নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 3 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • আলমগীর কবির
  • মিঠুন বিশ্বাস
  • দ্বিতীয়নাম

নতুন যাত্রী

  • চয়ন অর্কিড
  • ফজলে রাব্বী খান
  • হূমায়ুন কবির
  • রকিব খান
  • সজল আল সানভী
  • শহীদ আহমেদ
  • মো ইকরামুজ্জামান
  • মিজান
  • সঞ্জয় চক্রবর্তী
  • ডাঃ নেইল আকাশ

আপনি এখানে

পার্বত্য চট্টগ্রামে পুনর্বাসিত বাঙালিদের অযুক্তিক ও অগণতান্ত্রিক হরতাল !!


ছবিঃ সংগৃহীত

সমতল হতে রেশনের প্রলোভনে জিয়া ও স্বৈরাশাসক এরশাদের পুনর্বাসিত সেটেলার বাঙালিরা আজকে তিন পার্বত্য জেলায় হরতাল পালন করেছে। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে অধিকারের দাবিতে গণতান্ত্রিক আন্দোলন করা নাগরিক হিসেবে সে অধিকার সবার আছে। কিন্তু গণতন্ত্র চর্চার নামে অযুক্তিক আন্দোলনের মাধ্যমে বৃহৎ জনগোষ্ঠীর জাতিয়টার সহানুভূতিকে ব্যবহার করে সাম্প্রদায়িক আন্দোলনের যুক্তিকতা কতটুকু ?

আজকের এই হরতালের অন্যতম দাবি ছিল রাংঙ্গামাটি মেডিকেল কলেজ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ ও ভর্তিতে বাঙালি কোটা চালু করা এবং ভূমি কমিশন সংশোধনী আইন ২০১৬ বাতিলসহ আট দফা দাবি বাস্তবায়ন করা। তাদের এই দাবির মধ্যে মূল কয়েকটি দাবি নিয়ে কিছু যৌক্তিক আলোচনা ও বিশ্লেষণ করতে চাই-

সমতল হতে পুনর্বাসিত এই সেটেলার বাঙালিরা দাবি করছেন রাংঙ্গামাটি মেডিকেল কলেজ ও রাংঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মক্ষেত্রে নিয়োগ ও ভর্তিতে বাঙালি কোটা চালু করার জন্য। তারা কি এই দাবি জেনে করছেন নাকি না জেনেই একটি সাম্প্রদায়িক বিভাজনের প্রয়োজনে এ দাবি করা হচ্ছে ? গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের জনপ্রশাসন মন্ত্রাণালয়ের জারিকৃত কোটা সংরক্ষণ এর নীতিমালা অনুযায়ী মুক্তিযোদ্ধা কোটা ৩০%, মহিলা কোটা ১০%, জেলা কোটা ১০%, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কোটা ৫%, প্রতিবন্ধী কোটা ১% সহ মোট ৫৬% কোটা সংরক্ষিত এবং বাকি থাকে ৪৪%। এই সংরক্ষিত ৫৬% কোটার মধ্যে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী(৫%) ও প্রতিবন্ধী(১%) কোটা বাদে ৫০% কোটাই থাকে তাদের দখলে। কারন তারা যদিও পার্বত্য এলাকায় পুনর্বাসিত কিন্তু এই পার্বত্য এলাকা বাদেও সমতলে তাদের অনেকেরি নিজস্ব জায়গা-জমির মালিকানা আছে। পার্বত্য এলাকায় এমন অনেকেই আছেন সারাবছর পাহাড়ে আয় রোজগারের পরে বছরের শেষে মাস দুয়েকের জন্য সমতলে নিজের বাড়িতে গিয়ে থেকে আসেন। যার ফলে তারা সংরক্ষিত জেলা কোটার(১০%) সুবিধাতো পাচ্ছেই পাশাপাশি মেধাভিত্তিক সংরক্ষিত ৪০% এর সুবিধাও তারাই নিচ্ছে। কারন পার্বত্য এলাকার অনুন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা, শিক্ষার মানের কারনে পার্বত্য এলাকার আদিবাসীরা স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে কলেজ, ভার্সিটি পর্যন্ত পৌছাতে পারলেও প্রতিযোগিতার দৌড়ে এবং সংখ্যাধিক্য বাঙালির অংশগ্রহণের মাঝে টিকতে পারেনা। এখন পার্বত্য এলাকার সেইসব পুনর্বাসিত সেটেলার বাঙালিরা পার্বত্য এলাকার নিয়োগ ও ভর্তি প্রক্রিয়ায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কোটার(৫%) উজুহাত দেখিয়ে নিজেরাও বাঙালি কোটা দাবি করে তাহলে সেটা অযৌক্তিক এবং অগণতান্ত্রিক। তাদের এই দাবি অগণতান্ত্রিক এই জন্য কারন ১৯৯৭ সালে তৎকালীন ও বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার কর্তৃক গঠিত পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক জাতীয় কমিটি পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সাথে চুক্তিবদ্ধ হয় যা পার্বত্য চুক্তি হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। এই চুক্তির (ঘ) পুনর্বাসন, সাধারণ ক্ষমা প্রদর্শন ও অন্যান্য বিষয়াবলীর (১০) কোটা সংরক্ষণ ও বৃত্তি প্রদানে উল্লেখ আছে-

চাকুরী ও উচ্চ শিক্ষার জন্য দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সমপর্যায়ে না পৌছা পর্যন্ত সরকার উপজাতিয়দের জন্য সরকারি চাকুরী ও উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোটা ব্যবস্থা বহাল রাখিবেন। এখন পাহাড়ের সেই সেটেলার বাঙালিরা যদি এই চুক্তি উল্লেখিত ধারার উজুহাতে নিজেরাও যদি বাঙালি কোটার দাবি করে সেটা শুধু অযৌক্তিকতাই নয় বরং এটি একটি অগণতান্ত্রিকও দাবি। এছাড়াও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সংবিধানের ২৯(৩) অনুচ্ছেদ নাগরিকদের ‘অনগ্রসর অংশের’ জন্য চাকরিতে বিশেষ কোটা প্রদান অনুমোদন করেছে। এখানে ‘অনগ্রসর অংশে’ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী অন্তর্ভুক্ত।

এই হরতালের আরেক উল্লেখযোগ্য দাবি, ভূমি কমিশন সংশোধনী আইন’২০১৬ বাতিল। কিন্তু পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন যে পার্বত্যবাসীর জন্য নতুন তা কিন্তু নয়, ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর তৎকালীন আওয়ামীলীগ সরকারের সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির মাধ্যমে পাহাড়ে কয়েক দশকের সংঘাতের অবসান ঘটে। এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের ভূমি সংক্রান্ত কতিপয় বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে একটি কমিশন গঠন ও আনুষঙ্গিক বিষয়ে বিধান প্রণয়নকল্পে আইন প্রণীত হয় যা সংবিধানে ২০০১ সনের ৫৩ নং আইন হিসেবে উল্লেখিত এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি-বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন, ২০০১ হিসেবে অভিহিত। এবং সংবিধানে এই আইনের ধারাসমূহে (১) সংজ্ঞা হিসেবে উল্লেখ আছে-

যেহেতু পার্বত্য চট্টগ্রাম অনগ্রসর উপজাতি অধ্যুষিত অঞ্চল এবং অনগ্রসর অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা বিধেয়; এবং

যেহেতু এই অঞ্চলের উপজাতীয় অধিবাসীগণসহ সকল নাগরিকের রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, শিক্ষা ও অর্থনৈতিক অধিকার সমুন্নত এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা প্রয়োজন; এবং

যেহেতু উপরিউক্ত লক্ষ্যসহ বাংলাদেশের সকল নাগরিকের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের আওতায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার প্রতি পূর্ণ অবিচল আনুগত্য রাখিয়া পার্বত্য জেলা সংক্রান্ত জাতীয় কমিটি এবং পার্বত্য জনসংহতি সমিতি বিগত ১৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪০৪ বঙ্গাব্দ মোতাবেক ২রা ডিসেম্বর, ১৯৯৭ খৃস্টাব্দ তারিখে একটি চুক্তি সম্পাদন করিয়াছে; এবং

যেহেতু উক্ত চুক্তি বাস্তবায়নের অংশ হিসাবে পার্বত্য চট্টগ্রামের জায়গাজমি সংক্রান্ত কতিপয় বিরোধের দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য একটি কমিশন গঠন ও আনুষঙ্গিক বিষয়ে বিধান করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়;

এবং এই আইনে কিছু ত্রুটি থাকার কারনে গত ১ আগষ্ট ২০১৬ তারিখে আঞ্চলিক পরিষদের সুপারিশগুলোর আলোকে আইনটি সংশোধনের নীতিগত সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে মন্ত্রীসভায় গৃহীত হয় এবং গত ৮ আগষ্ট ২০১৬ রাস্ট্রপতি কতৃক ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ’ পাশ করেন এবং তারপর দিন ৯ আগষ্ট তা গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়। সুতরাং সমতল হতে পুনর্বাসিত সেটেলার বাঙালিরা সংবিধানের উল্লেখিত ও এই আইনের বিরোধিতা করা অর্থ এই দাঁড়ায় তারা চায় ৯৭ পূর্ববর্তীতে যে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটেছে তা পুনরায় সাম্প্রদায়িক সংঘাতে পরিণত হোক। কিন্তু পারবত্যবাসিরা সেটি পুনঃউত্থান ঘটুক তা কখনো চায় না।

এই হরতাল নামের সহিংস পরিস্থিতি তৈরির এই দুটি মূল দাবি ছাড়াও আরো ৬ টি দাবি ছিল। তার মধ্যে আরেকটি দাবি ২০১৭ সালের এস.এস.সি পরিক্ষার প্রশ্ন পত্রে সংবিধান বিরোধী তথাকথিত ‘আদিবাসী’ শব্দের ব্যবহার। কিন্তু-

১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আইএলও’র আদিবাসী ও ট্রাইবাল জনগোষ্ঠী বিষয়ক ১০৭ নং কনভেনশন অনুস্বাক্ষরের মাধ্যমে কার্যত: একাধারে আদিবাসী ও ট্রাইবাল (বাংলায় যাকে বলা হচ্ছে ‘উপজাতি’) উভয় জনগোষ্ঠীর অধিকার স্বীকার করে নিয়েছিলেন। সেসময় তিনি ‘আদিবাসী’ শব্দটির আপত্তি জানিয়ে কনভেনশনটি অনুস্বাক্ষর করেছিলেন বলে জানা যায়নি।

দ্বিতীয়ত: আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র ও ঘোষণাপত্রে সুস্পষ্টভাবে ‘আদিবাসী’ শব্দটি উল্লেখ আছে। সর্বোপরি ২০০৮ সালের নির্বাচনী ইসতেহারেও অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে ‘আদিবাসী’ উল্লেখ করে তাদের উপর চলমান বৈষম্য ও বঞ্চনা অবসানের অঙ্গীকার করেছিল আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার। এছাড়াও ২০০৮ সালে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উপলক্ষ্যে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত সমাবেশে আদিবাসী অধিকারের জন্য যে আবেগ-আপ্লুত বক্তব্য দিয়েছিলেন এবং সমাবেশের শেষে আয়োজিত র‍্যালিতে তিনি যেভাবে মিছিলের অগ্রভাগে বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সভাপতি সন্তু লারমাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা অধিকারহারা আদিবাসীদের সাথে সামিল হয়েছিল।


ছবিঃ সংগৃহীত

যদিও সঠিকভাবে মনে পরছে না তবে বর্তমান সরকার প্রধান স্বয়ং মাননীয় নিজেই বলেছিলেন “আদিবাসী শব্দ ব্যবহারে তো মানা করা হয়নি”। তাহলে এই সেটেলার বাঙালিদের আদিবাসী শব্দ ব্যবহারে আপত্তি কেন ? অবশ্যই সেটি উদ্দেশ্যমূলক। বাদবাকি যেসব দাবি করা হয়েছে- উপজাতি সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠন ইউপিডিএফ কর্তৃক চাদাঁর দাবীতে গত ২৩/০১/১৭ তারিখে রাঙামাটি সড়কে বাঙালি ব্যবসায়ীদের মালবাহি গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার প্রতিবাদ ও ক্ষতিপূরনের দাবীতে, খাগড়াছড়ি পৌরসভার ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর এস এম মাসুম রানার উপর হামলা ও গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া, মারিশ্যা সড়কে আরএফএলের গাড়ীতে গুলিবর্ষন। আর এসব ভিত্তিহীন দাবি নিয়ে হরতালের ডাক দেওয়া থেকে এটাই স্পষ্ট পুনর্বাসিত বাঙালিরা কখনো চায়না পাহাড়ে শান্তির বাতাস বয়ে আসুক। কারন তারা যে দাবি নিয়ে কিছুদিন পর পর হরতালের নামে নাশকতা সৃষ্টি করতে চায়। পুনর্বাসিত সেটেলার বাঙালিরা মাসে মাসে কার্ড প্রদর্শনের মাধ্যমে রেশন সুবিধা নেয় পাহাড়ের আদিবাসীরা তো কখনো দাবি করেনা সে সুবিধা পাহাড়িদেরও দেওয়া হোক। তাহলে পাহাড়ে কেন এই সাম্প্রদায়িক সংঘাত তৈরির চেষ্টা ? কারন একটাই পার্বত্য চুক্তি সম্পাদনের পরেও বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রিতার মাধ্যমে প্রশাসনের পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ ইন্দনে পাহাড়ে সংঘাত জিইয়ে রেখে পার্বত্য আদিবাসীদের কোণঠাসা করে রাখা। এবং স্বাধীন গণতন্ত্রের নামে দ্বিচারিতত্ত্বে স্বৈরাশাসন কায়েম করে শোষণ করে যাওয়া।

ছবিঃ হরতালের চিত্র

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

জয় মারমা
জয় মারমা এর ছবি
Offline
Last seen: 4 months 11 ঘন্টা ago
Joined: বুধবার, ফেব্রুয়ারী 17, 2016 - 7:32অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর