নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 3 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • মুফতি বিশ্বাস মন্ডল
  • বেহুলার ভেলা
  • কুমকুম কুল

নতুন যাত্রী

  • নিনজা
  • মোঃ মোফাজ্জল হোসেন
  • আমজনতা আমজনতা
  • কুমকুম কুল
  • কথা নীল
  • নীল পত্র
  • দুর্জয় দাশ গুপ্ত
  • ফিরোজ মাহমুদ
  • মানিরুজ্জামান
  • সুবর্না ব্যানার্জী

আপনি এখানে

পার্বত্য চট্টগ্রামে বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড



পার্বত্য চট্টগ্রামে আইন ও বিচারের আওতামুক্ত হত্যাকান্ডের ইতিহাস নতুন নয়। সম্প্রতি আবার এই Extra Judicial Killing বা বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ডের বিষয়টি নতুনভাবে এসেছে।

গত ৫ এপ্রিল ২০১৭ তারিখে সকাল ১০টার দিকে রাঙ্গামাটি জেলার নান্যাচার উপজেলায় এই বছরের এইচএসসি পরীক্ষার্থী রমেল চাকমাকে আটক করে নান্যাচর জোনের মেজর তানভির ও একদল সেনাসদস্য। এরপর রমেল চাকমাকে টেনে নিয়ে যাওয়া হয় জোন ক্যাম্পে এবং সারাদিন ধরে তার উপর নির্যাতন চালানো হয়। এতে রমেল চাকমা গুরুতর আহত হন এবং সন্ধ্যার দিকে তাকে নান্যাচর থানায় হস্তান্তরের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু আহত রমেল চাকমার শারীরিক অবস্থা দেখে পুলিশ গ্রহণ করেনি। পরবর্তীতে সেনাসদস্যরা তাকে স্থানীয় উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করাতে চাইতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে প্রেরণ করে। এরপর থেকেই চমেকে চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং গতকাল ১৯ এপ্রিল তারিখে তিনি মারা যান।
ছাত্র ও নেতা রমেল চাকমার ছবিঃ

বিভিন্ন মাধ্যমের সহায়তায় জানা গেছে যে রমেল চাকমা ইউপিডিএফ সমর্থিত পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের নান্যাচার উপজেলার নেতা ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি পূর্ব হাতিমারা গ্রামে। নিহতের পিতা কান্তি চাকমা তার ছেলের আটকের পরপরই ৬ এপ্রিল ২০১৭ তারিখে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন রাঙ্গামাটি জেলা অফিসে গিয়ে কমিশনের চেয়ারম্যান বরাবর আবেদন পত্র দাখিল করেন। কিন্তু কমিশন কোনরূপ পদক্ষেপ নেয়নি।
কমিশনকে দেয়া আবেদন পত্রের ছবিঃ

এ থেকে স্পষ্ট যে, সেনাবাহিনী সংক্রান্ত বিষয়ে রাষ্ট্রয়ত্ব যে কোন প্রতিষ্ঠান কোনরূপ পদক্ষেপ নিতে পারে না। ফ্রাংকস্টাইনের দানবের মতোই রাষ্ট্র সেনাবাহিনীকে তার নিজের নিরাপত্তার স্বার্থে সেনাবাহিনীর স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো ঘটনাগুলোকে পাশ কাটিয়ে চলেছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাবাহিনীর ক্ষমতা অপরিসীম। দেশের এক-তৃতীয়াংশ সেনাসদস্যকে পাহাড়ে মোতায়েন করা হয় সার্বভৌমত্ব রক্ষার নামে, দেশের উন্নয়নের নামে। অথচ দেশের এক-দশমাংশ এলাকাকে এরা পরিণত করেছে সামরিক ক্যান্টনমেন্টে যেখানে তাদের ইচ্ছে হলেই মানুষ মারা যায়, যেখানে সেখানে গুলি করে আতঙ্ক সৃষ্টি করা যায়। হাজার হাজার একরের জমি দখল করে নেয়া যায়, পর্যটনকে যথেষ্ট পরিমাণে প্রমোট করে পাহাড়ি জনগণকে প্রান্তিকতার দিকে ঠেলে দেয়া যায়।

যদি রমেল চাকমা সত্যিকারভাবে কোন অপরাধের সাথে জড়িত হয়ে থাকে তবে তাকে এভাবে সেনাবাহিনীর সদস্যরা আটক করে সেনা জোনে নিয়ে নির্যাতন করতে পারে না। অপরাধের জন্য আইন আছে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা আছে। আর রমেল চাকমার নিজের আত্মপক্ষ সমর্থনেরও সুযোগ আছে। কিন্তু এভাবে নিয়মের তোয়াক্কা না করে নির্যাতন করে মেরে ফেলাটা দেশের কোন বিচার বা আইনের আওতায় পড়ে? যে সেনাবাহিনী বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শান্তিরক্ষা মিশনে সুনাম অর্জন করে দেশের নাম উজ্জ্বল করে বলে যা দাবি করা হয়, সেই একই সেনাবাহিনীর দেশের অভ্যন্তরে জনগণের উপর নির্যাতন-নিপীড়ন চালাচ্ছে।

চমেক হাসপাতালে রমেল চাকমার মরদেহঃ

১৯৯৭ সালের আগ পর্যন্ত পাহাড়ে বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ডের ঘটনার সংখ্যা অসংখ্য। এর মধ্যে ১৩টি গণহত্যাও রয়েছে। চুক্তির পরপরই পাহাড়ে শান্তি আনয়ন হওয়ার কথা, কিন্তু শান্তি আসেনি। বরং বিভিন্ন সময়ে সেনাবাহিনীর মদদে সেটেলারদের হামলা অব্যাহত রয়েছে। ২০০৩ সালের মহালছড়ি, ২০১০ সালের বাঘাইহাট ও খাগড়াছড়ি, ২০১২ সালের রাঙ্গামাটি, ২০১৩ সালের খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা এবং ২০১৪ সালে রাঙ্গামাটির নান্যাচরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। আর এসব হামলা-নিপীড়নের পাশাপাশি বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ডের ঘটনাও ঘটেছে।

IWGIA একটি রিপোর্ট Militarization in CHT তে বলা হয়েছে ২০০৪ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত ১৫টি বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ২০০৯ সালে ৫টি হত্যাকান্ড ঘটেছে। এর মধ্যে একটি ঘটনা হলো, ২০০৯ সালের ২৬ জুন জেএসএস এর সক্রিয় কর্মী তরুণ কুসুম চাকমাকে আটক করে একদল সেনাসদস্য। পরদিন তরুণ কুসুম চাকমার লাশ পাওয়া যায়। তার শরীরের একাধিক স্থানে গুলির আঘাত ও নির্মমভাবে শারীরিক নির্যাতনের ছাপ পাওয়া যায়। এই হত্যাকান্ডের কোনরূপ বিচার বা দোষীদের শাস্তি দেয়া হয়নি। রিপোর্টের বিবরণ এখানে
Bangladesh: Bangladesh: Reported extrajudicial killing in the Chakma Community, Chittagong Hill Tracts

এছাড়া ২০১৪ সালের ১০ আগস্ট জেএসএস(এমএন) দলের নেতা তিমির বরণ চাকমা দুরানকে খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার ইন্দ্রমুনি পাড়া থেকে আটক করা হয়। এরপর সেনা হেফাজতেই তার মৃত্যু ঘটে। এ প্রসঙ্গে সেনাবাহিনী দুইটি বক্তব্য দিয়েছিল। একবার বলেছে ‘হঠাৎ শ্বাসকষ্টজনিত রোগে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মাটিরাঙা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বেলা দেড়টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে।’ [দৈনিক সুপ্রভাত, ১১ আগস্ট] একই সেনাবাহিনীর আর একটি ভাষ্য হলো, ডুরন বাবু ‘পালাতে গিয়ে গাছের সাথে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে পাহাড় থেকে পড়ে গুরুতর আহত হয়।’ [দৈনিক পূর্বদেশ, ১১ আগস্ট]
ময়নাতদন্তের পরপরই সেনাবাহিনী ও পুলিশের উপস্থিতিতে সেদিন রাতে বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে খাগড়াছড়ির সদরস্থ মহাজন পাড়ার শ্মশানে পুড়িয়ে ফেলা হয়। পরিবার ও দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে নির্যাতনের আলামত নষ্ট করার জন্যই তড়িঘড়ি করে তাকে পোড়ানো হয়েছে এবং প্রশাসন নিহত ব্যক্তির পরিচয়, বাড়ির ঠিকানা জানা সত্ত্বেও বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে দেখিয়েছে। আর ময়নাতদন্তের রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছিল কিনা সেটা কারোর জানা নেই। আর এই ঘটনায় জড়িত ছিল মাটিরাঙ্গা জোনের ক্যাপ্টেন কাওসার।
২০০৪-২০১১ সাল পর্যন্ত একটা পরিসংখ্যান ডাটাঃ

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০০৪ থেকে ২০১১-র মধ্যে সেনাবাহিনীর হাতে নিহত হয়েছেন ১৫ জন, আহত ৩১ জন, গ্রেপ্তার হয়েছেন ৪৬৪ জন, পাঁচটি বাড়ি পোড়ানো আর সাতটা মন্দির ধ্বংস করা হয়েছে, উচ্ছেদ করা হয়েছে ২৮৫ জনকে, মারধোর করা হয়েছে ১৫৪ জনকে এবং নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৩৭৪ জন আদিবাসী৷ অন্যদিকে ২০০১ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে সেনাবাহিনীর সহায়তায় বাঙালি সেটলারদের চালানো কিছু হামলায় ৭ জন নিহত, ৪২ জন আহত, ৩৮টি লুট, ১০টি ধর্ষণ এবং ১,০৭০টি বাড়িঘর পোড়ানোর ঘটনা ঘটে৷
তথ্যসূত্রঃ পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাবাহিনী ও বাঙালি সেটলারদের আগ্রাসন

১৯৯৬ সালের ২৯ জুন কল্পনাকে চাকমা অপহরণের দায়ে জড়িত লেফটেন্যান্ট ফেরদৌসের বিচার আজ ২১ বছরেও সম্পন্ন হয়নি। বরং বিভিন্ন সময়ে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে তাকে। এদিকে বিচারকে বারবার দীর্ঘসূত্রিতা করা হয়েছে। মামলার তারিখ এ পর্যন্ত পেছানো হয়েছে ৩০ বার। পুলিশ প্রতিবেদনে বারবার সত্যকে ধামাচাপা দেয়ার চক্রান্ত চলেছে। কিন্তু তাঁর পরিবার সহযোদ্ধারা এখনো লেঃ ফেরদৌসের বিচার চান।

এভাবে এখনো পাহাড়ে বিনা বিচারে আটক করে মেরে ফেলা হয়। এখনো পাহাড়ে বিনা দোষে হামলার ঘটনা ঘটে। গত ১৩ এপ্রিল খাগড়াছড়ির মহালছড়িতে এক সেটেলারের লাশ পাওয়াকে কেন্দ্র করে সন্ধ্যার দিকে অংক্যচিং মারমা নামে একজনকে কুপিয়ে আহত করা হয়। অথচ কে বা কারা হত্যা করেছে সেটা স্পষ্ট নয়। এরপরও পাহাড়িদের দায়ী করে হামলা চালানোর ঘটনায় কোনরূপ আইনের প্রয়োগ হয়নি। এভাবেই চলছে আমাদের পাহাড়। এভাবেই চলছে পাহাড়িদের জীবন যেখানে জীবনের কোন মূল্য নেই। যে কেউ সেনাবাহিনী কর্তৃক আটক হয়ে নির্যাতনে মৃত্যু ঘটতে পারে। স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি সেখানে এক হাহাকারের নাম। গণতন্ত্রের দেশে সামরিকশাসিত অঞ্চলে এভাবেই পাহাড়িদের বসবাস।

পরবর্তী সংযুক্তিঃ
২০ এপ্রিল, ২০১৭ তারিখে বিকালে রমেল চাকমার লাশটি চট্টগ্রাম মেডিকেল থেকে নিয়ে আসা হয়। রাত ৮টার দিকে লাশটি বুড়িঘাট বাজারে পৌঁছানোর পর তার আত্মীয়রা লাশটি গ্রহণ করে বাড়িতে নিয়ে যেতে ট্রলারে (ইঞ্জিনচালিত নৌকা) উঠলে একদল সেনা সদস্য লাশ বহনকারী ট্রলারটি আটকায় এবং ট্রলারটিসহ লাশটি তাদের হেফাজতে নেয়। বর্তমানে লাশটি বুড়িঘাট ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের মেম্বার মোঃ বাবুল (বাবু) এর বাসায় রাখা হয় এবং ২১ এপ্রিল দুপুরে সেনা প্রহরায় রমেল চাকমার লাশটি পেট্রোল দিয়ে পুড়িয়ে ফেলা হয়।

বিভাগ: 

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

অজল দেওয়ান
অজল দেওয়ান এর ছবি
Offline
Last seen: 1 দিন 15 ঘন্টা ago
Joined: শুক্রবার, জুন 6, 2014 - 11:16পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর