাসিন্দা না।
উত্তরঃ দেখুন আপনি যদি ‘আদিবাস’ হিসাব করে আগান তাহলে এদেশের মুল আদিবাসী হলো কিছু ছোট সম্প্রদায় যাদের আপনারা এখনও ‘উপজাতি’ আখ্যা দিয়ে রেখেছেন ভারতীয় উপমহাদেশের পটভূমিতে দেখলে সাঁওতাল, মুণ্ডা, ওঁরাও, ইরুলা ইত্যাদি জনগোষ্ঠীর মূল অস্ট্রো-এশিয়াটিক, প্রায় ৩০ হাজার বছর আগে ফিরে যেতে হবে- আর্য, নিষাদ বা দ্রাবিঢ়দের আগমনের বহু আগে থেকেই এরা এখানে ছিল।
কিন্তু আদিবাস হিসাব করে আদিবাসী শব্দটি ব্যবহৃত হয়নি, অন্তত বাংলা ভাষায়। বিংশ শতকের প্রথম ভাগে সাঁওতাল বিদ্রোহ, তেভাগা আন্দোলন, কোচ-মুণ্ডা বিদ্রোহ– ইত্যাদি রক্তক্ষয়ী আন্দোলনকে নিখিল ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি প্রথম ‘আদিবাসী বিদ্রোহ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে; সেই সময় থেকে ‘আদিবাসী’ শব্দটি সাহিত্য এবং লেখালেখিতে প্রচলিত হতে থাকে।
ভারতে তিব্বতি-বর্মী জনগোষ্ঠীর আগমন পরে হলেও তাদেরকে আদিবাসী বলে গণ্য করা হয়। এর মূল কারণ- যে সমস্ত জায়গায় তারা বসতি করেছে সেখানে ভারতের বৃহত্তর আর্য-দ্রাবিড় গোষ্ঠী আস্তানা গাড়ে নি। তাই নাগা, আপতানি ও খাসিদেরও সেখানে আদিবাসী বলে গণ্য করা হয়। … এদেশেও বহু জনগোষ্ঠি আছে ভারত, পাকিস্তান বা বাংলাদেশ রাষ্ট্রের রাজনৈতিক সীমানা নির্ধারিত হবার আগে থেকেই যারা এখানে বাস করে আসছে৷
অষ্টাদশ শতকে মণিপুরিরা মণিপুর থেকে এঅঞ্চলে বসতি গেড়েছে, জঙ্গলাকীর্ণ প্রাকৃতিক ভূখন্ড বাসযোগ্য করেছে৷ পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়িরা এসেছে তারও আগে৷ কিছু পার্বত্য জাতির পরিচয় এখানেই সৃষ্টি ও বিকাশ হয়েছে৷ পার্বত্য অঞ্চলে ভাষাগত সংখ্যালঘু প্রান্তিক জনগোষ্ঠিরাই আদি বাসিন্দা; সেই হিসাবে বর্তমানে তারা যেখানে বাস করছে সেটাই তাদের আদি আবাসস্থল।
বিভিন্ন ব্রিটিশ ও ভারতীয় লেখকদের একাউন্ট এবং জনগণনার রিপোর্টগুলো তাই বলে। ১৯৪৭ সালে যে পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়িদের সংখ্যা ছিল শতকরা আটানব্বই ভাগ। এইসব উপাত্ত দেখেই বুঝা যায় ঐসব স্থানে সবার আগে কারা বসতি স্থাপন করেছে। ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলে অসংখ্য আইন ও দলিলপত্রে এইসব জনগোষ্টিকে চিহ্নিত করতে ‘ইন্ডিজিনাস’ এবং ‘ট্রাইবাল’ কথাটি ব্যবহৃত হয়, যা ‘আদিবাসী’ কথার সমর্থক।
প্রশ্নঃ কিন্তু জাতিসংঘ ‘ইন্ডিজিনাস’ বা আদিবাসীর যে সংজ্ঞা নিরুপণ করেছে সে অনুসারে দেখা যায় বাঙালিরাই আদিবাসী, আইএলও কনভেশনে বলা আছে উপজাতিরা আদিবাসী না ইত্যাদি। এ বিষয়ে অনেক লিংক আছে।
উত্তরঃ জাতিসংঘ ‘ইন্ডিজিনাস’ এর যে সংজ্ঞা নিরুপণ করেছে সে অনুসারে অগ্রসর হলে পাহাড়িদেরকেই আদিবাসী বলতে হবে। আইএলওর সংজ্ঞা অনুসারেই। একটা রাষ্ট্রের সংখ্যাগুরু ও মুলস্রোতের জাতি জাতি কখনও আদিবাসী হয় না। বাংলাদেশ ছাড়া পৃথিবীর কোথাও এমন দাবী করা হয়না।
আইএলও’র সংজ্ঞায় আদিবাসী বলতে রাষ্ট্রসীমানায় বসবাসরত প্রান্তিক জন যারা স্মরনাতীত কাল থেকে নিজেদের সামাজিক,অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক প্রথাগুলো ধরে রাখতে পেরেছে। বিশ্ব ব্যাংক কার্যক্রম নীতিমালায় আদিবাসী/ইনডিজিনিয়াস বলতে সার্বিক স্বতন্ত্র, বিপন্ন এবং ঝুঁকিগ্রস্ত সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যপূর্ণ এক জনগোষ্ঠীকে বোঝানো হয়েছে। ..লিংক আমার কাছেও অনেক আছে।
প্রশ্নঃ আচ্ছা এই আদিবাসী পরিচয়ে জাতিসত্তাগুলোর পরিচয় আড়াল হয়ে যাচ্ছে না?
উত্তরঃ এক্সেক্টলি। উপজাতি বা আদিবাসী এইরকম ক্যাটাগরিকরনের ধারনার সাথে ব্যাক্তিগতভাবে আমি একমত নই। এরকম ক্যটাগরিকরনে অনেকেরই জাতিগত পরিচয় বিলীন হয়ে যায় কারণ প্রত্যেক জাতিরই নিজস্ব জাতিগত পরিচয় ও বৈশিষ্ট্য রয়েছে।
শ্রেনীকরনের সাথে শোষনের একটা যোগসূত্র আছে; দুর্বলদের একটা ক্যাটাগরিতে নিয়ে ফেলতে পারলে শোষণপ্রক্রিয়া সহজ হয়। কিন্তু সরকার এবং শাসকশ্রেণী যেহেতু ঠিক করেই ফেলেছে বাঙালিভিন্ন সবাইকে একটা ক্যাটাগরিতে নিয়ে ফেলবে, তাই আমি আদিবাসী শব্দটির পক্ষে নিজের অবস্থান নিয়েছি।
প্রশ্নঃ ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠি’তে সমস্যা কি?
উত্তরঃ ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠি’র সাথে ‘উপজাতি’র আসলে বেসিক পার্থক্য নাই। দুইটাই ছোট বা ক্ষুদ্রতার পরিচায়ক। এটা মনস্তত্তের বিষয়। একটা মানুষকে সে যে ক্ষুদ্র সেটা তার নাম দিয়েই স্মরণ করিয়ে দেয়া হচ্ছে। বাঙালি আগে ছিল একাই একশো, মানে জাতি; আর বাকি যারা তারা ছিল সব উপজাতি।
এখন সময় সুযোগ বুঝে তারা বলছে আমরাই আদিবাসী, আর বাকীরা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠি। কিন্তু এখানে বাঙালির সাংষ্কৃতিক বা ভাষিক পরিচয়টা আর থাকলো না, হয়ে গেল পুরোপুরি ভূগোলকেন্দ্রিক। মনস্তত্বটা এমন – রাষ্ট্র আমাদের অতএব আমরা বড় বা বৃহৎ, তোমরা ছোট বা ক্ষুদ্র।
প্রশ্নঃ রাষ্ট্র হঠাৎ আদিবাসী পরিচয়ের বিপক্ষে দাঁড়াল কেন?
উত্তরঃ রাষ্ট্র আসলে চাচ্ছে চার দশক ধরে ছোট ছোট জাতিদের উপর চলা জবরদখল দমন নীপিড়নকে আড়াল করতে, পাহাড় এবং সমতল দু’জায়গাতেই। জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক জনগোষ্ঠি যেহেতু আদিবাসী বিষয়ে সেনসিটিভ, তাই আদিবাসী বিষয়ে দেশি বিদেশি মানবাধিকার সংগঠন এনজিও বা একটিভিস্টদের কন্ঠ রুদ্ধ করা গেলে আন্তর্জাতিক চাপ আটকানো যাবে।
‘আদিবাসী’ শব্দটা এই শাসকশ্রেনীই কিন্তু একসময় ব্যবহার করেছে। এখন নতুন করে এর অর্থ নিরুপন করে হিসাবনিকাশ কষা হচ্ছে তার কারণ পুরোপুরি রাজনৈতিক৷ এর সাথে বলব সংখ্যাগুরু বাঙালিদের উগ্র জাতীয়তা ও হীনমন্যতার সুযোগ নিয়েই তা করা হচ্ছে অথচ এই রাজনীতিবিদেরাই একসময় আদিবাসী দিবসে বড় বড় বাণী দিয়েছে, মিছিল করেছে৷
প্রশ্নঃ আগে বললেন ‘উপজাতি’ ‘আদিবাসী’ শব্দগুলো আপনার অপছন্দ, তাহলে ‘আদিবাসী’র পক্ষে কেন দাঁড়ালেন?
উত্তরঃ আমি আসলে ‘আদিবাসী’ শব্দটাকে একটা একটা অধিকার রক্ষার মেকানিজম হিসাবে দেখছি। এইদেশে সংখ্যালঘু জাতিসত্তাগুলোর অধিকার যে ঠিকমত রক্ষা হচ্ছে না তাতো পরিস্কার দেখাই যায়। নাহলে পার্বত্য চট্টগ্রামে বাঙ্গালী সংখ্যা এত অল্প সময়ের ব্যবধানে ৫% থেকে ৫২% কিভাবে হয়?
সমতলে ইকোপার্কের নামে বা পরিবেশ সংরক্ষনের নামে বনভূমি দখল হচ্ছে, খাসিয়া বা গারোদের ভূমি কেড়ে নেয়া হচ্ছে। এইসব আধিপত্যবাদ, জবরদখলের ঘটনা, নির্যাতনের সংবাদগুলো মিডিয়া ও জাতীয় সংবাদ মাধ্যমে বরাবরের মত অবহেলিত থেকে যায়। সংখ্যালঘু জাতিসত্তাদের অধিকার নিয়েও কেউ কিছু বলে না। মাঝে মাঝে ছোট আকারের প্রতিবাদ হলেও তা কখনও রাষ্ট্রের কানে পৌঁছায়না। ‘আদিবাসী’ নাম নিয়ে জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক মহলে এদের সম্বন্ধে যদি সামান্য সচেতনতাও সৃষ্টি হয়, সেটুকুই হবে পাওনা।
প্রশ্নঃ কিন্তু শিক্ষা বা চাকরিতে আপনাদের তো ৫% কোটা দেয়া হয়। তাহলে এত হাউকাউ করেন কেন?
উত্তরঃ কোটা সিস্টেম আসলে একটা ব্যালেন্স রক্ষার সিস্টেম- একটা রাষ্ট্র্রের সব শ্রেণীর মানুষদেরর মধ্যে ন্যায্যতা নিশ্চিত করার জন্যে। আয় কর্মসংস্থান স্বাস্থ্য শিক্ষা অবস্থান ও অবকাঠামোগত সুযোগ সুবিধা বিবেচনা করে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠিদের জন্য এই কোটাসুবিধা পৃথিবীর প্রতিটি দেশই দিয়ে থাকে। প্রতিবেশি ভারতসহ সব দেশেই আছে। এর সাথে আদিবাসী হওয়া না হওয়ার কোন সম্পর্ক নাই।
ভারতে মুসলিমদের জন্য ওবিসি কোটা আছে। বৃটিশ ভারতে বাঙালি মুসলিমরা কেবল কোটা নয়, পরীক্ষা ছাড়াই চাকরি পেতে চাইত। শেরে বাংলা, স্যার সলিমুল্লাহর মতো মানুষেরা কোটা সুবিধা নিয়ে সরকারি চাকরি করেছেন। কোটা সুবিধা যে কেবল ‘উপজাতি’রাই পায় তাতো না- মুক্তিযোদ্ধা কোটা, জেলা কোটা, মহিলা কোটা, পোষ্য কোটাও আছে। আর কয়জন কোটা সুবিধা ভোগ করে তাও বিবেচ্য বিষয়।
৫% হিসাবটা পুরোপুরি শুভংকরের ফাঁকি। শতকরা আশিভাগ সরকারী চাকুরিতে আদিবাসীদের জন্য এই কোটাবন্টন মানা হয় না। সরকারি স্কুলগুলোতে প্রতিবছর যতগুলো শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয় তার কয়জন ‘উপজাতি কোটা’য় নিয়োগ পায়?
বাংলাদেশের ৪৪টিরও বেশী আদিবাসী জনগোষ্ঠির জন্য সরকারী মেডিক্যাল কলেজ, ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয়, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট এবং ক্যাডেট কলেজ সবগুলো মিলিয়ে সাকুল্যে মাত্র ৮০টি আসন সংরক্ষিত আছে। শতকরা হিসাবে যেটা ০.২৫% এরও কম। পাহাড়ের কিছু অঞ্চলে প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহনের ব্যবস্থাও নাই। অস্তিত্বের সংকটের চেয়ে কোটা বড় নয়। একটা জাতির মানুষ যদি নিশ্চিহ্নই হয়ে যায় তাহলে কোটাসুবিধা দিয়ে আর কি হবে?
প্রশ্নঃ পাহাড়ি বা আপনার ভাষায় ‘আদিবাসী’রা সমতলে এসে আস্তানা গাড়তে পারলে সমতলের লোকেরা কেন পার্বত্য অঞ্চলে বসতি স্থাপন করতে পারবে না?
উত্তরঃ এই প্রশ্নটা ছাগু থেকে প্রগতিশীল সবাই করে থাকেন। কেউ না বুঝে করে। কেউ উত্তর জানা থাকা সত্ত্বেও করে কুতর্কের স্বার্থে। সবার আগে পাহাড়িদের সাথে আপনার সংস্কৃতির পার্থক্যটা বুঝতে হবে। এটা বিবেকের অন্তঃস্থল থেকে অনুধাবন করার বিষয়। একটা খিয়াং মেয়ে খোলামেলা পোশাকে পানি আনতে যাচ্ছে বা একজন ম্রো নারী স্বল্পবসনে জুমক্ষেত থেকে ফিরছে এই দৃশ্যের সাথে বাঙালি পরিচিত নয়। এটা পাহাড়িদের কাছে স্বাভাবিক হলেও উভয়পক্ষের সংস্কৃতির ক্ষেত্রে সাংঘর্ষিক।
এরমধ্যে আরেকদল বের হয়েছে যারা গলায় ওড়না না থাকলে নারীর উপর ঝাঁপিয়ে পড়তে চায়। পাহাড়ের বিশেষত্বটা অনুধাবন করা প্রয়োজন। পাহাড়ি এলাকা এবং জনগোষ্ঠীর এই বিশেষত্বটা ব্রিটিশরাও জানতো। সে কারণেই ব্রিটিশরা এই অঞ্চলকে আলাদা মর্যাদা দিয়ে শাসন করেছে।..
দ্বিতীয়ত, পুঁটিমাছের সাথে রাঘববোয়ালের তুলনা হয়না। বাঙালি অনেক বড় এবং বিকশিত জাতি। অন্যদিকে পাহাড়ের ক্ষুদ্র ক্ষ্রদ্র জাতিগুলোর খুব অল্প সংখ্যক মানুষ প্রাণপণে তাদের সংকটাপন্ন স্বকীয়তা রক্ষা করে যাচ্ছে। এজন্যই পার্বত্য অঞ্চলে বাঙালিদের বসতি স্থাপন আদিবাসীদের জন্য যতটা বিপদজনক, পাহাড়িরা সমতলে আস্তানা গাড়লে বাঙালিদের জন্য তা হুমকিস্বরূপ নয়।…
তৃতীয়ত, ভুমি হচ্ছে পাহাড়ের মানুষের একমাত্র অবলম্বন। ভূমির সাথে তার বেঁচে থাকা, ভাষা, সংস্কৃতি অস্তিত্বের প্রশ্ন জড়িত। অধিকাংশ পাহাড়ি হতদরিদ্র সরল প্রকৃতির বলে সহজেই ভুমিদস্যুদের চালাকির কবলে পড়ে সব বিক্রি করে দেয়। এভাবেই ধীরে ধীরে সে উচ্ছেদ হতে থাকে। সাথে বিলীন হয় তার বৈশিষ্ট্যপূর্ণ সংস্কৃতি। তার মানে এই না যে বাঙালিরা পাহাড়ে থাকতে পারবে না। অবশ্যই পারবে কিন্তু তারও একটা সীমা আছে।
বিশ্বের নানান রাষ্ট্রে এই জাতীয় বিশেষ এথনিক গ্রুপগুলো যাতে বানের তোড়ে ভেসে না যায় তার জন্য ব্যবস্থা রাখে। তাদের এলাকায় বসতি স্থাপনের মাত্রা বেঁধে দেয়া হয়, রিজার্ভ এলাকা গঠন করা হয়। পাহাড়ে বাঙালি বসতির অনুপাত যে অস্বাভাবিক হারে বেড়ে চলেছে তাতে পাহাড়িদের নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র।

 
ড. লজিক্যাল বাঙালি এর ছবি
 

!

===============================================================
জানার ইচ্ছে নিজেকে, সমাজ, দেশ, পৃথিবি, মহাবিশ্ব, ধর্ম আর মানুষকে! এর জন্য অনন্তর চেষ্টা!!

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

ড. লজিক্যাল বাঙালি
ড. লজিক্যাল বাঙালি এর ছবি
Offline
Last seen: 5 ঘন্টা 13 min ago
Joined: সোমবার, ডিসেম্বর 30, 2013 - 1:53অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর