নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 6 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • বিকাশ দাস বাপ্পী
  • মুফতি মাসুদ
  • নরসুন্দর মানুষ
  • সৈকত সমুদ্র
  • রাজর্ষি ব্যনার্জী
  • সাইয়িদ রফিকুল হক

নতুন যাত্রী

  • আদি মানব
  • নগরবালক
  • মানিকুজ্জামান
  • একরামুল হক
  • আব্দুর রহমান ইমন
  • ইমরান হোসেন মনা
  • আবু উষা
  • জনৈক জুম্ম
  • ফরিদ আলম
  • নিহত নক্ষত্র

আপনি এখানে

কুরআন অনলি: (১০) নবুয়তের প্রমাণ দাবী - প্রতিক্রিয়া? - এক


স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সা:) আল্লাহর রেফারেন্সে তার সুদীর্ঘ ২৩ বছরের নবী জীবনে যে ৬২৩৬টি বাক্য বর্ষণ করেছিলেন, তার কমপক্ষে ১২৬০টি শুধুই পুরাকালের উপকথা। অর্থাৎ, 'কুরআনে' মুহাম্মদের প্রতি পাঁচ-টি বাক্যের একটি হলো (২০.২%) শুধুই পুরাকালের নবীদের কিচ্ছা-কাহিনী সম্বন্ধীয়; যার বিস্তারিত আলোচনা 'কুরআনে অবিশ্বাস ও তার কারণ (পর্ব-৮)' পর্বে করা হয়েছে!এই কিচ্ছা-কাহিনীগুলো প্রচারের সময় মুহাম্মদ বারংবার পৌরাণিক নবীদের অলৌকিক কর্মকাণ্ডের ('মোজেজা’) উপাখ্যান অবিশ্বাসীদের স্মরণ করিয়ে দিতেন। অতঃপর দাবী করতেন যে তিনিও তাদের মতই একজন নবী, তাদেরই উত্তরসূরি ও তাদেরই ধারাবাহিকতার শেষ নবী! তিনি তার চারিপাশের মানুষদের উদ্দেশ্যে পূর্ববর্তী নবীদের যে অলৌকিক কাহিনীগুলো বর্ণনা করতেন, তা ছিল নিম্নরূপ: [1] [2]

হযরত মুসা (আ:) এর অলৌকিকত্ব প্রদর্শন, যেমন: মুসার লাঠিটি সাপ হয়ে যাওয়া [3]; সমুদ্রের পানি দু'ভাগ হয়ে মাঝপথে শুষ্কপথ নির্মাণ করা [4]; পাথরের ভেতর থেকে বারটি প্রস্রবণ তৈরি করা (৭:১৬০; ২:৬০); পাহাড়কে সামিয়ানার মত মাথার উপরে তুলে ধরা [5]; মুসার হাত বগলে রাখার পর তা বের করলে উজ্জ্বল হয়ে যাওয়া [6]; মৃত মানুষকে জীবিত-করণ করা (২:৭২-৭৩); অলংকারাদির দ্বারা তৈরি বাছুর থেকে অলৌকিক ‘হাম্বা হাম্বা’ শব্দ করা (৭:১৪৮); বেহেশতী খাবার পৃথিবীতে আনয়ন করা (২:৫৭; ৭:১৬০); ইত্যাদি।

হযরত ইবরাহিম (আ:) এর অলৌকিকত্বের বর্ণনা, যেমন: অগ্নি অলৌকিকভাবে ইব্রাহীমের উপর শীতল ও নিরাপদ হয়ে যাওয়া (২১:৬৯; ২৯:২৪); মৃতকে জীবিতকরণ করা (২:২৬০)! হযরত ঈসা (আ:) ও তার মা মরিয়মের অলৌকিকত্বের বর্ণনা, যেমন: কোলের শিশুর অলৌকিকভাবে কথা বলা [7]; কাদামাটি দিয়ে তৈরি পাখিকে জীবনদান করা, জন্মান্ধ ও কুষ্ঠরোগী নিরাময় করা (৫:১১০; ৩:৪৯); বেহেশত থেকে খাবার আনয়ন করা (৩:৩৭; ৫:১১২-১১৫); ইত্যাদি!

হযরত ইউসুফ (আ:) এর অলৌকিকত্বের বর্ণনা, যেমন: তার জামাটি নিয়ে নিয়ে গিয়ে তার পিতার মুখমণ্ডলের উপর রেখে দিলে তার পিতার দৃষ্টি শক্তি ফিরে আসা (১২:৯৩; ১২:৯৬)! হযরত নূহ (আ:) এর অলৌকিকত্বের বর্ণনা, যেমন: নূহের নৌকা তৈরি করা ও প্রত্যেক জীবের এক এক জোড়া সেই নৌকায় তুলে নেওয়া (২৩:২৭)!

হযরত সুলায়মান (আ:) এর অলৌকিকত্বের বর্ণনা, যেমন: তাকে উড়ন্ত পক্ষীকূলের ভাষা শিক্ষা দেওয়া ও জ্বিনদের তার আজ্ঞাবহ করা (২৭:১৬-১৭)! হযরত হূদ (আ:) এর অলৌকিক উটের বর্ণনা (১১:৬৪) ও অন্যান্য অলৌকিকত্বের বর্ণনা, যেমন: (দাওয়ারদান [Dawardan] নামক গ্রামের) হাজার হাজার মানুষ তাদের নিজেদের ঘর ছেড়ে বেরিয়ে গিয়ে মৃত্যুবরণ করার পর তাদের-কে পুনরায় জীবিত করা (২:২৪৩); মানুষকে একশত বছর মৃত অবস্থায় রাখার পর আবার তাকে জীবিত করা (২:২৫৯); ইত্যাদি।

অবিশ্বাসীরা মুহাম্মদের কাছে পৌরাণিক নবীদের এই সমস্ত অলৌকিক কিচ্ছা-কাহিনীগুলো বছরের পর বছর যাবত বারংবার শুনে আসছিলেন। এমতাবস্থায় তারা স্বাভাবিকভাবেই মুহাম্মদের কাছে তার নবুয়তের দাবীর সপক্ষে প্রমাণ হাজির করতে বলেছিলেন। বিনা প্রমাণে কেন তারা মুহাম্মদ-কে নবী হিসাবে মেনে নেবেন? তাদের দাবী বেশি কিছু ছিল না! তারা মুহাম্মদের কাছে “তারই বর্ণিত” পূর্ববর্তী নবীদের অনুরূপ কোনো অলৌকিক নিদর্শন হাজির করতে বলেছিলেন, যা দেখে তারা নিশ্চিত হবেন যে মুহাম্মদ সত্যিই একজন নবী। মুহাম্মদ শুধু যে তার নবুয়তের প্রমাণ হাজির করতে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছিলেন তাইই নয়; তিনি তাদের-কে করেছিলেন তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য, হুমকি-শাসানী ও ভীতি প্রদর্শন!

মুহাম্মদের ভাষায়:

২১:৫-৬ (সূরা আম্বিয়া):
অবিশ্বাসীদের দাবী:
“এছাড়া তারা আরও বলেঃ অলীক স্বপ্ন; না সে মিথ্যা উদ্ভাবন করেছে, না সে একজন কবি। অতএব সে আমাদের কাছে কোন নিদর্শন আনয়ন করুক, যেমন নিদর্শন সহ আগমন করেছিলেন পূর্ববর্তীগন।”

জবাবে মুহাম্মদের হুমকি:
“তাদের পূর্বে যেসব জনপদ আমি ধবংস করে দিয়েছি, তারা বিশ্বাস স্থাপন করেনি; এখন এরা কি বিশ্বাস স্থাপন করবে?”

২০: ১৩৩-১৩৪ (সূরা ত্বোয়া-হা):
অবিশ্বাসীদের দাবী:
“এরা বলেঃ সে আমাদের কাছে তার পালনকর্তার কাছ থেকে কোন নিদর্শন আনয়ন করে না কেন?”

মুহাম্মদের অপ্রাসঙ্গিক জবাব, হুমকি ও ভীতি প্রদর্শন:
“তাদের কাছে কি প্রমাণ আসেনি, যা পূর্ববর্তী গ্রন্থসমূহে আছে? যদি আমি এদেরকে ইতিপূর্বে কোন শাস্তি দ্বারা ধ্বংস করতাম, তবে এরা বলতঃ হে আমাদের পালনকর্তা, আপনি আমাদের কাছে একজন রসূল প্রেরণ করলেন না কেন? তাহলে তো আমরা অপমানিত ও হেয় হওয়ার পূর্বেই আপনার নিদর্শন সমূহ মেনে চলতাম। বলুন, প্রত্যেকেই পথপানে চেয়ে আছে, সুতরাং তোমরাও পথপানে চেয়ে থাক। অদূর ভবিষ্যতে তোমরা জানতে পারবে কে সরল পথের পথিক এবং কে সৎপথ প্রাপ্ত হয়েছে।”

>>> মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহর প্রচারণার শুরু থেকেই তার চারপাশের প্রায় সমস্ত মানুষই মুহাম্মদের যাবতীয় গল্প-কাহিনীগুলোকে পূর্ববর্তীদের কিচ্ছা-কাহিনী ও উপকথা" বলে অভিযোগ করে এসেছেন (পর্ব-৮)। পূর্ববর্তী নবীরা যে তাদের নবূতের প্রমাণ স্বরূপ অবিশ্বাসীদের কাছে 'মোজেজা' প্রদর্শন করেছিলেন, তা তারা মুহাম্মদের জন্মের বহু আগে থেকেই বংশপরম্পরায় শুনে এসেছেন। অবিশ্বাসীদের কাছে এ তথ্যগুলো নতুন নয়। মুহাম্মদ দাবী করেছেন যে, তিনিও তাদেরই অনুরূপ একজন নবী। সে কারণেই অবিশ্বাসীরা মুহাম্মদের কাছে তার নবুয়তের প্রমাণ স্বরূপ পূর্ববর্তী নবীদেরই অনুরূপ কোন প্রমাণ হাজির করার দাবি জানিয়েছেন। জবাবে, "তাদের কাছে কি প্রমাণ আসেনি, যা পূর্ববর্তী গ্রন্থসমূহে আছে" জবাবটি কি আদৌ কোনো অর্থ বহন করে? অত্যন্ত অপ্রাসঙ্গিক-ভাবে মুহাম্মদ পৌরাণিক কিচ্ছা-কাহিনীরই পুনরুল্লেখ করে প্রমাণের পরিবর্তে দিচ্ছেন হুমকি!

৬:৩৭ (সূরা আল আন-আম):
অবিশ্বাসীদের প্রশ্ন:
“তারা বলে: তার প্রতি তার পালনকর্তার পক্ষ থেকে কোন নিদর্শন অবতীর্ণ হয়নি কেন?”

অপ্রাসঙ্গিক জবাব:
"বলে দিন: আল্লাহ নিদর্শন অবতরণ করতে পূর্ণ সক্ষম; কিন্তু তাদের অধিকাংশই জানে না।"

১০:২০ (সূরা ইউনুস):
অবিশ্বাসীদের প্রশ্ন:
‘বস্তুতঃ তারা বলে, তাঁর কাছে তাঁর পরওয়ারদেগারের পক্ষ থেকে কোন নির্দেশ এল না কেন?'

অপ্রাসঙ্গিক জবাব:
‘বলে দাও গায়েবের কথা আল্লাহই জানেন। আমি ও তোমাদের সাথে অপেক্ষায় রইলাম।”

১৩:৭ (সূরা রা’দ):
অবিশ্বাসীদের প্রশ্ন:
‘কাফেররা বলেঃ তাঁর প্রতি তাঁর পালনকর্তার পক্ষ থেকে কোন নিদর্শন অবতীর্ণ হল না কেন’?

মুহাম্মদের অপ্রাসঙ্গিক জবাব:
"আপনার কাজ তো ভয় প্রদর্শন করাই এবং প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্যে পথপ্রদর্শক হয়েছে।"

২৯:৫০ (সূরা আল আনকাবুত):
অবিশ্বাসীদের প্রশ্ন:
‘তারা বলে, তার পালনকর্তার পক্ষ থেকে তার প্রতি কিছু নিদর্শন অবতীর্ণ হল না কেন?'

অপ্রাসঙ্গিক জবাব:
‘বলুন, নিদর্শন তো আল্লাহর ইচ্ছাধীন।’

>>অবিশ্বাসীরা মুহাম্মদের কাছে বারংবার তার “নবুয়তের প্রমাণ" হাজির করতে বলেছেন। মুহাম্মদের দাবীকৃত আল্লাহ নামের সৃষ্টিকর্তা যে অলৌকিক নিদর্শন অবতীর্ণ করতে সক্ষম, সবজান্তা ও অসীম ক্ষমতাধর (যা ইচ্ছা তাইই করতে পারেন) - এ দাবিগুলো মুহাম্মদের; অবিশ্বাসীদের নয়। তথাপি মুহাম্মদের সেই পালনকর্তা আল্লাহর পক্ষ থেকে মুহাম্মদের কাছে কোনো নিদর্শন (মোজেজা) কেন অবতীর্ণ হয়নি, সেটাই ছিল মুহাম্মদের কাছে অবিশ্বাসীদের প্রশ্ন! অবিশ্বাসীরা মুহাম্মদকে "তার সেই দাবিরই" যথার্থতা প্রমাণের চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন। আর মুহাম্মদ প্রতিবারই প্রমাণের পরিবর্তে তাদের-কে সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক জবাব দিয়ে চলেছেন!

৬:১০৯-১১১ (সূরা আল আন-আম):
অবিশ্বাসীদের প্রশ্ন:
‘তারা জোর দিয়ে আল্লাহর কসম খায় যে, যদি তাদের কাছে কোন নিদর্শন আসে, তবে অবশ্যই তারা বিশ্বাস স্থাপন করবে।’

মুহাম্মদের অপ্রাসঙ্গিক জবাব ও হুমকি:
‘আপনি বলে দিন: নিদর্শনাবলী তো আল্লাহর কাছেই আছে। হে মুসলমানগণ, তোমাদেরকে কে বলল যে, যখন তাদের কাছে নিদর্শনাবলী আসবে, তখন তারা বিশ্বাস স্থাপন করবেই? আমি ঘুরিয়ে দিব তাদের অন্তর ও দৃষ্টিকে, যেমন-তারা এর প্রতি প্রথমবার বিশ্বাস স্থাপন করেনি এবং আমি তাদেরকে তাদের অবাধ্যতায় উদভ্রান্ত ছেড়ে দিব।’

>> কুরাইশরা তাদের দেবতা "আল্লাহর" কসম খেয়ে বলছেন যে, যদি মুহাম্মদ কোনো 'অলৌকিকত্ব' দেখাতে পারেন, তবে তারা মুহাম্মদকে বিশ্বাস করবেন। মুহাম্মদ তা দেখাতে সক্ষম তো হনই নাই, উল্টা অভিযোগ করছেন, "কে বলল যে তারা বিশ্বাস স্থাপন করবেই?" আবারও সেই অত্যন্ত অপ্রাসঙ্গিক মন্তব্য, "নিদর্শনাবলী তো আল্লাহর কাছেই আছে" - হ্যাঁ, এ দাবিটি মুহাম্মদের। কুরাইশরা মুহাম্মদের কাছে তার সেই দাবিটিরই “প্রমাণ” হাজির করতে বলছেন! আর, অক্ষম মুহাম্মদ প্রমাণের পরিবর্তে তাদের-কে দিচ্ছেন হুমকি!

২৮:৪৮-৪৯ (সূরা আল কাসাস)
অবিশ্বাসীদের প্রশ্ন:
“অতঃপর আমার কাছ থেকে যখন তাদের কাছে সত্য আগমন করল, তখন তারা বলল, মূসাকে যেরূপ দেয়া হয়েছিল, এই রসূলকে সেরূপ দেয়া হল না কেন?"

অপ্রাসঙ্গিক জবাব:
“পূর্বে মূসাকে যা দেয়া হয়েছিল, তারা কি তা অস্বীকার করেনি? তারা বলেছিল, উভয়ই জাদু, পরস্পরে একাত্ম। তারা আরও বলেছিল, আমরা উভয়কে মানি না। বলুন, তোমরা সত্যবাদী হলে এখন আল্লাহর কাছ থেকে কোন কিতাব আন, যা এতদুভয় থেকে উত্তম পথপ্রদর্শক হয়। আমি সেই কিতাব অনুসরণ করব।”

>> নবুয়তের দাবিদার হলেন মুহাম্মদ। কুরাইশরা নয়। দাবীদার তার দাবির যথার্থতার প্রমাণ হাজির করার পরিবর্তে অস্বীকারকারীদের কাছেই "প্রমাণ দাবি" করছেন! কী অদ্ভুত!

১৭:৯০-৯৭ (সূরা বনী ইসরাঈল)
অবিশ্বাসীদের দাবী:
“এবং তারা বলেঃ আমরা কখনও আপনাকে বিশ্বাস করব না, যে পর্যন্ত না আপনি ভূপৃষ্ঠ থেকে আমাদের জন্যে একটি ঝরণা প্রবাহিত করে দিন। অথবা আপনার জন্যে খেজুরের ও আঙ্গুরের একটি বাগান হবে, অতঃপর আপনি তার মধ্যে নির্ঝরিনীসমূহ প্রবাহিত করে দেবেন। আপনি যেমন বলে থাকেন, তেমনিভাবে আমাদের উপর আসমানকে খণ্ড-বিখন্ড করে ফেলে দেবেন অথবা আল্লাহ ও ফেরেশতাদেরকে আমাদের সামনে নিয়ে আসবেন। অথবা আপনার কোন সোনার তৈরী গৃহ হবে অথবা আপনি আকাশে আরোহণ করবেন এবং আমরা আপনার আকাশে আরোহণকে কখনও বিশ্বাস করব না, যে পর্যন্ত না আপনি অবতীর্ণ করেন আমাদের প্রতি এক গ্রন্থ, যা আমরা পাঠ করব।”

মুহাম্মদের জবাব:
“বলুনঃ পবিত্র মহান আমার পালনকর্তা, একজন মানব, একজন রসূল বৈ আমি কে? আল্লাহ কি মানুষকে পয়গম্বর করে পাঠিয়েছেন? তাদের এই উক্তিই মানুষকে ঈমান আনয়ন থেকে বিরত রাখে, যখন তাদের নিকট আসে হেদায়েত। বলুনঃ যদি পৃথিবীতে ফেরেশতারা স্বচ্ছন্দে বিচরণ করত, তবে আমি আকাশ থেকে কোন ফেরেশতাকেই তাদের নিকট পয়গাম্বর করে প্রেরণ করতাম। বলুনঃ আমার ও তোমাদের মধ্যে সত্য প্রতিষ্ঠাকারী হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট। তিনি তো স্বীয় বান্দাদের বিষয়ে খবর রাখেন ও দেখেন।”

অতঃপর, তার হুমকি-শাসানী ও ভীতি প্রদর্শন:
“আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন, সেই তো সঠিক পথ প্রাপ্ত এবং যাকে পথ ভ্রষ্ট করেন, তাদের জন্যে আপনি আল্লাহ ছাড়া কোন সাহায্যকারী পাবেন না। আমি কেয়ামতের দিন তাদের সমবেত করব তাদের মুখে ভর দিয়ে চলা অবস্থায়, অন্ধ অবস্থায়, মুক অবস্থায় এবং বধির অবস্থায়। তাদের আবাসস্থল জাহান্নাম। যখনই নির্বাপিত হওয়ার উপক্রম হবে আমি তখন তাদের জন্যে অগ্নি আরও বৃদ্ধি করে দিব।”

>> অবিশ্বাসীদের এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মুহাম্মদের এই জবাব সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক। কারণ, মুহাম্মদ নিজেই অসংখ্যবার দাবি করেছেন যে, পূর্ববর্তী নবীরা তাদের নবুয়তের 'প্রমাণ' হাজির করেছিলেন। সে কারণেই তারা মুহাম্মদের কাছে সুনির্দিষ্টভাবে ("আপনি যেমন বলে থাকেন") তাদেরই মত কোন মোজেজা হাজির করে তার দাবীর যথার্থতা প্রমাণের আহ্বান জানিয়েছিলেন। জবাবে আল্লাহর "মুখোশে" মুহাম্মদের সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক বাক্য বিনিময়! মুহাম্মদ নিজেই দাবি করেছিলেন যে, তার কাছে ফেরেশতারা আগমন করে। অবিশ্বাসীরা মুহাম্মদকে তার সেই ফেরেশতাদেরকেই দেখানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন! অবিশ্বাসীদের দাবী ছিল সম্পূর্ণ যৌক্তিক! আর, “আল্লাহ কি মানুষকে পয়গম্বর করে পাঠিয়েছেন?' এই উক্তিটির মধ্যে কী এমন গর্হিত অন্যায় আছে, যা অবিশ্বাসীদের ঈমান আনয়ন থেকে বিরত রাখে?

>>> আল্লাহর রেফারেন্সে মুহাম্মদেরই ওপরে বর্ণিত বর্ণনায় যে বিষয়টি অত্যন্ত সুস্পষ্ট তা হলো: অবিশ্বাসীরা বহুবার বিভিন্নভাবে মুহাম্মদকে তার নবুয়তের প্রমাণ হাজির করতে বলেছিলেন। অবিশ্বাসীদের এই দাবি ছিল সম্পূর্ণ যৌক্তিক। বিনা প্রমাণে কেন তারা মুহাম্মদকে নবী হিসাবে মেনে নেবেন? তাদের সেই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মুহাম্মদ পূর্ববর্তী নবীদের অনুরূপ কোন প্রমাণ, যা সকলেই দেখতে পায়, যেমন: মুসার লাঠি সাপ হয়ে যাওয়া কিংবা পাথর থেকে বারটি প্রস্রবণ তৈরি হওয়া, অথবা ঈসার কাদামাটি দিয়ে তৈরি পাখিকে জীবন দান করা ও জন্মান্ধ/কুষ্ঠরোগী নিরাময় করা; কিংবা যা সকলেই শুনতে পায়, যেমন: মাটির বাছুরের হাম্বা-হাম্বা শব্দ; কিংবা যা সকলেই খেতে পায় এমন কোন বেহেশতী খাবার (‘মান্না-সালওয়া’) আনয়ন করা; ইত্যাদি কর্মকাণ্ড কখনোই সম্পন্ন করতে পারেন নাই।

সংক্ষেপে,

মুহাম্মদ নিজেই নিজেকে পূর্ববর্তী নবীদেরই অনুরূপ একজন নবী হিসাবে আখ্যায়িত করেছিলেন। তার সেই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে অবিশ্বাসীরা স্বাভাবিকভাবেই মুহাম্মদ-কে তার 'নবুয়তের প্রমাণ' হাজির করতে বলেছিলেন। মুহাম্মদ তার নবুয়তের সপক্ষে শুধু যে কোনো প্রমাণই হাজির করতে পারেন নাই তাইই নয়, তাদের এই সম্পূর্ণ যৌক্তিক দাবীর প্রেক্ষিতে মুহাম্মদের এই সকল উল্টাপাল্টা অপ্রাসঙ্গিক জবাব, অজুহাত, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য, হুমকি-শাসানী ও ভীতি প্রদর্শন সম্পূর্ণরূপে অযৌক্তিক!

মানব ইতিহাসের এমনই এক চরিত্রের অধিকারী কোন ব্যক্তিকে কী কোনভাবেই বিবেকবান, নীতিপরায়ণ, যুক্তিবাদী, সভ্য, উদার; ইত্যাদি বিশেষণে ভূষিত করা যায়?

(চলবে)

তথ্যসূত্র ও পাদটীকা:
[1] কুরআনেরই উদ্ধৃতি ফাহাদ বিন আবদুল আজিজ কর্তৃক বিতরণকৃত তরজমা থেকে নেয়া। অনুবাদে ত্রুটি-বিচ্যুতির দায় অনুবাদকারীর।
http://www.quraanshareef.org/
[2] কুরানের ছয়জন বিশিষ্ট ইংরেজি অনুবাদকারীর ও চৌত্রিশ-টি ভাষায় পাশাপাশি অনুবাদ: https://quran.com/
[3] কুরআন: ৭:১০৬-১০৮; ২০:১৯-২২; ২৬:৩২-৩৩; ২৭:১০; ২৮:৩১
[4] কুরআন: ২৬:৬৩; ২:৫০; ২০:৭৭-৭৮
[5] কুরআন: ২:৬৩; ৪:১৫৪; ৭:১৭১
[6] কুরআন: ২৭:১২; ২৮:৩২; ৭:১০৮
[7] কুরআন: ১৯:২৯-৩০; ৫:১১০; ৩:৪৬

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

গোলাপ মাহমুদ
গোলাপ মাহমুদ এর ছবি
Offline
Last seen: 15 ঘন্টা 33 min ago
Joined: রবিবার, সেপ্টেম্বর 17, 2017 - 5:04পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর