নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 3 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • মুফতি বিশ্বাস মন্ডল
  • বেহুলার ভেলা
  • কুমকুম কুল

নতুন যাত্রী

  • নিনজা
  • মোঃ মোফাজ্জল হোসেন
  • আমজনতা আমজনতা
  • কুমকুম কুল
  • কথা নীল
  • নীল পত্র
  • দুর্জয় দাশ গুপ্ত
  • ফিরোজ মাহমুদ
  • মানিরুজ্জামান
  • সুবর্না ব্যানার্জী

আপনি এখানে

ইসলামী আগুনে বামপন্থি আলু পোড়ার দুঃস্বপ্ন


বাংলাদেশের বামপন্থিরাই কেবল নয়, নিকট অতিতের সব আন্তর্জাতিক বামপন্থি বুদ্ধিজীবী ও রাজনৈতিক নেতা ইসলামী টেরোরিস্টদের প্রতি পরোক্ষ সহানুভূতি দেখিয়ে হাবিজাবি কারণ সামনে এনে তাদের আইডিওলজিকে আড়াল করতে আগ্রহী হতে দেখা গেছে। কারণটা সবাই জানে এখন। ইসলামী টেরোরিস্ট বা জিহাদীদের একটা অংশ আমেরিকা-ইউরোপীয়ানদের বিরুদ্ধে জিহাদ করছে। বামদেরও কমন শত্রু আমেরিকা ও তার মিত্ররা। এই সূত্রে ইসলামের লাগানো আগুনে বামরা আলু পোড়া দিয়ে খেতে চাইছে। ইরানের বামপন্থিরা খোমিনীর জিহাদী দলের সঙ্গে আঁতাত বা চুক্তি করেছিল একনায়ক শাসক রেজা শাহকে ক্ষমতাচ্যুত করতে। ইসলামী সাম্রাজ্যবাদের সঙ্গে একখাটে শুতে বামদের আপত্তি না থাকলেও খোমিনিদের জিহাদী আইডিওলজিতে এইসব নাস্তিক-অবিশ্বাসীদের সঙ্গে কোন ধরণের সহবস্থান নিষিদ্ধ। ইবনে কাথির তার তাফসিরের লিখেছেন কাফের-মুশরিকদের সঙ্গে কোন কারণে হাত মেলাতে হলেও হাতটি যেন ধুয়ে ফেলা হয় (ইবনে কাথিরের তাফসির, খন্ড-৮ম,৯ম,১০ম,১১শ পৃষ্ঠা নং-৬৭৪)। রেজা শাহকে ক্ষমতাচ্যুত করে খোমিনি বামদের সঙ্গে মেলানো হাত সাবান দিয়ে ধুয়ে ফেলেছিল কিনা সেটি ইতিহাসে স্থান না পেলেও বামদের কুকুরের মত গুলি করে মেরে ফেলা যে হয়েছিল সে ইতিহাস গোপন কিছু নয়।

বামদের বিদ্যা হজম হয় খুব কম। মুহাম্মদের নেতৃত্বে আরবদের মক্কা বিজয়কে বামরা কখনো কখনো প্রলোতেরিয়াতদের বিজয় হিসেবে বলার চেষ্টা করেছে। এরকম দৃষ্টিভঙ্গি ইসলামের মত জাতিবিদ্বেষ, বর্ণবাদী নিষ্ঠুর প্রতিক্রিয়াশীলতাকে বৈধতা দেয়া হয়েছে। এতে করে বামদের কোন লাভ হয়নি। সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙ্গে যাবার পর তাদের স্থান দখল করে নিয়েছে ইসলামী জিহাদীরা। আশ্চর্যজনকভাবে ইসলামী জিহাদীদের কর্মপন্থা কমিউনিস্ট বিপ্লবীদের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়…।

আয়াতুল্লাহ খোমিনি ৩০০০ বাম চিন্তা ধারার ছাত্র, কলেজের দর্শনের অধ্যাপক, ভিন্নমতাবলম্বী চিন্তক যাদের কোন রকম রাজনৈতিক সংম্পৃক্ততা সরাসরি ছিল না, তাদেরকে হত্যা করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং এসব কাজের জন্য তিনি নিজে আল্লাহ’র কাছে জবাবদেহি করবেন বলে জানিয়েছিলেন। ইরানের প্রকৃত পক্ষে কোন একনায়ক শাসকের অপশাসনের বিরুদ্ধে বিপ্লব হয়নি। খোমিনিদের এরকম রক্তাক্ত প্রতিশোধ থেকে বুঝা যায় খোমিনিদের আক্ষরিক অর্থে রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে কোন বিপ্লব ছিল না। ইরানে যদি কোন গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থা থাকত যেখানে সুশাসন বিরাজ করত তবু খোমিনিদের জিহাদের আঘাত আসতই। বিষয়টা আমরা খুব ভাল করে বুঝি যখন ফিলিস্তিনীদের অবিসংবাদী নেতা ইয়াসির আরাফাতের বক্তব্য শুনি। ইজরাইলের সঙ্গে আরাফাত অসলো চুক্তি করেন যাতে রাষ্ট্র হিসেবে ইজরাইলকে মেনে নেয়ার কথা লেখা ছিল। বস্তুত মনে মনে আরাফাত যে ইজরাইল তথা ইহুদীদের অস্তিত্ব মধ্যপ্রাচ্যে কোনভাবেই মেনে নিতেন না, বরং জেরুজালেমের সলোমানের মন্দির তথা বাইতুল মোকাদ্দেস দখল করাই তার উদ্দেশ্য সেটা তিনি তার গুপ্ত ভাষণে জানিয়ে দিয়েছিলেন (এখান থেকে পড়ুন: http://www.danielpipes.org/316/al-hudaybiya-and-lessons-from-the-prophet...)। তিনি মসজিদে দেয়া গোপন ভাষণে জানিয়েছিলেন তার এই চুক্তি আসলে সাময়িক একটা কৌশল মাত্র। তিনি আসলে নবী মুহাম্মদের মত মক্কার কুরাইশদের সঙ্গে যে হুদাইবিয়া চুক্তি করেছিলেন সেরকমই একটা ফেক চুক্তি করেছেন। কারণ ইসলামী ইতিহাসে দেখা যায় মুহাম্মদ দশ বছরের এই চুক্তি দুইবছর পর নানা ‘ষড়যন্ত্র তত্ত্ব’ তুলে মক্কা আক্রমন চালান। এইসব চুক্তি রক্ষা করা মুহাম্মদের কাছে কিছুই ছিল না। তিনি নিজেই সেটা বলেছেন, আল্লাহর ইচ্ছায়, যদি আমি কোন ব্যপারে শপথ করি আর পরে দেখি এর চেয়ে ভাল কিছু আছে তখন আমি যেটা ভাল মনে করি সেটাই করি আর তখন পূর্বেকার শপথ রক্ষার কোন দরকার মনে করি না ( সহি বুখারী, বই – ৬৭, হাদিস-৪২৭)।

ফিলিস্তিনীদের লড়াই কতটা তাদের স্বদেশিকতা থেকে, দেশপ্রেম থেকে আর কতটা ইসলামী জিহাদের অনুপ্রেরণায় ইহুদীদের পবিত্র জেরুযালেম দখল করার বাসনা সেটা পরিস্কার হয় যখন ফিলিস্তিনী আন্দোলনের মূল যোদ্ধাদের মুখ থেকে তাদের আদর্শগত অবস্থান জানতে পারি।

শাইখ আব্দুল্লাহ আযযাম বলেন, “আমরা কি আমাদের সবচেয়ে মূল্যবান বস্তু প্রাণকে কি সামান্য ভূখন্ডের জন্য উৎসর্গ করব? ফিলিস্তিনের মাটি আর ফুজাইরার মাটির মুল্য তো একই। ঘর তো আমার যেখানে ইচ্ছা সেখানে নির্মাণ করা সম্ভব। ব্যাপার তো জমি আর মাটির নয়। ব্যাপার হচ্ছে দ্বীনের, আকীদার, পবিত্র ভূমির, মসজিদুল আকসার ও সে সব লোকদের, যারা হুর ও জান্নাত লাভের প্রতিযোগীতায় নেমেছে। যদি জান্নাত ও হুর না পাই, তাহলে কেন আমি নিজের প্রাণ উৎসর্গ করব?”। (জিহাদী সাইট বলে ইচ্ছে করেই লিংক দিলাম না)।

যারা শাইখ আবদুল্লাহ আযমকে সম্পর্কে কিছু জানেন না তাদের উদ্দেশ্যে বলছি এই ফিলিস্তিনী মুজাহিদ ছিলেন বিন লাদেনের তাত্ত্বিক গুরু। বিন লাদেন আল কায়দা গঠন করেছিলেন তার গুরু থেকেই অনুপ্রাণিত হয়ে। বিন লাদেন স্বাধীনতাকামী কোন ফাইটার ছিলেন না। হামাস, হেজবুল্লাহ কোন মুক্তিবাহিনী নয়। এই সুচারু বিচারগুলো আবুল কাশেম ফজলুল হক স্যার, সলিমুল্লাহ খান, বদরুদ্দিন উমার, আনু মুহাম্মদ… স্যাররা বুঝেন না – নাকি বুঝেও উল্টো বুঝাতে চান- সেই সন্দেহ নিয়ে তাদের শত সৎ উদ্দেশ্যকেও দ্বিধাহীনভাবে গ্রহণ করতে পারছি না। দেশের তেল-গ্যাস নিয়ে তাদের সোচ্চার, তাদের দেশপ্রেম সবই স্বীকার করে নিয়েও ইসলামী জিহাদীদের প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গি রীতিমত সন্দেহজনক…।

সাম্প্রতিকালে বাংলাদেশের বাম বুদ্ধিজীবী-লেখক হিসেবে পরিচিত প্রায় সবাই ইসলামী জিহাদপন্থিদের পরোক্ষভাবে সাফাই গাইছেন আওয়ামী লীগ বিরোধীতা করতে গিয়ে। সম্ভবত এই মুহূর্তে বাংলাদেশের নাস্তিক-মুক্তমনা অনলাইন লেখকরাই সবচেয়ে বেশি সরকার বিরোধী অবস্থানে আছে কারণ তারা বিশ্বাস করে সরকারের ভ্রান্ত ও মোল্লা তোষণনীতির কারণে তারা নিজেরা ও দেশের সেক্যুলারিজমের ভবিষ্যত অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে। কিন্তু জঙ্গি জিহাদী আস্তানায় নাটক বা সাজানো নাটক বলে বাংলাদেশে আদৌ জিহাদী জঙ্গিদের অস্তিত্ব আছে কিনা- সবই সরকারের বানানো নাটক কিনা- এরকম প্রচারণা শেষ পর্যন্ত ইসলামী জিহাদীদের ঘরেই সুফল টেনে নিবে।

কট্টর ইসলামী শাসন তো দূরে থাক, বামরা জানে না একজন “মাহাথির মোহাম্মদ”-এর মত ইসলাম প্রেমি আধুনিক শাসকও তাদের অস্তিত্ব ধ্বংস করার জন্য যথেষ্ঠ। আজকের মালয়েশিয়াকে সফল ও উন্নত করার এই কারিগর বৌদ্ধ, হিন্দু ও খ্রিস্টান ধর্মালবম্বীদের দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক করে রেখেছেন। বামপন্থি চিন্তাভাবনা তার দেশে কখনই গ্রহণযোগ্য ছিল না। সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে কমিউনিস্ট-বামদের যে পরিমাণ বাছবিচার দেখা যায় আশ্চর্যজনকভাবে ইসলামী সাম্রাজ্যবাদীদের প্রতি এই বাছবিচার করতে দেখি না। আমেরিকার যে কোন প্রেসিডেন্ট কমিউনিস্ট দেশে শুকোরের-মাংসের মতই হারাম। কিন্তু কিউবাতে গিয়ে ইরানের ইসলামী ফ্যাসিবাদী সরকারের প্রেসিডেন্ট কাস্ত্রের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্ব আরো দৃঢ় করতে দেখা যায়। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বিশেষত কিউবার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা আরোপে তেহরান নিন্দা জানায়। হাভানাও ইরানের পারমানবিক কর্মসূচী চালানোর অধিকারের প্রতি তাদের সমর্থন জানায়। এই তেহরানের হাতে যদি গোটা বিশ্বের ক্ষমতা এসে যায় তো তাদের পারমানবিক বোমা বানানোর সহযোগী রাশিয়া আর কমিউনিস্ট কিউবার উপর সবার আগে সেটা পড়বে! দোষটা ইরানের নয়। সৌদি আরব, আফগানিস্থান, মিশর, পাকিস্তানসহ সমস্ত ইসলামী দেশের ইসলামী শাসকরা চলে কুরআনের ফিলোসফিকে ফলো করে। সেই ফিলোসফি বাম-মুশরিক-নাস্তিক-ইয়াহূদী-খ্রিস্টান সবার জন্যই এক। সেই ফিলোসফি হচ্ছে- হয় ইসলাম ও ইসলামী শাসনকে মেনে নাও নয়ত জাহান্নামে যাও…।

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

সুষুপ্ত পাঠক
সুষুপ্ত পাঠক এর ছবি
Offline
Last seen: 1 week 3 দিন ago
Joined: শনিবার, ডিসেম্বর 21, 2013 - 3:33অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর