নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 4 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • গোলাপ মাহমুদ
  • বেহুলার ভেলা
  • দীব্বেন্দু দীপ
  • মুফতি মাসুদ

নতুন যাত্রী

  • বিদ্রোহী মুসাফির
  • টি রহমান বর্ণিল
  • আজহরুল ইসলাম
  • রইসউদ্দিন গায়েন
  • উৎসব
  • সাদমান ফেরদৌস
  • বিপ্লব দাস
  • আফিজের রহমান
  • হুসাইন মাহমুদ
  • অচিন-পাখী

আপনি এখানে

কওমী মাদ্রাসা সনদের শর্ত ও স্বীকৃতিঃ পর্যালোচনা - ১


সনদের শর্ত ও স্বীকৃতি
কওমী মাদ্রাসার সনদের স্বীকৃতি এখন সময় ও সমঝোতার বিষয় মাত্র! ছেলেমেয়েরা কষ্ট করে লেখাপড়া করবে তাদের কোন স্বীকৃতি থাকবে না, সেটা মেনে নেয়াটা কষ্টকর। বাংলাদেশে এই ধারা চালুর পর থেকেই এর কোন আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি
ছিল না। এখনও নেই! কিন্তু গত ৩ দশকে বিভিন্ন সময় এই ধারার স্বীকৃতি নিয়ে কথাবার্তা হয়েছে। তবে এই বিষয়ে কার্যকর আলোচনা উদ্যোগ ও দেনদরবার আওয়ামী লীগে সরকারের সময়ে অধিক হয়েছে।

২০১২ সালে সরকার ও কওমী মাদ্রাসার বিভিন্ন অংশের নেতৃত্বের অংশগ্রহনে একটি শিক্ষানীতি খসড়া উত্থাপন করা হয়। সে শিক্ষানীতির সুপারিশে, মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থাপনা, শিক্ষাদানের বিষয়, সনদের স্বীকৃতি প্রদানের লক্ষ্যে হাট হাজারি মাদ্রাসার পরিচালক, মাওলানা আহমদ শফীর নেতৃত্বে ১৭ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল! কিন্তু তারা সেটা মানেননি এবং সেটা বাতিল করতে সরকারকে হুশিয়ার করে এই বলে যে, তা না হলে দেশে লাখ লাখ মুসল্লির লাশ পরবে! পরে সরকার তাদের সে প্রস্তাপনা প্রত্যাহার করে নেয়।

সরকার তখন পিছিয়ে আসলেও, সুযোগ বুঝে তার উদ্দেশ্য ও উদ্যগকে আবার অগ্রসর করতে তৎপর হয়। এক্ষেত্রে কওমীর বিভিন্ন ধারার বিরোধকে কৌশলে কাজে লাগানো হয়। একটি ধারা মনে করে কিছুটা ছাড় দিয়ে হলেও সরকারের বিধি-বিধানের আওতায় থেকে যদি সনদের স্বীকৃতি পাওয়া যায় তাহলে বিষয়টি লাখ লাখ শিক্ষার্থীর জন্য স্বস্তিকর ও আনন্দের হবে। সেটা নিয়েও চলছে সরকার ও কওমী মাদ্রাসার বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে পারষ্পারিক দেনদরবার ও দরকষাকষি। এরমধ্যে এই ধারার এক পক্ষ কওমী মাদ্রাসার শিক্ষা সনদের স্বীকৃতি দিতে হলে, সরকারকেই ৫টি শর্ত মেনে নিতে হবে বলে দাবী জানিয়েছে। শর্তগুলো হচ্ছে;

১. ভারতে দারুল উলূম দেওবন্দ যেভাবে স্বকীয়তা নিয়ে স্বাধীনভাবে চলছে, বাংলদেশের কওমি মাদ্রাসাগুলোও সেভাবে চলবে।
২. বর্তমান নিজস্ব ধারায় কওমি মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠা, পরিচালনা, ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা-দীক্ষা ও সিলেবাস ইত্যাদি সম্পূর্ণ বহাল রেখে কওমি সনদের সরকারি মান বা মর্যাদা দেওয়া যেতে পারে। মাদ্রাসার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য, স্বাধীন শিক্ষাক্রম পরিচালনা ও স্বকীয়তা বিনষ্ট করে সনদের সরকারি মর্যাদা কোনও অবস্থাতেই কাম্য নয়।
৩. প্রস্তাবিত কওমি মাদ্রাসা শিক্ষানীতি-২০১২ এবং এর আলোকে তৈরি ‘কওমি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ আইন-২০১৩’ বাতিল করতে হবে। কারণ এ জাতীয় কর্তৃপক্ষ বা আইন কওমি মাদ্রাসার ঐতিহ্যপরিপন্থী।
৪. কওমি মাদ্রাসাগুলো সরকারি অনুদান, এমপিওভুক্তি ও নিবন্ধনসহ নিয়ন্ত্রণমূলক যে কোনও রকম পদক্ষেপ থেকে বিরত রাখতে হবে।
৫. কওমি আলেমদের সংখ্যাগরিষ্ঠের ঐকমত্য ছাড়া কওমি সনদসহ কওমি মাদ্রাসার ব্যাপারে যেকোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না।

পরিস্থিতি যাইহোক অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছে, এই প্রশ্নের সমাধান এখন সময়ের হাতে। কিন্তু কওমী মাদ্রাসার স্বীকৃতি বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার সংকটের কতটা সমাধান করবে? না’কি সমস্যায় যোগ করবে নতুন মাত্রা যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করবে!?

এ প্রসঙ্গে সরাসরি পক্ষে-বিপক্ষ আলোচনা করাটা কঠিন। বাংলাদেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক কাঠামোর কারণে এই বিষয়ক আলোচনা গভীর ও বিস্তৃত হওয়া জরুরী। আমার মতে পুরো শিক্ষাব্যবস্থাকেই ঢেলে সাজানো অনিবার্য কর্তব্য। কিন্তু কার কাছে এই দাবী করব? যারা এই পরিস্থিতি তৈরী করেছে, জিইয়ে রেখেছে, তাদের কাছে? আপাতত দাবীটা থাক্, পাশাপাশি সংগ্রামটাও জারি থাকুক এই আকাঙ্খার পক্ষে। কিন্তু এই প্রবন্ধে আলোচনা সীমাবদ্ধ রাখব ‘সনদের স্বীকৃতির’ শর্তের অসারতা, সরকারের ভ্রান্তনীতি ও আসন্ন বিপদ!

এই দাবীর যৌক্তিকতার একটি পর্যালোচনা
ভারতে দারুল উলূম দেওবন্দ যেভাবে স্বকীয়তা নিয়ে স্বাধীনভাবে চলছে, বাংলদেশের কওমি মাদ্রাসাগুলোও সেভাবে চলবে।
পশ্চিমবঙ্গে ৩০ বছর টিকে থাকা বাম সরকারকে নির্বাচনে পরাজিত করে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় এসেই বিভিন্ন পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের সিলেবাসের পরিবর্তন আনে। মাকর্সীয় ধারার সমাজ-অর্থনীতির বিভিন্ন বিষয়কে পাঠ্যক্রমে থেকে বাদ দেয়া হয়। পশ্চিমবঙ্গে মাদ্রাসা শিক্ষা চালু থাকলেও সেটাকে সাধারণ শিক্ষার সমান্তরাল করে ঢেলে সাজানো হয়েছে। কেন্দ্রে হিন্দুত্ববাদী সরকার ক্ষমতায় এসে দেওবন্দ অনুসারী কিছু মাদ্রাসায় কোন পরিবর্তন না এনে, সেটা নিয়ে উচ্চবাচ্য না করার মানে এই নয় যে, তারা সেটাকে সমর্থন করছে! বর্তমান সরকারের অনেক নীতি নির্ধারক মনে করে, যেখানে সরকার স্বীকৃত কোন পাঠ্যক্রম অনুসরণ করা হয় না; অংক, বিজ্ঞান, সমাজ, সাহিত্য পড়ানো হয় না সেটাকে তারা কোন আনুষ্ঠানিক শিক্ষা মনে করেন না। এবং বিভিন্ন রাজ্যে যে মাদ্রাসাগুলো আছে, কিছু বাদে, সেগুলো তা সরকারের সিলেবাস অনুসরণ করে।

এখানে দেওবন্দের কথা বলা হচ্ছে স্বাধীনভাবে চলছে, সেটা মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ হুমকির ভয়ে সরকার কিছু করছে না, বিষয়টি তেমন নয়! সরকার যখন কোন কিছুকে তার সমস্যার কারণ মনে করবে তা নিয়ন্ত্রনে সে পদক্ষেপ নেবে। যেমন কথিত ইসলামী চিন্তাবিদ জাকির নায়েক এবং তার সবকিছুকে সে দেশে নিষিদ্ধ করা হয়েছে! ভারতের মাদ্রাসা শিক্ষা সেখানকার কোন মূলধারার শিক্ষা নয়। ভারতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় (৩১৮ মিলিয়ন) ৩২ কোটি! তারমধ্যে মাত্র ২ শতাংশ ছেলেমেয়ে মাদ্রাসায় লেখাপড়া করছে। যার পরিমান প্রায় ৬০ লাখ। যে অঙ্ক কোন ভাবেই ভারতের মুল শিক্ষার সমান্তরাল কোন ধারা নয়। তারপর বিভিন্ন রাজ্যে এই মাদ্রাসার সিংহভাগই আধুনিকায়নের মাধ্যমে সাধারণ শিক্ষার পর্যায়ে নিয়ে আসা হয়েছে। এবং ছোট একটি অংশ এখনও এর বাইরে আছে।

বাংলাদেশের পরিস্থিতি ভিন্ন, একে বলা হয় দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শিক্ষা। বাংলাদেশে প্রায় ৪ কোটি শিক্ষার্থীর প্রায় সবমিলে ১ কোটিই এই ধারায় লেখাপড়া করছে। শিক্ষার দ্বিতীয় বৃহত্তম অস্বীকৃত ধারা! যে ধারা দেশের আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নের সাথে সম্পর্কিত নয়, বরং এর ইতিবাচক উন্নয়নে হুমকির কারণ! ধর্মভিত্তিক শিক্ষার নামে বাংলাদেশের মানবসম্পদের একটি বড় অংশ এই ধারার সাথে যুক্ত, যা আসলে শ্রমশক্তির একটি বৃহৎ অংশের অপচয়, এবং পরোক্ষ ভাবে জাতীয় অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্থ করছে।

ভারতের দেওবন্দ থেকে সরকারকে নির্দেশ দেয়া হয় না, সাধারণ শিক্ষায় পাঠ্যক্রমে কি থাকবে না থাকবে। তাকে ইসলাম ধর্মের ভাবধারায় গড়ে তোলার কথা বলা হয় না। তারা ভারতের স্থাপত্য-মূর্তি ভাঙ্গতে চায় না? দেওবন্দ যদি রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে এমন কোন খবরদারী করে না! যদি করত তাহলে তাদের পরিণতি-অস্তিত্ব কি হতো, সে আলোচনায় না যাই! স্বাধীন দেশে একটি প্রতিষ্ঠান আইন ও সংবিধানের আওতায় যতটা অধিকার ভোগ করার কথা সেটাই করবে- ধর্মের নামে নিজেদের তার উর্দ্ধে ভাবা সংবিধানের লঙ্ঘন শামিল।

তাহলে কওমীর নেতারা এখানে তা করছে কেন? যে প্রতিষ্ঠান আপনাদের আদর্শ তারা যা করছে না, করতে পারছে না, আপনারা তা করতে চান কেন? বাংলাদেশে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে আপনাদের শিক্ষা নিয়ে কেউ কিছু বলছে না, আপনারা বলছেন কেন? আপনাদের লেখাপড়া, জামা-জুতা, দাড়ি-টুপি, হিজাব-বোরকা, মেসাক-কলুপ নিয়ে কোন কথা বলছে না, কিন্তু আপনারা বিশ্ববিদ্যালয়ে, ইংরেজী স্কুলে ছেলেমেয়েরা অশ্লীলতা করে সেটা নিয়ে রস ছড়াচ্ছেন।

স্বকীয়তা নিয়ে চলা মানে রাজনীতি নিয়ে মাথা ঘামানো নয়। সেটা করার অর্থ এই নয় যে কোথায় মূর্তি আছে, কে কি লিখছে, কে কি বলছে, কে কি করছে-পড়ছে সেটা নিয়ে নাক গলানো বা নিয়ন্ত্রন করতে চাওয়া..! কওমী মাদ্রাসা আগে যেভাবে চলেছে, এখন যেভাবে চলছে, বিষয়টা এখন আরে সেই নিরীহ পর্যায়ে নেই!

বর্তমান নিজস্ব ধারায় কওমি মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠা, পরিচালনা, ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা-দীক্ষা ও সিলেবাস ইত্যাদি সম্পূর্ণ বহাল রেখে কওমি সনদের সরকারি মান বা মর্যাদা দেওয়া যেতে পারে। মাদ্রাসার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য, স্বাধীন শিক্ষাক্রম পরিচালনা ও স্বকীয়তা বিনষ্ট করে সনদের সরকারি মর্যাদা কোনও অবস্থাতেই কাম্য নয়।
প্রথমত স্বীকৃতি বা মর্যাদা দরকার কেন? আপনাদের এত দম্ভ-অহঙ্কার, এটা দিলে কি আর না দিলে কি? সরকারের সামান্য নিয়ন্ত্রন, সাহায্য-সহযোগিতা, দান-অনুদান, কিঞ্চিত নিয়ম-নীতি মানলে আপনাদের শিক্ষা ধ্বংস হয়ে যাবে! আপনাদের অভিব্যক্তি হচ্ছে, সরকার খুব খারাপ, ভয়ঙ্কর, ক্ষতিকর। তাহলে তার কাছ থেকে স্বীকৃতির দরকার কি? এমন অচ্ছুত একটি প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি কি মর্যাদার হয়? তা কি স্ববিরোধী নয়?

বাংলাদেশে পরিচালিত বিদেশী ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলোর কারিকুলাম, পরিচালনা, নীতিপদ্ধতি নিজস্ব ও স্বাধীন, হলেও সরকারের নীতির তারা অনুসরণ করে। এমন কি দেশের ক্যাডেট কলেজগুলো নিজস্ব ধারার পরিচালিত হলেও সরকারী ক্যারিকুলাম-কাঠামো অনুসরণ করে। তাদের লেখাপড়ার মান-মর্যাদা, স্বকীয়তা কি বিনষ্ট হচ্ছে?

বাংলাদেশে BSTI (Bangladesh Standards and Testing Institution) বলে একটি প্রতিষ্ঠান আছে, তাদের কাজ, আপনি যদি শিল্প প্রতিষ্ঠানে কোন পণ্য উৎপাদন করেন, সেই পণ্য তাদের কাছে হাজির করে বলতে হবে। বিষয়, আমি এটা উৎপাদন করেছি এটা এখন বাজারজাত করতে চাই, তুমি এটার স্বীকৃতি দাও, তখন সেই প্রতিষ্ঠান এই উৎপাদিত পণ্যের গুনাগুন পরীক্ষা করে তা বাজারজাত করার স্বীকৃতি দেয়। একই ভাবে আপনি যে শিক্ষার্থীদের পড়াচ্ছেন, কি পড়াচ্ছেন তার গুনাগুন পরীক্ষা করবে কে? আপনি নিজেই? তাহলে সনদ দিবে আরেকজন কেন? এটুকু বোঝার মত কি কান্ডজ্ঞান আপনাদের নেই যে, যেকোন বিষয়ের স্বীকৃতির জন্য একটি পক্ষ লাগে! সেটা হচ্ছে সরকার বা সরকার সংশ্লিষ্ট কোন প্রতিষ্ঠান! আপনারদের প্রচলিত কাঠামোয় কেবল সামান্য সংস্কারের কথা বলা হয়েছে। সেটাও অগ্রাহ্য করে কি গায়ের জোরে সনদের স্বীকৃতি আদায় করবেন!

প্রস্তাবিত কওমি মাদ্রাসা শিক্ষানীতি-২০১২ এবং এর আলোকে তৈরি ‘কওমি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ আইন-২০১৩’ বাতিল করতে হবে। কারণ এ জাতীয় কর্তৃপক্ষ বা আইন কওমি মাদ্রাসার ঐতিহ্যপরিপন্থী।
এবার দেখা যাক বাতিলকৃত সেই প্রস্তাবিত শিক্ষা আইনের কোন বিষয়গুলো তাদের প্রধান আপত্তির কারণ ছিল!

কওমি মাদ্রাসার শিক্ষা ও এর সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে খসড়া আইনে মোট ২০টি ধারা ও বেশ কিছু উপধারা রয়েছে। খসড়া আইনের ৬(১) ধারায় বলা হয়, ‘কওমি শিক্ষা, ইসলামি শিক্ষা ও সংস্কৃতি, আরবি ভাষা ও সাহিত্য, প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনায় অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের মধ্য থেকে কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এবং ধারা ৫(খ)তে উল্লিখিত সদস্যগণ সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হবেন।’ ধারা ৫(খ)-এ কওমি শিক্ষাক্ষেত্রে পাঁচজন শীর্ষস্থানীয় আলেম, মহিলা কওমি মাদ্রাসার একজন প্রতিনিধি, সরকারের যুগ্ম সচিব বা তদূর্ধ্ব পদমর্যাদার একজন সরকারি প্রতিনিধি, পদাধিকারবলে সচিব ও কওমি মাদ্রাসা বোর্ডগুলোর প্রধানেরা এর সদস্য হবেন। ধারা ৯-এ বলা হয়, এই কর্তৃপক্ষ কওমি মাদ্রাসার কার্যাবলি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা, মাদ্রাসা পরিদর্শনের পদ্ধতি নির্ধারণ, কওমি বোর্ডগুলোর কার্যক্রম পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন এবং চার স্তরের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে। যুগোপযোগী পাঠ্যক্রম নির্ধারণ করবে। এ ছাড়া পৃথক কওমি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত এই কর্তৃপক্ষ কওমি উচ্চশিক্ষার দুটি স্তরে স্নাতক সম্মান ও স্নাতকোত্তর দাওরা-ই-হাদিস পর্যায়ের মাদ্রাসাগুলোর অ্যাফিলিয়েটিং অথরিটি (অধিভুক্তি দেওয়ার কর্তৃপক্ষ) হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করবে। শিক্ষার মান উন্নয়নে কওমি মাদ্রাসা স্থাপন, প্রয়োজনীয় ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ ও উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা এবং এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন সরকারের কাছে পাঠাবে। খসড়া আইনে আরো বলা হয়েছে, কর্তৃপক্ষ প্রতি দুই মাসে অন্তত একটি সভা করবে। প্রতিটি সভার কার্যবিবরণী ও গৃহীত সিদ্ধান্তের অনুলিপি সরকারের কাছে পাঠাতে হবে। গৃহীত সিদ্ধান্ত এ আইন বা ‘জাতীয় শিক্ষানীতির পরিপন্থী’ হলে তা বাতিল বা সংশোধন করার জন্য বা কার্যকর না করার জন্য সরকার নির্দেশনা দিতে পারবে এবং সে অনুসারে কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।”

শিক্ষার একটি বহুধা বিভক্ত ধারায় শৃংখলা আনতে, প্রাতিষ্ঠানিকতা দিতে, কিছুটা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার জায়গা তৈরী করতে, আধুনিক প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার কিছু সংস্কার-পরিবর্তন অনিবার্য ও প্রয়োজনীয়। সেটা না মানার মানসিকতা, ব্যাপক বিরোধীতার কারণ কি? এটা করলে দেশে গৃহযুদ্ধ (Civil War) হবে বলে হুমকি দেন! ৭১’এ আপনাদের এমন হুঙ্কার কোথায় ছিল? কোথায় এই শক্তির উৎস? এই হতদরিদ্র, নিরীহ, এতিম ছাত্ররা? যাদের উপর ভরসা করে আপনারা ইসলামি বিপ্লব ও ক্ষমতার স্বপ্ন দেখছেন! সেই সাজানো ছকে কথিত ধর্মনিরপেক্ষ সরকার (!) কেন এসে নাক গলায়?

ঐতিহ্য অনেক কিছুই থাকে সেটা সময়ের সাথে পরিবর্তিত হয়। কাগজ-কলমের বদলে এখন বিধর্মীদের কম্পিউটার ব্যবহার করছেন। গরীবকে দেয়া চাঁদার টাকায় হেলিকপ্টার ব্যবহার করছেন। মাটিতে বসার বদলে নিজেদের অফিসে সেট সেট সোফা, এয়ারকন্ডিশন ব্যবহার করছেন! কেবল সরকারের আধুনিক প্রশাসনিক সুবিধা-প্রক্রিয়ার কথা আসলেই তা ঐতিহ্যের পরিপন্থী হয়! দেশের আইন-আদালত-সরকার-প্রশাসন মেনে (কৌশলগত কারণে) সনদের স্বীকৃতি চান কিন্তু তিল পরিমান ছাড় দেবেন না, সেটা কি গ্রহনযোগ্য?

কওমি মাদ্রাসাগুলো সরকারি অনুদান, এমপিওভুক্তি ও নিবন্ধনসহ নিয়ন্ত্রণমূলক যে কোনও রকম পদক্ষেপ থেকে বিরত রাখতে হবে।
সরকারের কোন কিছুই যদি নেবেন না তাহলে তার একটি কাগজ আপনাদের কাছে এত গুরুত্বপূর্ণ হলো কেন, সেটা বোধগোম্য না! সরকারী অনুদান নেবেন না তাহলে হাটহাজারি মাদ্রাসার জন্য সরকারের কাছ থেকে প্রায় ৪০ কোটি টাকা মূল্যের রেলের ১৬০ কাঠা সরকারী জমি বিনা পয়সায় নিলেন কেন? কোন এক গোপন রাজনৈতিক বোঝাপড়ায় সেটা নিয়েছেন! দেশের সব জেলাতেই সরকারী জমিতে অনেক মাদ্রাসা গড়ে উঠেছে। সরকারের কোন কিছুই নেবেন না, তাহলে সেগুলো কেন?
সরকারের নিয়ন্ত্রন চলে এমন কিছুই নয়, চুড়ান্ত বিচারে সরকারইতো সবকিছুর কর্তৃত্বের অধিকারী। সরকারের এমপিওভুক্তি-নিবন্ধন মানবেন না কিন্তু সরকারের সনদের জন্য শর্ত জুড়ে দিচ্ছেন! সরকারের বাস্তাঘাট-পানি-বিদ্যুৎ অন্যান্য সব সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করছেন! কেবল কিছু শৃংখলতার কথা আসেতেই আপনারা উপায়হীন হন! সত্য আসলে কোথায়? কোন অদৃশ্য ইঙ্গিত ও দূরভিসন্ধিতে রাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ করার সাহস দেখাচ্ছেন?

কওমি আলেমদের সংখ্যাগরিষ্ঠের ঐকমত্য ছাড়া কওমি সনদসহ কওমি মাদ্রাসার ব্যাপারে যেকোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না।
সেটাও কি সরকার করে দেবে? যে কথা বলার কথা সরকারের সেটা বলছেন আপনারা? ঘটনাটা কি? তারমানে কি আপনাদের নেতৃত্ব অন্যরা মানতে চাচ্ছে না? আপনাদের অবস্থান অন্যরা সঠিক মনে করছে না। বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি মাদ্রাসার ধারার শিক্ষা মুলত বিভিন্ন বোর্ডের অধীনে স্বাধীন ভাবে কাজ করছে। সেখানে কেউ কারো নেতৃত্ব-কর্তৃত্বকে সমর্থন করে না! মানেনা বলেই একই ধর্মের, কোরআন-হাদিসের ভিন্নভিন্ন ধারা। সেখানে কোন ধারা, অংশ যদি মনে করে তারা সরকারের সাথে সমঝোতায় যাবে সেখানে আপনারতো সমস্যা হবার কথা নয়। কিন্তু বুঝতে অসুবিধা হয়না- তাতে আপনি পিছিয়ে যাবেন, আপনার ক্ষমতা খর্ব হবে। সেখানেও কর্তৃত্ব, কৌশল ও আরেকটি শর্ত! আপনাদের বিভিন্ন ধারার আন্তবিরোধের দায় কেন সরকার নেবে? না’কি আসলে বিরোধ নয়, সব মাদ্রাসার উপর কোন একটি বিশেষ সংগঠন ও ধর্মীয় নেতার কর্তৃত্বকে প্রতিষ্ঠা করার অভিপ্রায়। এটা আসলে সরকারকে হুমকি নয়, হুমকি আসলে অভিন্ন ধারার প্রতিপক্ষকে নিয়ন্ত্রনে রাখার কৌশল!

ড. মঞ্জুরে খোদা, খন্ডকালীন প্রক্টর ও গবেষক, সুলেখ বিজনেস স্কুল, ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়, কানাডা

দ্বিতীয় পর্বে থাকবে এই ৫ শর্তের সাথে প্রধানমন্ত্রীকে দেয়া পত্রের পর্যালোচনা

বিভাগ: 

Comments

নুর নবী দুলাল এর ছবি
 

দারুণ পর্যালোচনা। পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় রইলাম।

 
মঞ্জুরে খোদা টরিক এর ছবি
 

অনেক ধন্যবাদ দুলাল ভাই, কাল দ্বিতীয় কিস্তি পোস্ট করব..। শুভ কামনা..

ড. মঞ্জুরে খোদা

 
ফাতেমা বেগম এর ছবি
 

যৌক্তিক বিশ্লেষন।

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

মঞ্জুরে খোদা টরিক
মঞ্জুরে খোদা টরিক এর ছবি
Offline
Last seen: 4 weeks 15 ঘন্টা ago
Joined: বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারী 4, 2016 - 11:59পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর