নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 3 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • আলমগীর কবির
  • মিঠুন বিশ্বাস
  • দ্বিতীয়নাম

নতুন যাত্রী

  • চয়ন অর্কিড
  • ফজলে রাব্বী খান
  • হূমায়ুন কবির
  • রকিব খান
  • সজল আল সানভী
  • শহীদ আহমেদ
  • মো ইকরামুজ্জামান
  • মিজান
  • সঞ্জয় চক্রবর্তী
  • ডাঃ নেইল আকাশ

আপনি এখানে

লিলিথ:হারিয়ে যাওয়া এক নাম


"Half of me is beautiful
But you were never sure which half.
“Ruth Feldman, “Lilith”

Ruth Feldman, “Lilith”

আদমের রহস্যময় স্ত্রী লিলিথ(Lilith) হিব্রু পরিভাষা হচ্ছে לילית‎; (Lilith), সুমেরীয় আকাডিয়ান (Līlītu) । একেক স্থানে কিছুটা ভিন্ন নামে ভিন্ন অর্থে হলেও লিলিথ এর প্রচলিত অর্থ- রাত্রি। ধর্মমতে লিলিথ ছিলেন আদমের প্রথম স্ত্রী। ঈশ্বর আদমকে সৃষ্টি করার পর ভাবলেন, মানুষের জন্য একা থাকা খুবই কষ্টের। তাই একই সময়ে একই উপাদান অর্থাৎ মাটি দিয়ে সৃষ্টি করলেন লিলিথ’কে।

ওল্ড টেস্টামেন্টের দ্য বুক অফ জেনেসিসে লিলিথ সম্পর্কে লেখা আছে- 1:27 So God created man in his own image, in the image of God created he him; male and female created he them. 1:28 And God blessed them, and God said unto them, Be fruitful, and multiply, and replenish the earth, and subdue it: and have dominion over the fish of the sea, and over the fowl of the air, and over every living thing that moves upon the earth. ইহুদিদের লোকবিশ্বাস হল, লিলিথ হলেন অন্ধকারের কুখ্যাত পিশাচ যিনি নবজাতক শিশুদের অপহরণ করেন। ঈশ্বর আদম’কে যে উপাদান দিয়ে সৃষ্টি করেছিলেন ঠিক সেরকম ভাবে লিলিথ’কে সৃষ্টি করা হয়। স্পষ্টত যে, সৃষ্টির শুরুতে নারী-পুরুষের মধ্যে সমতা ছিল।

আদম ও লিলিথের মধ্যে দ্বন্ধের শুরু সঙ্গমের মধ্য দিয়ে। আদম নিজেকে শ্রেষ্ঠ দাবী করে লিলিথের উপরে থাকতে চাইলে লিলিথ তা মানলেন না। লিলিথ উপরে থাকার দাবী করলেন। লিলিথের যুক্তি, আমরা দুই জনই সমান। দুইজনই এক উপাদানে তৈরি হয়েছি। আদম জোর করে লিলিথের সাথে যৌনমিলত করতে চাইলে লিলিথ আদমকে ছেড়ে পৃথিবী’তে চলে আসেন। এরপর আদম ঈশ্বরকে উদ্দেশ্য করে বলেন; হে মহাজগতের ঈশ্বর, আপনি আমাকে এই কেমন নারী দিয়েছেন, যে কিনা আমাকে ছেড়ে পালিয়ে গেছে। ঈশ্বর তখন তিন ফেরেশতার মাধ্যমে লিলিথের কাছে একটি ম্যাসেজ পাঠান- “If she agrees to come back, it is good. If not, she must permit one hundred of her children to die every day.”-Alphabet of ben sira

ফেরেশতারা ইজিপ্টের সমুদ্রতীরে লিলিথ’কে খুঁজে পান। ফেরেশতারা লিলিথকে ঈশ্বরের বাণী শোনানোর পর লিলিথ ফিরে যেতে অসম্মত জানান এবং স্পষ্ট করে বলে দেন-My friends, I know God only created me to weaken infants when they are eight days old. From the day a child is born until the eighth day, I have dominion over the child, and from the eighth day onward I have no dominion over him if he is a boy, but if a girl, I rule over her twelve days.” লিলিথ ঈশ্বরের শাস্তিকে মাথা পেতে নিয়ে নিজের স্বাধীনতাকে বির্সজন দেননি। ফলে তিনি হয়ে পড়েন অভিশপ্ত!

এরপর ঈশ্বর আদম’কে স্বীকার করবে এবং অধীনতা মেনে নেবে এমন আরেকটা নারীকে সৃষ্টি করা হয় যার নাম-ইভ বা ইভা বা হাওয়া। ইভা যেন আদমের অধীনতা মেনে নেয় সেজন্যে আদমের পাঁজড়ের হাড় দিয়ে ইভা’কে সৃষ্টি করা হয়। সুতরাং এটি স্পষ্টত যে, ধর্ম মতে পুরুষের বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহী নারী হলেন লিলিথ। ধর্ম মতে তাহলে যিনি আমাদের আদি সৎ মা’ও বটে!

ইহুদিদের লোকবিশ্বাসে লিলিথ একজন শয়তান চরিত্রের অধিকারী হলেও ইহুদি নারীবাদীরা লিলিথ’কে একটি বিপ্লবী চরিত্র হিসেবে দেখেন। তারা মনে করেন লিলিথ হল সেই নারী যিনি পুরুষের সমান ছিলেন। পৃথিবীর কোন ধর্মগ্রন্থে নারী’কে পুরুষের সমান উপাদান দিয়ে সৃষ্টি করেনি কিংবা পুরুষের মতন অধিকার দেয় নি। যা একমাত্র লিলিথ’কে দেওয়া হয়েছিল সৃষ্টির শুরুতে।

বিদ্রোহী নারী লিলিথ নেতিবাচক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছিল সবসময়। সমাজে ও ধর্মে লিলিথ হলেন অন্ধকারের নারী, অশুভ আত্মা, খুনি মহিলা, শিশু ভক্ষণকারী চরিত্রের অধিকারী। চার হাজার বছর ধরে সুমেরীয় মিথে, ইহুদিদের সমাজে ও গ্রন্থে, ইজিপ্ট, গ্রিক সভ্যতায় লিলিথ চরিত্রটি বেঁচে আছেন। সেই ধারাবাহিকতায় ওল্ড টেস্টামেন্টেও লিলিথ চরিত্রটি উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। ৩ হাজার খ্রিস্টপূর্বে সুমেরীয় মিথলজিতে লিলিথের কথা উল্লেখ আছে। সিরিয়ার একটি প্রস্তরে একটি লেখা পাওয়া যায় যেখানে লেখা ছিল- “O flyer in a dark chamber, go away at once, O Lili!” ব্যাবিলনীয় গ্রন্থে আছে-পুরুষ মানুষ যদি বাড়িতে একা ঘুমায় তাহলে লিলিথের ফাঁদে সে ধরা পড়তে পারে। পুরুষের সাথে সঙ্গমের মাধ্যমে লিলিথ অন্য শয়তানদের জন্ম দেয় এমনই এক ধারণা তাদের মধ্যে ছিল।


উপরের ছবিটি-ব্যাবিলনীয় সভ্যতায় লিলিথ। যা ইনানার নামে পরিচিত।

তবে লিলিথের রূপে ও ব্যক্তিত্বে অনেক কবি সাহিত্যিক অভিভূত হয়েছেন। যেমন কবি দান্তে গ্যাব্রিয়েল রোসেত্তি (Dante Gabriel Rossetti) লিলিথের মায়াময় চুল নিয়ে লিখেছেন- “Was the first gold” আইরিশ উপন্যাসিক জেমস জয়েস (James Joyce) লিলিথকে চিত্রায়িত করেছেন ‘Patron of abortions’ হিসেবে। আধুনিক নারীবাদীরা আদম থেকে মুক্তিকামী এক নারী হিসেবে লিলিথকে কল্পনা করেন। এছাড়া ইহুদিদের একটি ম্যাগাজিনের নাম লিলিথ এর নাম অনুসারে। এছাড়া দুস্থ মহিলাদের সাহায্যের জন্য কনসার্ট ও স্তন ক্যান্সার ইনিস্টিটিউট Lilith Fair নামে পরিচিত। রেনেসাঁস যুগে মাইকেল এঞ্জেলো লিলিথের একটি ছবি আঁকেন। সেখানে দেখা যাচ্ছে লিলিথ অর্ধেক নারী অর্ধেক সর্প যিনি কিনা জ্ঞান বৃক্ষকে কুণ্ডলিত করে আছেন।

১২ শত’কে স্পেনে লিলিথকে শুধু আদমের বৌ নয় শয়তানের বৌ হিসেবেও উপস্থাপন করা শুরু হয়। মানুষ বিশ্বাস করতে থাকে জিশু যখন আবার ফিরে আসবেন তখন শয়তানের সাথে লিলিথের সম্পর্ক ধ্বংস হয়ে যাবে। তাদের ধারণা ছিল লিলিথ ও শয়তানের মিলনের ফলে প্রতিনিয়ত শয়তান উৎপাদন হচ্ছে। ইহুদিদের লোক বিশ্বাস ছিল; তিন ফেরেশতা সানভি, সানসাভি, সামানগেলোপ(Sanvi, Sansanvi and Samangelof) নামে কবজ ব্যবহার করলে লিলিথ শিশু ও গর্ভবতী মায়েদের কাছে আসতে পারে না। অনেক সময় লিলিথ থেকে পরিবার’কে সুরক্ষা করার জন্যে তারা লাল ফিতা দিয়ে বন্ধনী দিতো। তবে আধুনিক যুগে ইহুদিদের অনেক নারীবাদী ও কবিরা লিলিথের পালিয়ে যাওয়াটা পুরুষের অধীনতাকে অস্বীকার করা স্বাধীন নারী চেতনা হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। এছাড়া ইহুদি কবিরা লিলিথকে নিয়েও কবিতা লিখছেন। আমেরিকান লেখিকা Judith Plaskow’র সুপরিচিত বই “The Coming of Lilith। নামেই বোঝা যাচ্ছে বইটি লিলিথ’কে নিয়ে লেখা। এছাড়া বিভিন্ন জন বলে থাকেন, লিলিথ ছিলেন একজন ‘উন্নাসিক নারী’ যিনি আদম কিংবা ঈশ্বর কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হতে চান নি। আরেক গল্পে বলা হয়, লিলিথ সাপ হয়ে স্বর্গের বাগানে চলে যায় এবং ইভ’এর সাথে বন্ধুত্ব করেন। পরবর্তীতে একে অন্যের সাথে নিজেদের কথা শেয়ার করেন। তাদের বন্ধুত্ব হয় এবং দুই জন জ্ঞানের অন্বেষণ করেন। এভাবেই ইভ স্বর্গীয় বৃক্ষের নিষিদ্ধ আপেলটি খান। এই কাহিনী’র উপর ভিত্তি করে অনেক কবি সমকামিতার কবিতাও লিখেছেন।

লিলিথকে কেন্দ্র করে কয়েকটি সিম্বল সমাজে আছে। যদিও সিম্বলগুলো শয়তানের সিম্বল হিসেবেই স্বীকৃতি পেয়ে আসছে। কারণ প্রাচীনকাল থেকেই লিলিথ যেহেতু শয়তানের চরিত্র হিসেবে স্বীকৃতি পেয়ে আসছে সেহেতু সিম্বলগুলো পবিত্রতার নয় বরং অশুভ ও শয়তানের প্রতিক হিসেবেই বিবেচনা করা হয়।

ধর্মে কিংবা সমাজে নারী’কে শয়তান কিংবা নারী শয়তানের সঙ্গী এসব ধারণাগুলো হাজার বছরের ধরে বিভিন্ন গল্পে বিভিন্ন মিথের মাধ্যমে একস্থান হতে আরেক স্থানে বিস্তৃতি লাভ করেছে। নারী পুরুষের সমান অধিকার চাইলে নারী’র উপর শয়তান ভর করেছে কিংবা সে শয়তান হয়ে উঠছে বলে অপবাদ দেওয়া হয়। ইউরোপে অসংখ্য নারী’কে পিশাচ হিসেবে অপবাদ দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমাদের সমাজেও নারী’কে শয়তানের সহযোগী কিংবা নারী খারাপ কাজ করতে উৎসাহিত করে এমন ধারণা আছে। পুরুষ তান্ত্রিক সমাজের ঈশ্বরও একজন পুরুষতান্ত্রিক খোদা। ফলে তিনিও নারী’কে পুরুষের মতন সমঅধিকার দিতে নারাজ। আজকে আমাদের সমাজের নারী’রা যে সমঅধিকারের দাবী তোলে ধর্মীয় গ্রন্থ অনুসারে সেই দাবী সর্বপ্রথম তোলেন সৃষ্টির প্রথম নারী, মানবের আদি মাতা- লিলিথ।

এখানে একটা ছোট ভিডি শেয়ার করা হল। লিংক- এখানে

Comments

আকাশ এর ছবি
 

নতুন কিছু

 
 

লিলিথের নগ্ন ছবিগুলো অসাধারন।
একটু একটু করে লিলিথের প্রেমে পড়ে যাচ্ছি।
ইহুদীদের বিশ্বাসটা কিন্তু উচ্চমাত্রার উদ্ভট ধরনের।

 
নুর নবী দুলাল এর ছবি
 

লিলিথ নারীবাদীদের দেবতা। Biggrin

 
অতিথি এর ছবি
 

বাইবেল শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরো মনোযোগ দিয়েই পড়েছিলাম। মাগার এই লিলিথ-এর কাহিনী তৌরাত বা ওল্ড টেস্টামেন্টের কোথায় উল্লেখিত হয়েছে বলে মনে পড়ে না।

 
সুব্রত শুভ এর ছবি
 

জেনোসিস এ আছে। ভিডিওটি এখানে

----------------------------------
মুক্তি আসুক যুক্তির আলোয়।

 
অতিথি এর ছবি
 

ওল্ড টেস্টামেন্টেও তো পূর্ণাঙ্গ নয়।

 
কমরেড মোজাম্মেল এর ছবি
 

এক কথায় অসাধারণ :থাম্বসআপ: নতুন কিছু জানলাম Smile

_-_-_-_-_-_-_-_-_-_-_-_-_-_-_-_-_-_-_-_-_-_-
তোমার চোখ যেন মহাকালের আয়না
তোমার চোখ যেন বেথেলহেমের পূণ্য ভূমি!

 
পৃথু স্যন্যাল এর ছবি
 

যদিও স্বষ্টা কিংবা আদম ইভের মত লিলিথ বলেও কোন কালে কোনকিছুই ছিলো না, তথাপি লিলিথ কন্সেপ্টটি নারীবাদীগনের জন্য একটা দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। পৃথিবীর নারীগণ একেকজন লিলিথ হয়ে উঠোক।

*************************************
আমি কারো দেখানো পথে চলি না।
আমার ইচ্ছে মত পথের তৈরী করি।
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^

 
আনন্দ কুটুম এর ছবি
 

প্রশ্ন জাগে মনে, মিথ গুলো যখন মিথ্যা বলে প্রতিয়মান হয় তখন আসলে ঠিক কোন স্থান থেকে পুরুষ নারীর প্রভু হয়ে ওঠে?? নৃতাত্ত্বিক বিশ্লেষকরা কি বলেন??
মানে ঠিক কোন ঘটনার সময় থেকে পুরুষ নারীকে শোষণ শাসন করার অধিকার আয়ত্ত করে? (ধর্মের বাইরের বিশ্লেষণ চাই)

 
সুব্রত শুভ এর ছবি
 

সমাজে যখন উৎপাদন ব্যবস্থার সূচনা হয় তখনও গোত্রগুলো'তে নারী শাসন ছিল। নারী'রা ঠিক করে দিত কে কী খাবে কে কার সাথে শোবে। কিন্তু এর পর যখন সম্পত্তির ধারণা, ক্ষমতার ধারণা আস্তে আস্তে মানুষের মধ্যে জন্ম নেয় ক্ষমতার আর সেই ক্ষমতাকে কেন্দ্র করে চলে আধিপত্য বিস্তার। সেই আধিপত্য বিস্তার থেকেই মানুষের মধ্যে শোষণ, নিপীড়নের জন্ম হয়। এটা বুঝতে গেলে আমাদের সমাজ বিবর্তনের ইতিহাসের দিকে নজর দিতে হবে।

----------------------------------
মুক্তি আসুক যুক্তির আলোয়।

 
শুভ্র95 এর ছবি
 

বাইবেলের কোথায় আছে এই ঘটনা?
রেফারেন্স দেন।

 
সুব্রত শুভ এর ছবি
 

পড়ে নেন-এখানে

----------------------------------
মুক্তি আসুক যুক্তির আলোয়।

 
শুভ্র95 এর ছবি
 

আদমের প্রথম স্ত্রী উল্লেখ করে আপনি যেভাবে বর্ণনা করেছেন বাইবেলে এই রকম নাই।
আমার হাতের কাছেই বাইবেল আছে আর অনলাইনে তো আছেই। কোথাও পেলাম না।
বিভিন্ন উৎস থেকে বিভিন্ন কথা যোগ করে গল্প রচনা করার মত মনে হচ্ছে আপনার লেখাটি।
বাইবেলের কোন অধ্যায় কত নাম্বারে আদমের প্রথম স্ত্রী উল্লেখ করা আছে টা যদি দিতে পারেন তাহলে ভাল হয়।

 
আনিস রায়হান এর ছবি
 

এ হলো এক কাল্পনিক ও ভুয়া ইতিহাস, যার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। এ ধরণের বিভ্রান্তিমূলক লেখা ধর্মতত্ত্ব, সৃষ্টিতত্ত্ব ও দার্শনিক ক্ষেত্রে অরাজকতা সৃষ্টিতে কাজে লাগে বিধায় একে সত্যের মতো করে নানা যুক্তিতে উপস্থাপন করা হয়। ধর্মবিশ্বাসীদের নানা পক্ষ আবার এসব গালগপ্পোকে নিজ স্বার্থ অনুযায়ী বিকৃত করে প্রচার করে। যেমনটা এখানে করেছেন ধর্মবিশ্বাসী নারীবাদীরা।

এসব গালগপ্পো বিচার না করে, যাচাই না করে প্রচারের অর্থই হচ্ছে দার্শনিক বিভ্রান্তি সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখা। যা কিনা পোস্ট মডার্ন চিন্তার ধারকদের এক সাধারণ কর্মপদ্ধতি। লেখকের কাছে প্রশ্ন হচ্ছে, তিনি এই লেখা কেন লিখেছেন? এর সত্যতার ভিত্তি কি? যেখানে তিনি নিজে নাস্তিক পরিচয়ধারী, যা কিনা বলে ধর্মতাত্ত্বিক প্রথম সৃষ্টি 'আদম' নিজেই একটা গপ্পো! বরং এসব লেখা কি বিশ্বাসীদের বৈচিত্র্যকেই জাহির করে না?

_______________________________________
চেয়ারম্যান মাওয়ের তিনটি রচনা পড়ুন-
_______________________________________
'জনগণের সেবা করুন'
'যে বোকা বুড়ো পাহাড় সরিয়েছিলেন'
'মানুষের নির্ভুল চিন্তাধারা কোথা থেকে আসে'

 
পৃথু স্যন্যাল এর ছবি
 

আনিস রায়হানের সাথে সহমত।

*************************************
আমি কারো দেখানো পথে চলি না।
আমার ইচ্ছে মত পথের তৈরী করি।
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^

 
সুব্রত শুভ এর ছবি
 

যেখানে তিনি নিজে নাস্তিক পরিচয়ধারী

নাস্তিক পরিচয়ধারী হলে কী কী বিষয়ে লেখা-লেখি করা যাবে না এমন কোন নীতি-মালা কী বাজারে আছে?

বিশ্বাসীদের বৈচিত্র্যকেই জাহির করে না?

অবশ্যই করে। ভারতে ৫ লক্ষ মানুষ হোসনি ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ের মানুষ আছে। যারা একই সাথে হিন্দু এবং একই সাথে ইমাম হোসেনের অনুসারী। মানুষের চিন্তাধারা কতোটা বৈচিত্র্য তা কী আমাদের জানতে হবে না? নতুন কিছু জানার মধ্যে যদি কেউ বিভ্রান্ত হয় তাহলে বুঝতে হবে তার আসলে বোঝার ভিত্তি'টাই দুর্বল। এই লেখা পড়ে কেউ অবিশ্বাসী না হলেও ধর্মীয় গল্পগুলো'র মধ্য যে বিচিত্রতা আছে তা স্বীকার করে নেবে।

----------------------------------
মুক্তি আসুক যুক্তির আলোয়।

 
আনিস রায়হান এর ছবি
 

মিথ্যাকে, ভুলকে যাচাই না করে সত্য হিসেবে, সত্যের মতো করে উপস্থাপন করাটা 'নতুন কিছু জানা' নয়। এটা বরং পুরনো মিথ্যাকে নতুন বোতলে ভরে মানুষকে বিভ্রান্ত করাই। তুমি আদমের অস্তিত্ত্বের প্রমাণ দিতে পারবে? না পারলে তার বউকে নিয়ে গালগপ্পো লেখাটা কি মিথ্যাচার হিসেবে চিহ্নিত হবে না?

বিশ্বাসীদের বৈচিত্র্য নিয়ে ব্যাপক লিখেছেন ফরহাদ মজহার ও এখানে পারভেজ আলম। এদের উদ্দেশ্য সম্পর্কে আমি অন্তত পরিষ্কার। তোমার উদ্দেশ্য সম্পর্কে পরিষ্কার ছিলাম না বলে প্রশ্ন তুলেছি। আমার মনে হয়েছিল তুমি অসচেতনভাবে করছো। কিন্তু মন্তব্যে যে বাগাড়ম্বর করলে তাতে হতাশ হলাম!

নাস্তিক হয়ে ধর্মবিশ্বাসের পক্ষে প্রচার করাটা অবশ্যই কোনো না কোনো নীতিমালার বিষয়, অবশ্য সেটা বুঝত পারতে যদি নীতিবিদ্যা বিষয়ে সচেতন হতে।

_______________________________________
চেয়ারম্যান মাওয়ের তিনটি রচনা পড়ুন-
_______________________________________
'জনগণের সেবা করুন'
'যে বোকা বুড়ো পাহাড় সরিয়েছিলেন'
'মানুষের নির্ভুল চিন্তাধারা কোথা থেকে আসে'

 
মধ্যরাতের ট্রেন এর ছবি
 

Diablo

 
সুব্রত শুভ এর ছবি
 

আর ধর্মের গল্প মানেই তো এগুলো মানুষের বানানো গল্প এটা কী আলাদা করে বলার কোন দাবী রাখে? আর বিষয়টি আমার কাছে মিথ। অতীতে ইহুদিদের লোকবিশ্বাস ছিল এটা। এখানে বাংলাদেশের ধর্ম বিশ্বাসীরা তো প্রথম বাক্যেই অমত হবে কারণ তাদের গল্পের সাথে এটি যায় না। আর বিশ্বাসীরা কী ভাবে সেটাও আমি খুব একটা বিবেচনায় নিই না। কেউ সৌদি'তে হজ্ব করতে যায় বেহেস্তের আসায়, অনেকে যাইতে চায় হাজার বছরের পাথরটা দেখতে।

আর ফরহাদ সাহেবের নাম দেখে অবাক হলাম। এই লোককে দেখলে নীতিশ্রাস্ত্রের বাপ-মা আত্মহত্যা করে।

----------------------------------
মুক্তি আসুক যুক্তির আলোয়।

 
প্রিমরোজ প্রিমরোজ এর ছবি
 

কী আর করা। নিজেদের নতুনভাবে উপস্থাপন করার জন্য কতিপয় ব্যাক্তি নাস্তিকতার ফ্যাশন করেন। কিন্তু কতক্ষণ আর করা যায়। শেষ অবধী সহজাত পথে আপনা আপনিই চলে আসেন। এটা ভাল।

আমি বাংলাদেশি।

 
সুব্রত শুভ এর ছবি
 

হায় রে রেডিও মুন্না প্রজন্ম। লেখা পড়ে এই বুঝল! গ্রিক দেবী নিয়ে লিখলে এরা বলতো জিউস দেবতার সাহাবি হয়ে গেছে!

----------------------------------
মুক্তি আসুক যুক্তির আলোয়।

 
নিটোল আরন্যক এর ছবি
 

আমি লেখাটায় খারাপ কিছু দেখি না। নাস্তিকতার চাইতে এই পৃথিবীর ইতিহাসে রিলিজিয়নের প্রভাব এখনো বেশি,মানতেই হবে। আপনি মিসরের পিরামিড নিয়ে লেখেন,কিংবা ইস্টার আইল্যান্ড অথবা মনিপুরী সংস্কৃতি,ঐতিহাসিক সব সংস্কৃতির পেছনেই ধর্মের প্রভাব আছে,যদিও এগুলো যুক্তির বিচারে অকাট্য নয়। কিন্ত জিজ্ঞাসু কোন ব্যক্তিই তার আগ্রহ থেকে জানতে ও লেখতে পারেন। যেমন আমি আজ নতুন করে লিলিথের কথা জানলাম। মিথ হলেও জানলাম।

Everything you can imagine is real....

 
শঙ্খচিলের ডানা এর ছবি
 

একদম নতুন কিছু জানলাম। মিথের ব্যাপারটা ভাল লেগেছে।

******************************
যে আমি বিতর্ক করি
সে আমি জ্বলে উঠি দ্বিমুখী শক্তির ঘর্ষে
যুক্তিতে সব্যসাচী আর চেতনায় অনির্বাণ হয়ে....

 
অনুসন্ধানী আবাহন এর ছবি
 

শুধু তোরাহ আশপাশের কারো থেকে এই লিলিথ চরিত্রটা ঝেঁপে দিয়েছে বলে মাইথোলজিকাল এস্থেটিকস নষ্ট হয়ে যাবে? কি আজব চিন্তাভাবনা পাবলিকের। মাইথলজির মধ্যে ধর্মীয় পরিচয় ধর্মীয় চরিত্র খোঁজার চেষ্টা

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

সুব্রত শুভ
সুব্রত শুভ এর ছবি
Offline
Last seen: 1 week 2 দিন ago
Joined: বুধবার, এপ্রিল 23, 2014 - 8:49অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর