নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 5 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • বেহুলার ভেলা
  • গোলাপ মাহমুদ
  • দীব্বেন্দু দীপ
  • মুফতি মাসুদ
  • নুর নবী দুলাল

নতুন যাত্রী

  • বিদ্রোহী মুসাফির
  • টি রহমান বর্ণিল
  • আজহরুল ইসলাম
  • রইসউদ্দিন গায়েন
  • উৎসব
  • সাদমান ফেরদৌস
  • বিপ্লব দাস
  • আফিজের রহমান
  • হুসাইন মাহমুদ
  • অচিন-পাখী

আপনি এখানে

কওমী মাদ্রাসাকে সমর্থন করা মানে- হেফাজত ও ১৩ দফাকেও সমর্থন করা


কওমী ও হেফাজতের স্বরুপ

কওমী মাদ্রাসা কি? তা বুঝতে হলে, এই শিক্ষার লক্ষ্য-উদ্দেশ্য জানাটা জরুরী। সেটা জানলেই বুঝতে পারবেন এই শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য? হেফাজতে ইসলাম কি চায়? তা বুঝতে তাদের ১৩ দফা দেখলেই বিষয়টা পরিষ্কার হবে! কওমী ও হেফাজতের মধ্যে কি কোন পার্থক্য আছে? না নেই! কওমী ও হেফাজতের সম্পর্ক ও সমীকরণ বুঝতেই এই আলোচনার সূত্রপাত! কওমী শিক্ষার উদ্দেশের ১১টি ধারার সাথে হেফাজতের ১৩ দফা মিলিয়ে দেখলেই বুঝতে পারবেন, হেফাজত ও কওমীর সম্পর্কের প্রকৃত স্বরুপ!

কওমী শিক্ষার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য
১. কওমী মাদরাসা সমূহকে এক প্লাটফরমে ঐক্যবদ্ধ করা। ২. তালীম ও তারবিয়াতের মান উন্নয়ন। ৩. সমাজের দ্বীনী চাহিদা পূরণ। ৪. ইসলামের হিফাযত, প্রচার, প্রসার, দাওয়াত ও তাবলীগ এবং ইসলামের উপর আবর্তিত যে কোন হামলার সুদৃঢ় ও প্রামাণ্য জবাব দান। ৫. সমাজে উলামায়ে কিরামের ন্যায়সঙ্গত অধিকার ও মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান প্রতিষ্ঠা। ৬. সমাজে ইসলাম প্রতিষ্ঠার সমূহ কর্মসূচী গ্রহণ। ৭. মাদরাসা ফারেগীনদের জন্য তাখাছ্ছুছ্ কোর্স ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাকরণ। ৮. ইসলামের মূল ঘাটি মসজিদ সমূহের মান উন্নয়ন এবং পাড়ায় পাড়ায় মসজিদ নির্মাণ ও মসজিদকেন্দ্রিক মক্তব প্রতিষ্ঠা ও এর মান উন্নয়ন। ৯. জনগণের ধর্মীয় চাহিদা পূরণ করার জন্য বহুমুখী ব্যবস্থা গ্রহণ। ১০. দ্বীনের হিফাযতের নিমিত্ত প্রয়োজনীয় কর্মসূচী গ্রহণ। ১১. আধুনিক সমস্যাবলীর ইসলামী সমাধানের ব্যবস্থা গ্রহণ।

কওমী মাদ্রাসা নিয়ন্ত্রন করে কে?
কওমী মাদ্রাসাকে নিয়ন্ত্রন করে ‘বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ’ বেফাক নামের কওমী মাদ্রাসাভিত্তিক একটি শিক্ষা বোর্ড। কওমী মাদ্রাসাকে নিয়ন্ত্রন করার এটি সর্ববৃহৎ প্রতিষ্ঠান। এই ধারার অন্যান্য মাদ্রাসাকে নিয়ন্ত্রন করার ছোটবড় প্রায় আরও ২০টি বোর্ড রয়েছে। কেবল বেফাকের অধীনেই প্রায় ৩০ হাজার মাদ্রাসা আছে! দেশের বৃহত্তম কওমী মাদ্রাসাগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে এই প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পরিষদ গঠিত হয়। এই বোর্ডের অধীনেই এসকল মাদ্রাসার শিক্ষা-পরীক্ষা-প্রশাসন সবকিছু পরিচালিত হয়। ২০০৫ থেকে বেফাকের চেয়ারম্যান হিসেবে আছেন মাওলানা আহমেদ শফী এবং মহাসচিব হিসেবে মাওলানা শাইখুল হাদিস।

হেফাজত কি?
হেফাজত ইসলাম বাংলাদেশ হচ্ছে কওমী মাদ্রাসভিত্তিক একটি সংগঠন। ১৯ জানুয়ারী ২০১০ চট্রগ্রামের প্রায় ১০০ কওমী মাদ্রাসার শিক্ষকদের নিয়ে এই সংগঠনটি তৈরী হয়। মূলত ২০০৯ ও ১০ সালে নারীনীতি ও একমূখী শিক্ষানীতির বিরোধীতার মধ্যেদিয়ে এ সংগঠনের জন্ম হয়। বর্তমানে এ সংগঠনের চেয়ারম্যান, কওমী মাদ্রাসার শিক্ষাবোর্ডেরও চেয়ারম্যান মাওলানা আহমেদ শফী, এবং আল জামিয়াতুল দারুল উলুম মাদ্রাসার পরিচালক জুনায়েদ বাবুনগরী এর মহাসচিব। সুতরাং হেফাজত ইসলাম শতভাগ কওমী মাদ্রাসাভিত্তিক একটি সংগঠন এটা নিয়ে দ্বিধা থাকার কোন অবকাশ নেই!

হেফাজত কি চায়?
২০১৩ সালে হেফাজতে ইসলাম ঢাকার শাপলা চত্তরে ধর্মের অবমাননা ও নাস্তিকতার অভিযোগে শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চের বিরোধীতা করে এক বিশাল সমাবেশ করে। সেখান থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে সরকারের কাছে ইসলামের হেফাজতে ১৩ দফা দাবী পেশ করে! এবং বর্তমান ধর্মনিরপেক্ষ (!) আওয়ামী লীগ সরকার তাদের দাবিগুলো সহানুভূতির সাথে বিবেচনায় নিয়ে পর্যায়ক্রমে ও কৌশলে বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে! দাবী সমুহঃ

১. সংবিধানে ‘আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ পুনঃস্থাপন এবং কোরআন-সুন্নাহবিরোধী সব আইন বাতিল করা।
২. আল্লাহ্, রাসুল (সা.) ও ইসলাম ধর্মের অবমাননা এবং মুসলমানদের বিরুদ্ধে কুৎসা রোধে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে জাতীয় সংসদে আইন পাস।
৩. কথিত শাহবাগি আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী স্বঘোষিত নাস্তিক-মুরতাদ এবং প্রিয় নবী (সা.)-এর শানে জঘন্য কুৎসা রটনাকারী ব্লগার ও ইসলামবিদ্বেষীদের সব অপপ্রচার বন্ধসহ কঠোর শাস্তিদানের ব্যবস্থা করা।
৪. ব্যক্তি ও বাকস্বাধীনতার নামে সব বেহায়াপনা, অনাচার, ব্যভিচার, প্রকাশ্যে নারী-পুরুষের অবাধ বিচরণ, মোমবাতি প্রজ্বালনসহ সব বিজাতীয় সংস্কৃতির অনুপ্রবেশ বন্ধ করা।
৫. ইসলামবিরোধী নারীনীতি, ধর্মহীন শিক্ষানীতি বাতিল করে শিক্ষার প্রাথমিক স্তর থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত ইসলাম ধর্মীয় শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা।
৬. সরকারিভাবে কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণা এবং তাদের প্রচারণা ও ষড়যন্ত্রমূলক সব অপতৎপরতা বন্ধ করা।
৭. মসজিদের নগর ঢাকাকে মূর্তির নগরে রূপান্তর এবং দেশব্যাপী রাস্তার মোড়ে ও কলেজ-ভার্সিটিতে ভাস্কর্যের নামে মূর্তি স্থাপন বন্ধ করা।
৮. জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ দেশের সব মসজিদে মুসল্লিদের নির্বিঘ্নে নামাজ আদায়ে বাধাবিপত্তি ও প্রতিবন্ধকতা অপসারণ এবং ওয়াজ-নসিহত ও ধর্মীয় কার্যকলাপে বাধাদান বন্ধ করা।
৯. রেডিও-টেলিভিশনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে দাড়ি-টুপি ও ইসলামি কৃষ্টি-কালচার নিয়ে হাসিঠাট্টা এবং নাটক-সিনেমায় নেতিবাচক চরিত্রে ধর্মীয় লেবাস-পোশাক পরিয়ে অভিনয়ের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের মনে ইসলামের প্রতি বিদ্বেষমূলক মনোভাব সৃষ্টির অপপ্রয়াস বন্ধ করা।
১০. পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশব্যাপী ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত এনজিও এবং খ্রিস্টান মিশনারিগুলোর ধর্মান্তকরণসহ সব অপতৎপরতা বন্ধ করা।
১১. রাসুলপ্রেমিক প্রতিবাদী আলেম-ওলামা, মাদ্রাসার ছাত্র ও তৌহিদি জনতার ওপর হামলা, দমন-পীড়ন, নির্বিচার গুলিবর্ষণ এবং গণহত্যা বন্ধ করা।
১২. সারা দেশের কওমি মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষক, ওলামা-মাশায়েখ ও মসজিদের ইমাম-খতিবকে হুমকি-ধমকি, ভয়ভীতি দানসহ তাদের বিরুদ্ধে সব ষড়যন্ত্র বন্ধ করা।
১৩. অবিলম্বে গ্রেপ্তারকৃত সব আলেম-ওলামা, মাদ্রাসাছাত্র ও তৌহিদি জনতাকে মুক্তিদান, দায়ের করা সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং আহত ও নিহত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণসহ দুষ্কৃতকারীদের বিচারের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দিতে হবে।

কওমী ও হেফাজতের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য কি অভিন্ন?
কওমী মাদ্রাসার ১১লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের সাথে, হেফাজতের ১৩ দফার মিল ও সমন্বয়ের বিষয়টি একটু লক্ষ্য করুণ। বেফাকের অধীন কওমী মাদ্রাসা তাদের লক্ষ্যের ৩. সমাজের দ্বীনী চাহিদা পূরণ ৪. ইসলামের হিফাযত ৬. সমাজে ইসলাম প্রতিষ্ঠার কর্মসূচী গ্রহণ ৯. জনগণের ধর্মীয় চাহিদা পূরণে বহুমুখী ব্যবস্থা গ্রহণ ১০. দ্বীনের হিফাযতে প্রয়োজনীয় কর্মসূচী গ্রহণ পয়েন্টে সমাজে ইসলাম প্রতিষ্ঠার নীতি ও প্রত্যয় ঘোষণা করেছে।

অন্যদিকে তাদের অভিভাবক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম, ১৩ দফায় ১. কোরআন-সুন্নাহবিরোধী সব আইন বাতিল ২. আল্লাহ্, রাসুল (সা.) ও ইসলাম ধর্মের অবমাননায সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান ৪. ব্যক্তি ও বাকস্বাধীনতার নামে সব বেহায়াপনা, অনাচার, ব্যভিচার, প্রকাশ্যে নারী-পুরুষের অবাধ বিচরণ, মোমবাতি প্রজ্বালনসহ সব বিজাতীয় সংস্কৃতির অনুপ্রবেশ বন্ধ করা। ৫. ইসলামবিরোধী নারীনীতি, ধর্মহীন শিক্ষানীতি বাতিল করে শিক্ষার প্রাথমিক স্তর থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত ইসলাম ধর্মীয় শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা। ৭. মসজিদের নগর ঢাকাকে মূর্তির নগরে রূপান্তর এবং দেশব্যাপী রাস্তার মোড়ে ও কলেজ-ভার্সিটিতে ভাস্কর্যের নামে মূর্তি স্থাপন বন্ধ করা। ৯. বিভিন্ন মাধ্যমে দাড়ি-টুপি ও ইসলামি কৃষ্টি-কালচার নিয়ে হাসিঠাট্টা বন্ধ করা।

এই বক্তব্য ও নীতির আলোকে কওমী মাদ্রাসা তার শিক্ষার্থীদের মধ্যে কাঠামোগত প্রক্রিয়ার আদর্শগত ভিত্তি গড়ে তোলে, আর হেফাজত ইসলাম রাষ্ট্র এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরে সেই ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সংগঠনিক শক্তি হিসেবে কাজ করে। তার অংশ হিসেবে হেফাজত নানা মাত্রিক কৌশল ও সূদৃরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তার দাবী ও কর্মসূচী নির্ধারণ করছে! এখানে কওমী ও হেফাজতের এই লক্ষ্য-দাবীগুলোর বিস্তৃত বিশ্লেষণ করে প্রবন্ধকে আর দীর্ঘ করছি না। পাঠকদের প্রতি অনুরোধ আলোচিত ধারাগুলো গভীর মনোযোগ পড়লে সহজেই সমীকরণটি বুঝতে পারবেন, এই বক্তব্যের যথার্থতা কতটা সত্য!

মাদ্রাসা শিক্ষাকে সমর্থন করার কারণ
দেশের অনেক মানুষ মাদ্রাসা শিক্ষা সমর্থন করেন। সমর্থন করার কারণ হিসেবে বলে থাকেন,
১. এখানে গ্রামের গরীব, অসহায়, এতিম, দরিদ্র ছেলেমেয়েরা বিনাপয়সায় খাবারসহ আবাসিক ব্যবস্থায় লেখাপড়ার করে! এই ব্যবস্থা উঠে গেলে এই গরীর ছেলেমেয়েদের কি হবে?
২. মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ট দেশে একটি অংশ মাদ্রাসায় পড়লে ক্ষতি কি? সবাই তো আর ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হবে না, তাই না? আর যারা সেখানে পড়তে আসে তারা সেটা হতেও চায় না। তাহলে সমস্যাটা কোথায়?
৩. মুসলমানের দেশে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, সামাজিক আচার-অনুষ্ঠান এবং ভবিষ্যত চাহিদার কারণে একটি অংশের এই ধারায় লেখাপড়া করা উচিত।
৪. যাদের সন্তানরা এই ধারায় লেখাপড়া করে, স্রষ্টা সেসব অভিভাবকের উপর অতি সন্তষ্ট হবে, এবং পরকালে তাদের জান্নাত ও মুক্তির পথ প্রশস্ত হবে!
৫. প্রত্যেক নাগরিকের নিজের ইচ্ছা ও পছন্দ অনুযায়ী লেখাপড়া করার অধিকার আছে! সে কারণে/যুক্তিতে একে মেনে নিতে হবে! প্রধানত এই বিষয়গুলোই হচ্ছে মাদ্রাসা শিক্ষাকে সমর্থন ও মেনে নেয়ার কারণ!

হেফাজতের বিরোধীতার কারণ
বাংলাদেশের শহুরে ও মধ্যবিত্ত নাগরিকদের একটি বিরাট অংশ- মাদ্রাসা শিক্ষাকে সমর্থন করেন! এবং তার পক্ষে অনেক জোড়ালো যুক্তিও উপস্থাপন করেন! তারাই আবার প্রচন্ড ভাবে হেফাজত বিরোধী! তাদের বিরোধীতার প্রধান কারণ তারা হেফাজতকে বাঙালি লিল্প, সংস্কৃতি, আধুনিকতা, মানবতা, গণতন্ত্র, সভ্যতা, উন্নয়ন, মুক্তবুদ্ধির চর্চা, ব্যক্তি ও নারী স্বাধীনতা, সেক্যুলার শিক্ষার ঘোর বিরোধী মনে করেন! কেন এমন মনে করেন? এখানে তার সংক্ষেপে কয়েকটি কারণ উল্লেখ করছি।
১. দেশের জাতীয় সংঙ্গীতকে সমর্থন করে না! এবং কওমীকে কখনো জাতীয় সংঙ্গীত গাওয়া হয় না!
২. বর্ষবরণ অনুষ্ঠান, বৈশাখী মেলা, আনন্দ মিছিল, গান-বাজনা-নাচ, বর্ণিল সাজসজ্জা, মঙ্গল শোভাযাত্রা, মঙ্গলপ্রদীপ, এগুলোকে ইসলাম বিরোধী মনে করে!
৩. গান, কবিতা, নাটক, সাহিত্য, চলচ্চিত্র, চিত্রকলা, শিল্প, ভাষ্কর্য, খেলাধূলাকে সমর্থন করে না!
৪. শহীদ মিনার ও একুশ উদযাপন, বিজয় ও স্বাধীনতা দিবস পালনের প্রচলিত রীতিকে তারা মূর্তি পুজার সামিল মনে করে।
৫. মুক্তচিন্তা, মুক্তিবুদ্ধির চর্চা বিরোধীতা করে, নাস্তিক ও ভিন্নধর্মের লেখকদের সাহিত সমর্থিত না।
৬. ব্যক্তি ও নারী স্বাধীনতা, অভিন্ন শিক্ষা, আধুনিক আইনের ঘোরবিরোধী।
৭. রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, শরৎচন্দ্র, তারা শংকর, হুমায়ুন আহমেদ, সত্যজিৎ, লালন, লতা, হেমন্ত, সন্ধ্যা, রুনা, সাবিনাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের সৃষ্টি, মেধা-প্রতিভা ও কর্মকে স্বীকার করা হয় না।
৮. সেই স্বপ্নের শাসনতন্ত্র ও খেলাফত প্রতিষ্ঠার আগেই সমাজের চেহারা পাল্টাতে শুরু করেছে!

অদ্ভুদ স্ববিরোধীতাঃ কওমী মাদ্রাসার পক্ষে কিন্তু হেফাজতের বিপক্ষে!
বাংলাদেশের জনগোষ্ঠীর একটি বিশাল মাদ্রাসা শিক্ষাকে সমর্থন করে! কওমী মাদ্রাসা শিক্ষাকে সমর্থন করার কারণ প্রধানত ধর্মীয়, ব্যক্তি-পরিবারের ইচ্ছা ও আর্থিক! কারণগুলো আপাত দৃষ্টিতে অতি নীরিহ। নাগরিকদের সেই অংশই আবার হেফাজতের অতি ধর্মীয় রক্ষণলীলতার কারণে সংগঠনটির এবং তাদের কর্মকান্ডের ঘোর বিরোধী! সেক্ষেত্রে তাদের ক্ষোভ-ঘৃণা-ভীতি হচ্ছে হেফাজতের কথা শুনলে-মানলে তাদের জীবন-যাপন নানা ভাবে নিয়ন্ত্রিহ হবে, ক্ষতিগ্রস্থ হবে, অন্ধকারাচ্ছন্ন হবে! সেটা তারা কোনভাবেই চান না, মানবেন না! হেফাজতের শীর্ষনেতারা নারী স্বাধীনতা, আধুনিকতা, তারুণ্য, শিক্ষা, বাঙালি সংস্কৃতি, সমাজ ইত্যাদি বিষয়ে বিভিন্ন সময় যে বক্তব্য রেখেছেন, সে কারণে তাদের মধ্যে এই ঘৃণা ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। কিন্তু তারা বুঝতে পারছেন না, হেফাজত নেতাদের এই বক্তব্য কওমী মাদ্রাসার মূল বক্তব্য ও অভিন্ন আদর্শ! তাহলে কওমী ও হেফাজতের একটিকে পছন্দ, অন্যটি অপছন্দ, অথবা একটিকে সমর্থন, অন্যটির বিরোধীতা বিষয়টি অদ্ভুদ স্ববিরোধীতা হয়ে যায় না? আপনি যদি মাদ্রাসার সমর্থক হোন তাহলে আপনি হেফাজতেরও সমর্থক! আর যদি আপনি হেফাজতের বিরোধী হোন, তাহলে আপনাকে মাদ্রাসারও বিরোধী হতে হবে! কারণ, হেফাজত ও কওমীর কারণ-সমীকরণ অভিন্ন, তাকে আপনি আলাদা করতে পারবেন না, সম্ভব না! এতদিন আপনি বুঝতে পারেন নি, এই শিশু ঘুমন্ত ভাল্লুককে! কিন্তু আপনাদের নির্লিপ্ততা ও অগোচরে আজ তা এক বিশাল দৈত্যে পরিণত হয়েছে! তবু কি এই প্রশ্নে আপনাদের ভ্রান্তি কাটছে, ঘুম ভাঙ্গছে?

স্ববিরোধীতার সংস্কৃতি থেকে বেড়িয়ে আসতে হবে
বাঙালির স্ববিরোধীতার শেষ নেই। বলবেন, আওয়ামী লীগ-বিএনপিতে কোন পার্থক্য নেই! দুই নেত্রীর স্বভাব-চরিত্র এক! কিন্তু ভোটের বেলায় এ দুয়ের যে কোন একটিকে বেছে নেবেন! মাদ্রাসা শিক্ষার প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে নিজেকে উদার মনে করবেন, আবার তাদের অভিভাবক সংগঠন হেফাজত ইসলামকে ঘৃণা করবেন! আইনের শাসন চাই, আবার বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ডকে সমর্থন করি! গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি, এবং আমার পছন্দের দল সবসময় ক্ষমতায় থাকবে সেটা চাই! ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র চাই, রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহারের বিরোধীতা করি না! সংবিধানে আছে একমূখী শিক্ষা, কিন্তু বাজারে আছে বার ধারার শিক্ষা! নির্বাচনে সৎ-যোগ্য-ভাল পক্ষে বলি, কিন্তু ভোটের বেলায় মার্কা খুঁজি! চেতনায় মুক্তিযুদ্ধ, কিন্তু কাজকর্ম সাম্প্রদায়িক! মুখে ঐক্য-সংহতি বাস্তবে কর্তৃত্ব ও একনায়কত্বের পুজারী!

স্ববিরোধীতার এই বিপদজনক সংস্কৃতি আমাদের সমাজ ও রাজনীতির ভয়ঙ্কর সংকট তৈরী করছে! যে কারণে গড়ে উঠতে পারছে না একটি সুস্থ ধারার রাজনীতি, সংগঠন ও আন্দোলন। তাহলে কি আমাদের ভবিষ্যত ছেড়ে দিতে হবে নিয়তি ও শাসকের ইচ্ছার উপর? সেই প্রশ্ন ও আত্মপলব্ধি হতে পারে স্ববিরোধীতার সংস্কৃতি থেকে বেড়িয়ে আসার পথ।
-----------------------------------------------------
ড. মঞ্জুরে খোদা, প্রাবন্ধিক ও গবেষক, ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়, কানাডা

বিভাগ: 

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

মঞ্জুরে খোদা টরিক
মঞ্জুরে খোদা টরিক এর ছবি
Offline
Last seen: 4 weeks 15 ঘন্টা ago
Joined: বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারী 4, 2016 - 11:59পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর