নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 6 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • বিকাশ দাস বাপ্পী
  • মুফতি মাসুদ
  • নরসুন্দর মানুষ
  • সৈকত সমুদ্র
  • রাজর্ষি ব্যনার্জী
  • সাইয়িদ রফিকুল হক

নতুন যাত্রী

  • আদি মানব
  • নগরবালক
  • মানিকুজ্জামান
  • একরামুল হক
  • আব্দুর রহমান ইমন
  • ইমরান হোসেন মনা
  • আবু উষা
  • জনৈক জুম্ম
  • ফরিদ আলম
  • নিহত নক্ষত্র

আপনি এখানে

‘গোলাম সারোয়ার এর বামপন্থী কুসংস্কার’ প্রসঙ্গ এবং একজন যুদ্ধবাজ “মুক্তমনা”র চিন্তার সাথে পরিচিতি পর্ব ।


১.
তিনি একজন আত্মদাবীকৃত “মুক্তমনা”। জীবনে বহু বিষয়ে তিনি বহু ব্লগ লিখেছেন। প্রচুর পড়াশুনা করেন বলে দাবী করেন এবং নিয়তই দাবী করেন যে অন্যরা বিশেষত বামপন্থী ও কমিউনিস্টরা কেউ পড়াশুনা করেননা। স্বাভাবিকভাবেই কারণে অকারনে অন্যদের উপদেশ দিয়ে থাকেন আরো অনেক বেশী পড়াশুনা করার জন্যে। ইসলামী মোল্লারাও একইভাবে উপদেশ দিয়ে থাকেন আরো বেশী পড়াশুনা করার জন্যে। ইসলাম ধর্মের অমানবিক ও অনাচার সম্পর্কে ইসলামী মোল্লাদের যতই যুক্তি দিয়ে, তথ্য দিয়ে, রেফারেন্স দিয়ে ব্যাখ্যা করা হোক না কেনো, তারা দিনের শেষে বলবেন, আপনার পড়াশুনায় ঘাটতি আছে, ঝামেলা আছে। আরো বেশী করে পড়াশুনা করেন। এই মোহতারেমের নাম বিপ্লব পাল। বিপ্লব পালের সাথে ইসলামের অন্যান্য বিষয়ের মিল আছে কিনা জানিনা কিন্তু ইসলামী মোল্লাদের এই প্রবনতার সাথে দারুন মিল পাওয়া যায়। বিশ্বাস না হলে, তাঁর দুই চারি খানা ব্লগ পড়ে দেখতে পারেন।

বিপ্লব পালের পাণ্ডিত্য সম্পর্কে আমার জানাশোনা নেই। মুক্তমনায় তার বেশকিছু লেখা পড়ার সুযোগ হয়েছিলো, ভারী ভারী বিষয়ে দারুন স্থুল আর শিশুতোষ সেই সকল ব্লগ (শিশুতোষ কেনো তাঁর ব্যাখ্যা করেছি, এখানেও করবো)। তাঁর ব্লগ সমুহের প্রভাব বোঝা যায় মুক্তমনায় তাঁর ব্লগের প্রেক্ষিতে পাঠক সংখ্যার দীনতায় আর পাঠকদের প্রতিক্রিয়ায়। তিনি ইস্টিশন ব্লগে তাঁর একমাত্র লেখাটিতে মোট ৫ টি লিংক দিয়েছেন, সবই তাঁর নিজের লেখার লিংক। যেখানে তাঁর লেখা প্রায় সকল ব্লগপোস্ট পড়া যাবে। আমি এই সুযোগে আরো বেশ কিছু ব্লগ পড়েছি বাকীটা ধৈর্যে কুলায় নি। মোহতারেম বিপ্লব পাল উচ্চ শিক্ষিত, বিদেশে পড়াশুনা করেছেন ও উচ্চপদে কাজ করেন। তিনি নিশ্চয়ই জানেন লেখালেখির সাধারণ নিয়ম কানুন। কিন্তু সেসব নিয়ম কানুন তিনি হয়তো শুধু পিএইচডি থিসিস করবার সময় মানেন, আর অন্য কোনও সময়ের জন্যে নয়। আর করবেনই না কেনো, পিএইচডি থিসিস তো ডলার কামাইয়ে কাজে লাগে, ব্লগ লেখা তো আর ডলার দেয়না। অন্তত বিপ্লব পাল যে মানের ব্লগ লেখেন তা দিয়ে তো নয়ই। পাঠক হিসাবে তাঁর লেখালেখি থেকে আমার যে ধারণা জন্মেছে তাতে এটা স্পষ্ট তিনি লেখালেখির বেসিক নর্মস গুলোর চর্চা করেন না, বিশেষত বাঙলা লেখায় তো নয়ই। কয়েকটি নমুনা দেই -

  • তাঁর লেখায় হাজার হাজার তথ্য থাকে, ইতিহাসের বিশেষ ঘটনার উল্লেখ থাকে, ব্যক্তির উল্লেখ থাকে কিন্তু সেসবের কোনও উৎস থাকেনা, রেফারেন্স বা সূত্র থাকেনা। একেবারেই থাকেনা। ইস্টিশন ব্লগের এই লেখাটিতেও তিনি অসংখ্য গাল-গল্প ফেঁদেছেন এবং বরাবরের মতোই কোনও রকমের সূত্র উল্লেখের বালাই নেই। তিনি নিজের লেখা গুলোর লিংক দিয়েছেন বেশ ঢোল পিটিয়েই কিন্তু প্রয়োজন বোধ করেননি লেখাটির অন্যান্য তথ্যের একটিও সূত্র বা রেফারেনস উল্লেখ করার।
  • তিনি অন্যের লেখার সমালোচনা করেন কিন্তু কখনই অন্যের লেখাকে সরাসরি কোট – আনকোট করেন না, তিনি অন্যের লেখাকে নিজের মতো করে টুইস্ট করেন এবং সেই টুইস্টেড লেখার উপরে আলোচনা করেন (যদিও সেই আলোচনা থেকেও কোনও মর্মশাস বের করাটা কঠিন হয়ে যায়।)
  • তিনি মাঝে মাঝেই মামা – খালা – কাকার সূত্র ধরে দারুন ভারী ভারী সব তথ্য পাঠকদের গেলানোর চেষ্টা করেন, যা লেখালেখির কোন নৈতিকতায় পড়ে তা আমাদের জানা নেই।

(এই পয়েন্ট গুলোর স্বপক্ষে দুই একটি উদাহরণ দেবো আপনাদের কে)

হয়তো তিনি তাঁর ব্লগের পাঠকদের সবাইকে তাঁর উম্মত মনে করেন, এবং উম্মতের জন্যে নবীজির বানীর যেমন কোনও রেফারেন্স লাগেনা, তাই হয়তো তিনি এসকল তথ্যের কোনও রেফারেন্স দেন না। আমার সমস্যা হচ্ছে, আমি কোনও রকমের নবীতন্ত্রে বিশ্বাস করিনা। আমি কোনও মনু – মুহাম্মদ কোনও কিছুতেই বিশ্বাস করিনা। তা তিনি মোহতারেম বিপ্লব পাল হোন কিম্বা যেকোনো “মুক্তমনা” হোন, আমি সকলের লেখাকেই “এক চিমটি লবন” সহযোগে পাঠ করি, চ্যালেঞ্জ করি।

সত্যজিত রায় লিখেছিলেন, সিনেমা একটা বারোয়ারী শিল্প হয়ে গেছে, তাই হাতে পাঁচ সিকে পয়সা আর কিছু সময় থাকলে যে কেউ সিনেমা দেখতে পারেন। তাই যে দর্শক “সঙ্গম” দেখছেন তিনিই আবার “লা দলসে ভিতা” তে উকি দিচ্ছেন (বিষয় চলচ্চিত্রঃ সত্যজিত রায়)। আমাদের এখনকার সময়ে ব্লগ হচ্ছে সিনেমার চাইতেও বেশী বারোয়ারী যায়গা। যেখানে সস্তা ইন্টারনেটের বদৌলতে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠছে “ব্লগার” নামের আত্মরম্ভি শিশুতোষ লেখকেরা। এই লেখার আলোচ্য ব্লগার তাদেরই একজন প্রতিনিধি মাত্র।

মুশকিল হচ্ছে এই শিশুতোষ লেখকেরা শিশুদের জন্যে লিখছেন না, তারা লিখছেন বড়দের জন্যে এবং সেই সকল লেখাকে নামকরা ব্লগ “মুক্তচিন্তা” নামে ছাপছে। বাঙলা ভাষার মুক্তচিন্তার আন্দোলন যেরকমের টালমাটাল অবস্থার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে এখন, তাতে এই সকল ব্যাঙের ছাতা “মুক্তমনা”দের পরিস্কার করার সময় এসেছে। তারই প্রথম প্রচেস্টা ছিলো আমার আগের চার পর্বের লেখা(আগের ব্লগ গুলো লিংক এই লেখার শেষে দেয়া আছে)। পাল বাবুর লেখা সেখানে কেবলই একটা উদাহরণ (বা কেইস) হিসাবে এসেছে।

বিপ্লব পাল তাঁর লেখার শিরোনাম দিয়েছেন “গোলাম সারোয়ার এর বামপন্থী কুসংস্কার” (লিংক এখানে)। তাঁর লেখায় ঘৃণা আছে গালিগালাজ আছে স্টেরিওটাইপিং আছে কিন্তু কোনও ব্যাখ্যা নেই আমি কেনো বামপন্থী আর কেনইবা আমার সেই পরিচয় টা কুসংস্কারাচ্ছন্ন? অবশ্য মোহতারেম পাল বাবুর চিন্তার বিরোধিতা করাই যদি হয় কুসংস্কারাচ্ছন্ন হওয়া, তাহলে অবশ্য আমি কুসংস্কাাচ্ছন্ন হয়ে আনন্দিত।

২.
জনাব বিপ্লবের মতো কথিত “মুক্তমনা”দের চিন্তার দারিদ্র সম্পর্কে কয়েকটি পয়েন্ট তুলে দিয়েছিলাম আমার আগের লেখায়, কিন্তু আত্মপক্ষ সমর্থনের নামে তিনি যে আরেকটি “ব্লগ” পোস্ট করেছেন, তাতে সে সকল পয়েন্টের কোনও জবাব তো নেইই, ব্যাখ্যা তো নেইই, বরং আছে আবারো ঘৃণা এবং নিজের ঢোল পেটানো। দেখুন যে কয়েকটি মৌলিক প্রশ্ন আমি তাঁকে করেছিলাম -

  • তিনি লিখেছিলেন, সারা বিশ্বব্যাপী ইসলামী সন্ত্রাসের ভয়াবহতার কথা। আমি জিজ্ঞাসা করেছিলাম ইসলামী সন্ত্রাসের এই ভয়াবহতার কারণ কি? এর সাথে মার্কিন সংশ্লিষ্টতা আছে কি? মধ্যপ্রাচ্যের সন্ত্রাসের পেছনে কতটা ধর্ম দায়ী আর কতটা আঞ্চলিক – আন্তর্জাতিক ভু-রাজনীতি দায়ী?

তিনি কোনও উত্তর দেন নাই।

  • বিপ্লব পাল লিখেছিলেন, ইসলামের মানুষ হত্যা আর আমেরিকার বিদেশ নীতির কারণে মানুষ হত্যার মাঝে পার্থক্য আছে। একটা বর্বর আর অন্যটি প্রগতিশীল।

আমি প্রশ্ন করেছিলাম, কেনো একটা বর্বর আর অন্যটা প্রগতিশীল? কেনো ইসলামের বিস্তারের নামে মানুষ হত্যা বর্বর আর আমেরিকার বিদেশ নীতির বাস্তবায়নে মানুষ হত্যা করা প্রগতিশীল?

কোনও উত্তর মেলেনি তাঁর কাছ থেকে।

  • পাকিস্তান বা আফগানিস্থানে ড্রোন হামলা করে মানুষ হত্যা করার ঘটনাকে প্রগতিশীলতাকে এগিয়ে নেয়া মনে করেন বিপ্লব পাল।

আমি প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেনো পাকিস্থান বা আফগানিস্তানে ড্রোন হামলা করে সাধারণ মানুষ হত্যা করার কাজটি প্রগতিশীল?

কোনও উত্তর মেলেনি।

  • বিপ্লব পাল মনে করেন, আমেরিকার যেহেতু বেশীর ভাগ প্রযুক্তি দিয়েছেন, তাই আমেরিকাই শ্রেয়তর স্থান দুনিয়াতে, তা সে যতই পাকিস্থান বা ভিয়েতনামে বোমা ফেলুক না কেনো।

আমার প্রশ্নটা ছিলো দুই ধরনের – এক. এই ব্লগার প্রযুক্তির আবিষ্কার আর তা্র বাজারজাত করনের মাঝে গুলিয়ে ফেলেছেন। আমেরিকা ইতিহাসে কখনই প্রযুক্তি আবিষ্কারের প্রথম তীর্থভুমি ছিলোনা, এখনও নেই। আমেরিকার প্রথম স্থান হচ্ছে নতুন প্রযুক্তির কমারশিয়ালাইজেশন বা ব্যাপক বাজারজাত করনের ক্ষেত্রে। সেক্ষেত্রে আমেরিকার বিরাট পুজিবাজার হচ্ছে মূল কারণ। এক্ষেত্রে আমি গ্লোবাল ইনোভেশন ইনডেক্স এর রেফারেন্স দিয়েছিলাম, কিন্তু তাঁর হয়তো সময় হয়নি আমেরিকান চশমা দিয়ে সেই ডকুমেন্টটির বিশ্ব র‍্যাংকিং এর পাতাটিতে চোখ বোলানোর।

কিন্তু এ প্রসঙ্গে আমার দ্বিতীয় প্রশ্নটিই ছিলো মূল প্রশ্ন – একটি দেশের প্রযুক্তিতে এগিয়ে যাওয়ার সাথে পাকিস্থানে বা ভিয়েতনামে বোমা ফেলার কি সম্পর্ক? একজন মানবতাবাদী মানুষ কি আসলেই বলতে পারেন যে আমেরিকা যেহেতু আমাকে প্রযুক্তি দিচ্ছে, আরাম আয়েশ দিচ্ছে, সুতরাং আমেরিকা যদি পাকিস্তান, ভিয়েতনামে বোমা মেরে সয়লাব করে দেয়, তবুও আমি আমেরিকার পক্ষেই থাকবো?

কোনও উত্তর দেন নাই জনাব বিপ্লব পাল।

(বলাই বাহুল্য, আমি আগেও লিখেছি, হয়তো বিপ্লব পালের জীবনের সেরা অর্জন হচ্ছে, আমেরিকায় বসতি স্থাপন, সেটা নিয়ে তিনি ব্যক্তি হিসাবে চরম আত্মরতি উপভোগ করতেই পারেন, কিন্তু তাঁর সেই ব্যক্তি আত্মরতি যদি “মুক্তচিন্তা” নামে প্রচারিত হয়, তাহলেই বিপদ।)

  • জনাব বিপ্লব লিখেছিলেন, মাত্র ১০ ডলার দিলে কিউবার যেকোনো নারী শুতে রাজী হয়ে যায় কারণ এদের সবার ঘরে খাবারের শরটেজ আছে।

আমি প্রশ্ন তুলেছিলাম এর স্বপক্ষে কি কোনও সূত্র আছে? সত্যিই কি কোনও একটি সমাজে শুধুমাত্র ঘরে খাবারের শরটেজ আছে তাই ঘরের নারীরা অন্য মানুষদের সাথে “শুতে” চলে যায়?

তিনি কোনও সূত্র দেন নাই। কোনও ব্যাখ্যা দেন নাই।

তিনি উত্তর দিয়েছেন এটা “ওপেন সিক্রেট”। ওপেন সিক্রেট এর অর্থটা কি? আমি যদি বলি, ভারতের কিম্বা বাংলাদেশের যেকোনো নারীই দশ ডলার দিলে বিছানায় শুতে চলে আসে, কারণ ভারতের দুই তৃতীয়াংশ বাড়ীতে খাবারের শরটেজ আছে, সেটা কি সঠিক দাবী হবে? কেউ চ্যালেঞ্জ করলে, আমি যদি বলি সেটা “ওপেন সিক্রেট” তাতে কি বিষয়টি ব্যাখ্যাত হয়?

  • মোহতারেম বিপ্লব পালের কমিউনিজম বিদ্বেষ প্রায় মানসিক রোগের কাছাকাছি। কমিউনিজমের বিরোধিতা করাটা খুবই স্বাভাবিক, আমেরিকা সহ পশ্চিমা দুনিয়ায় কমিউনিজমের ব্যর্থতার কারণ অনুসন্ধান করে হাজারো প্রবন্ধ লেখা হয়েছে। কিন্তু আমাদের পাল বাবু নানান সময়ে কমিউনিজম নিয়ে নানান রকমের গালগল্প তৈরী করেন। যেমন তিনি দাবী করেছেন –

কমিউনিজম দুনিয়াকে যন্ত্রনা আর দাসত্ব ছাড়া আর কিছুই দেয়নি। ভালো কথা। আমি প্রশ্ন করেছিলাম –

কমিউনিজম যদি দুনিয়াকে যন্ত্রনা আর দাসত্ব ছাড়া আর কিছুই দিয়ে না থাকে, তাহলে মাত্র পঞ্চাশ বছরে সোভিয়েত রাশিয়া কি করে একটি পরাশক্তি হয়ে উঠলো? কেনো ফ্রান্স, ব্রিটেন কিম্বা জার্মানি নয়? কিভাবে সোভিয়েত ইউনিয়ন প্রথম মহাকাশ বিজয়ের গৌরব অর্জন করলো? কেনো আমেরিকাকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ করতে হয়েছিলো শুধু সোভিয়েত বিরোধী প্রোপাগান্ডায়?

কোনও উত্তর দেন নাই আমাদের এই মহোদয়।

তিনি আরো গালিগালাজে নিমজ্জিত হয়েছেন কিন্তু প্রপঞ্চ বা তাঁর কারণটিকে ব্যাখ্যা করেন নাই, করতে পারেন নাই। কিভাবে কমিউনিস্ট দুনিয়া জ্ঞান বিজ্ঞানে আমেরিকার সাথে পাল্লা দিয়েছিলো?

বরং আমার কথা টুইস্ট করে নোবেল পুরস্কারের সংখ্যা নিয়ে মাতামাতি করেছেন।

আগামী পর্বে এই যুদ্ধবাজ "মুক্তমনা"র কথিত মুক্তচিন্তার আরো কিছু নমুনা দিয়ে এই "পাল অধ্যায়" শেষ করবো।

(আগামী পর্বে সমাপ্য)।

আমাদের সময়ের কথিত "মুক্তচিন্তা" আর "মুক্তমনা"দের এই রকমের যুদ্ধবাজ চিন্তা পদ্ধতির ভয়াবহতা সম্পর্কে জানতে যারা আগ্রহী তাঁদের জন্যে আমার মূল লেখার লিংক এখানে দিয়ে দিলাম।

পর্ব এক এখানে
পর্ব দুই এখানে
পর্ব তিন এখানে
শেষ পর্ব এখানে

Comments

পৃথু স্যন্যাল এর ছবি
 

এদের নিয়া কথা বললে এরা আরও বেশি গুরুত্ব পেয়ে যায়। এদেরকে ইগনোর করাই শ্রেয়।

*************************************
আমি কারো দেখানো পথে চলি না।
আমার ইচ্ছে মত পথের তৈরী করি।
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^

 
আমি অথবা অন্য কেউ এর ছবি
 

কাউন্টার পোস্ট ভালোলাগলো। উনার একটা বক্তব্যের সাথে আপনার বক্তব্যও পড়লাম।

কমিউনিজম দুনিয়াকে যন্ত্রনা আর দাসত্ব ছাড়া আর কিছুই দেয়নি। ভালো কথা। আমি প্রশ্ন করেছিলাম –
কমিউনিজম যদি দুনিয়াকে যন্ত্রনা আর দাসত্ব ছাড়া আর কিছুই দিয়ে না থাকে, তাহলে মাত্র পঞ্চাশ বছরে সোভিয়েত রাশিয়া কি করে একটি পরাশক্তি হয়ে উঠলো? কেনো ফ্রান্স, ব্রিটেন কিম্বা জার্মানি নয়? কিভাবে সোভিয়েত ইউনিয়ন প্রথম মহাকাশ বিজয়ের গৌরব অর্জন করলো? কেনো আমেরিকাকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ করতে হয়েছিলো শুধু সোভিয়েত বিরোধী প্রোপাগান্ডায়?

এই প্রসঙ্গে আমার ব্যক্তিগত মত হচ্ছে, কম্যুনিজম আর গণতন্ত্র এসবের কিছুই পৃথিবীকে তেমন কিছুই দেয়নি যে উদ্দেশ্যে এইসব তন্ত্রের উৎপত্তি সেই চিন্তার সাপেক্ষে। গণতন্ত্রে আমার মতে সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হচ্ছে সবাইকে সমান গুরুত্ব দিয়ে দেখা, সবার একটাই ভোট। একজন কালোবাজারীরও এক ভোট, একজন শিক্ষকেরও একটাই ভোট। তারা ভোট আবার ভালোমানুষীর বিচারে দেন না, যার বাগ্মীতা, নাটক করে আবেগ প্রয়াবিত করবার ক্ষমতা বেশি তারাই ইর্বাচনে বেশি বিজয়ী হয়ে যান। তবু সার্বিক বিচারে তা কয়ুনিজমের চেয়ে আমার ব্যক্তিগত মতে বেশি গ্রহণযোগ্য এই সময়ে। কারণ, আমি আমার স্বপ্ল বুদ্ধিতে বুঝি কমিউনিজম সকলকিছু আদর্শ অবস্থায় থাকলেই সফল হতে পারে। কিন্তু সমাজের মানুষগুলোই আদর্শ না। সবচেয়ে যোগ্যতা সম্পন্ন লোকটাই (মেধা, বুদ্ধির সাপেক্ষে) যে মানবতার কথা বলবে, ন্যায়ের কথা বলবে তেমন হয়না। পৃথিবী সবাইকে ধারণ করে। এই ব্যাপারটা গণতন্ত্রের ক্ষেত্রেও অন্তরায়।

আবার আমাদের মত দেশ, যেখানে মানুষ গণতন্ত্র বা কম্যুনিজমের সংগাই জানেনা, লিখতে পড়তে জানেনা বেশিরভাগই, তাদের জন্য গণতন্ত্র সমাজতন্ত্রের আলাদা বিবেচনা কি আমি জানিনা। অন্তত তাদের জন্য সমাজতন্ত্রের ব্যর্থ হবার সম্ভাবনা বেশি।

বিশ্বযুদ্ধের পর আমার মতে গণতন্ত্র আর কম্যুনিজমের সংঘাত বিজ্ঞানকে দিয়েছে অনেক। এর পথটা আবার মানবিক ছিলনা। পৃথিবী এগিয়েছে, কিন্তু কালিও রয়ে গেছে। ভিয়েতনাম ওয়ার বা কোরিয়ান ওয়ারের ক্ষত রয়ে যাবে। মানুষের জন্য এই দুই তত্ত্বে মাথায় তুলে বসা নেতারা ভাবেননি, তারা ভেবেছিলেন নিজ স্বার্থের কথা। আর সত্যি কথা বলতে গেলে পৃথিবীর ইতিহাস বলে এমন মানুষ খুব কমই ক্ষমতায় গেছেন যারা নিজের বা নিজের ধ্যান ধারণা রক্ষার বাইরে গিয়ে সাধারণ মানুষের কথাই ভেবেছেন, তাদের সমর্থনের বলেই ক্ষমতায় ছিলেন। মানুষ কেবল নিজ জাতিকে মনে করলেই হয়না, অন্য জাতি, ধর্ম, বর্ণের মানুষও একইরকম ভাবে মানুষ।

মানুষ এমন একটা প্রাণি, যার সমাজব্যবস্থার জন্য হয়তো কোন তত্বই আদর্শ হবেনা। ক্ষমতার কেন্দ্রে ভালোমানুষ নির্বাচিত করবার ব্যবস্থা থাকলে ভালো হতো। কিন্তু প্রধান দুই ধারাতেই উপরের স্তরে যাবার রাস্তাটা এমন যে ভালোমানুষেরা সেই জায়গায় খুব কমই পৌছাতে পারবেন, পৌছালেও দৈবক্রমে।

আমার কাছে বর্তমান বিশ্বনেতাদের মধ্যে জাস্টিন ট্রুডোকে ভাললাগে। হয়তো অভিবাসীদের দেশ বলেই এটা সম্ভব হয়েছে। অবশ্য সম্পূর্ণরুপে জানিনা, যতটুকু পড়ি, ভালোলাগে। আমেরিকাও অভিবাসীদের দেশ, তবে সেখানকার সবকিছুর নিয়ন্ত্রকগোষ্ঠীর হিসাব অনেক প্যাচানো। ইহুদি লবি, কর্পোরেট লবি, রক্ষণশীল ধারার মানুষেরা, কৃষ্ণবর্ণের মানুষেরা সহ সবাই নিজ স্বার্থের জন্যই ব্যক্তি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করবেন।

আমি মনে মনে চাই এইদেশে অস্থায়ীরুপে একজন স্বৈরশাসক আসুক। কৌশলী, ধুর্ত, কিন্তু মানুষের জন্য কাজ করবেন এমন স্বৈরশাসক। অলৌকিক উপায়ে আসা ছাড়া যদিও কোন উপায় দেখিনা। রাষ্ট্রীয় কাঠামোর যেই অবক্ষয়, সেটাই মাথার উপর ভালো কাউকে অবস্থান করে নিতে দেবে বলে মনে হয়না।

মরতে মরতে ভুল হয়ে যাবে, শেষ নিঃশ্বাসে রয়ে যাবে পাপ। আমি তো নাদান, আমি যে বান্দা খারাপ...

 
গোলাম সারওয়ার এর ছবি
 

ধন্যবাদ, আপনি লেখাটি পড়েছেন সেজন্যে। আমি কোনও বিশেষ তন্ত্রের প্রচারক নই। আমি নেতাতেও বিশ্বাস করিনা। আমি কল্যাণমূলক সমাজের পক্ষের মানুষ। কিন্তু এই মুক্তমনার সাথে আমার মূল দ্বিমতের যায়গাটি হচ্ছে, আমি মনে করি, মুক্তমনা বা মুক্তচিন্তক কে হতে হবে প্রেজুডিস মুক্ত, সংস্কার মুক্ত, খোলা মনের অধিকারী। আমি পুজিবাদ পছন্দ করিনা বলে পুজীবাদী সমাজের সব কিছুই খারাপ, আমি কমিউনিজম পছন্দ করিনা বলে কমিউনিস্ট সমাজের সব কিছুই খারাপ, আমি ধর্ম পছন্দ করিনা বলে ধার্মিক মানুষের সব কিছুই খারাপ, এই ধরনের মস্তিস্ক কখনই মুক্তচিন্তা করতে পারেনা। এরা মূলত ধর্মীয় মৌলবাদীদের আরেক ফর্ম। আমাদের এই মুক্তমনার ব্লগ গুলো পড়লে বোঝা যায় কি নিদারুন সংস্কার তাঁকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে। আপনি আগরহী হলে চোখ রাখুন, আগামী পর্বে শেষ হবে এই লেখাটি।

আরেকটি বিষয় হচ্ছে, তুলনা টি কমিউনিজম আর পুঁজিবাদের হলেই ভালো হয়। কমিউনিজমে গনতন্ত্র নেই, কিন্তু পুঁজিবাদী সমাজে কি খুব বেশী গনতন্ত্র আছে? পুঁজিবাদী সমাজে গনতন্ত্র হচ্ছে ধনীর গনতন্ত্র আর ভোটের গনতন্ত্র। পুঁজিবাদী আমেরিকায় ১৫ লক্ষ মানুষ মিছিল করে কি কোনও যুদ্ধ থামাতে পেরেছে কোনোদিন? গনতন্ত্র মানে শুধু ভোট নয়, গনতন্ত্র একটা প্র্যাক্টিস, একটা সোস্যাল নর্মস। কানাডা আর আমেরিকা দুটোই দাবী করে গনতন্ত্রের, কিন্তু দেখুন দুটি দেশের মাঝে সমাজ সংস্কৃতির পার্থক্য টা কি বিরাট। তাইনা?

 
আমি অথবা অন্য কেউ এর ছবি
 

আমি মনে করি, মুক্তমনা বা মুক্তচিন্তক কে হতে হবে প্রেজুডিস মুক্ত, সংস্কার মুক্ত, খোলা মনের অধিকারী। আমি পুজিবাদ পছন্দ করিনা বলে পুজীবাদী সমাজের সব কিছুই খারাপ, আমি কমিউনিজম পছন্দ করিনা বলে কমিউনিস্ট সমাজের সব কিছুই খারাপ, আমি ধর্ম পছন্দ করিনা বলে ধার্মিক মানুষের সব কিছুই খারাপ, এই ধরনের মস্তিস্ক কখনই মুক্তচিন্তা করতে পারেনা।

আপনি বলেছেন মুক্তমনাকে হতে হবে প্রেজুডিস মুক্ত, সংস্কারমুক্ত, খোলা মনের অধিকারী। আমি এখানে কেবল খোলামনের অধিকারীটাকেই নেব। আমি মনে করি কারও পক্ষে প্রেজুডিস মুক্ত হওয়া, সংস্কার মুক্ত হওয়া বা পূর্ব ধারণা দ্বারা প্রভাবিত হওয়া থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব নয়। এসব সাথে নিয়েই মুক্তমনার সবচেয়ে বড় ব্যাপার হচ্ছে খোলা মন নিয়ে যাবা। সবার যুকি শুনে নিজের জন্য সঠিকটা বেছে নেয়া। নিজের সাথে তো আর প্রচারণা চলে না।

একটা শিশু যখন বড় হয় তখন তার আশেপাশের নানাকিছু দিয়ে প্রভাবিত হতে হতেই বড় হয়। বাবা মায়ের দেয়া শিক্ষা, যে ধর্মের থাকে সেই সম্পর্কিত শিক্ষা, সেই সমাজের আচরণগত নানা রীতি, খাদ্যাভ্যাস সহ সবকিছুই। যে ক্লাস ফাইভ পাস করলো, যে তাও করলো না, আবার যে পিএইচডি করলো, সবাই তাদের শিক্ষা দিয়ে প্রভাবিত হবে পরবর্তী জীবনে। পিএইচডিও আবার রকমফের থাকবে, যে পদার্থবিজ্ঞানে করবে সে একভাবে ভাববে, যে ইসলামের ইতিহাসের উপর করবে, সে তার মত করে নিজের শিক্ষা দিয়ে ভাববে। যে দেশে থেকে জানে যে শুকর খেলে রোগ হয়, কিন্তু একবার বিদেশ গিয়ে দেখল যে শুকর খেয়েও সেখানে কেউ অসুখে ভুগছে না, তার শুকর সম্পর্কিত ধারণা পাল্টাবে। আবার সে যদি বন্য শুয়োর দেখে আর ফার্মের শুয়োর দেখে তবে দেখবে একটা পরিস্কার পরিচ্ছন পরিবেশে বড় হচ্ছে, কিন্তু বুনোটা বেশ ভালোই নোংরা। তখন আবার তার নতুন ধারণা জন্ম নিতে পারে। সাধারণত ছোটোবেলা থেকে মানুষ যা বিশ্বাস করে বড় হয়, তার বাইরে বের হওয়া অনেক কঠিন। প্রাথমিক ধারণাকেই মানুষ ডিফেন্ড করে। এসব নানাকিছুর প্রভাবমুক্ত থাকা একেবারে সম্ভব হয়না, চিন্তা কিছু হলেও প্রভাবিত হয়। এসবের পরেও যারা প্রশ্ন করে নিজের জন্য, নিজের জানাশোনা, দেখা আর জ্ঞানের সাপেক্ষে তুলনা করে ভালোমন্দ বিচার করতে সাহস করে, তারাই মুক্তমনা।

অন্য কথায় সংক্ষেপে আসি, আমেরিকায় মানুষ মিছিল করে যুদ্ধ হয়ত সাথে সাথে থামাতে পারেনি, কিন্তু ভিয়েতনাম যুদ্ধের মত অনেক যুদ্ধে হয়ত আরও অনেক রক্তক্ষয় থামানো গেছে যেহেতু জনমত উপেক্ষা করে আমেরিকান সরকার বেশিদিন যুদ্ধ চালাতে চায়নি। গণতন্ত্রে জনমতের তোয়াক্কা নির্বাচিত হবার পরেও সামান্য হলেও করা হয়, কারণ সামনে আরও নির্বাচন থাকে, চিরস্থায়ী বন্দোবস্থ্য নয়।

মরতে মরতে ভুল হয়ে যাবে, শেষ নিঃশ্বাসে রয়ে যাবে পাপ। আমি তো নাদান, আমি যে বান্দা খারাপ...

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

গোলাম সারওয়ার
গোলাম সারওয়ার এর ছবি
Offline
Last seen: 4 দিন 23 ঘন্টা ago
Joined: শনিবার, মার্চ 23, 2013 - 4:42পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর