নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 2 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • আলমগীর কবির
  • মিঠুন বিশ্বাস

নতুন যাত্রী

  • চয়ন অর্কিড
  • ফজলে রাব্বী খান
  • হূমায়ুন কবির
  • রকিব খান
  • সজল আল সানভী
  • শহীদ আহমেদ
  • মো ইকরামুজ্জামান
  • মিজান
  • সঞ্জয় চক্রবর্তী
  • ডাঃ নেইল আকাশ

আপনি এখানে

ধর্মীয় ও সামাজিক চাপ প্রয়োগে বাংলাদেশী সমকামীদের পরিস্থিতি কি হচ্ছে বা কি হতে পারে।


বাংলাদেশে সমকামীতা অনেক প্রাচীনকাল থেকে চলে আসছে,কিন্তু বাংলাদেশের সামাজিক ও ধর্মীয় গোঁড়ামির কারনে তাকে মারাত্বক অপরাধ হিসেবে সমাজে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

বাংলাদেশে সমকামী আছে এটা আজ পর্যান্ত অনেকে বিশ্বাস করতে পারে না।আর কোনো সমকামী যদি সাধারন মানুষের কাছে প্রকাশ প্রায় তাহলে।তার অবস্থা কি হতে পারে তা কল্পনারও অধিক।কিন্তু প্রাকৃতিক নিয়মকে বেশি দিন চাঁপিয়ে রাখা যায় না। কারন তা হচ্ছে সত্য আর সত্য এক দিন না এক দিন প্রকাশ পাই।

কিন্তু সত্যকে সত্য বলতে দিচ্ছে না ধর্মের মোড়কে আবৃত ধর্মের মুখোশ পরা ভন্ড ধর্ম ব্যবসায়ীরা।তারা ধর্মের কাল্পনিক গল্প ওকুসংস্কারে সমাজের মানুষের সচেতন বিবেকও নিস্তেজ করে দিয়েছেন।তাই মানুষ ধর্মীয় উগ্রতাকে স্বাভাবিক মনে করেন আর প্রাকৃতিক সত্যকে অপরাধ মনে করেন।যার কারনে নিরহ মানুষগুলো শিকার হচ্ছে বর্বর ধর্মীয় এবং রাষ্ট্রীয় শাস্তির।সমকামীদের প্রাকৃতিকভাবে ঘটা ব্যক্তিগত সম্পর্কের বহিপ্রকাশ করতে পারেন না প্রান ভয়ে। আর কেউ যদি করে থাকেন তাহলে তাদের কি অবস্থা হয় বাংলাদেশের পেক্ষাপটে তার ঘটনা নিচের সত্য ঘটনাটি দ্বারা বুঝে নিন।

সাজ্জাদ হোসেন,পড়াশুনার করেছেন হিসাব বিজ্ঞানে,অনার্স, মাস্টার্স।বন্ধু সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটী, লাইট হাউজ, খুলনা মুক্তি সেবা সংস্থা, লিংক-আপ প্রজেক্ট, ছিন্নমূল মানব কল্যাণ সোসাইটী, ভিভিড রেইনবো ইত্যাদি নানা সংস্থার একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন৷ এ হেন কর্মযোগী মাত্র ২৬ বছরের তরতাজা যুবক বাধ্য হলেন আত্মহত্যা করতে।

কিন্তু,কেন তা করলেন?তাহলে শুনুন, গত ২১শে অগাষ্ট তাঁকে একটি মেয়ের সাথে জোরপূর্বক বিয়ে দেয় তাঁর পরিবার৷ এই বিয়ের পূর্বে তিনি বারবার সবাইকে বলেছেন যে তিনি সমকামী এবং কোন মেয়ের প্রতি তাঁর কোন আকর্ষণ নেই৷ তিনি তাঁর পরিবারকেও বলেছেন এই কথাগুলো৷ বিশেষ করে তাঁর বোনকে, যার কাছে তিনি মানুষ হয়েছিলেন৷ তাঁর দুলাভাই মিঃ ইকরাম তাঁকে ব্ল্যাকমেইল করে এই বলে যে যদি তিনি এই বিয়ে না করেন তাহলে তাঁর বোনকে তালাক দেবে৷ বেচারা সাজ্জাদ দ্বিধা-দ্বন্দ্বে পড়ে গেলেন৷ সাজ্জাদ কনের সাথে যোগাযোগ করেন এবং কনের বাবার সাথেও তাঁর যৌনতার বিষয়ে খোলামেলা কথা বলেন৷ কিন্তু কনে এসব জানা সত্ত্বেও বিয়ে করতে এক পায়ে খাড়াই থেকে যায়৷ আর কনের বাবা বলেন যে বিয়ে হলেই সমকামিতার ভুত মাথা থেকে পালাবে৷

বিয়ের আগেরদিন, খুলনার দৌলতপুর বাসস্ট্যান্ড৷ ঢাকার বাসে চড়ে সাজ্জাদ ঢাকায় পালাবেন সিদ্ধান্ত নিলেন৷ বাসটা দৌলতপুরে আসতে মাত্র ২ মিনিট বাকি, হয়তো খালিশপুর নতুনরাস্তা পার করে আসছে৷ ওমনি সাজ্জাদের বোন, দুলাভাই ও তাদের সাঙ্গোপাঙ্গো মাস্তানরা সাজ্জাদকে বাস-স্ট্যান্ড থেকে তুলে নিয়ে এলো বাড়ীতে৷ সাজ্জাদের আর পালানো হলো না সেই যাত্রায়৷ অতঃপর জোরপূর্বক বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হলো৷ বাসর রাতে মেয়েটিকে স্পর্শ করলো না, পৃথক বিছানায় শুয়ে পড়লেন৷ পরে সকালে কনে এই ব্যাপারটি নিয়ে নালিশ দিল সবাইকে৷ সাজ্জাদের মোবাইলে পূর্বের একটা ক্রসড্রেসিং-এর ছবি দেখে আরো তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠলো৷ কনের বাবা সাজ্জাদকে “হিজড়া” বলে অপমান করলো৷ সাজ্জাদের সেই তথাকথিত শ্বশুর এবং তাঁর বোন-দুলাভাই ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা দোষারোপ করতে থাকলো শান্ত (ছদ্মনাম) নামের একজন সমকামী বন্ধুকে।

তার সেই বন্ধুটি নাকি সাজ্জাদকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা করেছেন৷ শান্ত আর সাজ্জাদ এত ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন যে একে অন্যের বাড়ীতে ভাল যাতায়াত ছিল৷ তাঁদের সম্পর্কটা ছিল ভাই-বোনের মত পবিত্র, কোন যৌনতা তাতে ছিল না৷ কিন্তু সবাই বলাবলি করতে লাগলো যে সাজ্জাদের সঙ্গে মনে হয় শান্তের প্রেমের সম্পর্ক আছে অথবা যৌন সম্পর্ক আছে তার কারনে হয়তো কনের দেহ স্পর্শ করেনি সাজ্জাদ৷ এখানে কনেটি হয়তো শান্তকে প্রতিদ্বন্দী বা প্রতিপক্ষ মনে করে ঈর্ষা করে থাকতে পারে বলে মনে হয়৷ কিন্তু হায়! আমাদের দেশের মানুষের মূর্খতা বা অজ্ঞতা দেখলে অবাক হতে হয়! সাজ্জাদ আর শান্তের বন্ধুত্বটাকে বুঝতে না পেরে সকলেই দুষতে লাগলো সাজ্জাদ ও শান্তকেই৷ অথচ সাজ্জাদের পরিবার সাজ্জাদকে মানসিক ও শারিরীকভাবে নির্যাতন করে বিয়ের পিঁড়িতে বসালো সেটা নিয়ে কেউ ভাবলো না বা আলোচনা করলো না৷ বিয়ের মাধ্যমে সমকামিতা দূর করা যায় না সেটা কেউ বুঝতে পারলো না৷ দু’জন বিষমকামী মানুষ পাশাপাশি থাকলেই যে যৌনসম্পর্ক গড়ে ওঠে এটা যেমন সঠিক নয়, তেমনি দু’জন সমকামী মানুষ পাশাপাশি থাকলে যৌনসম্পর্ক হয়ে যাবে সেই ধারণাটাও সম্পূর্ণরূপে ভুল৷ যা হোক, সাজ্জাদ পালিয়ে যেতে চেয়েছিলেন সবকিছু থেকে৷ পালিয়ে ঢাকায় যেতে চেয়েছিলেন কিন্তু ধরা খেয়ে গেলেন, পালানো হলো না৷ কিন্তু এবার তিনি এমন স্থানে পালানোর সিদ্ধান্ত নিলেন যেখান থেকে কেউ আর ফিরে আসে না৷ যেখান থেকে কোন দুলাভাই বা মাস্তান কিংবা পুলিশ কাউকে তুলে আনতে পারে না।

এইতো এক সাজ্জাদের ঘটনা ঘটে গেলো সম্পৃতি,কিন্তু আরো হাজারো সাজ্জাদ আছেন একই অবস্থায় যাদের অবস্থা এই সাজ্জাদের মতো। হয়তো তারা একদিন কুসংস্কার ও ধর্মীয় উগ্রতার স্বীকার হয়ে অকাল প্রয়াত সাজ্জাদের মতো পথ বেঁচে নিবেন কারন, এসব সাজ্জাদের আত্মসম্মানবোধ আছে নেই ধর্মীয় উগ্রতা ও কুসংস্কার বিশ্বাস। আবার হাজারো সমকামী আছে যারা ঈশ্বরে বিশ্বাস করে,শুধু পার্থক্য তারা উগ্রমনা ধার্মিক নয়।তাদের ব্যক্তিগত জীবনে কাকে ভালো লাগবে এবং লাগতে হবে তা যদি ধর্মের প্রভাব দ্বারা নির্ধারণ করা হয়।তাহলে, অকালে আরো কতো শিক্ষিত প্রতিভাবান বাংলার যুবকদের প্রানহানি হবে তার হিসাব রাখা দায়।

এইবার আসুন দেখি কি কারনে সমকামীদের ধর্ম বিশ্বাসী লোকেরা অপরাধি ভাবেন?

ধর্মীয় মতবাদ সমকামীতাকে নিষিদ্ধ করেছেন,কারন তা অস্বাভাবিক এবং অপবিত্র সম্পর্ক।এই সমকামীতা বিরোধ মতবাদ সকল ধর্মে আছে। আর তাকে মানুষের ভ্রষ্টতা হিসেবে বিবেচনা করেছেন সকল ধর্ম।তাদের এই মতবাদগুলোর স্বাপক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট যুক্তি নেই আছে ধর্মীয় নিষ্ঠুরাতা ও জঘন্য শাস্তি।

কি কি ধর্মীয় শাস্তি ও বিচার ব্যবস্থা সমকামী হওয়ার জন্য?

মৃত্যু দন্ড,(ইসলামে কোদল করা),যাবত জীবন কারা দন্ড সহ আর্থিক ও সামাজিক বিভিন্ন শাস্তির বিধান রয়েছে। আর এই শাস্তিগুলো ধর্মীয় প্রভাব দ্বারা বেশিরভাগ পরিচালিত। তাছাড়া ধর্মহীন রাষ্ট্রগুলোতে এই ধরনের সম্পর্ককে অস্বাভাবিক ঘোষনা করে এটাকে অপরাধমূলক আচারণ হিসেবে শাস্তির ব্যবস্থা চালু রেখেছে।

এখন ভাবুন যারা বাংলাদেশি কিন্তু বিদেশে এমন দেশে রয়েছেন, যেখানে সমকামীদের অধিকার আইনের দ্বারা সুরক্ষা করা হচ্ছে। এই লোকগুলো উন্মুক্তভাবে নিজের মনের কথা প্রকাশ করছে, তাদের ভালোবাসা এবং ভালো লাগার মানুষের সাথে স্বাধীনভাবে চলছে।তারা যদি দেশে থাকতো তাহলে সাজ্জাদের মতো অকালে ঝরে পরতো।অথবা ধর্মীয় উগ্রতার শিকার হয়ে মরতো।
কিন্তু বিদেশের আইন দ্বারা তাদের নিরাপত্তা দেওয়ায় আজ তারা পরবাসে নিরাপদ, কিন্তু আপন দেশে প্রান খতরাই।

আমি একজন মানবতাবাদী সংগ্রামের অগ্রনি সৈনিক, তাই আমার জীবনকে মানবতাবাদ প্রচারে উৎস্বর্গ করে মানবতাকে ধর্মীয় কুসংস্কার ও বর্বরতা মুক্ত করার ধীর প্রত্যয়ে লিখে যাচ্ছি।
আমি আশা করছি আমাদের এই সংগ্রামে যোগ দিবেন মানবতাবোধে বিশ্বাসী সচেতন শিক্ষিত সমাজের সকল স্তরের লোকেরা।সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপর নাই। আমি শুধু মানুষ হয়ে এবং মানুষের মানবতাবোধকে নিয়ে বাঁচতে চাই, কোনো ধর্মীয় কাল্পনিক ঈশ্বর বা খোঁদাকে খুঁশি করে তার সাজানো গল্প ও মিথ্যা কাহিনী বিশ্বাস করে নয়।

বিভাগ: 

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

হিউম্যানিস্ট বা...
হিউম্যানিস্ট বাই নেচার এর ছবি
Offline
Last seen: 1 week 2 দিন ago
Joined: বুধবার, এপ্রিল 5, 2017 - 4:57পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর