নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 10 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • কাঠমোল্লা
  • অর্পিতা রায়চৌধুরী
  • পৃথু স্যন্যাল
  • নুর নবী দুলাল
  • পার্থিব
  • আমি অথবা অন্য কেউ
  • আরণ্যক রাখাল
  • ফারুক
  • ইকারাস
  • আবেদীন পুশকিন

নতুন যাত্রী

  • শিরিন আবু সাঈদ
  • রাজিব দাশ
  • রবিঊল
  • কৌতুহলি
  • সামীর এস
  • আতিক ইভ
  • সোহাগ
  • রাতুল শাহ
  • অর্ধ
  • বেলায়েত হোসাইন

আপনি এখানে

রাষ্ট্র কর্তৃক গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতাল জনগোস্টির ভূমির অধিকার হরণ


প্রেস বিজ্ঞপ্তি

গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলাধীন সাহেবগঞ্জ বাগদাফার্ম এলাকায় আদিবাসী- বাঙালীর সম্মিলিত ভুমির অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে সম্পৃক্ত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উপর ৬ই নভেম্বর ২০১৬ইং পুলিশ ও স্থানীয় মাস্তান বাহিনী হামলা চালায়। বিনা উস্কানীতে সাধারণ নিরস্ত্র জনগণের উপর গুলি বর্ষণকরে পাঁচজন আদিবাসীকে গুরুতর আহত করে। আহতদের মধ্যে শ্যামল হেম্ব্রম চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। পরবর্তীতে পুলিশ ৮ই নভেম্বর আরও একটি লাশ (মঙ্গল মার্ডি) পুলিশ মিলের পার্শ্ববর্তী গ্রামে ফেলে রেখে যায়। পুলিশের অবৈধ উচ্ছেদ অভিযানে এই দুইজন আদিবাসী মারা গেলেও পুলিশ এই হত্যার দায় নিতে নারাজ। একই তারিখে সন্ধ্যায় পুলিশের সহায়তায় স্থানীয় চেয়ারম্যান শাকিল আকন্দ বুলবুলের নেতৃত্বে একদল মাস্তান সাহেবগঞ্জে আদিবাসী-বাঙালীর সমন্বয়ে গড়ে ওঠা পল্লীতে প্রায় ৬০০ ঘর ও স্কুলে অগ্নিসংযোগ করে। এলোপাথারি গুলি চালানোর ফলে উক্ত পল্লীর বাসিন্দারা সবকিছু ফেলে প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে যায়।

সেই পল্লীতে প্রায় ২৫০০ মানুষের বাস ছিল, বর্তমানে প্রায় দুইশত আদিবাসী সুগার মিলের পাশে জয়পর ও মাদারপুর নামের দুটি গ্রামে আশ্রয় নিয়েছে এবং বাকীরা এখনো পুলিশ ও মাস্তানের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শাকিল আকন্দ বুলবুল সাহেবগঞ্জ বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার কমিটির সভাপতি থাকলেও, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের পরে তার সুর পাল্টাতে থাকে এবং ক্রমে সে এলাকার সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসীতে পরিণত হয়। এলাকাবাসী দাবী করেন যে, উক্ত বুলবুল বর্তমানে এম,পি’র প্রধান মাস্তান, যার নিয়ন্ত্রণে এম,পি’র ব্যক্তিগত অস্ত্র ভান্ডার রয়েছে। সাহেবগঞ্জ পল্লীতে হামলা চালানোর আগে এই বুলবুল মাইকে সন্ত্রাসীদের নির্দেশ দেয় যেন তারা পল্লীর সবকটি বাড়িতে লুটপাট করে। কাউকে যেন ছাড় না দেয়। বুল্বুলরা সারা দেশে এভাবেই তাদের ক্ষমতা চর্চা করে আসছে।

পুলিশ ও মাস্তানদের উক্ত হামলা, লুটপাট, গুলি করে নরহত্যা, অগ্নিসংযোগ ও অব্যাহত হুমকির ঘটনা জানার পর,“সাহেবগঞ্জ বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার সংহতি কমিটির” উদ্যেগে আমরা ৮ জনের একটি দল ঢাকা থেকে গাইনবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জের সাহেবগঞ্জ চিনিকল এলাকায় যাই এবং সরেজমিনে পরিদর্শন করি। পরিদর্শন দলে সদস্য ছিলেন-১. ডঃ স্বপন আদনান, লেখক ও গবেষক, ২. জাকির হোসেন, সদস্য, মৌলিক অধিকার সুরক্ষা কমিটি, ৩. হাসনাত কাইয়ুম, আইনজীবি, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, ৪. ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, আইনজীবি, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, ৫. ফিরজ আহমেদ, লেখক ও রাজনৈতিক কর্মী। কেন্দ্রীয় সদস্য, গণ সংহতি আন্দোলন, ৬. অরুপ রাহী, সঙ্গীত শিল্পী ও গীতিকার, ৭. মোশাহিদা সুলতানা, শিক্ষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, হিসাব বিজ্ঞান বিভাগ ও ৮. রেজাউর রহমান, সদস্য, মৌলিক অধিকার সুরক্ষা কমিটি।

আমরা স্থানীয়দের সাথে কথা বলি এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি। তাদের কাছ থেকে পুরো ঘটনার বিবরণ শুনি। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিমল কিসকু ও চরণ সরেনের সাথে কথা বলি এবং তাদের চিকিৎসার খোঁজ খবর নিই। সেখানে তাদের হাতে হাতকড়া পড়া অবস্থায় দেখতে পাই। বিমল কিসকুর স্ত্রী অচেনা ব্যক্তিদের কাছ থেকে পুলিশ পাশে বসা থাক সত্ত্বেও হত্যার হুমকি পাওয়ার অভিযোগ করেন।
সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে- ঘটনার সূত্রপাত, আদিবাসীদের ভূমির অধিকার, স্থানীয় প্রশাসনের দায় এড়ানো এসব বিষয়ে আমাদের পর্যবেক্ষণের সংক্ষিপ্তসার নিম্নরূপঃ

১. এটি মোটেও বীজ আখ কাটতে গিয়ে বাধা দেয়ার ফলে সৃষ্ট কোন কাকতালীয় ঘটনা নয়। পুলিশ প্রহরায় বীজ আখ কাটতে যাওয়ার কোন যুক্তি নেই। আদিবাসী-বাঙালীদের জোর পূর্বক উচ্ছেদ করার জন্যে পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়।

২. এই হামলায় পুলিশ ও সুগার মিলের ম্যানেজার আব্দুল আউয়ালের সাথে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বুলবুল ও তার মাস্তান বাহিনী মিলের শ্রমিকদের নাম ব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে নিরস্ত্র আদাবাসী-বাঙালীদের উপর হামলা চালিয়ে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে।

৩. স্থানীয়দের অভিযোগ- তারা মাঠে অন্তত পাঁচটি লাশ পড়ে থাকতে দেখেছে কিন্তু পুলিশের ভয়ে তারা লাশ নিতে পারেনি। ঘটনার একদিন পর পুলিশ তাদের দ্বিতীয় লাশটি (মঙ্গল মার্ডি ) ফেলে যাওয়ার কারণে এবং অন্য লাশদের খোঁজ না পাওয়ার কারণে তাদের বদ্ধমূল ধারণা পুলিশ এবং স্থানীয় মাস্তানরা এই লাশ গুম করে ফেলেছে। এই ঘটনায় যেহেতু পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসন ও স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধিরা জড়িত, তাই গৎবাঁধা নিয়মে এই ঘটনার তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হবে না। এজন্যে একটি নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

৪. সুগার মিলটি চালু না থাকার কারণে স্থানীয় এম,পি, ও মিলের ম্যানেজার ১৮৪২.৩০ একর জমি অবৈধভাবে বর্গা দিয়ে ভোগদখল করতে থাকা অবস্থায় আদিবাসী-বাঙালীরা তাদের পূর্বপুরুষের ভিটেমাটি ফেরত পাওয়ার দাবী করতে থাকলে মিলের ম্যানেজার ও স্থানীয় এম,পি আবুল কালাম আজাদ তাদের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং মহাজনের মত আচরণ করতে থাকে। ভূমি উদ্ধারের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে জোর পূর্বক উচ্ছেদের চেস্টা করতে থাকে। অথচ জেলা প্রশাসক যিনি মূলত এই বিষয়ে মূল ভূমিকা পালন করার কথা ছিল তাকে অন্ধকারে রেখে স্থানীয় এম,পি ব্যক্তিগত স্বার্থে এধরণের বেআইনি কার্যক্রম চালিয়ে যান।

৫. উচ্ছেদ হওয়া আদিবাসী-বাঙালীদের অধিকাংশ অনাহারে দিন যাপন করছে এবং তাদেরকে সরকারী তরফ থেকে কোন প্রকার সহায়তা প্রদান করা হয়নি। তাদের বাসস্থানের কোন ব্যবস্থা কর আহয়নি। নারী শিশুসহ প্রায় সকলেই খোলা আকাশের নীচে রাত কাটাচ্ছেন।

৬. যেসব ঘরবাড়ী পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে তাতে লাঙ্গল চালিয়ে চাষাবাদ করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ফলে ঘটনার প্রমান লোপাট হয়ে গেছে। আদিবাসীদের ভূমি দ্বিতীয়বারের মত দস্যুদের দ্বারা দখল করে নিয়েছে।

আমাদের পর্যবেক্ষণের একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।

নিবেদনে,

জ্যোতির্ময় বড়ুয়া,
আহবায়ক,
সাহেবগঞ্জ বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার সংহতি কমিটি,
ঢাকা।
১১ই নভেম্বর ২০১৬ইং।

বিভাগ: 

মন্তব্যসমূহ

Rezzakul Chowdhury এর ছবি
 

সারা বিশ্ব ব্যাপী সংখালুঘুদের উপর প্রথমেই যে ভয়াবহ বিপদটি আসে তা হল জমি থেকে উচ্ছেদ। সেটা কখনও 'প্রাকৃতিক সম্পদ উন্নয়ন' এর নামে, কখনো পরিবেশ সংরক্ষণের ছলনায়, আবার কখনো সংখ্যালঘুদেরি উন্নয়নের নামে। যে কারন দেখিয়েই উচ্ছেদের ঘটনা ঘটুক না কেন, সংখ্যালঘু কিন্তু হারায় তার পুরুষানুক্রমে অর্জিত জীবন ধারা, ক্রমান্বয়ে ভাষা, সংস্কৃতি, এবং সব শেষে আত্ব পরিচয়। চীন খনিজ সম্পদ আহরনের জন্য পশু পালন করে জীবিকা নির্বাহী সিংগিয়াং উইগার অঞ্চলের সংখালঘুদের পুর্বপুরুষের ভিটেমাটি ছাড়তে বাধ্য করেছে, karuturi Glabal নামের প্রতিষ্ঠান ইথিওপিয়ান সরকারের সহযোগিতায় জমি দখল করে নিয়ে ধ্বংস করে দিয়েছে সেখানকার মানুষের চিরাচরিত জীবন ধারা, সেন্ট্রাল আফ্রিকার গ্রেট লেক অঞ্চলের শিকারী 'বাট অয়া'রা আজ শিকার ছেড়ে হতে হয়েছে সস্তা শ্রমের খনি শ্রমিক। এমনি হাজারো উদাহরন দেয়া যায়। বাংলাদেশে আদিবাসীদের হতে হয়েছে 'ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠি', সাঁওতালের ঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায় আমাদের মন পুড়ে না, পার্বত্য চট্টগ্রামের অসংখ্য আদি বাসীদের আত্ব পরিচয় হারিয়ে যাচ্ছে, মন্দির ভাংগে, আমাদের ঘুম ভাংগে না, শুধু অল্প কিছু চিৎকার করে প্রতিবাদ করে যাচ্ছে, আর সবি নিশ্চুপ। তাই বুজতে হবে কোন কারনে জমি উচ্ছেদ হয়। মুনাফা যতদিন রাষ্ট্র ও ব্যাক্তির জীবনের লক্ষ্য থাকবে, নিয়ন্ত্রন করবে আমাদের চেতনা ও মননের জগত, তত দিন সংখ্যালঘু হারাবে জীবন, জীবনের যা কিছু অর্জন। আর সংখ্যা গুরুরা নীতিহীন, বোধহীন, আত্বপ্রাপ্তিকেই জীবন ভেবে মেরু দন্ডহীন জীবন কাটিয়ে যাবে। আজ তাই বিপ্লবী চেতনায় উদ্ভুদ্ধ মানুষদের বড় বেশী প্রয়োজন, যাদের কারনে রাষ্ট্রের লক্ষ্য হবে মানবের মুক্তি।

 

নতুন কমেন্ট যুক্ত করুন

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

ইস্টিশন মাস্টার
ইস্টিশন মাস্টার এর ছবি
Offline
Last seen: 2 দিন 7 ঘন্টা ago
Joined: মঙ্গলবার, এপ্রিল 5, 2016 - 8:04পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর