নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 6 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • বিকাশ দাস বাপ্পী
  • মুফতি মাসুদ
  • নরসুন্দর মানুষ
  • সৈকত সমুদ্র
  • রাজর্ষি ব্যনার্জী
  • সাইয়িদ রফিকুল হক

নতুন যাত্রী

  • আদি মানব
  • নগরবালক
  • মানিকুজ্জামান
  • একরামুল হক
  • আব্দুর রহমান ইমন
  • ইমরান হোসেন মনা
  • আবু উষা
  • জনৈক জুম্ম
  • ফরিদ আলম
  • নিহত নক্ষত্র

আপনি এখানে

কুরআন অনলি: (৯) আল্লাহর ‘জিন ও শয়তান’ প্রতিরোধ প্রকল্প!


স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) তার আল্লাহর রেফারেন্সে দাবী করেছেন যে তার আল্লাহ এবাদতের উদ্দেশ্যে মানুষ ছাড়াও 'জ্বিন' নামের আর এক অশরীরী জীবের সৃষ্টি করেছেন (৫১:৫৬), যারা তার কুরআন শ্রবণ করে 'বিস্ময়-বোধ' করেছিল!তিনি আমাদের জানিয়েছেন যে এই জীবেরা পূর্বে আকাশের বিভিন্ন ঘাঁটিতে সংবাদ শোনার জন্য বসে থাকতো। কিন্তু এখন তারা আর সেই কাজটি করতে পারে না এই কারণে যে, সর্বনিম্ন আকাশটি এখন 'কঠোর প্রহরী ও উল্কাপিণ্ড দ্বারা পরিপূর্ণ।' কী কারণে তার সর্বশক্তিমান আল্লাহ এই কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা-টি চালু করেছেন ও আল্লাহর এই নিরাপত্তা ব্যবস্থাটি নস্যাৎ করে যদি কোন “শয়তান” তার অভীষ্ট কার্য সম্পুর্ণ করার পর পালানোর চেষ্টা করে, তবে আল্লাহ তার বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা গ্রহণ করেন, সে তথ্যটিও তিনি আমাদের সুস্পষ্টভাবে অবহিত করেছেন!

মুহাম্মদের ভাষায়: [1] [2]

৭২:১ (সূরা আল জ্বিন) - "বলুনঃ আমার প্রতি ওহী নাযিল করা হয়েছে যে, জিনদের একটি দল কোরআন শ্রবণ করেছে, অতঃপর তারা বলেছেঃ আমরা বিস্ময়কর কোরআন শ্রবণ করেছি; যা সৎপথ প্রদর্শন করে।"

৭২:৭-৯ – “আমরা আকাশ পর্যবেক্ষণ করছি, অতঃপর দেখতে পেয়েছি যে, কঠোর প্রহরী ও উল্কাপিন্ড দ্বারা আকাশ পরিপূর্ণ। আমরা আকাশের বিভিন্ন ঘাঁটিতে সংবাদ শ্রবণার্থে বসতাম। এখন কেউ সংবাদ শুনতে চাইলে সে জলন্ত উল্কাপিন্ড ওঁৎ পেতে থাকতে দেখে।”

১৫:১৭-১৮ (সূরা হিজর)- "আমি আকাশকে প্রত্যেক বিতাড়িত শয়তান থেকে নিরাপদ করে দিয়েছি। কিন্তু যে চুরি করে শুনে পালায়, তার পশ্চাদ্ধাবন করে উজ্জ্বল উল্কাপিন্ড।"

৩৭:৬-১০ (সূরা আস-সাফফাত) - "নিশ্চয় আমি নিকটবর্তী আকাশকে তারকারাজির দ্বারা সুশোভিত করেছি। এবং তাকে সংরক্ষিত করেছি প্রত্যেক অবাধ্য শয়তান থেকে। ওরা উর্ধ্ব জগতের কোন কিছু শ্রবণ করতে পারে না এবং চার দিক থেকে তাদের প্রতি উল্কা নিক্ষেপ করা হয়। ওদেরকে বিতাড়নের উদ্দেশে। ওদের জন্যে রয়েছে বিরামহীন শাস্তি। তবে কেউ ছোঁ মেরে কিছু শুনে ফেললে জ্বলন্ত উল্কাপিন্ড তার পশ্চাদ্ধাবন করে।"

৬৭:৫ (সূরা আল মুলক) - "আমি সর্বনিম্ন আকাশকে প্রদীপমালা দ্বারা সুসজ্জত করেছি; সেগুলোকে শয়তানদের জন্যে ক্ষেপণাস্ত্রবৎ করেছি এবং প্রস্তুত করে রেখেছি তাদের জন্যে জলন্ত অগ্নির শাস্তি।"

>>> আল্লাহর শক্তিমত্তার ধারা বিবরণীতে অন্যত্র মুহাম্মদ দাবী করেছেন যে, তার আল্লাহ যখন কোনো কিছু করতে ইচ্ছা করে, তখন তাকে কেবল বলে দেয়, ‘হও’ তখনই তা হয়ে যায় (৩৬:৮২); যা কুরআনের বহুল প্রচলিত ও প্রচারিত আয়াত, "কুন ফা ইয়া কুন!”। আর ওপরে বর্ণিত বর্ণনায় মুহাম্মদ দাবী করছেন যে জ্বিন ও শয়তানরা যেন ঊর্ধ্ব জগতের কোন কিছু শুনতে না পারে তা নিশ্চিত করার জন্য আল্লাহ তার সর্বনিম্ন আকাশটি-কে 'ক্ষেপণাস্ত্রবৎ' তৈরি করেছেন। তার এই বর্ণনায় আমরা আরও জানতে পারি যে আল্লাহর এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাটি মোটেও ত্রুটিহীন নয়। কারণ, তার আল্লাহর দুর্ভেদ্য প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাটিও 'শয়তানরা' নস্যাৎ করে 'ছোঁ মেরে কিংবা চুরি করে' ঊর্ধ্বলোকের সংবাদ শুনে পালানোর চেষ্টা করতে পারে! মুহাম্মদের এই জবানবন্দিতে যা সুস্পষ্ট তা হলো, তুচ্ছ শয়তানরাও তার আল্লাহ-কে "টেক্কা" দেয়ার শক্তি রাখে। আর এমন অঘটন যখন ঘটে, তখন আল্লাহর এই ক্ষেপণাস্ত্রবৎ জ্বলন্ত উজ্জ্বল উল্কাপিণ্ড ঐ বজ্জাত শয়তানগুলোর পিছু ধাওয়া করে! মুহাম্মদ আকাশে জ্বলন্ত উল্কাপিণ্ডগুলো-কে (Meteorites) জ্বিন ও শয়তান তাড়ানোর হাতিয়ার হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন!

আধুনিক বিজ্ঞান নিশ্চিত করেছে যে, আজ থেকে প্রায় সাড়ে ছয় কোটি বছর আগে পৃথিবীতে এক বিশালাকার "উল্কাপাতের" কারণে ডাইনোসরসহ তৎকালীন পৃথিবীর ৭০ ভাগ প্রাণীর ভয়াবহ মৃত্যু ঘটেছিল। কুরআনের কোথাও মুহাম্মদের এই সর্বশক্তিমান ও সর্বজ্ঞানী আল্লাহ এ বিশয়ে কোনরূপ "ইংগিত" প্রদান করেন নাই। আল্লাহর নিক্ষিপ্ত উল্কাপিণ্ড-টি যদি শয়তানকে আঘাত করতে পারতো তাহলে সেটা আকাশেই নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতো। পৃথিবীতে এসে পড়তো না। নিক্ষিপ্ত অস্ত্রটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ার কারণেই বোধ করি তা পৃথিবীতে এসে পড়েছে! মুহাম্মদের আল্লাহ মুহাম্মদের যৌন সমস্যা (৩৩:৫০-৫২; ৩৩:৩৭-৩৮; ৩৩:৪) ও পারিবারিক সমস্যা (৩৩:২৮; ৬৬:৩-৫) সমাধানের প্রয়োজনে তার কাছে একাধিক বানী প্রেরণ করেছেন বলে তিনি দাবী করেছেন। কিন্তু শয়তানকে শায়েস্তা করতে গিয়ে পৃথিবীর ৭০ শতাংশ প্রাণীর এই ভয়াবহ প্রাণ নাশের বিষয়ে কেন তার আল্লাহ মুহাম্মদের নিকট “একটি বানীও” প্রেরণ করেন নাই, এ প্রশ্নটি যারা করেন তাদের জানা উচিত যে মুহাম্মদ তার আল্লাহর রেফারেন্সে এও দাবী করেছেন যে,

৩৩:৫৬- “আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ নবীর প্রতি রহমত প্রেরণ করেন। হে মুমিনগণ! তোমরা নবীর জন্যে রহমতের তরে দোয়া কর এবং তাঁর প্রতি সালাম প্রেরণ কর।”

মুহাম্মদ নিজে কানে তা শুনেছেন! যা প্রমাণ করে, মুহাম্মদের প্রয়োজনের গুরুত্বের কাছে ঐ ধ্বংসলীলা তার আল্লাহর কাছে এক অত্যন্ত তুচ্ছ ঘটনা! তা আদৌ কোন ঘটনায় নয়! তাই তার আল্লাহ পাক 'কুরাআন মজিদে' তা উল্লেখই করেন নাই! “নিশ্চয়ই এতে বোধ শক্তি সম্পন্নদের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে (১৬:১২, ৩:১৯০)!”

কোন কোন বিশ্বাসী পাঠক হয়তো আশ্চর্য হয়ে ভাবছেন, ‘কুরআনের’ অসংখ্য বাক্যে মুহাম্মদ তার আল্লাহকে যে 'সর্বশক্তিমান ও সর্বজ্ঞ' বিশেষণে ভূষিত করেছেন, সেই আল্লাহর এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা-টি যদি নরকের কীট শয়তানরা নস্যাৎ করে তাদের অভীষ্ট কার্য সম্পূর্ণ করতে পারে, তবে তার দাবীকৃত এই আল্লাহ-কে কী কোনভাবেই সর্বশক্তিমান ও সর্বজ্ঞ বিশেষণে ভূষিত করা যায়? খুবই যুক্তিসম্মত প্রশ্ন। জবাব হলো, মুহাম্মদের এই উদ্ভট বর্ণনায় বিশ্বাসী পাঠকদের বিভ্রান্ত হওয়ার কোন কারণ নেই। কারণ, এই চমকপ্রদ (Magnificent) বিশ্ব-ব্রহ্মাণ্ডের আদৌ কোন সৃষ্টি-কর্তা আছে এমন কোন "প্রমাণ নেই!" তা সত্বেও আজকের পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষই কোন না কোন স্রষ্টায় বিশ্বাসী। স্রষ্টায় বিশ্বাস উচিত নাকি অনুচিত, প্রয়োজন নাকি অপ্রয়োজনীয়, ক্ষতিকারক নাকি লাভজনক; সে বিষয়ের অবতারণা আমাদের এই আলোচনার বিষয় নয়। এই আলোচনার "একমাত্র বিষয়" হলো স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সা:) এর বক্তব্য ও কার্যকলাপ বিশ্লেষণের মাধ্যমে তার দাবীকৃত "আল্লাহ" বিশ্ব-ব্রহ্মাণ্ডের সৃষ্টি-কর্তার (যদি থাকে) গুনে গুণান্বিত হবার যোগ্যতা রাখেন কিনা তারই নির্ধারণ। বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী নির্বিশেষে যে সত্যে আমরা একমত তা হলো সৃষ্টি-কর্তার বাণীতে কোনরূপ অসামঞ্জস্য-ভুল-মিথ্যা থাকতে পারে না।

ওপরে বর্ণিত মুহাম্মদেরই জবানবন্দিতে যে বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্ট তা হলো, 'মুহাম্মদের সৃষ্ট আল্লাহ' শয়তানের চাইতেও কম শক্তিশালী! শুধু তাইই নয়, তারই জবানবন্দির আলোকে পরবর্তীতে আমরা আরও জানতে পারবো যে তার এই আল্লাহর অসংখ্য কার্যকলাপ হুবহু শয়তানের কার্যকলাপের মত ও প্রয়োজনে তার আল্লাহ শয়তানের সাহায্য নিয়ে 'অবিশ্বাসীদের' বিভ্রান্ত ও বিপথগামী করে পাপাচারে লিপ্ত করেন! অতঃপর তাদের বিরুদ্ধে আবার 'সেই পাপাচারেরই অভিযোগ' এনে বিচার করেন ও অনন্ত কাল যাবত শাস্তি প্রদান করেন! মহাবিশ্বের সৃষ্টিকর্তার (যদি থাকে) ওপর এ ধরণের অভিযোগ কখনোই কাম্য হতে পারে না। সুতরাং, মুহাম্মদেরই জবানবন্দির আলোকে যা আমরা নিশ্চিতরূপে জানি তা হলো, মহাবিশ্বের সৃষ্টিকর্তার (যদি থাকে) সঙ্গে মুহাম্মদের দাবীকৃত এই 'আল্লাহর' কোনই সম্পর্ক নেই। মুহাম্মদ তার উদ্দেশ্য সাধনের প্রয়োজনে তার এই 'আল্লাহ' নামের প্রতিরক্ষা বর্মটি সৃষ্টি করেছিলেন, যার প্রমাণ কুরআনের পাতায় পাতায়।

>>> জগতের যে কোন সুস্থ মস্তিষ্ক সম্পন্ন চক্ষুষ্মান ব্যক্তি মেঘহীন খোলা আকাশের নীচে দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে যদি দৃষ্টিপাত করেন, তবে তিনি দেখতে পান যে মাথার ওপর উন্মুক্ত আকাশ। যা আপাত দৃষ্টিতে মজবুত ছাদের মত মনে হয়। মুহাম্মদ অন্ধ ছিলেন না। জগতের প্রতিটি দৃষ্টিসম্পন্ন মানুষের মত মুহাম্মদও তাই দেখেছিলেন। তাই তিনি তার জবানবন্দি কুরআনে আকাশ-কে শক্ত-মজবুত (৭৮:১২) ও সুরক্ষিত (২:২২) ছাদ (২১:৩২; ৪০:৬৪) হিসাবে বর্ণনা করেছেন। কোন ভাবুক মনের মানুষ আকাশের দিকে দৃষ্টিপাত করে আশ্চর্য হয়ে ভাবতে পারেন, এই যে আমাদের মাথার ওপরে মজবুত শক্ত আকাশ তা স্তম্ভ (খুঁটি) ব্যতীত কী ভাবে উত্তোলন করা হয়েছে? আর কীভাবেই বা তা স্তম্ভ ছাড়া স্থির আছে? মুহাম্মদও সেই চিন্তাই করেছিলেন, যা আমরা জানতে পারি তারই জবানবন্দি কুরআনে (১৩:২; ৩১:১০)।

যে কোন কল্পনাপ্রবণ মানুষই আশ্চর্য হয়ে যেমন ভাবতে পারেন, খুঁটি ছাড়া এই যে আকাশ তা পড়ে যায় না কেন? মুহাম্মদও সেই একই চিন্তা করেছিলেন (২২:৬৫; ৩৫:৪১)। যে কোন চক্ষুষ্মান মানুষই যেমন দেখতে পান যে আকাশে কোন ছিদ্র বা ফাটল নেই; মুহাম্মদও তাই দেখেছিলেন, যা তিনি উদ্ধৃত করেছেন তার বর্ণনায় (৫০:৬; ৬৭:৫)। তিনি আরও কল্পনা করেছিলেন যে এই শক্ত আকাশ এক সময় ফেটে যাবে (৫৫:৩৭; ৮২:১; ৮৪:১); তাতে বহু দরজা হবে (৭৮:১৯); এমনকি তাতে ছিদ্রও হবে (৭৭:৯)।

যে কোন দৃষ্টিসম্পন্ন কল্পনাপ্রবণ মানুষ যেমন চিন্তা করতে পারেন, আমাদের মাথার ওপর এই যে মজবুত ছাদ, তার ওপর আরও কী কোন ছাদ আছে? থাকলে তা কয়টি? মুহাম্মদও তাই করেছিলেন! তিনি তার কল্পনায় 'স্তরে স্তরে সাতটি (৬৭:৩; ৭৮:১২)' আকাশ কল্পনা করেছিলেন। আমাদের এই আকাশটিকে তিনি কল্পনা করেছিলেন সবচেয়ে নীচের আকাশরূপে। জগতের যে কোন চক্ষুষ্মান মানুষের মতই তিনি দেখেছিলেন, তার এই সর্বনিম্ন আকাশ-টি অসংখ্য উজ্জ্বল নক্ষত্রপুঞ্জের শোভা। যে কোন কল্পনাপ্রবণ মানুষের মতই তিনি অবাক হয়ে চিন্তা করেছিলেন এগুলো ঐ শক্ত মজবুত ছাদটিকে সুশোভিত করার জন্য তৈরি করা হয়েছে (৩৭:৬)। আর জগতের প্রায় সকল ইসলাম বিশ্বাসী পণ্ডিত ও অপণ্ডিতদের দাবীকৃত যাবতীয় বিজ্ঞানের অবিস্কারের "ইংগিত" প্রদানকারী কুরআন নামের এই গ্রন্থটিতে মুহাম্মদ জ্বলন্ত উল্কাপিণ্ডগুলো-কে (Meteorites) জ্বিন ও শয়তান তাড়ানোর হাতিয়ার বলে আখ্যায়িত করেছিলেন!

আজকের একবিংশ শতাব্দীর এই বিজ্ঞানের যুগে মুহাম্মদের প্রচারিত ওপরে বর্ণিত বানীগুলো যে বিকার-গ্রন্থ মানুষের প্রলাপের সামিল, তা বলাই বাহুল্য। সুতরাং, মুহাম্মদের এসকল উদ্ভট ও অবৈজ্ঞানিক বানীগুলো-কে "সৃষ্টিকর্তার বানী" বলে চালানোর চেষ্টা উদ্দেশ্যমূলক, অসৎ ও মিথ্যাচার।

মানুষের কোন কল্পনায়ই দোষের কোন কারণ হতে পারে না। কিন্তু কোন ব্যক্তির নিজের কল্পনার বিষয়টি-কে "সৃষ্টি কর্তার বানী" বলে মিথ্যাচার ও প্রচার নিঃসন্দেহে প্রতারণা। আর এই কল্পনাগুলোকে চারিপাশের মানুষদের প্রচার করে তাদের-কে তাদের বাপ-দাদার ধর্ম ও আচার-অনুষ্ঠান বিসর্জন দিয়ে তাকে নবী হিসাবে মেনে নিয়ে তার অনুসরণ করার আহ্বান ও তারা তা না করলে সেই মানুষগুলো-কে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য, হুমকি-শাসানী, ভীতি-প্রদর্শন, হামলা-খুন ও জোড়পূর্বক সর্বস্ব লুন্ঠন ও তাদের দাস-দাসীতে পরিণত করা নিঃসন্দেহে জঘন্য অপরাধ। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, মুহাম্মদ তাইই করেছিলেন, যার আলোচনা অষ্টম পর্বে করা হয়েছে।

জ্ঞান অর্জনে উৎসাহ জোগানোর নিমিত্ত সমগ্র কুরানে একটিও "স্পষ্ট বাণী" নেই। আশ্চর্য নয় কেন মুসলমানেরা শিক্ষা-দীক্ষা-জ্ঞানে-বিজ্ঞানে আজ পৃথিবীর সর্বনিম্ন! কিন্তু অবৈজ্ঞানিক অশরীরী জিনদের নামে একটি পূর্ণ সুরা কুরআনে বিদ্যমান (সুরা নম্বর ৭২)। জ্বিনদের নিয়ে কুরানে যে আয়াতগুলো আছে, তা হলো (ন্যূনতম সংখ্যা):

৭২:১-১৫; ৬:১০০; ৬:১২৮; ৬:১৩০; ১৫:২৭-২৮; ২৭:৩৮-৩৯; ৩৪:১২; ৩৭:১৫৮; ৪৬:১৮; ৪৬:২৯-৩০; ৫১:৫৬; ৫৫:৩১-৩৫; ইত্যাদি।

>>> বরাবরের মতই মুহাম্মদের আশেপাশে অবস্থিত অন্যান্য কোন অবিশ্বাসী কিংবা তার সাহাবীদের কেউই এই জীবটিকে দেখেননি; কিংবা তাদের কথোপকথনও শোনেননি। একমাত্র মুহাম্মদই তা শুনেছেন! বিজ্ঞানের অবদানে আজ আমরা নিশ্চিতরূপে জানি যে, এই উপসর্গগুলো দৃষ্টি ও শ্রবণশক্তির বিভ্রম (hallucination) ছাড়া আর কিছুই নয়। এ সকল উপসর্গ ভয়ংকর মানসিক ব্যাধিগ্রস্ত রুগীদের (উন্মাদ)। কিন্তু মুহাম্মদ উন্মাদ ছিলেন না! কোনো উন্মাদ ব্যক্তি কি নিখুঁত ও সময়োচিত পরিকল্পনা করে জগৎ বিখ্যাত সমরনায়ক হতে পারেন? মুহাম্মদ যে মানব ইতিহাসের একজন সফল সমরনায়ক, যিনি তার অনুসারীদের সহায়তায় অবিশ্বাসী জনপদের ওপর রাতের অন্ধকারে অতর্কিত আক্রমণ ও বিভিন্ন ছল-চাতুরীর মাধ্যমে বিজয়ী হয়েছিলেন, এ সত্যকে অস্বীকার করার কোনো অবকাশ নেই। জীবনের "অধিকাংশ সময়ে" মানসিক বিভ্রমে আক্রান্ত কোনো মানুষের পক্ষে এহেন হিসেবী পদক্ষেপ অসম্ভব! সে কারণেই, ক্বচিৎ কদাচিৎ মতিভ্রম অথবা মৃগী (Epilepsy) উপসর্গে আক্রান্ত হলেও জীবনের অধিকাংশ সময়ই তিনি যে শারীরিক ও মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন না, তা নির্দ্বিধায় বলা যায়।

মুহাম্মদ যা কিছু করেছেন সজ্ঞানে করেছেন। ওহী প্রাপ্তির উপসর্গ থেকে শুরু করে জিবরাইল ও জ্বিনের দর্শন ও শ্রবণসহ তার জীবনের সমস্ত কার্যকলাপই তিনি করেছেন অত্যন্ত ঠাণ্ডা মস্তিষ্কে! কুরান-সিরাত হাদিসের আলোকে সে সত্যটি আজ সুস্পষ্ট। উদ্দেশ্য সাধনের প্রয়োজনে তিনি যে "মিথ্যা ও প্রতারণার" আশ্রয় নিতেন, তার বহু প্রমাণ সিরাত ও হাদিস গ্রন্থে বর্ণিত আছে। মুহাম্মদের নিজস্ব জবানবন্দি 'কুরআন' ও সেই সাক্ষ্য বহন করে, যার বিস্তারিত আলোচনা 'মিথ্যাবাদী উন্মাদ বনাম সত্যবাদী মুহাম্মদ (পর্ব-৭)' পর্বে করা হয়েছে।

যে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তা হলো স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সা:) প্রচার করেছেন যে তার বাণী বিশ্ব-ব্রহ্মাণ্ডের সৃষ্টি-কর্তা হতে প্রাপ্ত ও তার কর্ম ও শিক্ষা সৃষ্টি-কর্তার মনোনীত একমাত্র জীবন বিধান। যে জীবন বিধান পৃথিবী ধ্বংস হওয়ার (কিয়ামত) পূর্ব পর্যন্ত জাতি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সর্বকালের সকল মানুষের জন্য অবশ্য প্রযোজ্য! তিনি ঘোষণা করেছেন যে তার শিক্ষা ও আদর্শ পালন, প্রচার ও প্রসার করা সকল ইসলাম বিশ্বাসীর অবশ্য কর্তব্য ইমানী দায়িত্ব। বিশ্বের প্রায় প্রতিটি ইসলাম বিশ্বাসী মুহাম্মদের মৃত্যুর ১৪০০ বছর পরেও তার এই শিক্ষাকে শুধু মনে-প্রাণে ধারণ, লালন ও পালনই করেন না, তারা মুহাম্মদের এহেন আগ্রাসী অনৈতিক কর্ম ও শিক্ষাকে সর্ব-কালের সকল মানুষের জন্য "একমাত্র জীবন বিধান" রূপে প্রতিষ্ঠিত করার ব্রতে ব্রতী! মুহাম্মদের শিক্ষা ও আদর্শে অনুপ্রাণিত দাস 'আবদ মুহাম্মদরা' বুকে বোমা বেঁধে নিজে মরে, অপরকে মারে, মানুষের হাত-পা কেটে সুস্থ-সবল মানুষকে বিকলাঙ্গ করে; মাটীতে অর্ধেক পুঁতে পাথর মেরে অমানুষিক পৈশাচিকতায় খুন করে! মাইকের আজানের প্রচণ্ড গর্জনে শব্দ দূষণ ও অবিশ্বাসীদের সকালের ঘুম হারাম করা থেকে শুরু করে অপরের বিশ্বাসের প্রতি তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য অসম্মান তাদের নিত্যদিনের কার্যকলাপ। অনুন্নত জন্মভূমি থেকে হাজারে হাজারে ইউরোপ, আমেরিকা, কানাডা সহ পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোতে প্রবাসী হয়ে সে দেশ সহ বিশ্বব্যাপী মধ্যযুগীয় বর্বরতার সাক্ষী "শরিয়া আইন চালু করার" ব্রতে তারা ব্রতী! পৃথিবীর মানুষ আজ তটস্থ!

ইসলাম বিশ্বাসীদের এহেন মানসিকতায় বিশ্ব-ব্যাপী অমুসলিমদের মূল সমস্যা। এমন টি না হলে সপ্তম শতাব্দীর এক আরব বেদুইন কবে কোথায় কেন এবং কতজন নিরপরাধ মানুষ কে হত্যা করেছে, বন্দি করে তার ও তার অনুসারীদের মধ্যে বণ্টন করছে, তাঁদের সর্বস্ব লুণ্ঠন করেছে, উন্মুক্ত শক্তি প্রয়োগে তাঁদের ভিটে-মাটি থেকে বিতাড়িত করে তাঁদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির মালিক হয়েছে তা নিয়ে কারুরই কোন উৎকণ্ঠার কারণ ছিল না। মৃত মুহাম্মদ কোন মানুষেরই কোন সমস্যার কারণ হতে পারেন না! সমস্যা হলো "তার অনুসারীরা"; যারা ১৪০০ বছর আগে মৃত এই মানুষটির যাবতীয় কর্ম-কাণ্ডের অনুরূপ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে পৃথিবীব্যাপী ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করার ব্রতে ব্রতী। এমনটি না হলে এই লেখাগুলোর কোন প্রয়োজনই ছিল না।

সাধারণ সরলপ্রাণ মুসলমানদের অধিকাংশই যে সত্যটি জানেন না তা হলো, মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ "ইসলাম" নামের যে বিষবৃক্ষ প্রতিষ্ঠিত করেছেন তার সর্ব-প্রথম বলী ছিলেন মুহাম্মদ নিজেই। অসহ্য বিষের যন্ত্রণায় তিনি কী ভাবে ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যুবরণ করেছিলেন তার বর্ণনা তিনি মৃত্যুকালে নিজেই জানিয়ে গিয়েছেন। তার এই মতবাদের 'দ্বিতীয়' বলী ছিলেন তার একান্ত পরিবার সদস্যরা! মুহাম্মদের মৃত্যুর অব্যবহিত পরেই আবু বকর-উমর গং ও ফাতিমা-আলী গং এর বিরোধ ছিলো সবে সূচনা মাত্র! ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, মুহাম্মদের মৃত্যুর ৪৮ বছরের মধ্যে মুহাম্মদ অনুসারীরা তার একান্ত নিকট-পরিবারের সমস্ত সক্ষম ও প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ সদস্যদের প্রচণ্ড নিষ্ঠুরতায় একে একে খুন করেছিলেন। তার মতবাদের 'তৃতীয়' বলী হলো তার অনুসারী সম্প্রদায়! মুহাম্মদের দীক্ষায় দীক্ষিত নিবেদিতপ্রাণ অনুসারীরা একে অপরের বিরুদ্ধে নৃশংস হানাহানির সূচনা করেছিলেন মুহাম্মদের মৃত্যুর অব্যবহিত পর থেকেই, এখনও তা চলছে ও ভবিষ্যতের সেই সময় পর্যন্ত তা চলবে যতদিন ইসলাম টিকে থাকবে। মুহাম্মদের মৃত্যুর প্রায় ১৪০০ বছর পরে সামগ্রিকভাবে মুহাম্মদ অনুসারীদের অবস্থান আজকের এই বিশ্ব-সমাজে সর্বনিম্ন। অন্যদিকে, কারা ছিলেন তার এই বিষবৃক্ষের সর্বপ্রথম স্বত্বভোগী তার বিস্তারিত আলোচনা আমি আমার ‘মুহাম্মদের বিশাল সম্পদ - কারা ছিলেন স্বত্বভোগী?’ লেখাটিতে সবিস্তারে আলোচনা করেছি। [3]

(চলবে)

তথ্যসূত্র ও পাদটীকা:
[1] কুরআনেরই উদ্ধৃতি ফাহাদ বিন আবদুল আজিজ কর্তৃক বিতরণকৃত তরজমা থেকে নেয়া। অনুবাদে ত্রুটি-বিচ্যুতির দায় অনুবাদকারীর।
http://www.quraanshareef.org/
[2] কুরানের ছয়জন বিশিষ্ট ইংরেজি অনুবাদকারীর ও চৌত্রিশ-টি ভাষায় পাশাপাশি অনুবাদ: https://quran.com/
[3] মুহাম্মদের বিশাল সম্পদ - কারা ছিলেন স্বত্বভোগী?
http://www.dhormockery.net/2017/02/blog-post_64.html
http://www.dhormockery.com/2017/02/blog-post_49.html

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

গোলাপ মাহমুদ
গোলাপ মাহমুদ এর ছবি
Offline
Last seen: 15 ঘন্টা 30 min ago
Joined: রবিবার, সেপ্টেম্বর 17, 2017 - 5:04পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর