নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 5 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • বেহুলার ভেলা
  • গোলাপ মাহমুদ
  • দীব্বেন্দু দীপ
  • মুফতি মাসুদ
  • নুর নবী দুলাল

নতুন যাত্রী

  • বিদ্রোহী মুসাফির
  • টি রহমান বর্ণিল
  • আজহরুল ইসলাম
  • রইসউদ্দিন গায়েন
  • উৎসব
  • সাদমান ফেরদৌস
  • বিপ্লব দাস
  • আফিজের রহমান
  • হুসাইন মাহমুদ
  • অচিন-পাখী

আপনি এখানে

আনন্দহীন জীবনানন্দ : কবি অথবা শিল্পীর মৃত্যু


সুনীল গাঙ্গুলি লিখেছিলেন

"শুধু কবিতার জন্য এই জন্ম, শুধু কবিতার
জন্য কিছু খেলা, শুধু কবিতার জন্য একা হিম সন্ধেবেলা
ভুবন পেরিয়ে আসা, শুধু কবিতার জন্য...
শুধু কবিতার জন্য, আরো দীর্ঘদিন বেঁচে থাকতে লোভ হয়।
মানুষের মতো ক্ষোভময় বেঁচে থাকা,
শুধু কবিতার জন্য আমি অমরত্ব তাচ্ছিল্য করেছি।”
 (শুধু কবিতার জন্য)

সাহিত্যিক জীবন এখনও যেমন অনিশ্চিত গত শতাব্দীতেও তাই ই ছিলো। খ্যাতির আশা নিয়ে সাহিত্য করতে এসেও খ্যাতি অধরা থেকে যায়। আবার খ্যাতি আসলেও সংসারযাপনের মতো যথেষ্ট অর্থ আসেনা। তারপরও যদি কেউ হন কবি, তাহলে দুর্দশা আরো বেশী। তবুও কেন "অমরত্ব তাচ্ছিল্য" করে কবিরা কবিতা লেখে জানিনা। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় আমেরিকা থেকে ফিরে এসে পেটের দায়ে উপন্যাস লেখা শুরু করেছিলেন।আর করেছিলেন প্রাইভেট টিউশন দেওয়ার কাজ।বুদ্ধদেব বসুও টাকার জন্য লেখালেখি করেছেন অনেক বেশি।

তবে কবিদের মধ্যে সবচেয়ে হতভাগ্য বোধহয় জীবনানন্দ দাশ।তুলনায় তাঁর সমসাময়িক কবিদের অবস্থা বেশ ভালোই ছিলো। মোহিতলাল মজুমদার আর জসীমউদদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হয়েছিলেন, যদিও জসীমউদ্দীন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা ত্যাগ করেছিলেন অল্পকাল পরেই। বুদ্ধদেব বসু যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামূলক সাহিত্য বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক,তিনি আমেরিকাতেও পড়িয়েছেন কিছুকাল, সুধীন্দ্রনাথ দত্ত যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ওই একই বিভাগে অধ্যাপনা করেছেন। অমিয় চক্রবর্তী তো পুরো বিশ্বব্যাপী অধ্যাপনা করে বেড়িয়েছেন। শান্তিনিকেতন থেকে শুরু করে কলকাতা, লাহোর, কানসাস, টেক্সাস, বার্মিংহাম প্রভৃতি বিশ্ববিদ্যালয়ে। বাংলাদেশের কবি সৈয়দ আলী আহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পর্যন্ত হয়েছিলেন। কিন্ত্তু জীবনানন্দ এক জায়গায় অনন্য।

কোলকাতায় ট্রাম যাত্রার ১৩৬ বছরের ইতিহাসে আজ পর্যন্ত দুর্ঘটনায় মৃত্যু একটাই।তিনি জীবনানন্দ দাশ, যার কবিতায় মৃত্যুভাবনা এসেছে বারবার নানারূপে। ১৯৫৪ সালের ১৪ অক্টোবর কোলকাতার বালিগঞ্জের দেশপ্রিয় পার্কের কাছে কবি জীবনানন্দ দাশ ট্রাম দুর্ঘটনায় মারাত্মক আহত হয়ে নয় দিন শম্ভুনাথ পণ্ডিত হাসপাতালে ভর্তি থাকার পর ২২অক্টোবর মৃত্যুবরণ করলেন। পরদিন বাড়িতে কবিকে দেখতে এসেছেন অনেকেই। তাঁর পরিবারের লোকজন, আত্মীয়স্বজন, বন্ধু বান্ধবেরা সকলেই। শবদেহ শ্মশান যাত্রার জন্য প্রস্তুত। তবুও একজন তখনো আসেন নি। তিনি লাবণ্য দেবী। কবিপত্নী। জীবনানন্দ যাকে একবার সম্বোধন করেছিলেন "জীবনের লাবণ্যসাগর " সেই ধর্মপত্নী লাবণ্য দেবী। কবিবন্ধু ভূমেন্দ্র গুহ গেলেন লাবণ্য দেবীর কাছে। লাবণ্য দেবী ভূমেন্দ্র গুহকে ঝুল বারান্দায় ডেকে নিয়ে বললেন, "অচিন্ত্যবাবু(অচিন্ত্য কুমার সেনগুপ্ত)এসেছেন, বুদ্ধবাবু (বুদ্ধদেব বসু) এসেছেন, সজনীকান্ত( সজনীকান্ত দাস - এই লোকটাই শনিবারের চিঠিতে জীবনানন্দ কে তীব্র আক্রমণ করে লিখতেন)এসেছেন, তা হলে তোমার দাদা নিশ্চয়ই বড়মাপের সাহিত্যিক ছিলেন; বাংলা সাহিত্যের জন্য তিনি অনেক কিছু রেখে গেলেন হয়তো, আমার জন্য কী রেখে গেলেন বলো তো!' এর আগেই তাঁকে হাসপাতালে দেখে গেছেন মুখ্যমন্ত্রী বিধানচন্দ্র রায়। এর নাম কবি পরিণতি!

হিসাব করে দেখলাম মৃত্যুর আগে জীবনানন্দ খুলনা,কলকাতা আর দিল্লির অন্তত ছয়টা কলেজে অধ্যাপনা করেছেন এবং এর মধ্যে দুটো কলেজ থেকে চাকরিচ্যুত হয়েছেন। ইনশিওরেন্স কোম্পানির এজেন্ট হয়েছেন, ব্যবসায় নেমেছেন, মাসিক পত্রিকা প্রকাশের চেষ্টা করেছেন। কোনটাই হয়ে ওঠেনি। হয়েছেন শুধুই কবি। তাও আবার সৌভাগ্যক্রমে বুদ্ধদেব বসুর মতো একজন অকৃত্রিম বন্ধুর সহযোগিতায়। তাঁর প্রথম তিনটি কাব্যগ্রন্থ : ঝরাপালক (১৯২৭),ধূসর পাণ্ডুলিপি (১৯৩৭) এবং বনলতা সেন (১৯৪২) নিজ খরচে প্রকাশ করতে হয়েছিলো। ১৯৪২ এ প্রকাশিত বনলতা সেন কাব্যের জন্য ১৯৫৩ সালে অর্থাৎ মৃত্যুর আগের বছর যেয়ে পাচ্ছেন ১০০ টাকা পুরস্কারমূল্য সম্বলিত রবীন্দ্র -স্মৃতি পুরস্কার। আর মৃত্যুর পরের বছর "জীবনানন্দ দাশের শ্রেষ্ঠ কবিতা" বইয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ বাংলা বই হিশেবে একাডেমি পুরস্কার পান। মূল্য :পাঁচ হাজার টাকা মাত্র।

কবি বিনয় মজুমদার ছোট একটা বই লিখেছেন, প্রবন্ধের বই " ধূসর জীবনানন্দ "নাম দিয়ে। এই বইয়ের 'জীবনানন্দ ও আমি :কিছু অসংলগ্ন ভাবনা' প্রবন্ধটিতে বিনয় মজুমদার লিখেছেন "জীবন যোগ আনন্দ -একসঙ্গে মিলে জীবনানন্দ। তা সত্ত্বেও জীবনানন্দ একটিও আনন্দের কথা লিখতে পারেন নি। সব বেদনার কবিতা লিখেছেন "। বিনয় মজুমদার আরো বলেছেন যে তিনি হিসেব করে দেখেছেন 'জীবন' শব্দটাই সবচেয়ে বেশীবার লিখেছেন কবি জীবনানন্দ।

জীবন শব্দটা যিনি এতো এতো লিখলেন কবিতায়, তিনি আবার মৃত্যুভাবনাও বয়ে বেড়িয়েছেন সমান্তরালে এবং শেষমেষ মরলেন বড় অকালে।

হায়রে কবিজীবন! রবীন্দ্রনাথের সোনার তরী কাব্যের পুরস্কার কবিতাটা মনে পড়ছে।

সেদিন বরষা ঝরঝর ঝরে ,
কহিল কবির স্ত্রী —
‘ রাশি রাশি মিল করিয়াছ জড়ো ,
রচিতেছ বসি পুঁথি বড়ো বড়ো ,
মাথার উপরে বাড়ি পড়ো-পড়ো
তার খোঁজ রাখ কি!
গাঁথিছ ছন্দ দীর্ঘ হ্রস্ব —
মাথা ও মুণ্ড , ছাই ও ভস্ম ;
মিলিবে কি তাহে হস্তী অশ্ব ,
না মিলে শস্যকণা।
অন্ন জোটে না , কথা জোটে মেলা ,
নিশিদিন ধরে এ কী ছেলেখেলা!
ভারতীরে ছাড়ি ধরো এইবেলা
লক্ষ্মীর উপাসনা
ওগো ফেলে দাও পুঁথি ও লেখনী ,
যা করিতে হয় করহ এখনি ।
এত শিখিয়াছ , এটুকু শেখ নি
কিসে কড়ি আসে দুটো! ....

কবিতাটা বোধহয় লাবণ্য দাশের পড়া ছিলো, জীবনানন্দ পড়েননি। বা তিনি কবি জীবনানন্দ দাশ ছাড়া আর কিছুই হবেন না বলেই অনিশ্চয়তাকে সঙ্গে নিয়েই কবিতার পথে হেঁটেছিলেন।

পুনশ্চ:কবির মৃত্যুর পর লাবণ্য দেবী একখানা বই লিখেছেন "মানুষ জীবনানন্দ" নামে। এইখানে লাবণ্য দেবীর বর্ণনায় ভালো মন্দ মিলিয়ে পূর্ণাঙ্গ জীবনানন্দকে পাওয়া যায়।

জীবনানন্দ গবেষক ভূমেন্দ্র গুহ অবশ্য বলেছেন যে কবির মৃত্যু আত্মহত্যাও হতে পারে।

পরিশেষে "ধূসর জীবনানন্দ" থেকেই উদ্ধৃতি দিচ্ছি।জীবনানন্দ সম্পর্কে এর থেকে ভালো কিছু আমার জানা নেই।
"আমি আমার ঈশ্বরীকে.... জিজ্ঞেস করি, 'জীবনানন্দ ট্রামে চাপা পড়ে মরে যাওয়ার পরও কোনখানে, কোনরূপ বেঁচে আছেন কি? আপনি দৈববানী করুন। ' দেবতা বললেন, জীবনানন্দ এখনও বেঁচে আছেন। কারণ, মরে গেলে পুড়িয়ে ফেললে হয় ছাই। এবং সেই ছাইও ভাবতে সক্ষম, কারণ ছাইয়েরও প্রাণ আছে।
'প্রাণ থেকে প্রাণ জন্মে
জানি এই কথা
মাটি থেকে জন্মে দেখি লজ্জাবতী লতা।'

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

সুবিনয় মুস্তফী
সুবিনয় মুস্তফী এর ছবি
Offline
Last seen: 5 দিন 13 ঘন্টা ago
Joined: শুক্রবার, নভেম্বর 4, 2016 - 4:58অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর