নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 3 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • প্রবাসী ছেলে সোহেল
  • কান্ডারী হুশিয়ার
  • বেহুলার ভেলা

নতুন যাত্রী

  • সুক্ন্ত মিত্র
  • কাজী আহসান
  • তা ন ভী র .
  • কেএম শাওন
  • নুসরাত প্রিয়া
  • তথাগত
  • জুনায়েদ সিদ্দিক...
  • হান্টার দীপ
  • সাধু বাবা
  • বেকার_মানুষ

আপনি এখানে

লিঙ্গপূজা অনেকেই করে দোষ শুধু হিন্দুদের!


লিঙ্গপূজা অনেকেই করে দোষ শুধু হিন্দুদের!
সাইয়িদ রফিকুল হক

লিঙ্গপূজা এখন অনেকেরই প্রিয় বিষয়। আর অনেকে মনে করে থাকে: এই পৃথিবীতে লিঙ্গসৃষ্টি না হলে কিছুই সৃষ্টি হতো না। তারা এখন মানুষ হতে চায় শুধু লিঙ্গের জোরে! আবার একশ্রেণীর নামধারীমুসলমানও আছে—তারা মনে করে: লিঙ্গ না থাকলে দুনিয়া অন্ধকার। তাই, এরা সারাক্ষণ বিয়ের ওয়াজ করতে থাকে। আর মেতে থাকে লিঙ্গবন্দনায়। এমনকি এরা বহুবিবাহের পক্ষে দিনরাত সাফাই গাইতে থাকে। আর এ-বিষয়ে নিজেদের খায়েশ মিটানোর জন্য কুরআন-হাদিসের অপব্যাখ্যা দিতেও দ্বিধাবোধ করে না। এরা বিয়ের জন্য একেবারে পাগল। আর তাই, বিয়ে আর বহুবিবাহের পক্ষে এরা ধর্মগ্রন্থের অপব্যাখ্যা দিতে কুণ্ঠাবোধ করে না। আর এরা মনে করে থাকে: বিয়ে করলেই তাদের ঈমান মজবুত ও পাকা হয়ে হয়ে গেল! কিন্তু আদতে দেখা যায়, তাদের কারও ঈমানই পাকা হয়নি। এরা একাধিক বিয়ে করা সত্ত্বেও পরের স্ত্রীকে অত্যন্ত কুনজরে দেখতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করে না। এব্যাপারে এদের মনে কোনো সংশয় নাই। নিজের স্বার্থে এদের কাছে ধর্মগ্রন্থকেও মনে হয় তুচ্ছ জিনিস। আর এরা ধর্মগ্রহণ করেছে স্বার্থের জন্য। তাই, সাধারণ মানুষ ধর্ম মানবে—আর এরা ধর্মের অপব্যাখ্যা করে লিঙ্গপূজায় মেতে উঠবে! এরই নাম কি ধর্ম?

আবার অনেকে এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকতে চায় লিঙ্গের জন্য। আর তারা মনে করে: পৃথিবীতে লিঙ্গ আছে বলেই এতো সুখ! আর লিঙ্গ ছাড়া মানুষ হওয়া যায় না। তাই, এদের সমস্ত চিন্তাভাবনায় আর কাজেকর্মে সারাক্ষণ বিয়ে, স্ত্রীসহবাস, স্ত্রীসঙ্গম, যৌনক্রীড়া ইত্যাদি। আর এসব নিয়ে আলোচনায় মশগুল থাকে। আমাদের সমাজের একশ্রেণীর সস্তা-মোল্লা আর মসজিদের টাউট-ইমাম এখন মসজিদের ভিতরেও যৌনআলোচনা করে অতীব মজা পেয়ে থাকে। এরা মসজিদে খুতবার আলোচনার নামে স্ত্রীসঙ্গমের রীতিনীতি ও কলাকৌশল নিয়ে কথা বলে। আর কীভাবে স্ত্রীসঙ্গম করলে কত সওয়াব হবে তা-ই নিয়ে এখন খোলামেলা আলোচনা শুরু করেছে। এরা মনে করে থাকে: মুসলমানের জীবনে বিয়েই একমাত্র ইবাদত। আর এই শ্রেণীটি এখন মসজিদের মতো পবিত্র জায়গায় ঠাঁই নিয়ে ধর্মটাকে লিঙ্গমুখী করে তুলছে। অর্থাৎ, এরা বলতে চাচ্ছে—লিঙ্গ ছাড়া মুসলমানিত্বপ্রকাশ পায় না। তাই, সবার আগে বিয়ে করতে হবে। এরা নামাজশিক্ষা আর বিভিন্ন মাসয়ালা-মাসায়েলের নামে যে-সব চটি-পুস্তক রচনা করে তাতে স্ত্রীসহবাসের কলাকৌশল, স্ত্রীসঙ্গমের উপকারিতাসমূহ, স্ত্রীসঙ্গমের গুরুত্বপূর্ণ সময়-অসময়, আর লিঙ্গের জোর বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন কলাকৌশল আর তার উপায়সমূহ বর্ণনা করে থাকে। কারও অবিশ্বাস হলে পাতিহুজুরদের রচিত এইসব ধর্মপুস্তকের নামে সস্তা-বইগুলো খুলে দেখতে পারেন। এরা ইচ্ছাকৃতভাবে ধর্মপুস্তকের নামে নিজেদের খেয়াল খুশিমতো ধর্মপুস্তকগুলোকে এখন যৌনপুস্তক বানাতে চাইছে। আর তাই, সবখানে লিঙ্গসাধনার কথা বলতে বিন্দুপরিমাণ লজ্জাবোধ করছে না। আর দেখুন, সবখানেই এদের রিরংসাবৃত্তি-চরিতার্থের অভিনব ইচ্ছা ও কৌশল, এবং লিঙ্গসুখের আয়োজন। এরা ধর্ম বলতে আজ শুধু স্ত্রীসঙ্গমকেই বুঝে থাকে। তাই, এদের ব্যক্তিজীবনের যৌনসুখকে ধর্মচর্চার অন্যতম বা প্রধানতম উপকরণ হিসাবে গ্রহণ করছে।

মসজিদে আজকাল জুম্মার নামাজ পড়তে গেলে দেখা যায়, মুসলমান-নামধারী এইসব ইমাম কতটা ভণ্ড আর কতটা নির্লজ্জ! তারা খুতবার নির্দিষ্ট বিষয়ের আলোচনা বাদ দিয়ে সাধারণ মুসল্লীদের কাছে নিজেদের মনগড়া কিসসাকাহিনী শোনাতেই বেশি ব্যস্ত থাকে। আর তারা ধর্মীয় আলোচনা বাদ দিয়ে স্ত্রীসহবাসের কথা বলতে বেশি পারদর্শী। ইসলামে বারো-চান্দের বারো খুতবাসহ জুম্মার নামাজের জন্য খুতবা নির্দিষ্ট করা রয়েছে। কিন্তু এরা জুম্মার নামাজের আগে ‘বয়ানে’র নামে খুতবার প্রকৃত-ব্যাখ্যা বাদ দিয়ে দলবাজিতে লিপ্ত হয়ে দলীয় কথার সঙ্গে লেজুড়বৃত্তি করে আরেক দিকে চলে যাচ্ছে। এদের মুখে মসজিদে অনেকদিন শুনেছি: কীভাবে স্ত্রীসহবাসের সময় স্ত্রীর কাপড়চোপড় খুলতে হবে! আর কোন দিক থেকে প্রথম খোলা শুরু করতে হবে! এই মৌলোভীশ্রেণী অত্যন্ত নির্লজ্জভাবে সমবেত মুসল্লীদের সামনে হাসিমুখে বলছে: “স্ত্রীসঙ্গমের সময় সুন্নতীত্বরীকায় স্ত্রীর কাপড় খুলতে হবে। আর সব মুসলমানকে এটা জানতে হবে! তা-না-হলে আপনি আমলদার হতে পারবেন না!” মসজিদে কতরকমের আর কতবয়সের (বিভিন্ন বয়সের) মুসল্লী থাকে। এদের অরুচিকর কথাবার্তা শুনলে মনে হয়: মানুষ যেন কোনো যৌন-সেমিনারে-সিম্পোজিয়ামে-ওয়ার্কশপে এসেছে। এদের রুচিজ্ঞান কবে হবে কে জানে! সবখানে আজ এদের লিঙ্গের বাহাদুরী।

আজকাল মসজিদে ঢুকলে মাঝেমাঝেই আরও শুনতে পাই: স্ত্রীসহবাসের সওয়াব আর এর দ্বারা কী-কী উপকার সাধিত হয়। এরা কিন্তু একবারও বলে না যে শিল্প-সাহিত্যচর্চা করলে, রাষ্ট্রের সেবা করলে, আর মানুষের উপকার করলে—মানুষের বা মানবজাতির কী উপকার হবে। এদের কাছে লিঙ্গই একমাত্র সাধনার ধন। তাই, জীবনে-মরণে এরা শুধু এই লিঙ্গের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে চায়। আসলে, এরা ভোগবাদী। আর এরা নামধারীমুসলমান। এরা এখন শুধু লিঙ্গপূজায় ব্যস্ত। এদের ধর্মবোধ খুবই সামান্য। এরা সবসময় ধর্মকে পুঁজি করে যৌনকর্মের সাধনায় লিপ্ত হতে চায়। এদের জীবনে ধর্মবোধ, অধ্যাত্মবাদ, জ্ঞানচর্চা, আর মনুষ্যত্ববোধের বড়ই অভাব। এরা নিজের অপকর্মগুলোকে পর্যন্ত আজকাল ধর্মজ্ঞান করছে। আর তারই প্রচার ও প্রসারের জন্য ধর্মের অপব্যাখ্যা করছে। এইজাতীয় অমানুষগুলো আজ নিজস্বার্থে লিঙ্গসাধনাবৃদ্ধির জন্য মানুষহত্যা করতে দ্বিধাবোধ করছে না। আমরা ইতঃপূর্বে আফগানিস্তানে দেখেছি, তালেবানরা ধর্মের নামে অবাধে সব ধর্মের নারীদের জোরপূর্বক ইচ্ছেমতো ভোগ করেছে। এরা একসঙ্গে বহুজনে একনারীকে আবার একজন বহুনারীকে ইচ্ছেমতো ভোগ করতে সামান্যতম লজ্জাবোধ করেনি। আর এখন আইএস-জঙ্গিরা ধর্মের নামে সমানে ব্যভিচার করছে। এরা আসলে লিঙ্গপূজারী। এরা কেউই আল্লাহয় বিশ্বাসী নয়। আর ধর্মবিশ্বাসীও নয়। এরা সরাসরি ধর্মের নামে আপাদমস্তক ভণ্ড আর জোচ্চোর। আর চিরদিন এক লিঙ্গপূজারী।

ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে ভারতীয় উপমহাদেশের সনাতন-ধর্মাবলম্বীদের (হিন্দুদের) মাঝে লিঙ্গপূজার প্রচলন রয়েছে। আর এটি শিবলিঙ্গপূজা। আর এটি সাধারণ কোনো লিঙ্গ নয়—শিবের প্রস্তরমৃত্তিকাদি দ্বারা গঠিত লিঙ্গমূর্তি। হিন্দুজনসমাজে ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে—এটির প্রচলন হয়েছে বহুকাল আগে। আর এজন্য বিশেষভাবে শিবমন্দিরও তৈরি হয়েছে। হিন্দুকুলরমণী থেকে শুরু করে সাধারণ রমণীরা পর্যন্ত এই পূজাসমাপন করে থাকে। আর এদের এই পূজা কিছু আনুষ্ঠানিক উপাচারের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। কিন্তু আজকাল হিন্দুধর্মাবলম্বী ছাড়াও আরও অনেকেই আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিকভাবে ব্যক্তিজীবনে নিয়মিত লিঙ্গপূজায় বা লিঙ্গসাধনায় নিয়োজিত। আর এক্ষেত্রে, একশ্রেণীর নামধারী-মুসলমান সবচেয়ে বেশি অগ্রগামী। এরা মনে করে থাকে, একমাত্র বিয়েই জীবনের একমাত্র ধর্ম!

শিবলিঙ্গ

শিবলিঙ্গপূজার কারণে হিন্দুধর্মাবলম্বীগণ সাধারণ মানুষ তথা একশ্রেণীর নামধারীমুসলমানের কাছে অতীব নিন্দার পাত্র। আর এই সমাজের একশ্রেণীর কমার্শিয়াল-মুসলমান তথা মাদ্রাসাপড়ুয়া খুব সস্তাপ্রকৃতির মোল্লা-মৌলোভী (যদিও তারা নামের আগে জোরপূর্বক মাওলানা লিখে থাকে। আসলে, তারা কাটমোল্লা।) বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে হিন্দুধর্মাবলম্বীদের ছিদ্রঅন্বেষণে ব্যস্ত। তারা পরের ধর্মকে স্বীকার করতে নারাজ। এরা শুধু নিজের ধর্ম ছাড়া আর-কারও ধর্মকে শ্রদ্ধা করতে শেখেনি। এরা ধার্মিক নয়—এরা আদিমপশু। কিন্তু এরাই ধর্মের দোহাই দিয়ে নিজের লিঙ্গের সুখের জন্য একাধিক বিবাহ করতে লজ্জাবোধ করছে না। কারণ, এতে তার স্বর্গীয় সুখ-কামনা জড়িত। এরা নিজেরা যে রীতিমতো বহুবিবাহের দ্বারা লিঙ্গপূজায় নিয়োজিত তা কিন্তু একবারও স্বীকার করছে না।

নিজের স্বার্থে এখন অনেকেই লিঙ্গপূজায় ব্যস্ত। এরা নিজের অতিরিক্ত সুখের জন্য এখন রীতিমতো যৌনসাধনায় ব্যস্ত। তাই দেখা যায়, এদের কারও-কারও যৌবন লুপ্তপ্রায় হলেও এরা জোর করে যৌনশক্তি বা লিঙ্গশক্তি বৃদ্ধি করার জন্য নানারকম ফন্দিফিকির করে থাকে। এরা ভায়াগ্রা-ইয়াবা বা এইজাতীয় আরও কিছু নিয়মিত সেবন করে নিজের যৌনশক্তি ধরে রাখার কাজে ব্যস্ত। আসলে, এরা লিঙ্গের জন্য সবকিছু করে থাকে। আর মনে করে থাকে: লিঙ্গ না থাকলে দুনিয়ায় কিছুই নাই! আর এদের ধারণা এই দুনিয়ায় লিঙ্গই সবকিছু। আর তাই, এরা অবিরাম লিঙ্গপূজায় নিয়োজিত। এমনকি লিঙ্গের শক্তি সবসময় ধরে রাখার জন্য নানারকম কসরৎ করতে কোনোপ্রকার পিছপা হয় না। এই হচ্ছে এদের ঈমানীচেতনা।

সমাজের আদিমপশুগুলো যেদিন থেকে ধর্মে ভিড় জমালো সেদিন থেকে ধর্ম কলুষিত হতে শুরু করলো। আর তাই, ভণ্ডগুলো এখনও পর্যন্ত সমস্ত ধর্মের হোমরাচোমরা আর হর্তাকর্তা সেজে বসে আছে। এরা এই সমাজের সর্বাপেক্ষা সাম্প্রদায়িক। এরা ধর্ম মেনে ধার্মিক হয়নি বলেই নিজের ধর্মকে একমাত্র পথ জেনে অপরের ধর্মকে কটাক্ষ করতে শুরু করলো। আর এতেই পৃথিবীতে শুরু হলো অমানুষদের ধর্মভিত্তিক দাঙ্গা-ফাসাদ। আর ভারতীয় উপমহাদেশে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সূত্রপাতও এরই মাধ্যমে। এই শ্রেণীর অধার্মিকগুলো ধর্ম বলতে এখন বোঝে শুধু পুরুষত্বকে। আর এরা মনে করে থাকে: পুরুষত্বঅর্জনের একমাত্র পথ হলো লিঙ্গশক্তিবৃদ্ধি করা। তাই, এরা গায়ের জোরে পরের মন্দির ভাঙ্গা থেকে শুরু করে পরনারীহরণের মধ্যে নিজের পুরুষত্ব খুঁজে নেওয়ার সর্বাত্মকপ্রচেষ্টা চালায়। আসলে, এর নাম যে পশুত্ব তা এরা ঘূণাক্ষরেও উপলব্ধি করতে পারে না। এরা সামান্য বিষয়কে জীবনের আদর্শ বানিয়ে তারই পূজায় লিপ্ত বলে জীবনের অসামান্য ও মুনষ্যত্ব-জাগরণের বিষয়গুলোকে কখনও দেখতে পায় না। আর তা দেখার চেষ্টাও করে না।

জীবনে অনেক মুসলমান-নামধারীদের বলতে শুনেছি, বিয়েই হলো আসল কাজ। সবচেয়ে বড় ফরজ। আর সবচেয়ে বড় সুন্নত। এর বাইরে যেতে তারা নারাজ। তাই, এদের ছেলে-মেয়ে বড় হওয়ার আগে থেকেই এরা বিয়ের জন্য আলাপ-আলোচনা শুরু করে দেয়। আর ফরজরক্ষার সংগ্রামে নিয়োজিত হয়। এরা বলে বিয়ে দিলেই ছেলে-মেয়ের চরিত্র ভালো হয়ে যাবে। কিন্তু একথার সত্যতা কোথায়? একাধিক বিয়েকারী কিংবা এইসব অকালে বিবাহসম্পন্নকারীরাও তো হরহামেশা অনৈতিক যৌনকর্মে লিপ্ত হচ্ছে। এদের কথার গ্যারান্টি কোথায়? আসলে, এটা লিঙ্গপূজারই সুযোগ খোঁজা।

এই দুনিয়ায় একশ্রেণীর মানুষ লিঙ্গের জন্য একেবারে পাগল। এজন্য এরা শিশুদের চকলেট খাওয়ার মতো ভায়াগ্রা সেবন করছে। আর ভাবছে: বেঁচে থাকতে হবে শুধু লিঙ্গের জন্য আর লিঙ্গের জোরে! লিঙ্গপূজারীরা এখন ধর্মের নামে বিবাহের উসিলায় লিঙ্গসেবায় নিয়োজিত। এরা কিন্তু একবারও ভাবে না—তার জ্ঞান কত কম। একবার জ্ঞান বাড়ানোর কোনোরকম চেষ্টাও করে না। কিন্তু যৌনশক্তি বা লিঙ্গ একটুখানি অকেজো হয়েছে দেখে এদের মাথার ঘাম পায়ে পড়তে একটুও বিলম্ব হয় না। তাই দেখা যায়, সমাজের বুড়ো-লোকগুলো মসজিদ ছেড়ে, লাইব্রেরি ছেড়ে যুবতীদের সঙ্গে বা রমণীদের সন্নিকটে অবস্থান করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে থাকে। আর তার বয়স যত বা যাই হোক না কেন সে কিন্তু ওই বয়সেও যেকোনো-বয়সের নারীকে বিয়ে করার জন্য একেবারে একপায়ে খাড়া! পূর্বেই বলেছি, এদের ধর্মজ্ঞান বলতে বিয়ে। আর একমাত্র বিয়ের জন্যই বুঝি এরা পৃথিবীতে এসেছে। তাই, জীবনে কখনও-কোনোদিন এদের কাছে শিল্প, সাহিত্য, দর্শন, বিজ্ঞান আদরলাভ করতে পারেনি। এরা ভালো একটি বই পড়ার চেয়ে একজন যুবতীর সঙ্গে একবার কথা বলাটাকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করে থাকে। আর করেও তা-ই।

কারও ধর্ম বা ধর্মবিশ্বাস নিয়ে কথা বলার ইচ্ছা আমার নাই। কারণ, আধুনিক-কল্যাণকামী তথা গণতান্ত্রিক-রাষ্ট্রে ধর্ম যার-যার আর কর্মও যার-যার। তবুও মানুষকে হতে হবে ন্যূনতম মনুষ্যত্বের অধিকারী। আর এই মনুষ্যত্ব অর্জন করতে হলে যে-কাউকে শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি, দর্শন, বিজ্ঞান ইত্যাদির চর্চা করতে হবে। শুধু লিঙ্গের জোরে ধার্মিক বা মুসলমান বা মানুষ হওয়ার অপচেষ্টা আজ-এক্ষুনি বাদ দিতে হবে।

এই পৃথিবীতে যাঁরাই মহামানব বা মনীষী হয়েছেন, তাঁরা শুধু বুদ্ধির জোরেই ধীমান হতে পেরেছেন। এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ হলেন ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি ও পরমাণুবিজ্ঞানী এপিজে আব্দুল কালাম। তিনি তাঁর জীবন ও যৌবনকে দেশ ও দেশের মানুষের জন্য উৎসর্গ করে গেছেন। আর যদি অতীতের দিকে তাকাই তাহলে বলতে পারি একজন সক্রেটিস শুধু বুদ্ধির জোরেই আজও সারাপৃথিবীতে সকলের কাছে নমস্য। এভাবে প্লেটো থেকে শুরু করে বিজ্ঞানী আইনস্টাইন পর্যন্ত শুধু জ্ঞানেরই সাধনা করে গেছেন। এঁদের কাউকে লিঙ্গপূজারী হতে দেখিনি। আর আজকাল যারা লিঙ্গপূজারী—তারা শুধু লিঙ্গের জোরেই বড় হতে চাইছে। এমনকি বিয়েশাদীর মাধ্যমে নিজেকে ধার্মিক বা মুসলমান প্রমাণ করতে চাইছে। এগুলো যে সম্পূর্ণ মূর্খতা তা এই মূর্খগুলো বুঝতেও পারছে না। পৃথিবীতে একজন মানুষ খুঁজলেও পাওয়া যাবে না—যে কিনা শুধু লিঙ্গের জোরে বড় হয়েছে। জানি, তবুও কিছু মানুষের লিঙ্গসাধনা কমবে না। এরা তবুও ফতোয়াবাজি করবে: বিয়েশাদী বা স্ত্রীসঙ্গমই জীবনের একমাত্র কাজ। আর এরচেয়ে বড় কিছু নাই। এমন একটি ধারণার বশবর্তীরা পৃথিবীটাকে আজ কোথায় নিয়ে যেতে বসেছে তা সহজেই অনুমেয়। এরা আসলে ধর্মান্ধ ও গোঁড়াশ্রেণী। এদের জীবনে সুরুচিবোধ কখনও ধরা দিবে না। এরা মিথ্যার উপাসক হয়ে সত্যখোঁজার পাগলামি করেই যাবে। আর এরা চিরদিন আস্থাশীল বুদ্ধির প্রতি নয়—লিঙ্গের প্রতি। আর একমাত্র লিঙ্গই এদের আশা-ভরসা। এরা সাহিত্যের বিরুদ্ধে ফতোয়াবাজি করছে, করবে; এরা দর্শনের বিরুদ্ধে ফতোয়াবাজি করছে, করবে; এরা বিজ্ঞানের বিরুদ্ধে ফতোয়াবাজি করছে, করবে। এদের জীবনে একমাত্র আশা-ভরসা হলো লিঙ্গ।

আজকাল সামান্য দৈহিক সুখভোগের জন্য হন্যে হয়ে অনেকেই এখন লিঙ্গসেবায় বা লিঙ্গপূজায় ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়েছে। নিজস্বার্থে লিঙ্গপূজা করছে অনেকেই। কিন্তু কেউ স্বীকার করছে না।
আর তাই, দ্ব্যর্থহীনকণ্ঠে বলছি: লিঙ্গপূজা অনেকেই করে দোষ শুধু হিন্দুদের!

সাইয়িদ রফিকুল হক
মিরপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ।
০৫/০১/২০১৬

Comments

আকাশ এর ছবি
 

কোথাকার কি পান্তা ভাতে ঘি। ফালতু কোন যৌক্তিকতা দেখতে পাচ্ছি না। নিজের মনগড়া কথা

জীবনে অনেক মুসলমান-নামধারীদের বলতে শুনেছি, বিয়েই হলো আসল কাজ। সবচেয়ে বড় ফরজ। আর সবচেয়ে বড় সুন্নত। এর বাইরে যেতে তারা নারাজ। তাই, এদের ছেলে-মেয়ে বড় হওয়ার আগে থেকেই এরা বিয়ের জন্য আলাপ-আলোচনা শুরু করে দেয়। আর ফরজরক্ষার সংগ্রামে নিয়োজিত হয়। এরা বলে বিয়ে দিলেই ছেলে-মেয়ের চরিত্র ভালো হয়ে যাবে। কিন্তু একথার সত্যতা কোথায়? একাধিক বিয়েকারী কিংবা এইসব অকালে বিবাহসম্পন্নকারীরাও তো হরহামেশা অনৈতিক যৌনকর্মে লিপ্ত হচ্ছে। এদের কথার গ্যারান্টি কোথায়? আসলে, এটা লিঙ্গপূজারই সুযোগ খোঁজা।

 
সাইয়িদ রফিকুল হক এর ছবি
 

আসলে ভাই, সব ধর্মের লোকই আপন-আপন কায়দায় লিঙ্গপূজা করে যাচ্ছে। আর এই লিঙ্গপূজার বিষয়টি একেবারে সত্য। এ-কে ফালতু বলে সত্য ঢাকতে পারবেন না। আজ একশ্রেণীর মুসলমান যৌনকর্মকে সবার উপরে স্থান দিয়েছে। অথচ, মহান আল্লাহ মানুষকে ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছেন। আর মানুষ কী করছে? আজকাল নিম্নশ্রেণীর লোকেরাও দুই-চারখান বিয়ে করছে, এবং তারা বিয়ের জন্য একেবারে পাগল। শুধু তাই নয়, এদের ঘরে এক বা একাধিক স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও এরা নিয়মিত ব্যভিচার করছে, এবং পরস্ত্রীগমন করছে! এসব কীসের আলামত? মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে মানবজাতিকে-মুসলমানদেরকে ব্যভিচারে লিপ্ত হতে নিষেধ করেছেন। তা সত্ত্বেও মানুষ লিঙ্গসেবায় নিয়োজিত হচ্ছে। এদের যদি দেশের কাজে ডাক দেন তাহলে কেউ আসবে না। এরা নিজেদের লিঙ্গসেবায় নিয়োজিত।

তাই, কোনো লেখা বুঝেশুনে ফালতু বলবেন।

ধন্যবাদ আপনাকে।

আমি মানুষ। আমি বাঙালি। আমি সত্যপথের সৈনিক। আমি মানুষ আর মানবতার সৈনিক। আর আমি ত্বরীকতপন্থী-মুসলমান। আমি মানুষকে ভালোবাসি। আর আমি বাংলাদেশ-রাষ্ট্রকে ভালোবাসি। জয়-বাংলা। জয়-বাংলা। জয়-বাংলা।...
সাইয়িদ রফিকুল হক

 
নবারুণ রায় চৌধুরী এর ছবি
 

এই লিঙ্গপূজা আসলে আদি ও অকৃত্রিম সংস্কৃতি। জাপানের শিন্টোদের থেকে শুরু করে পৃথিবীর প্রায় সর্বত্র লিঙ্গপূজার সংস্কৃতি বর্তমান। যেখানে অন্যান্য প্রাচীন সমাজ শুধু পুরুষলিঙ্গের উপর প্রাধান্য দিয়েছে সেখানে ভারতবর্ষের হিন্দুরা লিঙ্গ ও যোনি দু'টোকেই আবহমান সংস্কৃতিতে তুলে এনে জন্মলাভের প্রক্রিয়াতে নারীত্বের স্বীকৃতি দিয়েছে।

Nabarun R Chowdhury

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

সাইয়িদ রফিকুল হক
সাইয়িদ রফিকুল হক এর ছবি
Offline
Last seen: 12 ঘন্টা 1 min ago
Joined: রবিবার, জানুয়ারী 3, 2016 - 7:20পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর