নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 6 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • মুফতি মাসুদ
  • নরসুন্দর মানুষ
  • সৈকত সমুদ্র
  • রাজর্ষি ব্যনার্জী
  • সাইয়িদ রফিকুল হক
  • হাইয়ুম সরকার

নতুন যাত্রী

  • আদি মানব
  • নগরবালক
  • মানিকুজ্জামান
  • একরামুল হক
  • আব্দুর রহমান ইমন
  • ইমরান হোসেন মনা
  • আবু উষা
  • জনৈক জুম্ম
  • ফরিদ আলম
  • নিহত নক্ষত্র

আপনি এখানে

কুরআন অনলি: (৮) কুরআানে অবিশ্বাস ও তার কারণ!


স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সা:) তার আল্লাহর রেফারেন্সে সুদীর্ঘ ২৩ বছর ব্যাপী (৬১০সাল- ৬৩২ সাল) যে বানীগুলো প্রচার করেছিলেন তার এক বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, একই বাক্য বা বিষয় ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বার বার উপস্থাপন করা। তিনি তার জবানবন্দি ‘কুরআনে’ ঘোষণা দিয়েছেন যে, অবিশ্বাসীরা তার দাবীকে নাকচ করতেন এই অভিযোগে যে তিনি যা প্রচার করছেন তা তাদের কাছে ‘পূর্ববর্তীদের কিচ্ছা-কাহিনী ও উপকথা বৈ আর কিছু নয়।’

মুহাম্মদের ভাষায়: [1] [2]

৬:২৫ (সূরা আল আন-আম)- "তাদের কেউ কেউ আপনার দিকে কান লাগিয়ে থাকে।----এমনকি, তারা যখন আপনার কাছে ঝগড়া করতে আসে, তখন কাফেররা বলে: এটি পুর্ববর্তীদের কিচ্ছাকাহিনী বই তো নয়।"

২৭:৬৭-৬৮ (সূরা নমল) - "কাফেররা বলে, যখন আমরা ও আমাদের বাপ-দাদারা মৃত্তিকা হয়ে যাব, তখনও কি আমাদেরকে পুনরুত্থিত করা হবে? এই ওয়াদাপ্রাপ্ত হয়েছি আমরা এবং পূর্ব থেকেই আমাদের বাপ-দাদারা। এটা তো পূর্ববর্তীদের উপকথা বৈ কিছু নয়।"

৪৬:১৭ (সূরা আল আহক্বাফ) – "আর যে ব্যক্তি তার পিতা-মাতাকে বলে, ধিক তোমাদেরকে, তোমরা কি আমাকে খবর দাও যে, আমি পুনরুত্থিত হব, অথচ আমার পূর্বে বহু লোক গত হয়ে গেছে? আর পিতা-মাতা আল্লাহর কাছে ফরিযাদ করে বলে, দুর্ভোগ তোমার তুমি বিশ্বাস স্থাপন কর। নিশ্চয় আল্লাহর ওয়াদা সত্য। তখন সে বলে, এটা তো পূর্ববর্তীদের উপকথা বৈ নয়।"

৬৮:১৫ (সূরা আল কলম)- "তার কাছে আমার আয়াত পাঠ করা হলে সে বলে; সেকালের উপকথা।"

৮৩:১২-১৩ (সূরা আত-তাতফীফ) - "প্রত্যেক সীমালংঘনকারী পাপিষ্ঠই কেবল একে মিথ্যারোপ করে। তার কাছে আমার আয়াতসমূহ পাঠ করা হলে সে বলে, পুরাকালের উপকথা।"

>>> এ প্রসঙ্গে একটা গল্প শোনা যাক। গল্পটির নাম, ‘জনৈক রাজা-রাণী, পিপীলিকা-দৈত্য ও হুদ-হুদ পাখীর গল্প’:

রাজা বলেছিলেন, “হে লোক সকল, আমাকে উড়ন্ত পক্ষীকুলের ভাষা শিক্ষা দেয়া হয়েছে এবং আমাকে সব কিছু দেয়া হয়েছে। নিশ্চয় এটা সুস্পষ্ট শ্রেষ্ঠত্ব।” রাজার সামনে তার সেনাবাহিনীকে সমবেত করা হল। জ্বিন-মানুষ ও পক্ষীকুলকে, অতঃপর তাদেরকে বিভিন্ন ব্যূহে বিভক্ত করা হল। যখন তারা পিপীলিকা অধ্যূষিত উপত্যকায় পৌঁছাল,

তখন এক পিপীলিকা বলল,
“হে পিপীলিকার দল, তোমরা তোমাদের গৃহে প্রবেশ কর। অন্যথায় রাজা ও তার বাহিনী অজ্ঞাতসারে তোমাদেরকে পিষ্ট করে ফেলবে।” তার কথা শুনে রাজা মুচকি হাসলেন এবং বললেন, “হে আমার পালনকর্তা, তুমি আমাকে সামর্থ্য দাও যাতে আমি তোমার সেই নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারি, যা তুমি আমাকে ও আমার পিতা-মাতাকে দান করেছ এবং যাতে আমি তোমার পছন্দনীয় সৎকর্ম করতে পারি এবং আমাকে নিজ অনুগ্রহে তোমার সৎকর্মপরায়ন বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত কর।” রাজা পক্ষীদের খোঁজ খবর নিলেন, অতঃপর বললেন, “কি হল, হুদহুদ পাখীকে দেখছি না কেন? নাকি সে অনুপস্থিত? আমি অবশ্যই তাকে কঠোর শাস্তি দেব কিংবা হত্যা করব অথবা সে উপস্থিত করবে উপযুক্ত কারণ।”

কিছুক্ষণ পড়েই হুদহুদ এসে বলল,
“আপনি যা অবগত নন, আমি তা অবগত হয়েছি। আমি আপনার কাছে সাবা থেকে নিশ্চিত সংবাদ নিয়ে আগমন করেছি। আমি এক নারীকে সাবাবাসীদের ওপর রাজত্ব করতে দেখেছি। তাকে সবকিছুই দেয়া হয়েছে এবং তার একটা বিরাট সিংহাসন আছে। আমি তাকে ও তার সম্প্রদায়কে দেখলাম তারা আল্লাহর পরিবর্তে সূর্যকে সেজদা করছে। শয়তান তাদের দৃষ্টিতে তাদের কার্যাবলী সুশোভিত করে দিয়েছে। অতঃপর তাদেরকে সৎপথ থেকে নিবৃত্ত করেছে। অতএব তারা সৎপথ পায় না। তারা আল্লাহকে সেজদা করে না কেন, যিনি নভোমন্ডল ও ভুমণ্ডলের গোপন বস্তু প্রকাশ করেন এবং জানেন যা তোমরা গোপন কর ও যা প্রকাশ কর। আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই; তিনি মহা আরশের মালিক।” রাজা বললেন, “এখন আমি দেখব হুদহুদ তুমি সত্য বলছ, না তুমি মিথ্যবাদী। তুমি আমার এই পত্র নিয়ে যাও এবং এটা তাদের কাছে অর্পন কর। অতঃপর তাদের কাছ থেকে সরে পড় এবং দেখ, তারা কি জওয়াব দেয়।”

হুদহুদ পত্র নিয়ে রাণী বিলকিসের কাছে পৌঁছে দিল। রাণী বিলকিস বলল, “হে পরিষদবর্গ, আমাকে একটি সম্মানিত পত্র দেয়া হয়েছে। সেই পত্র রাজার পক্ষ থেকে এবং তা এই: সসীম দাতা, পরম দয়ালু, আল্লাহর নামে শুরু; আমার মোকাবেলায় শক্তি প্রদর্শন করো না এবং বশ্যতা স্বীকার করে আমার কাছে উপস্থিত হও।” বিলকীস বলল, “হে পরিষদবর্গ, আমাকে আমার কাজে পরামর্শ দাও। তোমাদের উপস্থিতি ব্যতিরেকে আমি কোন কাজে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি না।” তারা বলল, “আমরা শক্তিশালী এবং কঠোর যোদ্ধা। এখন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা আপনারই। অতএব আপনি ভেবে দেখুন, আমাদেরকে কি আদেশ করবেন।” সে বলল, “রাজা বাদশারা যখন কোন জনপদে প্রবেশ করে, তখন তাকে বিপর্যস্ত করে দেয় এবং সেখানকার সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিবর্গকে অপদস্থ করে। তারাও এরূপই করবে। আমি তাঁর কাছে কিছু উপঢৌকন পাঠাচ্ছি; দেখি প্রেরিত লোকেরা কী জওয়াব আনে।”

অতঃপর যখন দূত রাজার কাছে আগমন করল, তখন রাজা বললেন, “তোমরা কি ধনসম্পদ দ্বারা আমাকে সাহায্য করতে চাও? আল্লাহ আমাকে যা দিয়েছেন, তা তোমাদেরকে প্রদত্ত বস্তু থেকে উত্তম। বরং তোমরাই তোমাদের উপঢৌকন নিয়ে সুখে থাক। ফিরে যাও তাদের কাছে। এখন অবশ্যই আমি তাদের বিরুদ্ধে এক সৈন্যবাহিনী নিয়ে আসব, যার মোকাবেলা করার শক্তি তাদের নেই। আমি অবশ্যই তাদেরকে অপদস্থ করে সেখান থেকে বহিষ্কৃত করব এবং তারা হবে লাঞ্ছিত।” রাজা বললেন, “হে পরিষদবর্গ, তারা আত্নসমর্পণ করে আমার কাছে আসার পূর্বে কে বিলকিসের সিংহাসন আমাকে এনে দেবে?”

জনৈক দৈত্য-জিন বলল,
“আপনি আপনার স্থান থেকে উঠার পূর্বে আমি তা এনে দেব এবং আমি একাজে শক্তিবান, বিশ্বস্ত।” কিতাবের জ্ঞান যার ছিল, সে বলল, “আপনার দিকে আপনার চোখের পলক ফেলার পূর্বেই আমি তা আপনাকে এনে দেব।” অতঃপর রাজা যখন তা সামনে রক্ষিত দেখলেন, তখন বললেন, “এটা আমার পালনকর্তার অনুগ্রহ, যাতে তিনি আমাকে পরীক্ষা করেন যে, আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি, না অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি। যে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে, সে নিজের উপকারের জন্যেই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে এবং যে অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সে জানুক যে, আমার পালনকর্তা অভাবমুক্ত কৃপাশীল।

রাজা বললেন, “বিলকিসের সামনে তার সিংহাসনের আকার-আকৃতি বদলিয়ে দাও, দেখব সে সঠিক বুঝতে পারে, না সে তাদের অন্তর্ভুক্ত, যাদের দিশা নেই?” অতঃপর যখন বিলকীস এসে গেল, তখন তাকে জিজ্ঞাসা করা হল, “তোমার সিংহাসন কি এরূপই?” সে বলল, “মনে হয় এটা সেটাই। আমরা পূর্বেই সমস্ত অবগত হয়েছি এবং আমরা আজ্ঞাবহও হয়ে গেছি।” আল্লাহর পরিবর্তে সে যার এবাদত করত, সেই তাকে ঈমান থেকে নিবৃত্ত করেছিল। নিশ্চয় সে কাফের সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত ছিল। তাকে বলা হল, “এই প্রাসাদে প্রবেশ কর।” যখন সে তার প্রতি দৃষ্টিপাত করল সে ধারণা করল যে, এটা স্বচ্ছ গভীর জলাশয়। সে তার পায়ের গোছা খুলে ফেলল। রাজা বলল, “এটা তো স্বচ্ছ স্ফটিক নির্মিত প্রাসাদ।” বিলকীস বলল, “হে আমার পালনকর্তা, আমি তো নিজের প্রতি জুলুম করেছি। আমি রাজার সাথে বিশ্ব জাহানের পালনকর্তা আল্লাহর কাছে আত্নসমর্পন করলাম।”

>>> এ ধরণের গল্পগুলো-কে যদি কোন মুক্তচিন্তার সুস্থ বিবেক-বুদ্ধি সম্পন্ন মানুষ 'পূর্ববর্তীদের কিচ্ছা-কাহিনী ও উপকথা' হিসাবে আখ্যায়িত করেন, তবে কী তাকে কোনভাবেই অপরাধী সাব্যস্ত করা যায়? ঠাকুরমার ঝুলি, আরব্য উপন্যাস ও এই জাতীয় রূপকথার গ্রন্থে এ ধরনের অনেক গল্প লিপিবদ্ধ আছে।

যে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ তা হলো:

‘এহেন গল্পের কোন গল্পকার (Storyteller) যদি তার এই গল্পগুলোকে “সৃষ্টিকর্তার বাণী" বলে জনগণের কাছে প্রচার করে নিজেকে সৃষ্টি-কর্তার এক বিশেষ অনুগ্রহ ভাজন বলে ঘোষণা দেন ও দাবী করেন যে, "তিনি একজন নবী;" আর সে কারণেই স্বয়ং সৃষ্টিকর্তা তার এক বিশেষ দূত মারফত তাকে এই গল্পগুলো জানিয়েছেন! অতঃপর গল্পকার মশাই তার চারিপাশের মানুষদের তাদের বাপ-দাদার ধর্ম ও আচার-অনুষ্ঠান বিসর্জন দিয়ে তাকে নবী হিসাবে বিশ্বাস ও অনুসরণ করার আহ্বান জানান। আর জনগণ যদি তা না করেন তবে গল্পকার মশাই সেই মানুষগুলো-কে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য. হুমকি-শাসানী ও ভীতি-প্রদর্শন করা শুরু করেন। তবে সেই গল্পকারের চরিত্র ও মানসিকতাকে কীভাবে মূল্যায়ন করা উচিত?’

হ্যাঁ, উক্ত গল্পটির গল্পকার ছিলেন স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)! বাদশাহ সোলায়মানের গল্প; সূরা নমল (সুরা নম্বর ২৭) ১৬ থেকে ৪৪ নম্বর আয়াত। শুধুমাত্র 'সোলায়মান' নামগুলোর স্থানে 'রাজা' শব্দটি ব্যবহার করা ছাড়া সম্পূর্ণ গল্পটিই হুবহু মুহাম্মদের জবানবন্দি কুরআন থেকে বাংলায় অনূদিত। কুরআনে এরূপ অবাস্তব অশরীরী অনেক গল্প আছে, যা অনেক রূপকথার গল্পকেও হার মানায়। মুহাম্মদ এ জাতীয় গল্পগুলোকে সৃষ্টিকর্তার বাণী বলে প্রচার করে তাকে সৃষ্টিকর্তার প্রেরিত পুরুষ (নবী) বলে স্বীকার করে নেয়ার জন্য তার পারিপার্শ্বিক মানুষদের আহ্বান জানিয়েছিলেন। আর তার পারিপার্শ্বিক জনগণ তার এই গল্পগুলোকে 'পূর্ববর্তীদের কিচ্ছা-কাহিনী ও উপকথা' বলে আখ্যায়িত করেছিলেন।

কুরআনের মোট সুরা সংখ্যা ১১৪। সৌদি আরবের বাদশাহ ফাহাদ বিন আবদুল আজিজ কর্তৃক বিতরণকৃত কুরানের উৎস মতাবেক এর ৮৭ টি সুরা মক্কায় অবতীর্ণ (৬১০-৬২২ খৃষ্টাব্দ), বাঁকি ২৭ টি মদিনায় (৬১০-৬২২ খৃষ্টাব্দ)। কুরআনের মোট আয়াত সংখ্যা ৬২৩৬; মোটামুটিভাবে যার ৪৭০৪ টি মক্কায় ও ১৫৩২ টি মদিনায় অবতীর্ণ। আয়াতের সংখ্যা ও বর্ণনায় সূত্র ভেদে কিছুটা বিভিন্নতা আছে, অনেক সুরার অবতীর্ণের স্থান নিয়েও বিভিন্ন সূত্রে বিভিন্নতা আছে। বিশেষ করে কুরানের শেষের অংশের কিছু সুরার ক্ষেত্রে।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, কুরআনের এই যে মোট ৬২৩৬টি আয়াত, তার কমপক্ষে ১২৬০টি শুধুই পুরাকালের উপকথা! মুহাম্মদ তার সুদীর্ঘ ১২-১৩ বছরের মক্কায় নবী জীবনে আল্লাহর নামে মোটামুটি যে মোট ৪৭০৪ টি বাক্য বর্ষণ করেছিলেন, তার কমপক্ষে ১২৪০টিই ছিল পুরাকালের নবীদের উপকথা (২৬.৩ শতাংশ) বিষয়ক। অর্থাৎ, আল্লাহর নামে মক্কায় তার প্রতি চারটি বাক্যের একটি হলো পুরাকালের নবীদের 'কিসসা-কাহিনী' সম্বন্ধীয়।

পরিসংখ্যানে আরও দেখা যায়, সমগ্র কুরআানের কমপক্ষে ৫২১টি আয়াত শুধুই অবিশ্বাসীদের বিরুদ্ধে হুমকি-শাসানী-ভীতি প্রদর্শন-অসম্মান ও দোষারোপ সম্পর্কিত, যার রেফারেন্স আমি আমার অন্য এক লেখায় সবিস্তারে উদ্ধৃত করেছি [3]। উৎসাহী পাঠকরা তা যাচাই করতে পারেন। এ ছাড়াও আছে অবিশ্বাসীদের বিরুদ্ধে হামলা-খুন-সম্পর্কচ্ছেদের আদেশ সম্পর্কিত আয়াত কমপক্ষে ১৫১টি ও অবিশ্বাসীদের অভিশাপ বর্ষণ সংক্রান্ত আয়াত কমপক্ষে আরও ৬৬টি! অর্থাৎ, সমগ্র কুরআনে পুরাকালের নবীদের 'কিসসা-কাহিনী' ও অবিশ্বাসীদের বিরুদ্ধে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য, হুমকি-শাসানী ভীতি প্রদর্শন-অসম্মান ও দোষারোপ এবং হামলা-খুন-সম্পর্কচ্ছেদের আদেশ ও অভিশাপ বর্ষণ সম্পর্কিত আয়াত সংখ্যা কমপক্ষে (১২৬০+৫২১+১৫১+৬৬) ১৯৯৮টি; যা সমগ্র কুরআনের বত্রিশ শতাংশ।

সংক্ষেপে,

“সমগ্র কুরআনের প্রতি তিনটি বাক্যের একটি হলো পুরাকালের উপকথা ও অবিশ্বাসীদের বিরুদ্ধে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য, হুমকি, শাসানী, ভীতি প্রদর্শন, অসম্মান, দোষারোপ, হামলা-খুন, ত্রাস, সম্পর্কচ্ছেদের আদেশ ও অভিশাপ বর্ষণ সম্পর্কিত। আর মক্কায় মুহাম্মদের প্রতি চারটি বাক্যের একটি হলো পুরাকালের নবীদের 'কিসসা-কাহিনী' সম্বন্ধীয়।”

সুদীর্ঘ ১২-১৩ বছরের মক্কায় নবী জীবনে মুহাম্মদ মক্কাবাসীদের এই কিচ্ছা-কাহিনীগুলো শুনিয়েছিলেন বারংবার; যেমন (ন্যূনতম সংখ্যা):

মুসা (আঃ) ও ফেরাউনের গল্প ২১ বার; নূহ নবীর গল্প ১২ বার; ইবরাহিমের (আঃ) গল্প ১২ বার; লূত (আঃ) এর গল্প ৯ বার; আ'দের গল্প ৮ বার; সালেহ ও সামুদের গল্প ৭ বার; আদম-হাওয়া ও ইবলিস শয়তানের গল্প ৫ বার; দাউদ (আঃ) ও সোলায়মানের গল্প ৫ বার; মাদায়েনের শোয়েব (আঃ) এর গল্প ৩ বার; ঈসা (আঃ) ও তার মাতা মরিয়মের গল্প ২ বার; ইত্যাদি।

গবেষণায় আগ্রহী পাঠকদের জন্য বিস্তারিত (নূন্যতম আয়াত সংখ্যা):

১) মুসা (আ:) ও ফেরাউনের গল্প, মোট আয়াত ৪৯৭:
৭:১০৩-১৬৮; ১০:৭৫-৯২; ১৪:৫-৮; ১৭:১০১–১০৪; ১৮:৬০-৮২; ১৯:৫১-৫৩; ২০:৯-৯৭; ২১:৪৮; ২৩:৪৫-৪৯; ২৫:৩৫-৩৬; ২৬:১০–৬৮; ২৭:৭-১৪; ২৮:৩-৪৬; ৩৭:১১৪-১২২; ৪০:২৩-৪০; ৪৩:৪৬-৫৬; ৪৪:১৭-৩৩; ৫১:৩৮-৪০; ৫৪:৪১-৪৩; ৬৯:৯-১০; ৭৯:১৫-২৬। (এ ছাড়াও মদিনায়: ২:৫৬-৫৭; ২:৬০; ২:৬৩; ২:৭৩-৭৪; ৪:১৫৪; ইত্যাদি)।

২) ইবরাহিমের (আ:) গল্প, মোট আয়াত ১৪৭:
১১:৬৯; ১৪:৩৫; ১৫:৫১-৬০; ১৬:১২০; ১৯:৪১-৫০; ২১:৫১-৭৩ (টুকরা টুকরা করে মূর্তিগুলো ভেঙ্গেছিল-২১:৫৭); ২৬:৬৯-১০৪; ২৯:১৬-২৭; ৩৭:৮৩-১১৩; ৩৮:৪৫-৪৮; ৪৩:২৬-৩০; ৫১:২৪- ৩৬। (এ ছাড়াও মদিনায়: ২:২৬০)।

৩) নূহের (আ:) গল্প, মোট আয়াত ৯৯:
৭:৫৯-৬৪; ১০:৭১-৭৩; ১১: ২৫-৪৮ (নূহের নৌকা); ১৪: ৯; ২১:৭৬-৭৭; ২৩:২৩-৩০; ২৫:৩৭; ২৬:১০৫-১২২; ২৯:১৪-১৫ (নূহ বেঁচেছিলেন ৯৫০ বছর); ৩৭:৭৫-৮২; ৫৪:৯-১৫ (নূহের নৌকা); ৭১:১-২৮।

৪) আদম হাওয়া ও ইবলিসের গল্প, মোট আয়াত ৮২:
৭:১১–৭:২৫; ১৫:২৬-৫০; ১৮:৫০; ২০:১১৫; ৩৮:৭১-৮৫।

৫) হুদ এবং আ'দের গল্প, মোট আয়াত ৭০:
৭:৬৫-৭২; ১১:৫০-৬০; ২৫:৩৮; ২৬:১২৩-১৪০; ২৯:৩৮; ৪৬:২১-২৬; ৫৪:১-২১; ৬৯:৪-৮।

৬) লূতের (আ:) গল্প, মোট আয়াত ৬৪:
৭:৮০-৮৪; ১১:৭৭-৮৩; ১৫:৬১-৭৫; ২১:৭৪-৭৫; ২৬:১৬০-১৭৫; ২৭:৫৪-৫৮; ২৯:২৮-৩৪; ৩৭:১৩৩-১৩৮; ৫৪:৩৩।

৭) দাউদ ও সোলায়মানের (আ:) গল্প, মোট আয়াত ৬১:
২১:৭৮-৮২; ২৭:১৫-৪৪; ৩৪:১০-১৪; ৩৮:১৭-২৬; ৩৮:৩০-৪০।

৮) সালেহ ও সামুদের গল্প, মোট আয়াত ৬০:
৭:৭৩-৭৯; ১১:৬১-৬৮; ২৬:১৪২-১৫৯; ২৭:৪৫-৫৩; ৫১:৪১-৪৫; ৫৪:২৩-৩১; ৯১::১১-১৪।

৯) মাদায়েনের শোয়েবের (আ:) গল্প, মোট আয়াত ৩৮:
৭:৮৫-৯৪; ১১:৮৪-৯৫; ২৬:১৭৬-১৯১।

১০) ঈসা (আঃ) ও তার মাতা মরিয়মের গল্প, মোট আয়াত ২০:
১৯:১৬-৩৪; ২১:৯১। (এ ছাড়াও মদিনায়: ৩:৩৭; ৩:৪৬; ৩:৪৯; ৫:১১০-৫১৫; ইত্যাদি)।

১১) জুল-কারনাইনের গল্প, মোট আয়াত ১৮:
১৮:৮৩-৯৮; ২১:৮৭- ৮৮।

১২) জাকারিয়ার (আ:) গল্প, মোট আয়াত ১৫:
১৯:২-১৫; ২১:৮৯।

১৩) নূহের পরে আরেক সম্প্রদায়ের গল্প, মোট আয়াত ১১:
২৩:৩১-৪১।

১৪) ইউনুস (আ:) এর গল্প, মোট আয়াত ১০:
৩৭:১৩৯-১৪৮।

১৫) ইলিয়াস (আ:), মোট আয়াত ১০:
৩৭:১২৩-১৩২।

১৬) অন্যান্য গল্প:
আয়ুব (আ:), ইসমাইল (আ:), ইদ্রিস (আ:), ঈসা (আ:), লোকমান (আ:), ইউসুফ (আ:), সাবাহর বাসিন্দাদের গল্প, ইয়াযুদ–মাযুদ, কারুন - ইত্যাদি।

>>> বংশ পরম্পরায় শুনে আসা পুরাকালের এহেন মুহাম্মদের গল্পগুলোকে তার “নবুয়তের প্রমাণ” এবং তাকে নবী বলে স্বীকার করে না নেয়াকে অপরাধ আখ্যা দেয়া সম্পূর্ণরূপে অযৌক্তিক। কিন্তু প্রবক্তা মুহাম্মদ তাকে অবিশ্বাসীদের শুধু অপরাধী সাব্যস্ত করেই ক্ষান্ত হননি; তিনি তাদের করেছিলেন উপর্যুপরি তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য, হুমকি-শাসানী ও ভীতি প্রদর্শন! তিনি তাদের বিরুদ্ধে জারী করেছিলেন ত্রাস, হত্যা, হামলা ও সম্পর্কচ্ছেদের আদেশ; যা তারই স্ব-রচিত জবানবন্দির পাতায় পাতায় বর্ণিত আছে।

(চলবে)

তথ্যসূত্র ও পাদটীকা:
[1] কুরআনেরই উদ্ধৃতি ফাহাদ বিন আবদুল আজিজ কর্তৃক বিতরণকৃত তরজমা থেকে নেয়া। অনুবাদে ত্রুটি-বিচ্যুতির দায় অনুবাদকারীর।
http://www.quraanshareef.org/
[2] কুরানের ছয়জন বিশিষ্ট ইংরেজি অনুবাদকারীর ও চৌত্রিশ-টি ভাষায় পাশাপাশি অনুবাদ: https://quran.com/
[3] 'হুমকি-শাসানি-ভীতি-অসম্মান-দোষারোপ ও তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য' সম্বন্ধীয় আয়াত:
http://www.dhormockery.net/2014/02/blog-post_4476.html
http://www.dhormockery.com/2014/03/blog-post_795.html

Comments

নুর নবী দুলাল এর ছবি
 

কোরান পরিপূর্ণ রূপকথার কাহিনীতে ভরপুর। এটা ১৪০০ বছর আগের মানুষ যেমন বুঝেছে, তেমনি এখনকার মানুষও বুঝে। শুধু বুঝে না ধর্মগাঁধার দলের কিছু মানুষ।ভিন্ন ভাষায় এত বড় একটা বই থেকে গালপল্পগুলো আলাদা করে বের করার কষ্টসাধ্য বলে অনেকেই চোখ বন্ধ করে ইমান আনে এই গ্রন্থের উপর। আপনি পরিশ্রম করে গালগপ্পের অংশগুলোর সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করেছেন। ভবিষ্যতে যারা রূপকথার এই গ্রন্থ সম্পর্কে জানতে চাইবে তাদের বেশ কাজে লাগবে আপনার লেখাগুলো।

আপনার এই সিরিজটির জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করি। বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা আপনার অন্য লেখাগুলো ইস্টিশনে প্রকাশ করার অনুরোধ রইল।

 
গোলাপ মাহমুদ এর ছবি
 

ভাই নুর নবী দুলাল,
আজ থেকে দশ বছর আগেও ধর্মের অসাড়তা নিয়ে খুব অল্প সংখ্যক মানুষই লেখালেখি করতেন। আজ তা শত-সহস্র! বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের বহু লেখক কলম ধরেছেন, ইউ-টিউবে ভিডিও আপলোড করছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে সোচ্চার ভূমিকা রাখছেন - জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাঁরা বিভিন্ন উপায়ে সাধারণ সরলপ্রাণ মানুষদের আলোকিত করার চেষ্টা করছেন। আমি আশাবাদী; একদিন মানুষ ধর্মের উগ্রতা-নৃশংসতা ও কুসংস্কারকে পরিহার করে মানবিকতার চর্চা করবে। সময় লাগবে।।

এই সিরিজটির আরও অনেক পর্ব হবে। লেখা চলবে। মন্তব্যের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

গোলাপ মাহমুদ

 
allbanglaboi এর ছবি
 

অনেক ধন্যবাদ সম্পূর্ণ কোরআন শারীফ বাংলা অনুবাদ ডাউনলোড করুন।
https://allbanglaboi.com/2017/11/bangla-quran-shareef-girish-chandra-sen...

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

গোলাপ মাহমুদ
গোলাপ মাহমুদ এর ছবি
Offline
Last seen: 15 ঘন্টা 14 min ago
Joined: রবিবার, সেপ্টেম্বর 17, 2017 - 5:04পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর