নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 5 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • বিকাশ দাস বাপ্পী
  • মুফতি মাসুদ
  • নরসুন্দর মানুষ
  • সৈকত সমুদ্র
  • রাজর্ষি ব্যনার্জী

নতুন যাত্রী

  • আদি মানব
  • নগরবালক
  • মানিকুজ্জামান
  • একরামুল হক
  • আব্দুর রহমান ইমন
  • ইমরান হোসেন মনা
  • আবু উষা
  • জনৈক জুম্ম
  • ফরিদ আলম
  • নিহত নক্ষত্র

আপনি এখানে

নারীবাদ ও নারী অধিকারঃ স্বরুপ ও বাস্তবতা-সংশ্লিষ্ট প্রাসঙ্গিক আলোচনা



এইদেশে নারীবাদ ও নারীবাদী, এইসব নিয়ে নিজেরমত করে বলতে গেলে গায়ে কালোরঙ লেগে যাবে। চারপাশে অসংখ্য নারীবাদী সংগঠন, অনেক নারীবাদী পুরুষও। সুশীল সমাজে এদের বেশিরভাগের সাথেই মতের অমিল জানালে আপনি হয়ে যেতে পারেন টিপিকাল বর্বর পুরুষ, এমনকি নারীর সাথে নারীর মতের অমিলেও এক নারীর আরেক নারীকে "বান্দী মাইন্ডেড" ট্যাগ দিতে পারেন। মতের অমিলের কারণে সরাসরি আক্রমণ, চৌদ্দগুষ্টি উদ্ধার করা এইসব বর্তমান সময়ের ফেসবুক কালচার। রাজনীতি, সাহিত্য, দর্শন সহ সকল বিষয়ে ক্যাচালে জনতার সবচেয়ে পপুলার অবস্থান হচ্ছে, "তালগাছ আমার"। এভাবে নারীবাদীদেরও আবার ভাগাভাগি আছে। উচ্চশিক্ষিত ধর্ম না মানা মুক্তমনা নারীবাদী, ধর্মকে বগলের তলে রাখা নারীবাদী, দলকানা নারীবাদী ইত্যাদি ইত্যাদি। আবার পুরুষদেরও কেউ কেউ আছেন অন্তরে নারীর প্রতি সম্মান ধারণ না করলেও মুখে নারী অধিকার নিয়ে বিস্ফোরণ ঘটানো পাবলিক। আমার ধারণা এমন ফেক নারীবাদীদের নারীস্তুতি ও নারী নির্যাতনের কোনো ঘটনা ঘটলেই পুরুষজন্মলাভের গ্লানিতে লালবর্ণ ধারণ করা ভালোমানুষের ভেক ধরে নারীর কাছাকাছি এসে নারী সম্ভোগেরই কৌশলমাত্র। নইলে যে অপরাধ আমি করিনি, সেটায় দায় আমি নিতে যাব কেন? অপরাধ করে ব্যক্তি, আর তার বিচারের সময় লিঙ্গ সাপেক্ষে বিচার করা হয়না, বিচার হয় অপরাধের মাত্রার সাপেক্ষে। যাইহোক, নারীদের মধ্যকার নারীবাদীদের শ্রেণিভেদের ভাগগুলোকে একত্রে করলে অধিকাংশ নারীবাদী নারীর বক্তব্য ও মতামত পর্যবেক্ষণের পর মাথায় নারী ও পুরুষের যে বৈষম্য সেগুলোর একটা তালিকা করিঃ

- নারী ধর্ষণের শিকার হয় বেশি। নারীকে ধর্ষণ করে পুরুষ, তাই পুরুষজাতই খারাপ।
- নারী বিয়ের আগে মিস, বিয়ে হলে মিসেস। পুরুষ আগে ও পরে মিস্টারই থাকেন; এটা অন্যায়।
- নারী শ্রমিকের মজুরী আর পুরুষ শ্রমিকের মজুরি এক না। এই ব্যাপারে টিভি এডও ছিল। কাঙ্গালিনী সুফিয়ার তাতে ডায়লগ ছিল, "এইটা আবার কুন বিচার?" এই ডায়লগের সুত্র ধরেই "এ কেমন বিচার!" আসছে নাকি আমার আইডিয়া নাই।
- নারীরা গৃহসন্ত্রাসের শিকার। ঘরে ঘরে নারীদের প্রতিনিয়ত মেরে হাড্ডিগুড়া করা হয়।
- কর্মক্ষেত্রে নারীরা যৌন হয়রানির শিকার হন বহুগুণ বেশি।
- চাকরীবাকরীতে নানা সরকারী ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে নারীদের সংখ্যা শতকরা হারে অনেক কম।
- স্বামী বিনাকারণে তালাক দিয়ে চলে গেছে, ভরণপোষণ দেয় না।
- ব্যক্তিগত সম্পর্কের গোপন দৃশ্য অনলাইনে চলে এসেছে, মেয়েটাকে সবাই খারাপ বলছে, ছেলেটা দায়মুক্ত।
- দেনমোহর উসুল না করেই বিয়ে কনজিউম করা।
- যৌতুক দাবীতে পিটায়ে সাইজ দেয়া।
- স্বামী রান্না করেনা, বউকেই রান্নাবান্না সহ ঘরের সকল কাজ করা লাগে।
- পিরিয়ড চলাকালীন সময়ে কটূক্তির শিকার হওয়া ও এ সময়ে কর্মক্ষেত্র সহ নানা জায়গায় স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা না থাকা। কিছু দেশে এ সময়ে স্ববেতন ছুটি দেয়া হয়, আমাদের দেশে নাই।
- বিয়ের আশ্বাস দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক করেছিল, গর্ভবতী হবার পর সঙ্গী পালিয়েছে।
- স্বামী পরকিয়া করছে।
- ছেলেরা খোলামেলা পোষাক পরে, মেয়েদের এদেশে তেমন স্বাধীনতা নাই।

এইরকম আরও অনেক অনেক পয়েন্ট থাকতে পারে। উপরে লিস্ট করে যাওয়া পয়েন্টগুলো আসলেই অনায্য। এসব থাকা উচিত না। আমি বাংলাদেশী নাগরিক, তাই বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটেই লিখতে থাকি। কিন্তু আমি ব্যক্তিগতভাবে যা মনে করি সেটা হচ্ছে, নারী অধিকারের নামে অধিকাংশ নারীবাদীদের যে অধিকার আদায়সংক্রান্ত যে এপ্রোচ, সেটাই ঠিক নাই। এই এপ্রোচের কারণে মানুষে মানুষে ভেদাভেদ, বিদ্বেষ বাড়বে। মানুষে মানুষে বাড়বে বললাম, কারণ, নারী হোক বা পুরুষ, সবাই প্রথমে মানুষ। এইদেশের সংবিধান ও আইনও তাই বলে; বলে যে নারীপুরুষ সমান অধিকার। সংবিধান বলে জনগণের নায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার কথা। এই জনগণের ভিতর নারী পুরুষ ভাগাভাগি নাই। নারী ও পুরুষের একটাই ভোট। তবে নাগরিকেরা যদি ধর্ম পরিচয় দেন, তবে তাদের উপর নিজ নিজ ধর্মের নানা আইন আরোপিত হয়। যেমন, হিন্দু ও মুসলিমদের ভিন্ন ভিন্ন ম্যারেজ ল, সম্পত্তি বন্টনের আলাদা আইন, এসব। রাষ্ট্র আবার ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে বিয়ের অধিকার দিয়ে রেখেছে। কেউ যদি ধর্ম ত্যাগ করে নিজেকে ধর্মে অবিশ্বাসী ঘোষণা করে, তবে তার সন্তানদের জন্য সম্পত্তি বন্টনের আইনকানুন কি হবে আমার জানা নাই। আবার এইটাও তামাশা যে অধিকাংশ নাস্তিকের ন্যাশনাল আইডিতে ধর্মের জায়গায় অবশ্যই কিছু একটা আছে। ধর্ম বিশ্বাস ও মাজহাব/বর্ণের ঘর পূরণ করা ছাড়া ন্যাশনাল আইডি দেয়া হয় নাকি আমি সেটাও জানি না, সম্ভবত হয়না।

যাইহোক, সংবিধান ও আইন মোতাবেক আমরা দেখি যে নারী পুরুষ ভেদাভেদ নাই। কিন্তু আইনের কারণে কিছু বৈষম্য হয়। যেমন, মুসলিম কেউ মারা গেলে মেয়ে পাবে ছেলের অর্ধেক সম্পত্তি। এইটাকে আমি ব্যক্তির অপরাধ মনে করি না, তবে ব্যাপারটা আমার দৃষ্টিতে অনায্য। আবার একজন মানুষ তার ধর্ম বিশ্বাসের কারণে ধর্মের যে বিধান, সে মোতাবেক তার উত্তরসূরিদের জন্য সম্পত্তি ভাগাভাগির ধর্মীয় বিধানও মেনে নেবেন এটাই স্বাভাবিক। ধর্ম অর্ধেক মানলাম, অর্ধেক মানলাম না এমন কিছু হবার কথা নয়। যারা হাফ মানেন, হাফ মানেন না তারা বকধার্মিক। তবে কেউ যদি মনে করেন তার মৃত্যুর পর সম্পত্তির ভাগাভাগি ভিন্নরকম হবে, তবে তিনি সেটা আইন মোতাবেক আগেই উইল করে দিয়ে যেতে পারেন। এখান থেকে দেখছি যে সম্পত্তি ভাগাভাগি, নারীর মৌলিক অধিকার ও বিয়ের ব্যাপারে দেশের সংবিধান ও আইন বাধা নয়।

একজন পিতা কিংবা মাতা যদি মনে করেন তার সন্তানদের সাথে সম্পর্ক রাখবেন না, সকল অধিকার থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেবেন, তবে তাও অপরাধ হবে না যদি সন্তানের বয়স ১৮ পেরিয়ে যায়। ১৮ না হলে বাবা-মা দায়িত্ব নিতে বাধ্য তাদের সামর্থ্য অনুসারে। এটা নারী পুরুষ সবার জন্যই সমান।

এবার আসি রাষ্ট্র কি নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় বাধা দিচ্ছে নাকি নারীকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে সকলক্ষেত্রে, সে ব্যাপারে। আমার তো মনে হয় আমাদের যে রাষ্ট্র, সেটা তার আর্থিক সামর্থ্য সেরকম শক্তিশালী না হলেও নারী যাতে সর্বক্ষেত্রে সুবিধা পায় সে ব্যবস্থ্যা ইতিমধ্যে করে রেখেছে। সরকারী চাকরীতে মহিলা কোটা ১০%, সংসদে নারীদের সংরক্ষিত আসনও ৩০টি, অবৈতনিক শিক্ষার সীমায় মেয়েদের জন্য আলাদা অতিরিক্ত সীমা, মাতৃকালীন ছুটি, ইত্যাদি নানা সুবিধা ও অগ্রাধিকার রাষ্ট্র দিচ্ছে। কারণ, বাকী যে পদ আছে সরকারী চাকরীতে, তাতে যোগ্যতার ভিত্তিতে সবার সমান অধিকার, সংসদের যেকোনো আসনে নির্বাচন করতে পারেন যেকোনো নারী। এইসকল অতিরিক্ত সুবিধার ক্ষেত্রে পুরুষেরা প্রতিবাদ করছে না। যদিও পদ ও কোটা সংরক্ষণের কারণে পুরুষ প্রার্থীদের সার্বিক সুযোগ কিছু হলেও কমছে। কিন্তু এটা মেনে নিয়ে চলাই যৌক্তিক। সমাজের অগ্রসর অংশের দায়িত্ব থাকে অনগ্রসর অংশকে টেনে তুলবার। একটা সমাজ এভাবেই এগোয়। যাইহোক, আমার মনে হয় রাষ্ট্রের নীতিতে নারীবিদ্বেষী কিছু নেই, বরং তা নারীবান্ধব।

এবার আসি দেশের সাধারণ আইনের ক্ষেত্রে। এক্ষেত্রেও এমন একটাও আইন আমার স্বল্পজ্ঞানে আমি খুঁজে পেলাম না যেটা নারীদের নিগ্রহে সহায়ক। বরং আমাদের দেশে নারী নির্যাতন কিংবা নারীর উপর চালানো সাধারণ সহিংসতা ও হয়রানির জন্য যেসকল আইন আছে, আ যথেষ্ঠ কঠোর ও পশ্চিমা দেশগুলোর বিচারে বর্বরও, আমার ব্যক্তিগত মতামত অনুসারেও কিছু সাজা অতিরিক্ত কঠোর। যেমন আমি কখনোই কোনো মানুষের মৃত্যুদন্ড চাইনা, তা যে যত বড় অপরাধই করুক। আমি মনে করি একটা মানুষের জীবন কেড়ে নেবার অধিকার আরেকজনের নেই। অনেকে বলবেন যে একটা শিশু মারলো, যে রাজাকার দেশদ্রোহিতা করে হাজার মানুষ মারলো কিংবা একজন সিরিয়াল কিলার, যে অনেক মানুষকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে, তাদের বেঁচে থাকবার অধিকার নেই। আমি মনে করি বেঁচে থাকা ন্যাচারাল প্রসেস, মৃত্যুটাও সেভাবেই হওয়া উচিত। একজন অপরাধীর সবচেয়ে বড় সাজা অপরাধী হিসেবে একাকী স্বাধীনতাহীনভাবে অন্যের ঘৃণার কথা জেনে বেঁচে থাকা। নৃশংসতার বিচার নৃশংসতা দিয়ে করা আমাদের অপরাধীর মানসিকতার স্তরেই নামিয়ে আনে। যাইহোক, এগুলো ব্যক্তিগত ভাবনা। আমি নিজেও সময়ে অসময়ে তীব্র রাগ ক্রোধের উর্ধে নই। তবে আমাদের দেশে যে আইন আছে নারী নির্যাতন ও সাধারণ সহিংসতার জন্য, তা অনেক কঠোর। ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদন্ড, নারী নির্যাতন মামলায় অভিযুক্ত হলে তা জামিন অযোগ্য। এমনসব কঠোর আইনের পর নতুন আইন আর কী করবে? সেহেতু বলা যায় নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় আইনও কোন প্রতিবন্ধকতা নয়। তবে আইন প্রয়োগ ও বিচার ব্যবস্থ্যার দুর্বলতা আছে প্রশাসনিক ব্যবস্থার নানা স্তরে ও সেবা গ্রহণের নানা সেক্টরে, সেখানে ব্যাপক দুর্নীতি চলে। যার কারণে ভুক্তভোগী হয় সকলেই। এটার কারণ কিংবা এজন্য দায়ী কি একমাত্র পুরুষ? ভুক্তভোগী তো সকলেই...

এবার উপরের পয়েন্টগুলো থেকে আমার ব্যক্তিগত ভাবনা অনুসারে কিছু পয়েন্ট ছেঁটে ফেলি। আমি চাইনা বিয়ে ভেঙে গেলে পুরুষের ওই নারীর প্রতি ভরণপোষণের দায় থাকুক। যদি বিচ্ছেদ হয়ে যাওয়া দম্পতির সন্তান থেকে থাকে, তবে নাবালক অবস্থায় তাদের ভরণপোষণের দায় উভয়ের হওয়া উচিত। আমি মনে করি কোনো নারী যদি উপার্জনক্ষম হন, তবে বিচ্ছেদের পর সন্তানের ভরণপোষণের ভার তারও নিতে হবে নিজ আয়ের ভিত্তিতে। কেবল পিতার উপর সন্তানের ভরণপোষণের ভার দেয়া কি সম-অধিকার প্রতিষ্ঠার পথে বাধা হবেনা? বিচ্ছেদে যে সবসময় পুরুষের একার দোষ থাকবে তেমনও কিন্তু না। তবে আইন প্রণয়নের সময় সামাজিক অবস্থা দেখা হয়। বর্তমান সময়ে যেহেতু নারীরা নির্ভরশীল ও অনগ্রসর, সেহেতু এই আইন থাকতে পারে। তবে এই সময়েও দেনমোহরের রীতির মত অখাদ্য রীতি থাকা উচিত নয়। বিয়ে একটা মানবিক সম্পর্ক, বিয়ে ভেঙে যেতে পারে বলে ভবিষ্যত নিরাপত্তা দরকার দেনমোহর স্থির করবার মাধ্যমে, এসব মধ্যযুগীয় রীতি। আপনি যদি ধর্মের বিধানের দোহাই দিয়ে যৌক্তিক প্রমাণ করতে চান তো করতে পারেন। আপনার অটল ভক্তি টলানোর সাধ্য আমার নাই, আমার চিন্তাভাবনাও তেমন আমার কাছে। যাইহোক, কোনো সম্পর্কের নিরাপত্তাই অর্থ দিয়ে দেয়া যায়না। যেসব নারীবাদীরা নারী অধিকার নিয়ে কথা বলেন, আপনারা নিজেদের জন্য লজ্জাজনক এই রীতির অপসারণেও কথা বলুন। নারী পুরুষ দুইজনই সমান, সম্পর্কের নিরাপত্তা শুধু একজন দেবে কেন?

কোনো পুরুষের পরকিয়া নারী নির্যাতন নয়, সমাজের নানা স্তরে ছড়িয়ে পড়া দুর্নীতির মত পরকিয়াও ব্যক্তিগত সম্পর্কের দুর্নীতি। পরকিয়া করতেও তো নারী সঙ্গী লাগে। ওই নারী সঙ্গীকে বোকা, বিয়ে কিংবা অন্য সম্পর্ক আছে এটা জানতো না এসব বললে জাস্টিফায়েড হয়না। যেকোনো প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের মত প্রাপ্তবয়স্কা নারীরও নিজকর্মের দায় নিজের।

প্রেমের সম্পর্কে থাকাকালীন না বিয়ের আশ্বাস দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক করে পালিয়ে গেছে এমন অভিযোগের অন্তড়ালে নানা কাহিনী থাকতে পারে। প্রেমিক প্রেমিকার শারীরিক সম্পর্কে আমি অপরাধের কিছু দেখিনা যেহেতু আমাকে ধর্মীয় রীতিনীতি সেভাবে টানে না। অপরাধ বা নির্যাতন তখনই হবে যখন সেটা জোরপূর্বক হবে। এখন বিয়ের আশ্বাসে বা চাপাচাপিতে গলে গিয়ে সম্পর্ক করল, এরপর প্রেমিক পালালো, তখন এরকম ঘটনার পরের পরিণতির দায় তার নিজেরও থাকে। শারীরিক সম্পর্ক খারাপ ব্যাপার না, বরং মানবজীবনে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। তবে যেহেতু ভেবেচিন্তে সম্পর্কে না জড়ালে, বা মানুষ চিনতে ভুল করলে পরে মনোকষ্টের কারণ হতে পারে, তখন দুইজন মানুষের শারীরিক সম্পর্কের সিদ্ধান্ত ভেবেচিন্তে নেয়াই উচিত। এই সমাজে বিবাহ বহির্ভূত সন্তানধারণ একটি দূর্ঘটনা, সারাজীবনের কান্নার মত। পরবর্তীতে জানাজানির ভয়ে এবোরশন করা তারচেয়ে বড় অপরাধ। মানবজীবনের চরম ব্যক্তিগত এই সম্পর্কে যেহেতু অনেক কনসিকোয়েন্স থাকে, সেহেতু ভেবেচিন্তে আগানোই ঠিক। এখন কেউ নির্বোধের মত আবেগের বশে জড়িয়ে গেলে ভুক্তভোগীও হতে পারে। তারমানে এই না যে আমি বলছি ভুক্তভোগীটা কেবল নারীই হবে। যে পুরুষ দায় এড়ালো তাকেও আইনের আওতায় এনে দায়িত্ব নিতে বাধ্য করতে হবে দায় স্বীকারে। সমাজ বিশৃংখল হয় যখন সমাজের মানুষগুলো নিজের দায় এড়াবার সুযোগ পায়। পুরুষ যাতে দায় এড়াতে না পারে সেটা নিশ্চিত করবার ক্ষমতা নারীর এখনো আছে, ডিএনএ টেস্ট সহ অন্য অনেক উপায় আছে প্রমাণের। তবে সাহসটা সেভাবে হয়ে ওঠে না। এই সাহসটা জোগাবার দায় আবার পুরুষের একার না, নারী যদি মনে করে দায় দুজনেরই, তবে সেটা নিতে বাধ্য করতে তাকেই তো প্রথমে পদক্ষেপ নিতে হবে, পুরুষের ভরসায় থাকবার প্রয়োজন এক্ষেত্রে নেই। এক্ষেত্রেও শিক্ষা অনেক বড় একটা প্রভাবক, শিক্ষা সমাজে প্রচলিত কুসংস্কারগুলোকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাতে সাহস জোগায়।

প্রতিটা ধর্ষণের পর নারীবাদীদের চীৎকার শোনা যায়, প্রতিটা পুরুষ হয়ে ওঠে তাদের চোখে সম্ভাব্য ধর্ষক ও ঘৃণ্য চরিত্র। কিন্তু আমি মনে করি ধর্ষণ কেবলই একটা সহিংসতা একজন মানুষের দ্বারা অন্য মানুষের উপর। জবাই করে হত্যার চেয়ে কি ধর্ষণ তীব্র শারীরিক কষ্টের কারণ হয় সবসময় যদি সেই ধর্ষণ একটি শিশুর উপর কিংবা গণধর্ষণ না হয়? এই উপমহাদেশের ধর্ষণের সবচেয়ে ভয়াবহ এফেক্ট হচ্ছে মানসিক। ধর্ষিতার দিকে সমাজের মানুষেরাই বাঁকা দৃষ্টি দেয়, যেই সমাজের অংশ নারীরাও। ধর্ষিতা শারীরিক ও মানসিক ট্রমার ভিতর দিয়ে যাবেই, কিন্তু মানসিক ট্রমা বাড়ায় এই বাঁকা দৃষ্টি। ধর্ষিতার সাথে ছেলের বিয়ে দিতে মা, বোন, খালা, ফুপু সবাই আপত্তি করে বসে এইদেশে। এইদেশে পাত্রী পছন্দে মা, খালার পছন্দের দামই তো সবচেয়ে বেশি। নারীজাতির সদস্য মা খালা ভগ্নিদের নিজেদের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া সবচেয়ে বেশি দরকার। ধরে নেই পুরুষেরা খারাপ, কিন্তু নিজেদের সাহায্য তো নিজেরাই আগে করতে হবে, হবে না?

পোষাক কেমন পরবে কেউ, আমার মতে সেটা যার যার ব্যাপার। কিন্তু প্রতি সমাজে কিছু ব্যাপার থাকে, সেসবকে একদিনে ছুঁড়ে না ফেলাই ভাল। অনেককে দেখি আমার শরীর আমি দেখাব, স্তন কোন যৌন অঙ্গ নয়, তাই উন্মুক্ত রাখবো এসব বলেন, তা উনারা রাখতেই পারেন। উনাদের সে অধিকার দাবী করাও হয়ত যৌক্তিক। কিন্তু কিছু রাখডাক অবশ্যই ভাল। ধরেন, দুই যুগল রাস্তার মোড়ে সঙ্গমে লিপ্ত। তারা সেটা নিজেদের যেখানে খুশি সেখানে করতে পারবার অধিকার বলে চালিয়ে যেতেই পারেন। কিন্তু সেটা আশেপাশের অনেক মানুষকেও উত্তেজিত করতে পারে, নীলছবি দেখলে যেমন মানুষ উত্তেজনা অনুভব করে, সেভাবে লাইভ দেখলে তারা উত্তেজিত হবে না? কেউ আশেপাশে বাথরুম খুঁজে স্খলনের ব্যবস্থ্যা করবেন মাস্টারবেশনের মাধ্যমে, কেউ এড়িয়ে যাবেন, সমাজের ভোতা অনুভূতির কিছু মানুষ নিজেদের উত্তেজনা দমন করতে না পেরে আকাম করে বসতে পারেন। তো এই রাস্তার মোড়ে এসব করা হবে অবিবেচনাপ্রসুত ও প্রলুব্ধকারী কাজকর্ম। এইভাবে প্রভোক না করাই ভাল হবে। এভাবে চরম স্বাধীনতার উদাহরণ না দিয়ে স্বাভাবিক ব্যাপারেই কনজারভেটিভ হওয়া কেন ভাল মনে করি তা বলি। স্তনের অবশ্যই যৌন আবেদন আছে। প্রধান যৌনাঙ্গ না হলেও নারীগণ স্তনে যৌন অনুভূতি অনুভব করেন। আর এই অঙ্গ পুরুষকে প্রলুব্ধ করে সেটাও ঠিক। এখন প্রলুব্ধ হয়ে কেউ ধর্ষণকামী হলে তা হবে অপরাধ। আবার ধর্মের বিধান বাদ দিলে আপনার অঙ্গ আপনি যেভাবে খুশি সেভাবে দেখান, অন্যের তাতে নাকগলাবার কথা না। তবে কেউ যদি প্রলুব্ধ হয়, তাহলে কিছু হুমকি তো বাড়েই। দরজা খোলা রেখে গেলে কেউ পেশায় চোর না হলেও সাময়িক লোভে পড়ে বাসার জিনিসপত্র গায়েব করে দিতে পারে, এজন্যই কোথাও গেলে তালার ব্যবহার সতর্কতা হিসেবে। সেভাবে জনসম্মুখে পোষাক অনেকটা নিরাপত্তা দিতে পারে। না মানলে নাই, কেউ রিপুতাড়িত হয়ে সহিংস হলে সেটা জন্য আদালতে যাবার অধিকার থাকবে। কিন্তু তার আগে সামান্য পোষাক না পরবার কারণে কষ্টদায়ক অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে যাবার সামান্যতম আশংকাটুকু যদি থাকে, তার জন্য সতর্কতা নেয়াই কি ভাল নয়? পোষাকে তো মানুষকে সুন্দরও দেখায়। সমাজের গুটিকয় চোরের ভয়ে দরজায় তালা লাগান, কতিপয় ধর্ষকের ভয়ে পোষাকে কিছু সংযত হওয়াও তো যুক্তিযুক্ত হয়?

নারীবাদ মানে এমনকিছু হওয়া উচিত নয় যা থেকে আমরা বুঝি তা হচ্ছে পুরুষ হটিয়ে কর্তৃত্ব দখল করা। নারী অধিকার মানে এমনকিছু হওয়া নয় যার মাধ্যমে পরিবারের প্রধান হবে একজন নারী, রাষ্ট্রের মাথায় বসবে একজন নারী কিংবা নারীরা তাদের সন্তানদের ব্রেস্টফিডিং বন্ধ করে দিয়ে পুরুষ সঙ্গীকে ফিডার হাতে বসিয়ে সন্তানকে লালনপালনে বাধ্য করবে। পৃথিবীর প্রতিটা মানুষের অধিকার সমান, নারী হোক আর পুরুষ। সবচেয়ে ভালো পদে চাকরী সেই পাক, যে সেই পদের জন্য বেশি যোগ্য। পৃথিবীতে মানবজাতি আরও কোটি বছরের বিবর্তন পার করলেও সন্তান লালনের জন্য আদর্শ হিসেবে মায়ের বিকল্প তৈরি হবে না। পরিবার চালানো দুইজন মানুষের পারস্পরিক বোঝাপড়ার ব্যাপার। একজন নারীর বা পুরুষের সংসারের ভালোমন্দ বুঝবার ক্ষমতা, কর্তৃত্বপরায়ন হতে পারবার ন্যাচারাল ব্যাপারগুলো যে কারোমধ্যেই বেশি থাকতে পারে, বিবাহসূত্রে আবদ্ধ সঙ্গীর চেয়ে আলাপালোচনা করবার মত ভাল বন্ধু কে হতে পারে? নারীবাদ মানে এই ঘোষণা হওয়া উচিত নয়, "উই বিপ্লবী নারীগণ ডিক্লেয়ার যুদ্ধ অন ইউ পুরুষ প্রজাতি"। ঘৃণা কখনোই সমাজ বা রাষ্ট্রে বিদ্যমান অসংগতিগুলো দূর করবার উপায় হতে পারে না।

মজুরির ব্যাপারে আমি মনে করি সেটা হতে হবে দক্ষতার ভিত্তিতে। মাটিকাটা টাইপ প্রপার শ্রমিক হলে পুরুষ শ্রমিককে কেউ বেশি প্রেফার করতে পারেন, মজুরিও তার বেশি হতে পারে। শারীরিক গঠনের কারণে পুরুষের শারীরিক পরিশ্রমের সক্ষমতা বেশি। আবার সৃজনশীল অনেক কাজে নারীরা প্রকৃতিপ্রদত্তভাবে বেশি দক্ষ। বুদ্ধিবৃত্তিক পেশায়, যাতে শিক্ষাগত যোগ্যতাই মুখ্য, সেখানে নিয়োগে ও মজুরিতে বেতন কমবেশির উপায় নেই। আবার শিক্ষাগত, বুদ্ধিবৃত্তিক ও শারীরিক যোগ্যতার সমন্বয় দরকার অনেক পেশায়, ফাইটার বিমানচালনার নানা ধাপে যেমন পাইলট নিজ শরীরের চেয়ে ৮-৯ গুণ পর্যন্ত বেশি ওজন অনুভব করতে পারেন। এই চাপটা একটা বয়সের পর কিংবা নারীর জীবনের বিশেষ বিশেষ সময়ে নিতে পারা যায় না। আবার যেহেতু এইপেশায় কারো জন্য প্রশিক্ষণে প্রচুর অর্থ ব্যয় করা হয়, সেহেতু যে সবচেয়ে বেশি সময় জরুরি প্রয়োজন মেটাতে সক্ষম থাকবে তাদেরই অগ্রাধিকার দেয়া প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে এ পেশার বিশেষ শাখায় পুরুষের প্রাধিকার যৌক্তিক। শারীরিক ও মানসিক ব্যাপারগুলো বিবেচনায় দুই প্রজাতিকে এক করে ফেলবার সুযোগ নেই, তাদের নিজনিজ দক্ষতা বিবেচনায় শ্রেয়তর পেশা বেছে নিতে হবে। এক্ষেত্রে এটা বলা যায়, নিম্নস্তরের কায়িক শ্রমভিত্তিক পেশায় পুরুষ অগ্রগামী থাকবে, কিন্তু বুদ্ধিবৃত্তিক পেশায় সকলের সমান সম্ভাবনা। তবে এদেশে হুমায়ুন আহমেদের ওই টিভি এডের মত নারীবাদীদের প্রচারণার প্রধান অংশে থাকে নিম্নস্তরের পেশার মজুরির ফারাকের ব্যাপারগুলো। চাবাগানে কুঁড়ি সংগ্রহকারী হিসেবে নারীদের প্রাধিকার দেন বাগানমালিকেরা, কেন দেন এ ব্যাপারে বাগান মালিকদের বক্তব্য শুনলে বোঝা যাবে তার কারণ নারীদের এই একটানা কাজে স্বভাবসুলভ ধৈর্য্যের কথা। এই প্রাধিকার দেয়া মানে পুরুষকে বঞ্চিত করা বলে ধরে নেয়া অবিচার হবে।

প্রতিটি নারী জীবনের একটা পর্যায় থেকে মাসের ৩-৪ দিন শারীরিক সমস্যা অনুভব করেন। গর্ভবতী হলে বেশ লম্বা সময় তাদের বিশেষ যত্নের দরকার পরে। এখন পুরুষদের কেউ যদি বলে, "এই সময়গুলোতে তাদের ছুটি দেয়া যাবে না কাজে, সবাই তো একই বেতন পাই, তবে উনি কেন কাজ না করে ছুটি কাটাবেন?" এই কথা অন্যায় হবে। প্রাকৃতিকভাবেই তাদের এমন অবস্থার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়, যা অসুস্থ্যতা কিংবা ইচ্ছাকৃতও নয়। এই পর্যায়গুলো না থাকলে কোনো পুরুষেরই জন্ম হয়ে এরকম বক্তব্য দেয়া হতো না। এই ব্যাপারে মানুষ হিসেবে সকলের দায়িত্ব আছে অন্য মানুষকে সহযোগিতা করবার। সমাজ ও রাষ্ট্রের নৈতিক দায় থাকে এই সময়গুলোতে তাদের বিশেষ সুবিধা দেবার। এদেশে পিরিয়ড চলাকালীন সময়ে স্ববেতন ছুটি নেই, অন্তত ৩ দিন ছুটি দেয়া অবশ্যই যৌক্তিক। তবে নারী অধিকারের নামে সকল পদেই নারীর নিয়োগ দিয়ে তাদের সমানাধিকার প্রতিষ্ঠার প্রচারণা যৌক্তিক নয়। ধরেন, একটা প্রতিষ্ঠান নৈশ নিরাপত্তা প্রহরী নেবে মাত্র একজন বা দুইজন। তাদের মাথায় থাকতে পারে সর্বোচ্চ সময় কাদের সেবা পাওয়া যাবে, নিরাপত্তার জন্য কারা শারীরিকভাবে বেশি উপযুক্ত হবে। যদি এই পদে নিয়োগ প্রদানকারী মনে করেন শারীরিক সক্ষমতা নিরাপত্তাবিধানে প্রয়োজনীয়, একজন নারী প্রহরীকে বর্তমান অবস্থায় রাতে দায়িত্বপালনে রাখা সেই নারীর জন্য ঝুঁকির ব্যাপার ও সেই নারী গর্ভবতী হলে সেই সময়ের জন্য আরেকজনকে নিয়োগদান ঝামেলার কাজ হবে, তখন তাদের সিদ্ধান্তেও যুক্তি খুঁজে পাওয়া যাবে। নারীকে মাসকুলার প্রমাণ করে পুরুষের কাতারে দাঁড় করাবার তো প্রয়োজন নেই। অন্য অনেক পেশায় নারীগণ মাসল পাওয়ার ছাড়াই অগ্রগামী হতে পারে, উদাহরণ খুঁজে দেখুন।

নারীবাদীদের মধ্যকার শ্রেণিবিভেদের কিছু সম্পর্কে বলি। টানা লিখেই যাচ্ছি বলে কোনো সিকোয়েন্স রাখছি না পোস্টে, আমি নরমালি পোস্ট লিখবার সময় স্মৃতি থেকে বা হুজুগে লিখি, রেফারেন্স পড়তে পড়তে লিখি না, এই পোস্টও তাই কোনো রেফারেন্স হবে না আমার অন্য পোস্টগুলার মত। এখনকার বেশিরভাগ অতি উচ্চশিক্ষিত নারীবাদীদের দেখি যে, উনারা কমপ্লালসিভ প্রতিবাদী। নারী সংশ্লিষ্ট কিছু হলেও দোষ পুরুষতন্ত্রের, সবাই গণহারে দোষী। সমাজের প্রতিটা পুরুষের প্রতি ঘৃণায় তাদের শরীর রিরি করে ওঠে। আমি ফেসবুকীয় ক্যাচাল এড়াই, কেউ কেউ চেনে জানে এই কারণে। মাঝেমাঝে ইচ্ছা করে বলি, "আপা, আপনি যে এখনও দাম্পত্যজীবন যাপন করে যাচ্ছেন, তা কি এই রিরি অনুভূতি নিয়েই?" কিংবা "বাবার সাথে আপনার যে হাসিমুখ ছবিটা আপলোড করলেন, সেখানে হাসিমুখটা কি এই রিরি অনুভূতি সহকারেই ছিল? আপনি তো ভাল অভিনয়ও জানেন!" ঢালাও দোষ দেয়াও পরিস্থিতির উন্নতি করে না। দুই প্রজাতিকে শত্রু বানানোয় মঙ্গলজনক কিছু নেই। একজন নারী ডোনারের রক্ত কিংবা অঙ্গপ্রত্যঙ্গও পুরুষের শরীরে খাপ খায়, পুরুষেরগুলো নারীর শরীরে। শারীরিক গড়নের কিছু পার্থক্য আর মানসিক দিকগুলোতে অল্প এদিকসেদিক ছাড়া উভয়েই সমান। অপরাধকে প্রজাতির নয়, ব্যক্তির অপরাধ হিসেবে দেখতে হবে।

এইদেশের প্রধান ধর্মের অনুসারী অনেক আপু/বোন/আন্টিও সমঅধিকারের কথা বলেন। বেশি শব্দ খরচ করবো না উনাদের জন্য। আপনারা এ দাবী বাদ দিয়ে নিজধর্ম সঠিকভাবে মেনে নেন। আপনাদের ধর্মও নারীপুরুষকে একই অধিকার দেয়নি। মায়ের সম্মানের কথা বলা হয়েছে, কিন্তু মানুষ হিসেবে মৌলিক অধিকারের জায়গাগুলোতে আসেন, দেখবেন যে এমন একটা জায়গাও নেই মৌলিক অধিকার সংশ্লিষ্ট যেখানে নারীরা পুরুষের চেয়ে বেশিকিছু পাচ্ছে। সম্পত্তি, বিয়ের ব্যাপারস্যাপার, পোষাকের বিধিবিধান সহ যেকোনো ব্যাপারে। কেবল নামাজ রোজায় বিশেষকিছু সময়ে সুবিধা দেয়া হয়েছে। দেনমোহরকে সুবিধা বলে যদি মানেন তবে সেটার ভরসায় যদি নিরাপদবোধ করেন, তবে সমস্তরে উত্তোরণ কখনোই সম্ভব কি?দেনমোহর কিন্তু মৌলিক অধিকারও নয়।

দলকানা নারীবাদীও আছেন, প্রতি সরকারের আমলেই দেখে আসছি, আরও দেখবে মানুষ। ধরেন, এই গ্রুপের নারীরা "ক" দলের সমর্থক। "খ" দলের কোনো কর্মী নারীর সাথে খারাপ কিছু করলে দুনিয়া উল্টেপাল্টে ফেলবে এই "ক" দলের সমর্থক আপুটা সোচ্চার প্রতিবাদী কন্ঠে। কিন্তু নিজের "ক" দলের কোনো কর্মী কিছু করলে সেই ঘটনা সম্পর্কে উনারা নিশ্চুপ থাকবেন। কারণ, সেই ঘটনা নিয়ে সোচ্চার হলে দলীয় ইমেজের ক্ষতি হবে। একরকম দলকানা নারীবাদীদের প্রতি সর্বোচ্চমাত্রার করুণা রইলো।

একঘন্টা টানা টাইপ করে যাচ্ছি। সব কথা লেখা সম্ভব না। আমি মনে করি নারীপুরুষের বিদ্বেষ না বাড়িয়ে প্রতিটা মানুষের আইনের দৃষ্টিতে যে অধিকার তার জন্য সকলের সোচ্চার হওয়া উচিত। সকল মানুষের সমঅধিকার প্রতিষ্ঠা করেন, সকলের মধ্যে নারীপুরুষ উভয়েই অন্তর্ভুক্ত। কিছুদিন আগে নিউজপেপারে দেখলাম বেশকিছু ছেলেশিশুও ধর্ষণের শিকার হয়েছে। তাদের শারীরিক কষ্ট কি হয়নি? মানসিক ট্রমার মাত্রা কি একদম তুচ্ছ? পড়লাম তারা কারো সাথে কথা বলছে না। এই ছেলেশিশুগুলোও যখন বড় হবে, তখন তাদেরকে এই সমাজের কিছু মানুষ বলতে পারে, "তোরা তো গো*মারা খেয়ে বড় হইছিস।" এদেরও মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্থ্য হবে। দুঃখের সাথে খেয়াল করলাম এতএত সেলিব্রিটি, সচেতন জনতার কেউই এদের নিয়ে দুটা লাইন লিখলেন না। ইস্যুর অপেক্ষায় তো সকলেই থাকেন, ইস্যু ভেবে হলেও এদের জন্যও বলতেন।

আবারও বলি, একটা মানুষ প্রথমে মানুষ। যেদিন দেখব সরকারী চাকরীতে আলাদা নারীকোটা নাই, সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন বাতিল বলে ঘোষিত হয়েছে প্রয়োজন নেই বলে, সেদিন বুঝব মধ্যযুগে যে মানসিকতা ছিল, সে ধারার পরিবর্তন হয়েছে। এসব বিশেষ ব্যবস্থা থাকা সম্মানজনক কিছু না। আধুনিক সময়ে আসবার আগে নারীরা পিছিয়ে ছিল তা সত্য, এখনো আছে। তবে শিক্ষার হার বৃদ্ধির সাথে সাথে এ অবস্থা পাল্টাচ্ছে। আরও দ্রুত পাল্টাবে যদি নারীরা নিজেদের টেনে তুলতে অধিক প্রয়াসী হন বিদ্বেষ, ঘৃণার চর্চা বাদ দিয়ে। যেকোনো সন্তানের কাছে মায়ের কথার মূল্য আলাদা। উষ্টা খেলেও এদেশে "ও মাগো" বলে চীৎকার করে, কসম মায়ের নামেই খায়, কারণ মায়ের নাম নিয়ে উলটাপালটা চলে না। এই মায়েরাই পারেন পারিবারিক কালচার পরিবর্তন করতে। ধর্ষিতা হলে ওড়নায় মুখ ঢাকা বাদ দিয়ে মুখ দেখিয়ে যদি নারী বলতে পারে আমি নির্যাতনের শিকার হয়েছি সেটাই ইতিবাচক পরিবর্তন হবে। এঞ্জেলিনা জোলি দেখলান যৌন নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন একজনের বিরুদ্ধে। এঞ্জেলিনা জোলির দেশে ধর্ষিতা অপাংতেয় না, কিন্তু একসময় ছিল। কালো মানুষদের অধিকার ছিল না, এখনও রেসিস্ট আচরণের শিকার হন অনেকে। তবে অবস্থার উন্নতি হয়েছে, হয়েছে শ্বেতাঙ্গ বিদ্বেষের মাধ্যমে নয়, তাদেরও অনেককে সাথে নিয়ে। সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইটা হোক সবাইকে সাথে নিয়ে, যারা একে অন্যের পরিপূরক তাদের সমস্ত জীবনকালে, তাদের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে নয়। মিস, মিসেস এবং কেবল মিস্টার অতিপ্রাচীন সম্বোধন, অনেক ভাষায় নেই। আমাদের ভাষায়ও এভাবে আলাদা বোঝানো হয় না। বরং আমাদের ভাষায় লিঙ্গভেদাভেদ করাই হয় না। He, She আলাদা নেই, সবই সে। জবাব জনাবা বলি, এর বাইরে বৈবাহিক অবস্থা বোঝাই কি? এই ব্যাপারটা কলোনিয়াল শাসকদের ভাষা আত্মীকরণের ফলে এসেছে। কেউ যদি নামের আগে মিস্টার, মিসেস, মিস না লেখেন, তবে তার ন্যশনাল আইডি বাতিল হবে না।

গৃহসন্ত্রাসের নানা কাহিনিতে শুনি স্ত্রীর উপর স্বামীর অত্যাচার। অন্তত অর্ধেক কেসে শাশুড়িও অভিযুক্তের তালিকায় থাকেন, কেন থাকেন? আবার ছেলে বউয়ের অত্যাচারের কারনে বাবা-মা আলাদা হবার কথাও শুনি। এসব কেবল পুরুষ বন্ধ করতে পারবে না, উভয়েরই উদ্যোগ, সচেতনতা লাগবে। কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানির শিকার হলে প্রতিবাদ আরেক পুরুষের ভরসায় করলে হবে না, অভিযোগ যে কেউ করতে পারে। এই দেশের মানুষ নারীকে কেউ যৌন নির্যাতন করছে শুনলে সিরিয়াসলিই নেয়। প্রতিবাদ না করা অক্ষমতা, এই অক্ষমতা নানা কারণে আসতে পারে। নারীবাদী বলে যারা পরিচ্য দেন, তাদের উচিত এই অক্ষমতার অনুভূতি যেন নারীর মনে না খেলে প্রথমে তার জন্য কাজ করা। ছোটখাট নির্যাতনে যখন কেউ প্রতিবাদে অক্ষম হয়, দেখা যায় যে বড় নির্যাতনেও সে প্রতিবাদের মানসিক শক্তিটা পায় না।

আমার পরিবারে সন্ত্রাস ছিল আমার মা। আব্বুকে দেখতাম আম্মু রাগ করলে ঘরে ঢুকতে ভয় পেত। আম্মুর রাগ উঠলে সারাদিন টানা মুখের রেকর্ডার চালায় রাখতো, এরপর আব্বু মাঝেমাঝে উকি দিয়ে জিজ্ঞেস করে যেত আম্মু শান্ত হয়েছে নাকি। এই সন্ত্রাস কি অপরাধ? নাহ, এটা ভালোবাসারই অংশ ছিল, ছিল পারিবারিক আবহের ভয়ভয় পরিবর্তন আসা সময়ের একটা নমুনা যার স্মৃতিচারণে আনন্দ পাই। আম্মু সেই ৪০ বছর আগের গ্র্যাজুয়েট ছিলেন, চাকরী পাওয়া কঠিন হতো না, আব্বু বলতোও। কিন্তু আম্মুর কথা ছিল, নানার মেয়ে হয়ে চাকরী করলে মানুষজন কথা শোনাবে। আমি চাই আমার মায়ের এই মানসিকতা এখনকার মায়েরা কিংবা নারীরা না রাখুক। আম্মু নিজেও হয়ত এখন তাই ভাবে। ছোটখাট পরিবর্তনগুলো আসুক পরিবার থেকে, রাষ্ট্র কিংবা রাষ্ট্রের পলিসি মানুষকে পরিবর্তন করতে শেখেনি। মানুষকে বদলে ফেলতে পারে কেবল মানুষ নিজে, যেই মানবসমাজের অংশ নারীপুরুষ উভয়েই।

Comments

ড. লজিক্যাল বাঙালি এর ছবি
 

পড়লাম

===============================================================
জানার ইচ্ছে নিজেকে, সমাজ, দেশ, পৃথিবি, মহাবিশ্ব, ধর্ম আর মানুষকে! এর জন্য অনন্তর চেষ্টা!!

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

আমি অথবা অন্য কেউ
আমি অথবা অন্য কেউ এর ছবি
Offline
Last seen: 7 ঘন্টা 53 min ago
Joined: শুক্রবার, জুন 17, 2016 - 12:11অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর