নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 5 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • নুর নবী দুলাল
  • সাজ
  • পৃথু স্যন্যাল
  • ডানা বড়ুয়া
  • দীব্বেন্দু দীপ

নতুন যাত্রী

  • সুক্ন্ত মিত্র
  • কাজী আহসান
  • তা ন ভী র .
  • কেএম শাওন
  • নুসরাত প্রিয়া
  • তথাগত
  • জুনায়েদ সিদ্দিক...
  • হান্টার দীপ
  • সাধু বাবা
  • বেকার_মানুষ

আপনি এখানে

“সুষুপ্ত পাঠকদের” নাস্তিকতা – যেখানে যুক্তি আছে – বিজ্ঞান আছে, নেই সত্যনিষ্ঠা, নেই ইতিহাসনিষ্ঠা ! পর্ব – ২


গত পর্বের লেখা এখানে

সুষুপ্ত পাঠকের উল্লেখিত ব্লগটিতে অনেক কিছুই আছে, কিন্তু নেই "এভিডেনস", তাই এই ধরনের লেখা শেষ পর্যন্ত সত্যে পৌছাতে ব্যর্থ হয়। জনাব রিচারড ডকিন্স নব্য নাস্তিকতার গুরুদের একজন, তাঁর এই বয়ানটি পড়ে দেখুন আর আমাদের নাস্তিক বন্ধুটির লেখাটি পড়ে দেখুন। প্রফেসর ডকিন্স এর বয়ানটিতে তিন টি শব্দ খেয়াল করে দেখুন Clarity, Evidence এবং Argument, এই তিনটি শব্দই হচ্ছে মুক্তচিন্তার প্রাণ, যা ভয়াবহ রকমের অনুপস্থিত আমাদের বাংলা ভাষার নব্য নাস্তিকদের অনেকের মাঝে। আমার এই সিরিজটি সেই সমস্যা নিয়ে। কাউকে ব্যক্তিগত ভাবে সমালোচনা বা খাটো করার জন্যে নয়।

সুষুপ্ত পাঠক ইঙ্গিত করেছেন, ব্যক্তিগত আক্রমনের বিপদের কথা। তাই এই লেখার পাঠকের প্রতি বলছি, অনুগ্রহ করে জানাবেন কোথায় ব্যক্তি আক্রমন হয়েছে, আমি সানন্দে সেই যায়গাটি সম্পাদনা করে দেবো। আমার এই লেখাটিতে বরং নব্য নাস্তিকতা ধারায় চিন্তা ও বিশ্লেষণের গভীরতার নমুনাটুকুই দেখাতে চাই, এখানে ব্যক্তি সুষুপ্ত কেবলই একজন প্রতিনিধি মাত্র। সেজন্যেই শিরোনামে দেখুন আমি বহুবচন ব্যবহার করেছি, "সুষুপ্ত পাঠকদের" বলেছি।

গত পর্বে সুষুপ্ত পাঠকের কাছে দাবী করেছিলাম ঠিক কোথায় কোথায় বামপন্থিরা ইসলামী জঙ্গীদের সমর্থন করেছেন তাঁর কিছু সুনির্দিষ্ট রেফারেন্স আমাদের কে দেবার জন্যে। তিনি মন্তব্য করেছেন, এই রকমের সুনির্দিষ্ট কোনও রেফারেন্স দেয়া কঠিন এবং তিনি কার্যত রেফারেন্স দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। এর সাথে প্রশ্ন করেছিলাম, যদি ইসলামিস্টদের সন্ত্রাসবাদী হামলাগুলো আমেরিকা আর ইউরোপের বিরুদ্ধে “জিহাদ” হয়ে থাকে, তাহলে আমেরিকা ও তার পশ্চিমা মিত্রদের দ্বারা সারা দুনিয়াকে যুদ্ধক্ষেত্র বানিয়ে রাখাটাকে কি বলা হবে? এই উত্তরটি তিনি মন্তব্যে দেননাই, বরং পাল্টা প্রশ্ন করেছেন, কেনও ইসলামী জঙ্গী হামলাগুলোর উল্লেখ করার জন্যে সব সময় আমেরিকার আগ্রাসনের কথা বলতেই হবে। পালটা প্রশ্নটি যৌক্তিক, আমি বলছিনা আপনাকে একই সাথে তা বলতেই হবে, বরং আমি আপনাকে প্রশ্ন করেছি সাম্প্রতিক সময়ের এই হামলা গুলো কেনও আমেরিকা ও ইউরোপের বিরুদ্ধে “জিহাদ” বলা হচ্ছে? আর সেগুলো যদি জিহাদ হয়ই, তাহলে সারা দুনিয়াতে আমেরিকা ও তাঁর মিত্ররা যা করে বেড়াচ্ছে সেগুলোর নাম কি দেয়া যেতে পারে? আশা করছি সেই উত্তরও পাবো। আমি আপনার কাছ থেকে জানতে চাচ্ছি, আমাকে আলোকিত করুণ।

আজকে লিখবো বামপন্থিদের “আলু পোড়া” খাওয়ার দাবী নিয়ে। সুষুপ্ত লিখেছেন এভাবেঃ

“কারণটা সবাই জানে এখন। ইসলামী টেরোরিস্ট বা জিহাদীদের একটা অংশ আমেরিকা-ইউরোপীয়ানদের বিরুদ্ধে জিহাদ করছে। বামদেরও কমন শত্রু আমেরিকা ও তার মিত্ররা। এই সূত্রে ইসলামের লাগানো আগুনে বামরা আলু পোড়া দিয়ে খেতে চাইছে”।

সুষুপ্ত পাঠকের দাবীটিকে যদি আমি সঠিক ভাবে বুঝতে পারি, তাহলে বলবো, বামপন্থিদের আলু পোড়া খাওয়ার বিষয়টি তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, কমন শত্রু আমেরিকার বিরুদ্ধে যদি ইসলামিস্টরা যুদ্ধ চালিয়ে কোনও ঝামেলা করতে তৈরী পারে, যদি আমেরিকাকে বিপাকে ফেলে দিতে পারে, সেই ফাঁকে বামপন্থিরা তাঁদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করে নিতে পারে, অন্তত রাজনৈতিক উদ্দেশ্য না হলেও খানিকটা সুবিধা বা ফায়দা আদায় করে নিতে পারবেন। আমি ঠিক জানিনা জনাব সুষুপ্ত পাঠক আসলে বামপন্থি বলতে কি বোঝেন বা কি বোঝাতে চান। প্রচলিত অর্থে বামপন্থি শব্দটি এক ধরনের বিস্তৃত রাজনৈতিক অবস্থান বোঝায়। ইউরোপে বামপন্থি বলতে পরিবেশবাদী দল, নারীবাদী দল, সামাজিক গনতন্ত্রী বা সোস্যাল ডেমক্র্যাট, লেফট পার্টি এবং কমিউনিস্ট পার্টি এঁদের সবাইকেই এক গুচ্ছ হিসাবে বামপন্থি বলা হয়ে থাকে। আমাদের এই সময়ের নাস্তিক বন্ধুদের অনেকেরই এতো “ডিটেইল” এ যাওয়ার সময় নেই, দরকারও পড়েনা। তাঁদের এতো এতো ডিটেইল না হলেও চলে, কিন্তু আমি যে সেকুলার সমতাভিত্তিক সমাজের স্বপ্ন দেখি তারজন্যে যথেষ্ট “ডিটেইল” বিস্তারিত ভাবনার দরকার আছে।

তাই সুষুপ্ত পাঠকের “বামপন্থি” সংজ্ঞাটি নিয়ে আমি ভেবেছি। তিনি লিখেছেন বামপন্থিদের শত্রু হচ্ছে আমেরিকা। কথাটা কি সত্যি? এই কথাটির মধ্যে এক ধরনের বালখিল্য সরলীকরণ আছে। বিএনপি – আওয়ামী মার্কা রাজনৈতিক কর্মীরা এই ধরনের বালখিল্য সরলীকরণ করে থাকে। কিন্তু এটা বালখিল্য সরলীকরণ কেনও? ব্যাখ্যা করছি। আমেরিকায় যে সকল বামপন্থি আছেন, তাঁদেরও শত্রু কি তাঁদের নিজ দেশ আমেরিকা? আমেরিকায় বিভিন্ন নামে বামপন্থিরা আছেন, বেশ কয়েকটি বামপন্থি দলও আছে। সিএনএন বা ফক্স নিউজের যুগে সেই সকল বামপন্থি দল বা মানুষগুলোর খোঁজ আমরা পাইনা। এই বামপন্থিদের শত্রু নিশ্চয়ই তাঁদের নিজের দেশ আমেরিকা নয়। যদি সমগ্র পশ্চিমের কথা ধরি, তাহলে এমন কি পশ্চিমের কোনও কোনও দেশে বামপন্থিরা ক্ষমতায়ও আছেন, যেমন ধরুন ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের আটটি দেশে মোটাদাগে বামপন্থিরা ক্ষমতায় আছে (যাদেরকে বলা হয় লেফট অথবা সেন্টার লেফট। দেখুন এখানে )। আরো কয়েকটি দেশে বামপন্থিরা প্রধান বিরোধী দল। এই এই সকল দেশ কি আমেরিকাকে শত্রু মনে করে? যেমন ধরুন – ফ্রান্সে হোল্যাদ এর নেতৃত্বে যে সরকার তাতো বামপন্থীদেরই সরকার, হয়তো কমিউনিস্টদের সরকার নয়, কিন্তু বামপন্থিদের সরকার। এঙ্গেলা মারকেল এর আগে জার্মানিতে বহু বছর ধরে উদারনিতিবাদী বামপন্থিরা ক্ষমতায় ছিলো, তখন আমেরিকা কি জার্মানির প্রধান শত্রু ছিলো? আমাদের নাস্তিক বন্ধুদের অনেকেই যেহেতু সমাজ – রাজনীতি বিষয়ে “ডিটেইল” নন, গভীর নন, কেবল পানির উপরে ভেসে থাকা শ্যাওলার মতো জ্ঞানচর্চা করে থাকেন, তাই তাঁদের পক্ষে এটা বোঝা সত্যিই কঠিন যে বামপন্থিদের কাছে আমেরিকার চাইতেও বড় শত্রু হচ্ছে পুজিবাদ এবং পুজিবাদী শোষণ। আমেরিকা ঘটনাচক্রে সেই পুঁজিবাদী দুনিয়ার একটি বড় দেশ এবং যার সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের শিকার পৃথিবীর প্রায় সকল দেশ। মূল বিরোধিতাটি দেশভিত্তিক নয়, বরং মূল বিরোধিতাটি রাজনীতির - অর্থনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি আর তাঁর সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসী চরিত্রের প্রতি। শুধু যে আমেরিকাই সাম্রাজ্যবাদী তা নয়, একটা পর্যায়ে সমাজতান্ত্রিক দেশগুলোও তাঁদের সাম্রাজ্যবাদী চেহারা নিয়ে হাজির হয়েছিলো বিশ্ব রাজনীতিতে। সেই কারনেই পঞ্চাশের দশকের পরে সমগ্র বামপন্থি দুনিয়া নিজেই ভাগ হয়ে যায় চীন ও রাশিয়ার প্রভাবে। আমাদের দেশের চীনপন্থি কমিউনিস্টরা মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের মতোই বিরোধিতা করতেন সোভিয়েত “সামাজিক সাম্রাজ্যবাদ” কে। বিষয়টি যদি “শত্রুতা”ই হয়, তাহলে শত্রুতাটি সমাজ ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে, দেশ বা জাতির বিরুদ্ধে নয়।

শীতল যুদ্ধ আর পশ্চিমা মিডিয়া আমাদের মাথাকে এমনই ধোলাই করেছে যে আমরা দ্বন্দ্বটিকে আর পুজিবাদ ও সমজতান্ত্রিক ধারনার মনে করিনা, মনে করি আমেরিকা ও বামপন্থিদের দ্বন্দ্ব। এটা পশ্চিমা মিডিয়ার সাফল্য, তাঁরা আমাদের মস্তিষ্কে গেথে দিতে পেরেছেন যে, আমেরিকার বিরুদ্ধে বাম্পন্থিরা এবং আমেরিকার বিরুদ্ধে ইসলামী জঙ্গীরা, সুতরাং ইসলামী জঙ্গীরা আর বামপন্থিরা “ভাই – ভাই”। আর আমাদের নিউ এথিস্ট বন্ধুরা সেই প্রচারনা বহুগুন জোরে প্রচার করেন, নিজের বিবেচনাবোধের ন্যূনতম প্রয়োগ না করেই। দেখুন যদি একই এনালজি ব্যবহার করা হয়, নিউ এথিস্টদের বেলায় তাহলে কেমন হয়, সারা দুনিয়ায় খ্রিষ্টান চার্চ কমিউনিস্টদের বিরোধিতা করেছে, আবার নিউ এথিস্টরাও কমিউনিজমের বিরোধিতা করে, সুতরাং নিউ এথিস্ট ও চার্চবাদীরা আসলে একই। এটা কি ফ্যালাসী নয়? সুষুপ্ত পাঠকের এই লেখাটি এই রকমের বেশ কিছু ফ্যালাসিতে ভরপুর।

এবার আসি “আলু পোড়া” প্রসঙ্গে। এখন বলুন তো, যদি ইসলামি জিহাদিরা আমেরিকা আক্রমন করে তাহলে বাংলাদেশের বামপন্থিদের কি লাভ হতে পারে? আমেরিকা বা ইউরোপ যদি জিহাদীদের আক্রমনে ক্ষত বিক্ষত হয়, তাহলে কি আমাদের দেশে শেখ হাসিনা কান্নাকাটি করে ক্ষমতা ছেড়ে দেবেন? তিনি কি বামপন্থিদের কাছে এসে বলবেন, প্লিজ দাদা ভাইয়েরা আমেরিকা আর ইউরোপে ইসলামিস্টরা বোমা মারার কারনে আমি ভীষণ আতংকিত, ক্ষমতা আর চালাতে পারছিনা, সুতরাং আপনারা ক্ষমতা নিয়ে আমাকে উদ্ধার করুণ ! ইউরোপের কোনও শাসক কি তা করবেন?

সম্ভবত হাসিনা কিম্বা দুনিয়ার কোনও বর্তমান শাসক তা করবেন না। কিম্বা বাংলাদেশ বা ইউরোপের ভোটের রাজনীতিতে সেটা কিভাবে বামপন্থিদেরকে লাভবান করতে পারবে? বরং বাস্তব সত্যি হচ্ছে, এই ধরনের যেকোনো হামলা, আক্রমন আসলে ডানপন্থিদেরকেই আরো শক্তিশালী করে। আমেরিকার নির্বাচন আর ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সার্ভে বা পোল তাই প্রমান করছে। সুইডেন, ডেনমার্ক, ন্যাদারল্যান্ড, জার্মানি, অস্ট্রিয়া সহ পূর্ব ইউরোপের প্রায় প্রতিটি দেশে ইসলামপন্থীদের এই সকল হামলার ফলে ডানপন্থীদের জনপ্রিয়তা বেড়েছে। সারা ইউরোপে মুসলমান আশ্রয়প্রার্থীদের ভিড় এবং তাঁদের অনমনীয় আরব সংস্কৃতির কারণে ইউরোপে নানান হামলা – অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে চলেছে। মুসলমান আর ইসলামিস্টদের এই সকল কান্ড কারখানা থেকে কারা বেশী লাভবান হচ্ছে টাইম ম্যাগাজিনের এই আর্টিকেলটিতে দেখে নেয়া যেতে পারে। (এখানে ) অথচ আমাদের সুষুপ্ত পাঠকের মতো একজন পন্ডিত মানুষ বলছেন ইসলামী জঙ্গীদের হামলায় নাকি বামপন্থিরা ফায়দা নিচ্ছেন বা নিতে চাচ্ছেন, ইন্টারেস্টিং নয়? আশা করি সুষুপ্ত পাঠক আরো বিস্তারিত ব্যাখ্যা করবেন তাঁর বর্ণিত এই “পোড়া আলু”টি আসলে কি বস্তু? বাস্তবতা বলছে – ইসলামী জিহাদ, ইসলামী হামলা এসবের কোনও রকমের রাজনৈতিক ফায়দা বামপন্থিদের ঘরে ওঠেনা, বিশেষত ইউরোপের অভিজ্ঞতা বলছে, এই সকল ঘটনার সরাসরি বেনেফিশিয়ারী হচ্ছে ডানপন্থী দলগুলো।

বামপন্থিদের নিয়ে জনাব পাঠকের আরো জ্ঞানগর্ভ বয়ান পড়ুনঃ

"বামদের বিদ্যা হজম হয় খুব কম। মুহাম্মদের নেতৃত্বে আরবদের মক্কা বিজয়কে বামরা কখনো কখনো প্রলোতেরিয়াতদের বিজয় হিসেবে বলার চেষ্টা করেছে। এরকম দৃষ্টিভঙ্গি ইসলামের মত জাতিবিদ্বেষ, বর্ণবাদী নিষ্ঠুর প্রতিক্রিয়াশীলতাকে বৈধতা দেয়া হয়েছে। এতে করে বামদের কোন লাভ হয়নি। সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙ্গে যাবার পর তাদের স্থান দখল করে নিয়েছে ইসলামী জিহাদীরা। আশ্চর্যজনকভাবে ইসলামী জিহাদীদের কর্মপন্থা কমিউনিস্ট বিপ্লবীদের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়…।"

পুরো টেক্সটটিতে কোনও এভিডেন্স নেই, আরগুমেন্ট নেই, আছে "জাজমেন্ট" বা বিচারের রায়। মুহাম্মদের নেতৃত্বে মক্কা বিজয় কে হাজার হাজার সামাজিক বিজ্ঞানী নানান ভাবে ব্যাখ্যা করেছে। সেই সকল ব্যাখ্যার বহু লেখক মুসলিম নন, ভিন্ন ধর্মের একাডেমিক স্কলাররাও এই বিষয়টি নিয়ে কাজ করেছেন। সেসবের অনেকের সাথে কিম্বা সবার সাথেই আমি দ্বিমত পোষন করতে পারি, কিন্তু দ্বিমতের কথা বলার জন্যে তো স্পষ্ট করে লিখতে হবে কোন ব্যাক্তি, কবে এই মতামত প্রকাশ করেছিলেন? কোথায় ছাপা হয়েছিলো সেই বিশ্লেষণ? এই টেক্সট টিকে বোঝার জন্যে ও বিশ্বাসযোগ্যতার জন্যে নাম ধাম সাল দিন ক্ষণ টাইটেল সহ রেফারেন্স দরকার ছিলো। না আমাদের নাস্তিক বন্ধুটির লেখার নৈতিকতায় সেই সবের কোনও বালাই নেই। কেবল বলে দিলেই হলো।

এবার ইরান প্রসঙ্গে দেখি সুষুপ্ত কি লিখেছেনঃ

“ইরানের বামপন্থিরা খোমিনীর জিহাদী দলের সঙ্গে আঁতাত বা চুক্তি করেছিল একনায়ক শাসক রেজা শাহকে ক্ষমতাচ্যুত করতে। ইসলামী সাম্রাজ্যবাদের সঙ্গে একখাটে শুতে বামদের আপত্তি না থাকলেও খোমিনিদের জিহাদী আইডিওলজিতে এইসব নাস্তিক-অবিশ্বাসীদের সঙ্গে কোন ধরণের সহবস্থান নিষিদ্ধ”।

ইরান বিষয়ে জনাব পাঠকের মোদ্দা কথা হচ্ছে – বামপন্থিরা এতোটাই বোকা যে তাঁরা শত্রু-মিত্র চেনেন না। তাঁরা খোমেনির ইসলামিস্টদের সাথে “আঁতাত বা চুক্তি” করেছিল ইরানের শাসক রেজা শাহ পাভলভিকে ক্ষমতা থেকে ফেলে দেবার জন্যে। কিন্তু খোমেনি পরে তাঁদের একটা বিরাট অংশকে (তিন হাজার) হত্যা করেছিলেন। ভালো কথা, ইরানের বামপন্থিরা তাহলে এতোটাই বোকা ছিলো। আমাদের দেশের এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বামপন্থিদের বোকামীর ভুরি ভুরি নজির পাওয়া যাবে, অন্তত এ বিষয়ে কোনও দ্বিমত নেই, তাঁর প্রমান পৃথিবী দেখেছে সমাজতান্ত্রিক বিশ্বের পতনের মধ্য দিয়ে। কিন্তু ইরানের বাম্পন্থিরা যে খোমেনির সাথে “আঁতাত বা চুক্তি” করেছিল, সেটার একটা রেফারেন্স হলে ভালো হতোনা? যদি সত্যিই চুক্তি হয়ে থাকে, তাহলে সেই চুক্তির কপিটা কোথাও পাওয়া যাবে? কোনও ইতিহাস বইয়ে? কোনও আরটিকেল এ? নিদেনপক্ষে আমেরিকার সি আই এ’র কোনও ডিক্ল্যাসিফায়েড ডকুমেন্টে? না বরাবরের মতোই সুষুপ্ত কোনও রেফারেনস দেবার প্রয়োজন বোধ করেননি।

আমি সুষুপ্ত পাঠককে অবিশ্বাস করছিনা, কিন্তু রেফারেন্স টী জরুরী। বাস্তব সত্যি হচ্ছে – ইরানের শাহ বিরোধী আন্দোলনে অনেক গুলো দল, উপদল সমান্তরালে আন্দোলন সংগ্রাম করে যাচ্ছিলো। বামপন্থিদেরই ছোট – বড় মিলে প্রায় পাঁচটি দল এই আন্দোলনে অংশ নিয়েছে (দেখে নিন এখানে।) ইতিহাস বলছে “শাহ এর পতন” এই আন্দোলনের বিভিন্ন শরিকদের মাঝে “গ্লু” এর মতো কাজ করেছিলো। সমান্তরাল আন্দোলন সুষুপ্ত পাঠকের কাছে হয়ে গেছে “হাত মেলানো”। এই ফরমুলায় হয়তো সুষুপ্ত একদিন বলবেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি গুলোও এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে জামাতের সাথে হাত মিলিয়েছিলো। কারণ একথাতো সত্যি জামাতও এরশাদ বিরোধী আন্দোলন করেছে, কমিউনিস্ট - সমাজতন্ত্রী পার্টি গুলোও করেছে, সুতরাং তাঁরা জামাতের সাথে হাত মিলিয়েছিলো। অবাক করা সরলীকরণ, বামদের কে ধরার জন্যে সরলীকরণের কোনও বিকল্প নেই।

ইরানের শাহ বিরোধী আন্দোলনে বামপন্থিরা শেষ পর্যন্ত ক্ষমতা দখল করতে পারেনি, বরং তাঁরা সেই লক্ষ্য থেকে অনেক দুরেই ছিলো। কিন্তু একথা কি পাঠক সাহেব আরেকটু অগ্রসর হয়ে বলবেন, কিভাবে ইরানে খোমেনির যুগ শুরু হলো? শেষ মদতটা কোথা থেকে এসেছিলো? বলাই বাহুল্য ১৯৫৩ সালে আপাত গণতান্ত্রিক ভাবে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী জনাব মোসাদ্দেক কে সামরিক ক্যু এর মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত করা হয় আমেরিকা ও ব্রিটিশ সরকারের প্রত্যক্ষ প্রচেষ্টায়। কেবল মাত্র একটি তেল কোম্পানীর (বর্তমান ব্রিটিশ পেট্রোলিয়াম) স্বার্থ রক্ষার জন্যে একটি দেশের গোটা সরকারকে উৎখাত করেছিলো এংলো-আমেরিকান সরকার। না এই বর্ণনা আমি বানিয়ে বলছিনা, এটা আমেরিকারই ডিক্ল্যাসিফাইড ডকুমেন্ট এর বরাতে বলছি। (আগ্রহীরা এখানে দেখে নিতে পারেন এখানে )। একজন নির্বাচিত প্রতিনিধিকে উৎখাত করে বসানো হয় রাজতন্ত্র। আর সেই রাজতন্ত্রের পতন ঘটে খোমেনি বাহিনী, আরো কিছু ইসলামী বাহিনী এবং বামপন্থিদের আন্দোলনের মুখে। কিন্তু ক্ষমতা গ্রহন করেন সেই সময়ে প্যারিসে অন্তরীন থাকা আয়াতোল্লাহ খোমেনি। প্যারিসে থাকা অবস্থাতেই খোমেনি বেশ কয়েকবার যোগাযোগ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট কার্টারের প্রশাসনের সাথে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট কার্টার ও তাঁর প্রশাসনের সবুজ সংকেত পাওয়ার পরই তিনি প্যারিসের একজাইল জীবন থেকে ইরানে ফিরে আসেন। প্রকৃত বাস্তবতায় “আতাত – চুক্তি” টা বামপন্থিদের সাথে ছিলোনা, ছিলো ভাশুর আমেরিকার সাথে, যা বলতে আমাদের নিউ এথিস্টরা শরম পান। সত্য বলায় – স্বীকার করায় কোনও শরম নেই। গৌরব আছে। আমেরিকার সেই সময়ের প্রশাসনের সাথে আয়াতোল্লাহ খোমেনির এই আঁতাত বিষয়ে জানতে হলে পড়ুন (এখানে ) ।


( সি আই এ'র ডিক্ল্যাসিফায়েড ডকুমেন্ট এ খোমেনির সাথে মার্কিন প্রসাশনের আঁতাতের প্রসঙ্গটি দেখুন)

যদি সুষুপ্ত পাঠকের লেখাকে কোনও রেফারেন্স ছাড়া বিশ্বাসও করি, তাহলে আমি বরং আরেকটু সরাসরি প্রশ্ন করি, রাজনীতির ময়দানে কৌশল কোনও ভালো – খারাপের ধার ধারেনা। প্রশ্ন হচ্ছে আপনার স্ট্যাটেজি বা কৌশল আপনাকে জয়ী করছে কিনা। ইরানের বামপন্থিরা যদি খোমেনির সাথে চুক্তি করেও থাকে রাজনৈতিক লক্ষ্য আদায়ের জন্যে, তাতে সমস্যা কি? সমস্যা হচ্ছে, এই আঁতাত তাদেরকে টিকে থাকতে দেয়নি, তার মানে তাঁদের কৌশল বা স্ট্র্যাটেজি ব্যর্থ হয়েছে। এটা নিয়ে মায়াকান্নার কিছু আছে কি?

পরের পর্বে লিখবো প্যালেস্টাইন প্রসঙ্গ আর বাংলাদেশের ব্লগারদের হত্যা পরবর্তীতে বামপন্থিদের কি ভুমিকা ছিলো তা নিয়ে।

(চলবে)

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

গোলাম সারওয়ার
গোলাম সারওয়ার এর ছবি
Offline
Last seen: 2 দিন 12 ঘন্টা ago
Joined: শনিবার, মার্চ 23, 2013 - 4:42পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর