নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 5 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • নুর নবী দুলাল
  • সাজ
  • পৃথু স্যন্যাল
  • ডানা বড়ুয়া
  • দীব্বেন্দু দীপ

নতুন যাত্রী

  • সুক্ন্ত মিত্র
  • কাজী আহসান
  • তা ন ভী র .
  • কেএম শাওন
  • নুসরাত প্রিয়া
  • তথাগত
  • জুনায়েদ সিদ্দিক...
  • হান্টার দীপ
  • সাধু বাবা
  • বেকার_মানুষ

আপনি এখানে

ঘাসফুলের কিশোরীরা


দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে বাল্যবিয়ের হার তুলনামূলক বেশি হলেও বাংলাদেশে গত দুই দশকে বাল্যবিয়ের হার উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। সাম্প্রতিক সময়ে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। সেইসঙ্গে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের বেশকিছু ঘটনায় উৎসাহিত হয়ে অনেক কিশোরী নিজের বাল্যবিয়ে নিজে বন্ধ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে। সাম্প্রতিক সময়ে এমন বেশ কিছু ঘটনা আমাদের চোখ ধাঁধিয়ে দিচ্ছে। বাল্যবিয়ের কুফল আজকে দেশের আনাচে-কানাচের লোকজন জানছে। সেইসঙ্গে দেশের কিশোরীরা সাহস দেখাচ্ছে বলেই বাল্যবিয়ের সংখ্যা কিছুটা হলেও কমছে। বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে এপ্রিলের ২০ তারিখ পর্যন্ত বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের ঘটনা ঘটেছে মোট ৪০টি। সম্প্রতি জাতীয় সংসদেও পাস হয়েছে বাল্যবিয়ে নিরোধ আইন ২০১৭। ওয়াশিংটনভিত্তিক থিংক ট্যাংক আইএফপিআরআইয়ের ২০১৬ সালের এক গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাল্যবিয়ের হার শতকরা ৬২ দশমিক ৩ ভাগ থেকে কমে ৪৩ ভাগ হয়েছে। ১৯৯৬ থেকে ২০০৫ সালে বাংলাদেশে ১৫ বছরের কম বয়সী মেয়েদের বিয়ের হার ছিল শতকরা ১৫ দশমিক ৯ ভাগ, ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সীদের বিয়ের হার ছিল ৪৬ দশমিক ৫ ভাগ। সব মিলিয়ে বাল্যবিয়ের হার ছিল শতকরা ৬২ দশমিক ৩ ভাগ। আর ২০০৬ থেকে ২০১৫ সালে ১৫ বছরের কম বয়সী মেয়েদের বিয়ের হার শতকরা ৫ দশমিক ৪ ভাগ, ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সীদের বিয়ের হার ৩৭ দশমিক ৮ ভাগ। মূলত সচেতনতার অভাবে বাল্যবিয়ের প্রকোপ আমাদের দেশে এত বেশি। সেইসঙ্গে দারিদ্র্য, নিরাপত্তাহীনতার বোধের কারণে অনেক দরিদ্র মা-বাবা কিশোরী মেয়ের ভরণপোষণ, লেখাপড়া ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয়ভার থেকে মুক্ত হতে দ্রুত বিয়ে দিয়ে শ্বশুরবাড়ি পাঠাতে চান। বাল্যবিয়ে নামের ব্যাধি সমাজের গভীরে বাসা বেঁধে আছে। তা ছাড়া, আইনকানুন ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে দুর্বলতা অনস্বীকার্য, পারিবারিক বাধা তো রয়েছেই। তবে সম্প্রতি কিশোরীদের সাহসিকতা কিছুটা আশার আলো দেখাচ্ছে। কিশোরী মেয়েরাই নিজেদের কিংবা তাদের সাথীদের বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ করছে। ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার মেয়ে শারমিন আক্তার ২০১৫ সালে নিজের বাল্যবিয়ে ঠেকিয়ে দেশব্যাপী আলোচনায় আসে। তার এই সাহসিকতার জন্য স্বর্ণকিশোরী ফাউন্ডেশন তাকে ২০১৫ সালে পুরস্কার প্রদান করে। তারই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের এই সাহসী কন্যাকে সম্প্রতি বিশ্বসেরা সাহসী নারী হিসেবে ২৯ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেয়া ‘সেক্রেটারি অব স্টেটস ইন্টারন্যাশনাল উইমেন অব কারেজ (আইডব্লিউওসি) ২০১৭’ পুরস্কার প্রদান করেন আমেরিকার ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। সম্প্রতি ময়মনসিংহের নান্দাইলের একটি বিদ্যালয়ের সাত ছাত্রী মিলে ঘাসফুল নামে যে সংগঠন করে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধের আন্দোলনে নেমেছে তা দেশজুড়ে দারুণ সাড়া জাগিয়েছে। তারা ইতোমধ্যেই তিনটি বাল্যবিয়ে ঠেকিয়েছে। ঘাসফুলের মতো সংগঠন দেশের প্রতিটি উপজেলায় গড়ে উঠলে এবং দেশের সব উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা এবং বিদ্যালয়-মাদ্রাসাগুলোর শিক্ষকেরা বাল্যবিয়ে বন্ধ করার কাজে তৎপর হলে বাংলাদেশে আর বেশি দিন এই অভিশাপ থাকবে না। বাল্যবিয়ে বন্ধে সরকারও ইতোমধ্যে বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। স্থানীয় সরকার, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণয়সহ একাধিক মন্ত্রণালয় বাল্যবিয়ে রোধে কাজ করছে।

Comments

Md Mazharul Islam এর ছবি
 

সরকারের উদ্যোগে ও জনসচেতনা বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশে বাল্যবিয়ের হার অনেক কমেছে।

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

নিরব
নিরব এর ছবি
Offline
Last seen: 14 ঘন্টা 49 min ago
Joined: রবিবার, অক্টোবর 23, 2016 - 6:13অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর